আমার প্রিয় পোস্ট
- কবিতার অভিমানের সময় - সুলতানা শিরীন সাজি
- তাহলে স্যাম মানেকশ-ই বাংলাদেশের স্রষ্টা? - ফারুক ওয়াসিফ
- গুগল বুকস থেকে বই ডাউনলোড করবেন যেভাবে - অনিকেত প্রান্তর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- রাজনৈতিক জিঘাংসা ব্লগে- - অপ বাক
- গরুপ্রধান দেশে শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের তাল কেটে যায় - মৃদুল মাহবুব
- জোনাক ধরার কাচের বয়াম - মুয়ীয মাহফুজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং প্রাসঙ্গিক আইনের বিশ্লেষণ ( শেষ পর্ব ) - একরামুল হক শামীম
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কপিরাইট মাজেজা আমি যেমনে বুঝি - অন্যমনস্ক শরৎ
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- মানুষ একাকী এক মিথ - মৃদুল মাহবুব
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- টুকুনের জন্য । - নরাধম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌবনের দিনগুলি - বিবর্তনবাদী
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- বিহংগের বয়কট - বিহংগ
- বাঙ্গালির আন্দোলনের স্লোগানমালা: '৫২ থেকে '৭১ (দ্বিতীয় পর্ব--'৬৯-'৭১) - ফারহান দাউদ
- একজন কীর্তিমান বাংলাদেশী : যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আইটি সিকিউরিটি সলিউশন কোম্পানীর CIO এবং Senior Vice President হিসাবে নিয়োগ পেলেন ওমর ফারুক খন্দকার - মিরাজ
- তবুও তাহারা মৌন রহেন... - জামাল ভাস্কর
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- একজন জাকির হোসেন ও একটি রুখে দাড়ানোর গল্প - হাসিব
- তোরা সব বোকার দল, মরবি না তো কে মরবে - এহেছান লেনিন
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- জিজ্ঞাসার অন্তরালে - শেখ জলিল
- ম্যারিয়েটা, জ্যাক এবং অতঃপর ভ্যালেরী - সৈয়দ দেলগীর
ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:২৩
রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারী । ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই বন্চিত ও শোষিত পূর্ব-পাকিস্তানের জনগোষ্ঠী নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য ১৯৪৭ সাল থেকে যে সংগ্রাম শুরু করে তা বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে চূড়ান্তরূপ লাভ করেছিল ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী । তবে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালী জনগোষ্ঠীকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো দীর্ঘ ৫টি বছর । ১৯৫৬ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান সংবিধান উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে । দীর্ঘ সংগ্রামের পর অর্জিত হয় মায়ের ভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা, আর এই ভাষা আন্দোলনের সাফল্যের পথ বেয়েই রোপিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ। ।
নতুন প্রজন্ম শুধু ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীকেই চেনে, এর পেছনের ধারাবাহিক আন্দোলনকে জানেনা । এর পরের কথাও অনেকের অজানা । আর এই না জানার সূত্র ধরেই আজ কেউ কেউ ভাষা সৈনিক হয়ে যান যারা মূলধারার ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পূর্ণরূপেই বিচ্ছিন্ন ছিলেন । তাই নতুন প্রজন্মের ব্লগারদের জন্য ভাষা আন্দোলনের সত্যিকারের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করবো ।
সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ : তমদ্দুন মজলিশ "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু? " নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে যেখানে সর্বপ্রথম বাংলাকে পাকিস্তানের একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার দাবী করা হয় । উল্লেখ্য সেই সময়ে সরকারী কাজকর্ম ছাড়াও সকল ডাকটিকেট, পোষ্টকার্ড, ট্রেন টিকেটে কেবলমাত্র উর্দু এবং ইংরেজীতে লেখা থাকতো । পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাংলা সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি এবং বাংলা ভাষাকে হিন্দুয়ানী ভাষা হিসাবে অভিহিত করে এবং তারা পূর্ব-পাকিস্তানের সংস্কৃতিকে "পাকিস্তানাইজ", যেটি উর্দু এবং তাদের ভাষায় ইসলামিক, করার চেষ্টা চালাতে থাকে ।
তমদ্দুন মজলিশের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হওয়া উচিত সে ব্যাপারে একটি সভা আহবান করেন । সেই সভায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
বাংলাদেশের অন্য সকল আন্দোলনের মত ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগারও তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । (১, ২)
নভেম্বর ১৯৪৭ : পাকিস্তানের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমানের উদ্যোগে পশ্চিম পাকিস্তানে আয়োজিত "পাকিস্তান এডুকেশনাল কনফারেন্সে" পূর্ব - পাকিস্তান হতে আগত প্রতিনিধিরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন এবং বাংলাকেও সম-অধিকার প্রদানের দাবী জানান ।
ডিসেম্বর ১৯৪৭ : শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমানের উদ্যোগের বিপক্ষে ঢাকায় তমদ্দুন মজলিশের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ এবং মিছিল হয় । এবং ৮ ডিসেম্বর একটি সমাবেশ হতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবী উত্থাপিত হয় । ডিসেম্বরের শেষের দিকে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং তমদ্দুন মজলিশের অধ্যাপক নুরুল হক ভুইয়া এর আহবায়ক নিযুক্ত হন । (৩)
জানুয়ারী ১৯৪৮ : পূর্ব পাকিস্তান স্টুডেন্টস লিগের জন্ম । এর প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তখন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস শেখ মুজিবুর রহমান । পূর্ব পাকিস্তান ষ্টুডেন্টস লীগে ডান ও বামধারার ছাত্রনেতাদের একটি সম্মিলন হয় । উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠাতাদের প্রায় সবাই ছিলেন মুসলিম ছাত্রনেতা । এটি গঠনের মুল লক্ষ্য ছিলো মুসলিম লীগ সরকারের এন্টি বেঙ্গলী পলিসির বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা । স্টুডেন্টস লীগের উদ্যোগে জানুয়ারীতে ঢাকায় ৭ দিন ব্যাপী একটি ওয়ার্কার্স ক্যাম্প করা হয় যাতে মুসলিম লীগ এর বাংলা সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি এবং বাংলাকে হিন্দুয়ানী ভাষা এবং সেই সুবাদে উর্দু অপেক্ষা ইনফেরিয়র প্রমাণ করার যে ধর্মের আড়ালে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল তার বিপক্ষে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ার কৌশল আলোচিত হয় । (৪)
২৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৪৮ : কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত বাঙ্গালী গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পার্লামেন্টে প্রথমবারের মত বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে গ্রহণ করার জন্য একটি বিল আনেন । মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ, বাঙালী পার্লামেন্ট সদস্যদের একাংশ এর পক্ষে সমর্থন দিলেও মুসলিম লীগ সমর্থিত এমপিরা এর বিপক্ষে অবস্থান নেন । পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত সদস্য খাজা নাজিমুদ্দিন ছিলেন এই বিরোধিতার শীর্ষে এবং তার সক্রিয় সমর্থনে এই বিলটিকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতিকে পাকিস্তানের সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা আখ্যায়িত করে প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলী এর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং বিলটি বাতিল করা হয় । ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দমে না যেয়ে তিনবার বিভিন্ন সংশোধনী সহ বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেন কিন্তু প্রতিবারই তা একই ভাগ্যবরণ করে । (৪)
৪-৭ মার্চ ১৯৪৮ : বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠাকে সামনে রেখে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির শীর্ষমুখদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ষ্টুডেন্টস এ্যাকশন কমিটি । এই ষ্টুডেন্টস এ্যাকশন কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করে । ষ্টুডেন্টস এ্যাকশন কমিটির উদ্যোগে ১১ মার্চ ১৯৪৮ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় । (২, ৪)
১১ মার্চ ১৯৪৮ : এইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠার দাবীতে একটি বড় সমাবেশ আয়োজন করা হয় । সমাবেশ শেষে বের হওয়া মিছিলে মুসলিম লীগ সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী হামলা চালায় এবং মিছিল থেকে কাজী গোলাম মাহবুব, শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ সহ আরো বেশ কয়েকজন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় । (২, ৫)
১৫ মার্চ ১৯৪৮ : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পূর্ব পাকিস্তান সফরের প্রাক্কালে বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাজা নাজিমুদ্দিন ষ্টুডেন্টস একশন কমিটির সাথে একটি বৈঠকে বসেন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার একটি অঙ্গীকারনামা সই করেন । পরবর্তীতে জিন্নাহ এই অঙ্গীকারনামা বাতিল করেন এবং উর্দু (যা ছিল ৫% মানুষের মাতৃভাষা) কে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন । উপেক্ষিত হয় পাকিস্তানের প্রায় ৫০% মানুষের মাতৃভাষা বাংলা । (৫)
