জাফর স্যার,
সালাম নিবেন। আশা করি পরম করুনাময়ের কৃপায় কুশলেই আছেন। পর সমাচার, গত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন ব্লগ ও ফেইসবুকে আপনার মেয়ের কয়েকটি অশ্লীল ছবি বেশ আলোচনা সমালচনার সৃষ্টি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ আপনার একহাত নেওয়ারও চেষ্টা করছেন। আমি অবশ্য আপনাকে আপনার কন্যার অশ্লীলতা এবং নোংরামি থেকে মুক্ত মনে করি। আপনার মেয়ে প্রাপ্ত বয়ষ্কা। পশ্চিমে থাকার বদৌলতে আয় রোজগারও হয়ত ভালই করেন। এমন মেয়ের উপর বাবা মায়ের কর্তৃত্ব থাকে না বলেই ধরে নিলাম। তবে সময়মত তাকে করনীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে তালিম না দিয়ে থাকলে আপনাকে এ অপরাধ থেকে মুক্ত বলা যায় না। আর যদি আপনি তাকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন তাহলে এই বিষয়ে আপনার বিরুদ্ধে আমার বা আমাদের কোন অভিযোগ নেই।
জাফর স্যার,
তবে কয়েকটি বিষয় আপনাকে বলা দরকারি মনে করছি। গতকাল সন্ধা থেকে মনের ভেতর বার বার উকি দেওয়া কথাগুলো না বললে নিজের উপরেই অবিচার করা হবে। আপনার মেয়ে হাফপ্যন্ট কেন পোষাকহীনভাবে চলাফেরা করলেও আমাদের কিছু এসে যায় না। কিন্তু নতুন প্রজন্মকে উলঙ্গ করার ক্ষেত্রে আপনার অপচেষ্টা , ইসলাম ধর্মের প্রতি আপনার উস্কানি আমাদের প্রতিবাদী হতে বাধ্য করেছে। আমরা আপনার ইসলাম ও দেশবিরোধী সকল কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
জাফর স্যার
আপনি এবং আপনারা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৭১ এর চেতনা, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বলতে বলতে গলা ফাটিয়ে ফেলেন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করতে বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে আপনার এবং আপনার দোসরদের প্রকাশ্য যোগসাজোস আমাদের লজ্জিত করে। আপনার বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের চরমভাবে বিস্মিত করে। আপনার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বড়ই আজব! দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে আপনার হৃদয় একটুও কাপে না।
জাফর স্যার,
দালালি কিংবা গোলামী কোনটাই একজন বিবেকবান মানুষের কাছ থেকে কাম্য নয়। আমরা স্বাধীনতা দেখি নি, আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিতে পারি নি। তাই আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে হৃদয় থেকে ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা স্বাধীনতা রক্ষার শক্তি। তাই দেশের স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আপনাদের মত স্বঘোষিত প্রগতিশীলদের গুনকীর্তন করতে পারি না।
জাফর স্যার
আমি বা আমরাও কয়েক বছর ধরে ইউরোপে আছি। আমাদেরকেও কৃত্তিমভাবে ইউরোপিয়ান বানাতে নসিয়ত করা হয়েছে। জার্মান এক শিক্ষিকার কালচার বিষয়ক একটি কোর্সের রিপোর্টে আমি লিখেছিলাম, 'আমি মেয়েদের সাথে হ্যান্ড শেক করি না।' তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, 'Why don't you shake your hand with the girls? Hei, you are in Europe now. You have to cope with the western culture। আমার উত্তর ছিল, Yes, I am in Europe. Before that I am a muslim and I am Bangladeshi. Neither my religion nor my culture allow me to shake hand with the women. জার্মান শিক্ষিকা শুধু তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু বলতে পারেন নি।
জাফর স্যার,
আমরা অপরাধী। কারন আমরা সাপ বা আপনাদের মত বার বার খোসা বদলাতে পারি না। আমরা সর্বদা ইসলাম এবং বাংলাদেশী চেতনার প্রতিনিধিত্ব করি। তাই আমরা ভিনদেশে এসে আপনাদের ন্যায় প্রগতিশীলদের চাটুকারদের মত নিজেদেরকে ভারতীয় বলে পরিচয় দেই না। আমাদের রং একটাই। আমরা বার বার রং বদলাই না। তাই আমরা আপনাদের মত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে মৌসুমি দেশপ্রেম দেখাই না। আমরা বহির্বিশ্বে প্রতিটি ক্ষনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করি। তাই আমাদের দ্বারা আপনাদের মত একাত্তরের চেতনা নিয়ে লোক দেখানো সওদাগরি করা হয় না।
জাফর স্যার,
আমরা বাংলাদেশকে ভালবাসি। বহির্বিশ্বে আমরা বাংলাদেশের ঐতিয্য রেপ্রেজেন্ট করি। তাই আমরা এখনও হাফ প্যান্ট পরা ধরতে পারি নাই। আমরা সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করি। তাই লুঙ্গি, গামছা আর পায়জামায় আমাদের কোন সমস্যা নাই। আমরা একেবারেই স্মার্ট না। কারন আমরা ইউরোপে এসে আপনাদের মত প্রগতিশীলদের ন্যায় মদ গাজাকে সহধর্মিনী করতে পারি নি। আমরা আপনার বা আপনাদের মত নানা রকম চেতনা নিয়ে বাগারম্বড় করি না। তাই আমরা এখনও তরুনী-যুবতী মেয়েদের সঙ্গে নৃত্য করতে অভ্যস্ত হই নি।