২১ মার্চ - ১৯৪৮ : রেসকোর্স ময়দানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর পূর্ব - পাকিস্তান সফর উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশাল সমাবেশে জিন্নাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা" । সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও জনতার একাংশ সাথে সাথে তার প্রতিবাদ করে ওঠে । জিন্নাহ সেই প্রতিবাদকে আমলে না নিয়ে তার বক্তব্য অব্যাহত রাখেন । (৪, ৬)
২৪ মার্চ ১৯৪৮ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ "ষ্টুডেন্টস রোল ইন নেশন বিল্ডিং" শিরোণামে একটি ভাষণ প্রদান করেন । সেখানে তিনি ক্যাটেগরিক্যালী বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিস্ঠার দাবীকে নাকচ করে দিয়ে বলেন "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে একটি এবং সেটি উর্দু, একমাত্র উর্দুই পাকিস্তানের মুসলিম পরিচয়কে তুলে ধরে । তার মুল বক্তৃতা থেকে "The State language therefore, must obviously be Urdu, a language that has been nurtured by a hundred million Muslims of this sub-continent, a language understood throughout the length and breadth of Pakistan and above all a language which, more than any other provincial language, embodies the best that is in Islamic culture and Muslim tradition and is nearest to the language used in other Islamic countries." (৭)
জিন্নাহর এই ব্ক্তব্য সমাবর্তন স্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ষ্টুডেন্টস এ্যাকশন কমিটির সদস্যরা দাড়িয়ে নো নো বলে প্রতিবাদ করেন । জিন্নাহর এই বাংলা বিরোধী স্পষ্ট অবস্থানের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন আরো বেশী গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং আন্দোলন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে । (৮)
২৬ মার্চ ১৯৪৮ : জিন্নাহ ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে বৈঠক করেন এবং বৈঠকে তিনি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে তার অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন । সেই সাথে ১৫ই মার্চ ষ্টুডেন্টস একশন কমিটির সাথে খাজা নাজিমুদ্দিনের বাংলাকে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক ভাষা হিসাবে স্বীকৃতির অঙ্গীকারনামা বাতিল ঘোষণা করেন । (৯)
২৮ মার্চ ১৯৪৮ : ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে এক রেডিও ভাষণে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে তার মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেন । (১০)
৬ এপ্রিল ১৯৪৮ : জিন্নাহর ঢাকা ত্যাগের পর রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে ওঠে । উপায়ন্তর না দেখে খাজা নাজিমুদ্দিন East Bengal Legislative Assembly (EBLA) তে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারী ভাষা এবং ডাক টিকেট, ট্রেন টিকেট, স্কুল সহ সর্বত্র উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে একটি প্রস্তাব আনেন । যদিও এই প্রস্তাবের মুল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করা তথাপি এই প্রস্তাবের ব্যাপারে তৎকালীন নেতৃবৃন্দ ইতিবাচক মনোভাব দেখান । ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এই প্রস্তাবে কিছু সংশোধন প্রস্তাব করে বাংলাকে one of the "State languages of Pakistan." করার জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব করেন । কিন্তু ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংশোধনী বাতিল করে খাজা নাজিমুদ্দিনের মুল প্রস্তাবটি East Bengal Legislative Assembly (EBLA) তে গৃহীত হয় । (৬, ৯)
১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল হিসাবে নিযুক্ত হন । এর পরপরই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং বাঙালী সংসদ সদস্যরা East Bengal Legislative Assembly (EBLA) তে গৃহীত প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য নাজিমুদ্দিনের কাছে দাবী জানান । নাজিমুদ্দিন পূর্ব-পাকিস্তানের অধিবাসী হওয়া সত্বেও তিনি পুনরায় তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন এবং ক্ষমতার স্বার্থে রাষ্ট্রভাষার ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পদাংক অনুসরণ করেন । (৬)
২৭ নভেম্বর ১৯৪৮ : পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পুনরায় দানা বাধে । লিয়াকত আলীর আগমন উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের একটি সমাবেশ আয়োজন করা হয় । সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যান্য দাবী দাওয়ার পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করা ও East Bengal Legislative Assembly (EBLA) তে গৃহীত প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন করার দাবীতে একটি দাবীনামা প্রস্তত করা হয় । দাবীনামাটি তৈরী করেন আব্দুর রহমান চৌধুরী (পরবর্তীতে বিচারপতি) । দাবীনামাটি পাঠ করার দায়িত্বটি ডাকসুর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্টের উপর ন্যস্ত হলেও তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতারা "বাংলাকে হিন্দুয়ানী ভাষা" হিসাবে প্রচার করার পাকিস্তানী চেষ্টার কারনে দাবীনামাটি পাঠের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন জি এস গোলাম আজমকে । দাবীনামা প্রস্ততের সাথে জড়িত ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুবসহ স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতৃবৃন্দ । এই দাবীনামা প্রস্ততিতে গোলাম আজমের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা ।
উল্লেখ্য তৎকালীন সময়ে ডাকসুর ভিপি এবং জি এস সরকার কর্তৃক মনোনীত হতো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলির ছাত্র সংসদের ভিপি এবং জি এসরা এই দায়িত্ব পর্যায়ক্রমিকভাবে পালন করতো । গোলাম আজম ফজলুল হক মুসলিম হলের জি এস হিসাবে মুসলিম লীগ সরকার কর্তৃক ঢাকসুর জি এস পদে মনোন্নয়ন লাভ করেন ।
গোলাম আজম সমাবেশে দাবীনামাটি পাঠ করেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত দাবীটি এড়িয়ে যেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত কয়েকটি দাবী মেনে নেন । রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত দাবীটি এড়িয়ে যাওয়ায় সমাবেশস্থলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয় । (৮)
এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হবে যে, গোলাম আজম রাজনৈতিক ভাবে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন । রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠের মধ্যে দিয়েই গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার অবসান হয় । এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ।
৯ মার্চ ১৯৪৯ : পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে সরকারী কর্মকান্ড ও শিক্ষার একমাত্র ভাষা এবং সেই সাথে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার অব্যহত আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে খাজা নাজিমুদ্দিনের উদ্যোগে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে আরবী হরফে প্রচলন করার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব দেয় । প্রস্তাবের মুল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুয়ানী বাংলা হরফ থেকে বাংলাকে মুক্ত করে ইসলামী ভাবাদর্শের সাথে সামন্জস্যপূর্ণ আরবী হরফে বাংলা লেখা প্রচলন করা । এই লক্ষ্যে ৯ মার্চ ১৯৪৯ মৌলানা আকরাম খানকে চেয়ারম্যান করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় । (১১)
এই লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার একটি বড় আকারের ফান্ড গঠন করে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্লামেন্টে এর সপক্ষে বলেন "“The board is of the opinion that in the interest of national unity and solidarity and the rapid advancement of general education in Pakistan, it is necessary to have all the regional languages of Pakistan written in the same script; the Arabic script was most useful for this purpose…" (৪)
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সহ সকল ভাষাতত্ববিদ আরবী হরফে বাংলা লেখার এই উদ্ভট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন কিন্ত তদসত্বেও পাকিস্তান সরকার তাদের মনোভাবের ব্যাপারে অনঢ় থাকে ।
২৩ জুন ১৯৪৯ : পূর্ব-পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর অব্যাহত উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গী, বিভিন্ন ন্যায্য দাবী দাওয়া পূরনে অস্বীকৃতি এবং ভাষার ক্ষেত্রে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির বিরোধিতায় মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেখ মুজিবুর রহমান নিযুক্ত হন সহ সাধারণ সম্পাদক হিসাবে । একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানেও পীর মানকি শরীফ এর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় । পরবর্তীতে এই দুই দল একীভূত হয়ে পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এর আহবায়ক নিযুক্ত হন । ভাসানী ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ পর্যন্ত ৮ বছর আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন । পাকিস্তানে প্রথম বিরোধী দল হিসাবে পূর্ব পাকিস্তানী রাজনৈতিক নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আওয়ামী মুসলিম লীগ ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং রাজপথের আন্দোলন সংগঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টেও রাষ্ট্রভাষা ভাষার দাবীতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে । (১, ১২)
১১ মার্চ ১৯৫০ : কমিউনিষ্ট ভাবধারার ছাত্র নেতা আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত হয় Dhaka University State Language Movement Committee । এই কমিটি ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । (৩, ৮)
এপ্রিল ১৯৫০ : পার্লামেন্টে আরবী হরফে বাংলা লেখার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় । ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলন দানা বেধে ওঠে । (৬)
সেপ্টেম্বর ১৯৫০ : পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর এবং জনগণের মৈলিক চাহিদা পূরণের উপায় নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত The Basic Principle Committee (BPC) of the National Constitutional Assembly পার্লামেন্টে রিপোর্ট প্রদান করে । এই রিপোর্টে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করা হয় । BPC রিপোর্ট পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । আওয়ামী মুসলিম লীগ BPC রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙালী রাজনৈতিক নেতারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষনার পাশাপাশি অন্যান্য দাবী দাওয়ার রূপরেখা প্রণয়নের জন্য Grand National Convention (GNC) আহবান করেন । (১৩)
১৪ নভেম্বর ১৯৫০ : পূর্ব-পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবিদের সমন্বয়ে গঠিত Committee of Action for Democratic Federation ১৪ই নভেম্বর ১৯৫০ ঢাকায় আয়োজন করে Grand National Convention । GNC থেকে বাঙালীদের মুল দাবীগুলির পাশাপাশি উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব গৃহীত হয় । (১৩)
৭ ডিসেম্বর ১৯৫০ : মৌলানা আকরাম খান এর নেতৃত্বে গঠিত ১৬ সদস্যবিশিষ্ট East Bengal Language Committee আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবকে বাস্তবতা বিবর্জিত এবং উদ্ভট হিসাবে আখ্যায়িত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে । এই কমিটি রিপোর্টে পূর্ব পাকিস্তানের অফিস আদালত ও শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বতোভাবে বাংলা ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে । (৬)
১০ ডিসেম্বর ১৯৫০ : মজলুম জননেতা ভাসানী জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন । মুক্তির পরপরই ভাসানী BPC রিপোর্ট (যাতে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল) প্রত্যাখ্যান করেন এবং Grand National Convention এ গৃহীত প্রস্তাবগুলি অবিলম্বে মেনে নেয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে আহবান জানান । (১৪)
ফেব্রুয়ারী ১৯৫১ : পূর্ব পাকিস্তান ইয়ুথ লীগের জন্ম । এই ইয়ুথ লীগ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রোমোটকৃত মুসলিম কালচারের পরিবর্তে পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের নিজস্ব কালচার যেমন পহেলা বৈশাখ, নবান্ন ইত্যাদি চর্চার ব্যাপারে উচ্চকন্ঠ ছিলো । ইয়ুথ লীগ মুলত পাকিস্তানের প্যান-ইসলামিক মতবাদ থেকে বেরিয়ে এসে পূর্ব-বাংলার নিজস্ব কালচার চর্চার ক্ষেত্রে একটি কন্ঠস্বর হিসাবে নিজেদের পরিচিত করে । (২)
১১ মার্চ ১৯৫১ : The Dhaka University State Language Movement Committee পূর্ব-বাংলার সকল পত্র পত্রিকায় এবং গণ পরিষদের সদস্যদের মাঝে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবীতে একটি মেমোরেন্ডাম পাঠায় ।
২৭ মার্চ ১৯৫১ : পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী পুনরায় এ্যাসেম্বলীতে আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবটি পেশ করে । এখানে উল্লেখ্য যে মৌলানা আকরাম খান এর নেতৃত্বে গঠিত ১৬ সদস্যবিশিষ্ট East Bengal Language Committee আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবকে বাস্তবতা বিবর্জিত এবং উদ্ভট হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করলেও সেই রিপোর্টকে সাধারণ জনগনের সামনে প্রকাশ করেনি পাকিস্তান সরকার । ততদিনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের এদেশীয় সদস্যদের মধ্যেও অনেকে বাংলার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছেন । এরকমই একজন হাবিবুল্লাহ বাহার এ্যাসেম্বলীতে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন । হাবিবুল্লাহ বাহারের সাথে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এই প্রস্তাবকে পূর্ব-বাংলার জনগণকে শিক্ষা ক্ষেত্রে পঙ্গু করার জন্য একটি দূরভিসন্ধি হিসাবে অভিহিত করে এই প্রস্তাব বাতিল করার দাবী জানান । পূর্ব বাংলার এম পি দের একাংশের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার । (৬)
জুলাই - ডিসেম্বর ১৯৫১ : এই সময়কালীন ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলো আব্দুল মতিনের নেতৃত্বাধীন The Dhaka University State Language Movement Committee । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই, সেপ্টেম্বর, অক্টোবরে পৃথক পৃথক সমাবেশ করে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার দাবী জানানো হয় । এই সময়ের সমাবেশগুলিতে কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, গাজীউল হক প্রমুখ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ।
২৬ জানুয়ারী ১৯৫২ : The Basic Principles Committee of the Constituent Assembly of Pakistan পুনরায় উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে এ্যাসেম্বলীতে চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করে । (৬)
২৭ জানুয়ারী ১৯৫২ : ঢাকা সফররত পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের সমাবেশে ঘোষণা করেন কেবল মাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা । সাথে সাথে সমাবেশস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শ্লোগান ওঠে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" । এই বক্তব্য সমগ্র পূর্ব - পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । (৩)
২৮ জানুয়ারী ১৯৫২ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে । এই সমাবেশ থেকে নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা ছাড়াও পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদকে পশ্চিম পাকস্তানের হাতের পুতুল হিসাবে অভিহিত করা হয় । (৩,৫)
৩০ জানুয়ারী ১৯৫২ : খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য ভাষা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দান করে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয় । (৩)
একই দিন ভাসানীর সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় ভাসানীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের পাশাপাশি আওয়ামী মুসলিম লীগের সরাসরি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । (৩,৫)
৩১শে জানুয়ারী ১৯৫২ : ভাসানীর সভপতিত্বে পূর্ব-পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । এই সম্মেলন থেকে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় । সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১শে ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে । (৩)
৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : ছাত্রদের ডাকে ঢাকা শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বত:স্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয় । ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবীতে তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় একটি মিছিল নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে ।
১৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : পাকিস্তান সরকার ২১শে ফেব্রুয়ারী ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে । (৩,৫)
২০ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর উদ্যোগে আবুল হাশিম এর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় উপস্থিত সদস্যগণ ১৪৪ ধারা ভংগ করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে ব্যর্থ হন । সভার একটি বড় অংশ ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে মত দিলেও অনেকেই এতে সহিংসতার আশংকায় বিপক্ষে মত দেন । (৩)
২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২
সকাল ৯টা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেশিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু ।
সকাল ১১ টা : কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ শুরু । সমাবেশে ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. এস এম হোসেইন এর নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যান এবং ১৪৪ ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন । (৩)
বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা : উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেও সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন । এ অবস্থায় উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয় । এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি বর্ষণ শুরু করে । গুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাষ্টার্সের ছাত্র), রফিক উদ্দীন, এবং আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মৃত্যু বরণ করেন । পরে হাসপাতালে আব্দুস সালাম যিনি সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন মৃত্যু বরণ করেন । অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটি শিশুও পুলিশের গুলিতে মারা যায় । পুলিশের সাথে ছাত্রদের ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলতে থাকে কিন্তু পুলিশ গুলিবর্ষণ করেও ছাত্রদের স্থানচ্যূত করতে ব্যর্থ হয় । (৩)
বেলা ৪টা : ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকে । (১, ৮)
গুলিবর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয়জন আইন পরিষদ সদস্য আইন পরিষদ সভা মুলতবী করে ঢাকা মেডিকেলে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে অনুরোধ করেন । সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন কিন্তু নুরুল আমিন সকল দাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালাবার নির্দেশ দেন । এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ থেকে ওয়াক আউট করেন । (১, ৮)
রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও ক্লাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হবার আহবান সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয় ।
২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : হাজার হাজার ছাত্র জনতা সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে থাকে । উপস্থিত ছাত্র-জনতা ২১শে ফেব্রুয়ারী নিহতদের স্মরণে কার্জন হল এলাকায় একটি জানাজা নামাজ আদায় করে এবং একটি শোকমিছিল বের করে । শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ পুনরায় গুলি চালালে শফিউর রহমানসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন । উত্তেজিত জনতা রথখোলায় অবস্থিত সরকারপক্ষীয় পত্রিকা "দি মর্নিং নিউজ " এর অফিসে আগুণ ধরিয়ে দেয় । নুরুল আমিন পুলিশের পাশাপাশি আর্মি নামিয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে । আর্মি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা ভিক্টোরিয়া পার্ক (বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক) এ জমায়েত হয় এবং সেখানে অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, কাজী গোলাম মাহবুব ব্ক্তব্য রাখেন ।
উপায়ন্তর না দেখে নুরুল আমিন তড়িঘড়ি করে আইন পরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনেন এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাশ হয় । (২,৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে স্বত:স্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালিত হয় । এর আগের দিন আইন পরিষদে রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত প্রস্তাব আনার পরেও নুরুল আমিনের পেটোয়া বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়ন অব্যহত রাখে । সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৫ শে ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয় ।
২৩ ফেব্রুয়ারী রাতে ছাত্র-ছাত্রীরা বরকত শহীদ হওয়ার স্থানে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান শুরু করে ।
২৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : ভোর ৬টার সময় "শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের" নির্মানকাজ সমাপ্ত হয় এবং সকাল ১০টার দিকে শহীদ শফিউর রহমানের পিতাকে দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক উন্মোচন করা হয় ।
নুরুল আমিনের সরকার রাজপথে সর্বত্র সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করে এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পরিবেশ স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় । এই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয় । (১, ৮)
২৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : ছাত্র বিক্ষোভকে দমাতে ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় ।
২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখে স্থাপিত "শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ" গুড়িয়ে দেয় । সরকারের দমন পীড়ন নীতিতে ঢাকায় ছাত্র আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে কিন্তু ঢাকার বাইরে আন্দোলন দানা বাধে। এবার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার পাশাপাশি বর্বর নুরুল আমিনের পদত্যাগের দাবী ওঠে ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগের কাছ থেকে । (১,৪)
৮ এপ্রিল ১৯৫২ : পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারীর ঘটনাকে পাকিস্তানের মুসলিম কালচার থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে হিন্দু এবং কমিউনিস্টদের একটি চক্রান্ত হিসাবে অভিহিত করে । একই দিন প্রকাশিত একটি রিপোর্ট ছাত্রদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষনের ঘটনার কোন যুক্তিসংগত কারন দেখাতে ব্যর্থ হয় । (১০)
১৪ এপ্রিল ১৯৫২ : আইন পরিষদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা ২১ ফেব্রুয়ারীর ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারী গৃহীত প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার ব্যাপারে দাবী উত্থাপন করলে আইন পরিষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় । (১, ১০)
১৬ এপ্রিল ১৯৫২ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেয়া হয় ।
২৮ এপ্রিল ১৯৫২ : সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বার এসোসিয়েশন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা মিছিল সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সকল বন্দীর মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষনার দাবী জানান । (১,১০)
২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৩ : ১৯৫২ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে হাজার হাজার জনতা অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে । সরকার সকল সভা সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করলেও ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্র-জনতা খালি পায়ে স্মৃতিস্তম্ভের নিকট সমবেত হন । এই দিন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন শোকের প্রতীক হিসাবে কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয় । (১, ৫)
৩ এপ্রিল ১৯৫৪ : মাওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসনভার গ্রহন করে । ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব-বাংলার জনগণের যে জাগরণ শুরু হয় তার ফলেই প্রথমবারের মত মুসলিম লীগ বিতারিত হয় প্রাদেশিক সরকার হতে । (৪)
৭ মে ১৯৫৪: যুক্তফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে । (২,৫)
৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ : ভাষা আন্দোলনের ছাত্র-জনতার অন্যতম দাবী বাংলা একাডেমী আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ।
১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ : পাকিস্তানের এ্যাসেম্বলীতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে তা সংবিধানের অন্তর্গত করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয় । (৩)
২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ : প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার কর্তৃক শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন । ১৯৬৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কর্তৃক এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় । (১০)
২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ : পাকিস্তান জাতীয় এসেম্বলী বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধান পাশ করে । (২,৫)
৩ মার্চ ১৯৫৬ : বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানকারী পাকিস্তানের সংবিধান এইদিন থেকে কার্যকর হয় এবং ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে মায়ের ভাষায় কথা বলার যে আন্দোলনের শুরু হয়েছিল তার সাফল্য অর্জিত হয় । (২,৫)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৩৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মিরাজ বলেছেন:
পোষ্টের ভিতর তথ্যসূত্র দিতে গেলে পোষ্টের জন্য নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে যায়, সেজন্য প্রথম মন্তব্যে তথ্যসূত্র দেওয়া হলো ।
ইকারুস বলেছেন:
এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হবে যে, গোলাম আজম রাজনৈতিক ভাবে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন । রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠের মধ্যে দিয়েই গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার অবসান হয় । এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ।for ur kind information......রংপুর শহর ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখায় তার নাম দেখলাম বোধয়???????