জাফর স্যার,
কন্যার বয়সী মেয়েদের সাথে অন্তরঙ্গভাবে নৃত্য করলেই প্রগতিশীল ইউরোপিয়ান কিংবা আমেরিকান হওয়া যায় না। হাফ প্যান্ট পরে সমুদ্র সৈকতে বয় ফ্রেন্ডের সাথে একান্তে সময় কাটানো কিংবা কাটানোর শিক্ষা দিলেই ইউরোপিয়ান অথবা আমেরিকান হওয়া যায় না। নিজ দেশের ঐতিয্য, সংস্কৃতি বিসর্জন দিলেই প্রগতিশীল ইউরোপিয়ান কিংবা আমেরিকান হওয়া যায় না। ইউরোপিয়ান কিংবা আমেরিকানদের মত হতে সাধনা করতে হয়, দেশকে নিস্বার্থভাবে ভালবাসতে হয়; দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে ভালবাসতে হয়; দেশের জন্য কাজ করতে হয়, দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করতে হয়।
জাফর স্যার,
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় অচেতন হয়ে আপনি অসাম্প্রদায়িক অসাম্প্রদায়িক বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে আপনাদের গলাবাজি ফুরোয় না। কিন্তু সেদিনে আপনার জঘন্য বর্নবাদী আচরন অসাম্প্রদায়িক চেতনার আড়ালে আপনার আসল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষের কাছে অনেকটাই খোলাশা হয়েছে। মানবতা মনবতা জপতে জপতে আপনারা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। কিন্তু মানুষের রক্ত নেশায় আপনাদের উম্মাদনা আমাদের ব্যথিত করে। আমরা আপনার মত চেতনার সফল ব্যবসায়ীদের অপছন্দ করি, কিন্তু নাক সিটকাই না।
জাফর স্যার,
আমরা সাম্প্রদায়িক মুসলমান। তাই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ পৃথিবীর সকল ধর্মের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা বাংলাদেশী। তাই সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আমরা সম্মান করি। আমরা দোষী। কারন রক্ত দেখে আমরা উল্লাস করতে পারি না। রক্ত দেখে আমাদের মধ্যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়। আমরা আপনাদের মত স্বার্থপর ও সুবিধাবাদী প্রগতিবাদীদের অপছন্দ করি, কিন্তু গালি দেই না। আমরা সবার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তাই আমরা বাড়াবাড়ি বরদাশত করতে পারি না। আমরা আপনাকে বা আপনাদেরকে সত্যের দিকে সর্বদা স্বাগতম জানাই।
জাফর স্যার,
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু অশ্লীলতা দিয়েই নয়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে আপনারা প্রগতিবাদীরা খোয়াড়ে পরিনত করেছেন। কিছুদিনের মধ্যে হয়ত এখানে আবু গারিব কারাগারও বানানো হবে। আপনার মত কতিপয় শিক্ষকের বাড়াবাড়ি, পক্ষপাতিত্ব এবং বর্নবাদী মনমানসিকতায় উচ্চ প্রতিষ্ঠানগুলোতে মারাত্মকভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাদ্রাসা ছাত্ররা মেধাবী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্য নয় আপানার এবং আপনাদের কাছ থেকে এমন কথা জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই শুনে আসছি। অথচ এ বছরও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে জামিল আহমেদ নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।
জাফর স্যার,
আমরা শান্তি প্রিয়। তাই আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সুনিশ্চিত করা, সারা বাংলাদেশকে শান্তির সূতিকাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আমরা প্রতিটি নাগরিকের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাই আমরা বাংলা স্কুল, ইংলিশ স্কুল কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন করি না। আমরা দেশ ও জনগনের তরে কাজ করি। তাই দেশের জ্ঞানী-গুনী, মেধাবী সন্তানদের আমরা সঠিক মুল্যায়ন করি।
জাফর স্যার,
এত কিছুর পরে আপনাকে দেশের কৃতিসন্তান কিংবা সূর্য সন্তান বলতে না পারাটা নিশ্চয়ই দোষনীয় হবে ন। কাদের স্বার্থে দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐতিয্য ও সংস্ক্বতি এবং ইসলামের বিরুদ্ধে আপনার এত কিছু? সত্যি সত্যি আপনার এমন সব অনৈতিক এবং দেশবিরোধী কর্মকান্ডে আমরা নিদারুন কষ্ট পাই। তাই আমরা দুঃখিত আপনাকে ধন্যবাদ দিতে পারলাম না। এ সব কিছুর জন্য আমরা আপনাকে অপছন্দ করি, তবে আমরা আপনাকে ঘৃনা করি না। তওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসার একটি অসাধারন মাধ্যম মহান আল্লাহই দিয়ে দিয়েছেন। তাই আপনাকে অনুরোধ করি, সকল অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, উস্কানি পরিহার করে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে ন্যায়ের পথে ফিরে আসুন।
আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল এবং দীর্ঘজীবন কামনা করি।
ইতি
মিনহাজ আল হেলাল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