লেখক বলেছেন: আমি ভাষা আন্দোলনের মুল স্রোতের কথা বলছি । আর গোলাম আজমের ১৯৪৮ এর পরে ভাষা আন্দোলনে কোন ভূমিকা রাখার কথা দেশী বিদেশী কোন লেখকের কোন বই বা রিপোর্টে থাকার ব্যাপারটি আসেনি । অন্তত: আমি পাইনি । আপনার কাছে নির্ভরযোগ্য কোন সূত্র থাকলে দেবেন ।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
অসাধারন পোষ্ট, চমৎকার উপস্থাপনের সাথে রেফারেন্স। এ লেখাটি পড়ে কারো কোন অজানা কিংবা সন্দেহ থাকার কথা নয়।সা.ইন.কতৃপক্ষকে এই গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট'কে স্টিকি করার অনুরোধ করছি।
মিরাজ ভাই শত ব্যস্ততার মাঝে অনেক কষ্ট করে গোছিয়ে লেখাটি আমাদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতগ্গতা।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: এই পোষ্টটা ষ্টিকি করা হলে বা নির্বাচিত করা হলে খুশী হতাম । নিজের জন্য নয়, সেক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের বেশী সংখ্যক ব্লগার/ভিজিটর ইতিহাস জানার সুযোগ পেতেন । প
কিন্তু কর্তৃপক্ষ কি তা করবেন?
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম।
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই।
লেখক বলেছেন: নিয়মিত পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ রাশেদ ।
মিরাজ বলেছেন:
কর্তৃপক্ষকে শুধু ২১ শে ফেব্রুয়ারীর দিনটিতে পোষ্টটি ষ্টিকি বা নির্বাচিত হিসাবে রাখার জন্য অনুরোধ করছি ।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
@ইকারুস: রংপুর শহর ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখায় তার নাম দেখলাম বোধয়???????নিজেই প্রশ্নবোধক রেখেছেন সাতটা....আরো কত কিছু যে শুনতে হবে। সবাই যখন বলে পৃথিবী গোল তারা বলে চারকোণা।
ইকারুস বলেছেন:
জেলায় জেলায় ভাষা আন্দোলন- এই টাইপের একটা বই পড়েছিলাম।রংপুর জেলায় দেখলাম তার নাম আছে..
জেলও খেটেছেন
লেখক বলেছেন: ইকারুস, তথ্যসূত্র দেন । আপনি এই টাইপের একটা বই পড়েছিলেন । তথ্যসূত্র হিসাবে এটা খুব একটা জুতসই হলোনা ।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
ভালো হয়েছে, অনেকক্ষণপর ভালো কিছু পড়লাম।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
যে ভাষা শহীদদের আত্মদানে অর্জিত এই প্রাণের ভাষা,যে ভাষা না থাকলে প্রাণভরে 'মা' ডাকতে পারতাম না !
যে ভাষা না থাকলে 'প্রিয়' সম্বোধনে হৃদয়ের উষ্ণতা
ছড়িয়ে দিতে পারতাম না, হৃদয়ের খুব কাছের মানুষদের,
সেই মহান বীর ভাষা সৈনিকদের, ভাষা শহীদদের জন্য রইল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা । প্রাণের গভীরতম শ্রদ্ধা ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আর হ্যাঁ, অবশ্যই অজস্র ধন্যবাদ মিরাজ ভাইকে, সবগুলো তথ্য একত্রে জমা করে, আমাদেরকে এই উপহার দিয়ে,কথা রাখবার জন্য ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আব্দুর রাজ্জাক শিপন । আপনারা নিয়মিত পড়াতে আমার পক্ষে কাজটি করা সহজ হয়েছে ।
এখন তরুণ প্রজন্মের যত বেশী ব্লগার এই ইতিহাস দেখবেন তত ভালো লাগবে ।
কর্তৃপক্ষকে শুধু ২১ শে ফেব্রুয়ারী দিনটিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে পোষ্টটি ষ্টিকি বা নির্বাচিত করার জন্য অনুরোধ করছি । একটাই কারণ আর তা হলো বেশী সংখ্যক ব্লগারের সঠিক ইতিহা জানা ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
প্রিয়তে যোগ করা হলো,তথ্য সমৃদ্ধ এই পোস্টটি ।
লেখক বলেছেন: প্রিয়তে যোগ করায় কৃতজ্ঞতা ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ লালবাগ আর প্রিয় পোষ্টে যোগ করায় কৃতজ্ঞতা ।
নরাধম বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম, মিরাজভাই।
লেখক বলেছেন: নরাধম প্রিয়তে রাখায় কৃতজ্ঞতা ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়বার জন্য ।
লেখক বলেছেন: ইতিহাস যোগ হলো এরপর সেখান থেকে নতুন কেউ ইতিহাসকে জানলে প্রচেষ্টা সার্থক হবে ।
অনেক ধন্যবাদ ফারহান ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
২৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ : ভোর ৬টার সময় "শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের" নির্মানকাজ সমাপ্ত হয় এবং সকাল ১০টার দিকে শহীদ শফিউর রহমানের পিতাকে দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক উন্মোচন করা হয়
------------------->
আজ ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের একটা বই পড়লাম। সেখানে তিনি শহীদ মিনারে ব্যাপারে লিখছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটার একটু পরে আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদেও নাকি একই তথ্য ছাপা হয়।
লেখক বলেছেন: বিবর্তনবাদী, আপনি বলার পর তথ্যটি আবার যাচাই করলাম । পোষ্টের তথ্যটিই সঠিক । কমপক্ষে চারটি জায়গায় একই তথ্য আছে ।
বস্, পরে অন্য কোন তথ্যসূত্রে যদি পারেন তবে আরো কিছু তথ্য যোগ করে রাইখেন, তাহলে পোস্টটা আরো ফাটাফাটি হবে
১. মোট নয়জন শহিইদের মাঝে ছয়জনের নাম এসেছে, বাকী তিনজনের নাম
২. সব শহীদদের সম্পর্কে যতবেশী পারা যায় তথ্য পরিবেশন (এটা নিজেই একটা পোস্ট হতে পারে)
৩. "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটির ইতিহাস -- এটা আমাদের প্রাণের গান, জাতীয়তাবোধের উন্মেষের প্রথম মন্ত্র
আর আপনাকে আবারও স্যাল্যুট
লেখক বলেছেন: জ্বিনের বাদশা । চেষ্টা করবো এই পোষ্টের সাথেই আপনার অনুরোধ করা তথ্যগুলিকে সংযোগজন করতে ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" -- গানটার ব্যাপারে আবদুল গাফফার চৌধুরীর সাক্ষাৎকার হতে তথ্য-->"গানটা ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্র"য়ারি মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর লেখা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের আউটডোরে ছুটে গিয়ে দেখলাম একটা লাশ পড়ে আছে। লাশটার মাথার খুলি উড়ে গেছে। ভাবলাম হয়তো বরকতের লাশ। মনে হলো আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। অনেক পরে জেনেছি ওটা ছিল ভাষা শহীদ রফিকের লাশ।" "প্রথমে আব্দুল লতিফ সুর করলেন, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র"য়ারি। পরে করাচী থেকে ঢাকা ফিরে ১৯৫৪ সালে আলতাফ মাহমুদ আবার নতুন সুর দিলেন। সেই থেকে ওটা হয়ে গেল একুশের প্রভাত ফেরীর গান। ১৯৫৪ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র"য়ারি। তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।" জহির রায়হান তার জীবন থেকে নেয়া ছবিতে এই গানটি ব্যবহার করার পর এর জনপ্রিয়তা আরো বাড়ে। "আর ২১শে ফেব্র"য়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর এই গানটিও আন্তর্জাতিকতা পেতে শুরু করে। ইতিমধ্যে সুইডিশ ও জাপানি ভাষার অনুদিত হয়েছে। সুর অক্ষুণ� রেখে।"
লেখক বলেছেন: বিবর্তনবাদী, আপনাকে ধন্যবাদ "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটির ইতিহাসটি শেয়ার করার জন্য ।
কাজ করে খাই বলেছেন:
মুকুল বলেছেন: আমি আবারও এই পোস্টটি স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।সহমত।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
এই পোস্টটি স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।
আরণ্যক যাযাবর বলেছেন:
কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, আমাদের কণ্ঠ শোনার জন্যে।
আমার পোস্টটা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছি।
লেখক বলেছেন: আলাদা পোষ্ট দিয়ে এই পোষ্টটিক ষ্টিকি করার আহবান জানানোয় কৃতজ্ঞতা ।
পুতুল বলেছেন:
শাবাস!
কুম্ভকর্ণ বলেছেন:
কতৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ জানায়। মিরাজভাইকেও।
না বলা কথা বলেছেন:
কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
অসাধারন পোষ্ট,
প্রিয়তে রাখলাম, মিরাজভাই।
কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, আমাদের কণ্ঠ শোনার জন্যে।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
২১ ফেব্রুয়ারী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রংপুরে সমাবেশ ও বিক্ষভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম।ভাষা আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন ৬ মার্চ, ১৯৫২। জেল খাটেন প্রায় একমাস।
@ মিরাজ স্যার।
জুেল মৃধা বলেছেন:
ফাটাফাটি। তথ্য সমৃদ্ধ । সংরক্ষনের মত ।ভাষা শহীদের প্রতি অজস্র সালাম।
ধন্যবাদ মিরাজ
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারন একজন ভাষা সৈনিক।@ মিরাজ স্যার।
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:
কয়েকদিন পর ব্লগে ডুকা মাত্রই একটি ভালো লিখা পেলাম।
আমরা ছাড়া কে পেরেছে
ভাষার জন্য জীবন দিতে?
মাতৃভাষার এমন মায়ায়
বিশ্ব ভুবন জড়িয়ে নিতে?
অমর একুশের মহান শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
অতঃপর, তাহারা জাগিলেন...ঘুম ভাঙ্গিলেন..গাত্রোত্থান করিলেন...দেরিতে হলেও শুভ বোধোদয়ের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই ।
জানা বলেছেন:
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মিরাজ, তথ্যসমৃদ্ধ ও অত্যন্ত গুরুত্বপুুর্ণ এই লেখাটির জন্যে। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ । আরিলকে একুশের শুভেচ্ছা জানাবেন ।
কোলাহল বলেছেন:
চমৎকার একটা সিরিজ ধারাবাহিকভাবে লেখার জন্য মিরাজভাইকে অভিনন্দন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।----"তোরা জানিস সেদিন কয় তারিখ ছিল্।
২১ শে ফেব্রুয়ারী । আমরা যার যার মত সাড়া দেই।
তোরা তো শুধু একুশে ফেব্রুয়ারী চিনবি। ফাল্গুনের ৮ তারিখ ছিলো তা জানবি না। বুড়োর ক্ষোভে আমরা বাতাসে উড়ে যাই।
সেদিন থেকে পুকুর পাড়ে কৃষ্ণচুড়া গাছের নিচে মনখারাপ বুড়োকে দেখলে আমারও মন খারাপ হয়।"----
প্রচেত্য বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই
মিছা কথা বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই।মনের কোঠায় রাখলাম। হারাতে দেব না !!
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সুন্দর করে ধারাবাহিক ভাবে সংকলনের জন্য। প্রিয়তে রাখলাম।
কালপুরুষ বলেছেন:
চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ একটি পোষ্ট। ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
শাওন বলেছেন:
অনেক উপকৃত হলাম । সৃষ্টিকর্তা বড়াই পছন্দ করেনা । ঐসময় পাকিস্তানিগুলান ভাষা নিয়ে বড়াই করছিলো বলেই এখন এমন অবস্থা । মরছে ।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি পোস্টের জন্য।
নিলু বলেছেন:
দারুন পোষ্ট। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মণিপুরী ভাষা এবং সংস্কৃতি রক্ষায় আপনাদের প্রচেষ্টার সাফল্য কামনা করি ।
নিজেদের মধ্যে চর্চা না হলে ভাষাও একসময় হারিয়ে যায় কালের গহবরে ।
মণিপুরী লিপির পুন:ব্যবহার ও প্রচলন শুরু হয়েছে জেনে ভালো লাগলো ।
নাভদ বলেছেন:
+
মিরাজ বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ পড়বার জন্য এবং মন্তব্য করে উৎসাহ প্রদানের জন্য । কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোষ্টটি ষ্টিকি করার জন্য ।
পোষ্টটি যারা প্রিয়তে রেখেছেন তাদের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা ।
আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট বলেছেন:
ফেব্রুয়ারি বানান ভুল ...হতভাগা বাঙালি তোরা মাতৃভাষা শিখলি না।
লেখক বলেছেন: ফেব্রুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারী দুইটি বানানই প্রচলিত । আমি ২য়টিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি । পড়বার জন্য ধন্যবাদ ।
আহমাদ মুজতবা বলেছেন:
পিলাচ দিলাম না পইড়াই
লেখক বলেছেন: মুজতবা । পড়ুন, না পড়ে এইসব পোষ্টে প্লাস দেবার কোন দরকার নেই । এইসব পোষ্ট রেটিং এর জন্য নয়, জানার জন্য ।
আগুন পাখি বলেছেন:
অসম্ভব সুন্দর পোষ্ট। অনেক নতুন কিছু জানলাম। ধন্যবাদ মিরাজ ভাই।
রাশেদ বলেছেন:
যাক! স্টিকি করছে তাইলে। তাদেরকে বলে কইয়ে করাইতে হয় কেন সব কাজ সেইটাই বুঝি না!
লেখক বলেছেন: রাশেদ আপনারা যারা এই পোষ্টটি ষ্টিকি করার জন্য অনুরোধ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ।
বিশেষ ধন্যবাদ জানাই আব্দুর রাজ্জাক শিপনকে যিনি একটি আলাদা পোষ্ট দিয়েছিলেন এই পোষ্টটিকে ষ্টিকি করার অনুরোধ জানিয়ে ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
বাহ্ ! এইমাত্র কর্তৃপক্ষ ভাঁদ ভাঙ্গার আওয়াজের ব্যানার চেঞ্জ করলেন, আজকের দিনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে । খুবই ভাল ।ব্যানারের রংটা কি কটকটে মনে হচ্ছে ?
রাগিব বলেছেন:
+++
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অভিনন্দন।
লেখক বলেছেন: পড়বার জন্য এবং মন্তব্য করবার জন্য অনেক ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই ।
সবুজমিয়া বলেছেন:
একুশের মহান শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
ব্লগে এসে প্রথম চোখে পড়ল আপনার এই পোষ্ট..........।অসাধারন
পোষ্টটি স্টিকি করার জন্য কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
নতুন গেটআপটা ও চমৎকার।
ভালো থাকুন মিরাজ ভাই।
মিরাজ বলেছেন:
আবারো যারা যারা পড়লেন এবং মন্তব্য করলেন তাদেরকে ধন্যবাদ । সামহোয়্যারইন কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ একুশ উপলক্ষে নতুন ব্যানার এবং থিমের জন্য ।
সর্বনাশা বলেছেন:
অসাধারণ !!! +++++++
ধন্যবাদ। জানা অজানা অনেক কিছুই জানলাম।
লেখাটা কি লেখকের অনুমতিক্রমে উইকিতে রাখা যায় না ? @ রাগিব
মিরাজ বলেছেন:
@ ১৯৭১ আমার চেতনাআমি যথেষ্ট পড়াশোনা না করে পোষ্টটি লিখিনি । ১৯৪৮ এর পরে গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কথা বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও পাইনি । এমনকি গোলাম আজমের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ভাষা আন্দোলন নামে একটি আলাদা পেজ আছে । সেখানেও শুধু ১৯৪৮ এর ২৭ নভেম্বর এর কথাই আছে ।
এখন আপনি যে তথ্য দিচ্ছেন তার রেফারেন্স দিন । যে তথ্য গোলাম আজম নিজে উল্লেখ করেননি সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে ।
@ ক্যামেরাম্যান
আমি রাগিব ভাইকে বলেছি যে তিনি ইচ্ছা করলে এই নিবন্ধটি উইকিতে সংযুক্ত করতে পারেন ।
শুধু তিনি নন যে কেউই এই নিবন্ধের তথ্য যে কোন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন । অনুমতি দেয়া রইল । ইতিহাস জানানোটাই আমার মুল উদ্দেশ্য । তাই এটিকে যত বেশী ছড়িয়ে দেয়া যাবে ততই ভালো ।
ফজলে এলাহি বলেছেন:
ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জন্য অনেক অনেক দো'আ।যারা জীবিত আছেন, তাদেরকে জানাই সালাম।
ইরতেজা বলেছেন:
মিরাজ ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধণ্যবাদ।প্রিয় পোষ্ট। ++++++
আমার আজকের ব্লগটা সময় পেলে পড়বেন আশা করি
লেখক বলেছেন: ইরতেজা, আপনার লেখাটি পড়েছি ।
ভালো লেগেছে ।
লেখক বলেছেন: প্রতুল মুখোপাধ্যায় আমার খুব পছন্দের শিল্পী । এত দরাজ গলায় আর কে বাংলার কথা বলে? এত সাহস দিয়ে সাগরে ডিংগি ভাসাবার সাহসতো প্রতুলই দিয়েছেন ।
অনেক ধন্যবাদ গানটির জন্য ।
সবাইকে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
রুবেল শাহ বলেছেন:
অস্তিত্বের কথা, অস্বীকার করার কোন যো নাই-- যারা করে তারা পাকিস্তানের যারজ সন্তাত, নব্য রাজাকার, আল রদর, আল সামছ, ++
রেনেসা বলেছেন:
সুনদর েলখা
সাইন্টিফিক বাংলাদেশী বলেছেন:
সুন্দর
বুমবুম বলেছেন:
আইজকা এক যুবক পোলারে শহীদ মিনারে টিভির সামনে কইতে শুনলাম (মন্তব্য করতে ছিল ক্যান এইখানে আসছে)ভাষা আন্দোলোন নাকি ৭১ এ হইছে।হায়রে কুন দেশে যে আছিলেখক বলেছেন: আসলেই লজ্জা লাগে জাতি হিসাবে আমাদের বিস্মৃতির বহর দেখলে ।
নতুন প্রজন্মের জন্য সামনে আরো লজ্জা পেতে হবে । সেই লজ্জা যাতে কিছুটা কমে সেজন্যই এই চেষ্টা ।
সিন-লাম-মীম বলেছেন:
পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ এবং +
. . . এখনো খুঁজি বলেছেন:
+
পেইজ থ্রি বলেছেন:
+
কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারীর প্রথমেই এই ব্যানার লাগানো উচিৎ ছিল।
মুক্তি বলেছেন:
ভাল লাগলো।অপ্রাসঙ্গিক একটা প্রশ্ন এই লাইনটা জুড়ে দেয়াটা কতটুকু যুক্তিসংগত। "এই দাবীনামা প্রস্ততিতে গোলাম আজমের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা ।"
নাকি এটা বলাতে চাওয়া হচ্ছে ঐ দাবী নামা প্রস্তুতিতে যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন না তারা সকলেই প্রশ্নবিদ্ধ?
লেখক বলেছেন: সহজ কথাটি না বুঝতে পারার কারণ বুঝলামনা । এখানে বলা হচ্ছে যে গোলাম আজম দাবীনামাটি পাঠ করলেও তিনি দাবীনামাটি তৈরীর সাথে যুক্ত ছিলেননা । দাবীনামাটি তৈরী করেন আব্দুর রহমান চৌধুরী (পরবর্তীতে বিচারপতি) এবং এতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুবসহ স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতৃবৃন্দ ।
এখানে গোলাম আজমের ভূমিকা একজন পাঠকের চাইতে বেশী কিছু ছিলোনা ।
মরিযাদ হারুন বলেছেন:
মিরাজ ভাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মিরাজ বলেছেন:
যারা পড়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে আবারো ধন্যবাদ ।
মুক্তি বলেছেন:
আমি লাইনটার যৈৗক্তিকতা খুজতাছিলাম এর চাইতে বেশী কিছু না মিরাজ ভাই। নিজের বড়াই আমি করিনা নিজে শতভাগ খাঁটি সেটাও আমি বলিনা আমি শুধু একটা কারণ খুজছিলাম। পাইছিও কারণটা আমি একটু শেয়ার করি, এই লাইনটা জুড়ে দেয়ার কারন হচ্ছে একটু সুক্ষ, এটা প্রমান করা যে "এখানে গোলাম আজমের ভূমিকা একজন পাঠকের চাইতে বেশী কিছু ছিলোনা ।" গোলাম আযমের ভূমিকা কি ছিলো এটা কোন প্রমাণের বা গর্ব করারও বিষয় না। এতুটুকই বলতে চাইছিলাম।তাও যাক এটা প্রমান করতে গিয়ে আপনি একটি ইতিহাসের গ্রহণযোগ্য ভাষণ আনতে পারছেন। আপনার পোষ্ট স্টিক হইছে। আমার নিজের কাছেও ভাল লাগছে। মনে কিছু নিবেন না।
লেখক বলেছেন: আমি কোন কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করিনি । ইতিহাসে যার যেটুকু ভূমিকা ততটুকু সঠিকভাবে তুলে ধরেছি । সত্য ইতিহাস সবার কাছেই পছন্দনীয় হবে সে আশা করিনা । সত্যকে তাই পছন্দ অপছন্দের দিকে না তাকিয়ে অবিকৃত অবস্থায়ই তুলে ধরেছি ।
মুক্তি বলেছেন:
মিরাজ ভাই ডায়বেটিকস রোগীর জন্য চিনি অপকারী হইলেও আমার জন্য চিনি কিন্তু অপকারী নয় বরং আমার জন্য চিনি উপকারী। সমস্যটা কিন্তু রোগীর। বিষয়টা কিন্তু রোগীর। এই ভাবে দেখলেই হইতো। আমি সত্য গ্রহন করতে পারছিনা বলাটা কিন্তু নেহায়েত আমার সাথে জে১াড়াজুড়ি করা। পরে আলাপ করবো প্রয়োজনে। আজ যাই।
লেখক বলেছেন: কোন সমস্যা নাই ।
যে কোন সময়ে এই ব্যাপারে আলোচনায় প্রস্তত আছি ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
@মিরাজ স্যার,"এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হবে যে, গোলাম আজম রাজনৈতিক ভাবে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন । রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠের মধ্যে দিয়েই গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার অবসান হয় । এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ।"
উপরের প্যারাটা আমার কাছে অপ্রাসংগিক ও উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়েছে। এটা কি মুছে দেয়া যায়?
লেখক বলেছেন: এই প্যারার কোন কথা কি ভুল? যদি ভুল না হয় সেক্ষেত্রে তা মুছে দেবার কোন কারণ নাই ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
@মিরাজ স্যার,গোলাম আজম ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠ করেছেন তার রেফারেন্স দিন ।
যে তথ্য গোলাম আজম নিজে উল্লেখ করেননি সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে ।
লেখক বলেছেন: ভাষা আন্দোলনের উপর অধিকাংশ বইতেই পাবেন তথ্যটি । পোষ্টেও লেফারেন্স হিসাবে যে নামগুলি আছে হাতের কাছে থাকলে খুলে দেখেন আর না হলে বইমেলা থেকে কিনে নেবেন ।
যে তথ্যটি বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য সূত্রে লিপিবদ্ধ আছে সেটি যাচাই করবার জন্য গোলাম আজমের কাছে যাওয়ার দরকার হয়না । তারপরও তার ওয়েব সাইটেও এই তথ্যটি আছে ।
বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া কোথাও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে গোলাম আজমের নামও নেই । ।আমি ইতিহাসকে অবিকৃত রাখার স্বার্থে তার নামটি উল্লেখ করেছি এবং তার কতটুকু ভূমিকা ছিল তা প্রাসংগিক হওয়াতে উল্লেখ করেছি ।
যার যতটুকু ভূমিকা ততটুকুই বলতে হবে । আমি সত্যকে তুলে ধরেছি আর সত্য দিয়ে যে সবাইকে সন্তষ্ট করা যায়না সেটাও জানি ।
যা হোক আরেকটু পড়াশোনা করে আলোচনা করতে আসলে সুবিধা হবে ।
লেখক বলেছেন: লেফারেন্স = রেফারেন্স
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
আমার মনে হচ্ছে লেখাটিতে সচেতনভাবে চেষ্টা করা হয়েছে গো আ ভাষা আন্দোলনে ছিল না তা প্রমান করতে। সেটার দরকার ছিল না। এই ব্যাক্তি শুধুমাত্র জিএস হিসেবে দাবী পাঠ করেছে, এবং পরবর্তীতে এ আন্দোলনে তার কোন অংশগ্রহন তো দূর বাংলাভাষাভাষীদের প্রতি তার মনোভাবের কথা জানা গেছে ৭১ এ। লেখাটিতে তার নাম উল্লেখেরই কোন দরকার ছিল না। ইতিহাস অবিকৃত রাখার স্বার্থে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করা ও East Bengal Legislative Assembly (EBLA) তে গৃহীত প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন করার দাবীতে আব্দুর রহমান চৌধুরী (পরবর্তীতে বিচারপতি) কতৃত তৈরিকৃত দাবীনামাটি পাঠ করা হয় বললেই হত বা জি এস পাঠ করে বললেও চলত। ``এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ।'' শুধু এটুকু উল্লেক করাই যথেষ্ঠ ছিল। আর গো আ র পরবর্তী কাজকারবার তো কারও অজানা নয়।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
@মিরাজ স্যার,"এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হবে যে, গোলাম আজম রাজনৈতিক ভাবে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন । রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠের মধ্যে দিয়েই গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার অবসান হয় । এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ।"
উপরের প্যারাতে এটাই বলতে চেয়েছেন গোলাম আযম নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডাকসুর জি এস পদের কারণে দাবীনামা পাঠ করেছেন। আমি এটার রেফারেন্স জানতে চেয়েছি। এটার রেফারেন্স দিন।
২১ ফেব্রুয়ারী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রংপুরে সমাবেশ ও বিক্ষভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম।
ভাষা আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন ৬ মার্চ, ১৯৫২। জেল খাটেন প্রায় একমাস।
Ref: জীবনে যা দেখলাম--অধ্যাপক গোলাম আযম page 141-142
লেখক বলেছেন: আমি কোথাও বলিনি যে গোলাম আজম নিজের ইচ্ছার বিপরীতে দাবীনামা পাঠ করেছেন । এটি আপনার বোঝার অক্ষমতা । আমি বলেছি রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে । গোলাম আজম সবসময়ই মুসলিম লীগের প্যান-ইসলামিক ভাবাদর্শের অনুসারী ছিলেন ।
ভাষা আন্দোলন ছিল মুসলিম লীগের এই ভাবাদর্শের বাইরে পূর্ব-বাংলা বা পূর্ব-পাকিস্তানের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম । মুসলিম লীগ সরকার এইজন্য বারবার বাংলাকে হিন্দুয়ানী ভাষা ও পূর্ব-বাংলার সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি হিসাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছে । এমনকি সর্বশেষে তারা আরবী হরফে বাংলা লেখারও প্রচলন করার চেষ্টা করেছে ।
এখন রাজনৈতিকভাবে গোলাম আজম মুসলিম লীগের অনুসারী হলেও তিনি দাবীনামাটি পাঠ করেছেন । সেক্ষেত্রে তার এই অবস্থানকে হয়তো সাধুবাদ জানানো যেতে পারে । কিন্তু তার পরবর্তী অবস্থান , স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলিম লীগের অন্ধ অনুসরণে স্বজাতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং স্বজাতি হত্যায় নেতৃত্ব দেবার কারণে গোলাম আজমের জায়গা ঘৃণার আস্তাকূড়ে ।
আর গোলাম আজমের নিজের লেখা বই ছাড়া অন্য কোন সূত্র থেকে তার ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত রেফারেন্স দিন । একজন বিশ্বাসঘাতককে আমি বিশ্বাস করিনা ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
@মিরাজ স্যার,আপনি এই পোষ্টেই একবার বললেন
"যে তথ্য গোলাম আজম নিজে উল্লেখ করেননি সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে ।"
এখন আবার বলছেন
"আর গোলাম আজমের নিজের লেখা বই ছাড়া অন্য কোন সূত্র থেকে তার ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত রেফারেন্স দিন । একজন বিশ্বাসঘাতককে আমি বিশ্বাস করিনা । "
এটাকি স্ব-বিরোধিতা নয়?
লেখক বলেছেন: না । কারন একটি তথ্য কোন স্বীকৃত সূত্রে নেই, গোলাম আজমের ওয়েব পেজেও নেই আর সেই সূত্র ধরেই আমার প্রথম মন্তব্যটি করা । এখন আপনা বলছেন তার নিজের লেখা একটি বইতে এটি উল্লেখ আছে ।
সে তার ওয়েব পেজে ভাষ আন্দোলন নামে আলাদা একটি পেজ রেখেছে অথচ সেখানে উল্লেখ না করে বইতে উল্লেখ করেছে । এইরূপ একটি তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক । আর নামটি যেখানে গোলাম আজম সেখানে বিশ্বাস না করার যথেষ্ট কারন আমার কাছে আছে ।
আর সেজন্যই বলছি গ্রহণযোগ্য সূত্রের কথা । শুধু একজন বিশ্বাসঘাতকের কথা নয় ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
মিরাজ স্যার,আমরা কথা বলছি গোলাম আযমের ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে, এখেনে ১৯৭১ কেন টেনে আনলেন? ইমোশনাল এডভান্টেজ নেয়ার জন্য?
প্যান-ইসলামিক ভাবাদর্শ কি কোন ভাষা কে অস্বিকার করা শিখায়?
লেখক বলেছেন: আরে ধূর!! এইজন্যই বলছিলাম আরেকটু পড়াশোনা করে তারপর আলোচনা করতে আসেন । মুসলিম লীগের প্যান-ইসলামিক মতবাদ সম্পর্কে কোন ধারণা আছে? ধারণা থাকলে বলেন দেখি দুচার লাইন ।
পোষ্ট পড়ছেন? জিন্নাহ প্যান ইসলামিজমের নামে কিভাবে বাংলার জায়গায় উর্দু চাপিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন সেটিতো তার বক্তব্যেই স্পষ্ট । বাংলা ভাষাকে কিভাবে অস্বীকার করেছে দেখেছেন?
"The State language therefore, must obviously be Urdu, a language that has been nurtured by a hundred million Muslims of this sub-continent, a language understood throughout the length and breadth of Pakistan and above all a language which, more than any other provincial language, embodies the best that is in Islamic culture and Muslim tradition and is nearest to the language used in other Islamic countries."
না পড়েই অহেতুক তর্ক করতে আসেন । মুসলিম লীগের প্যান-ইসলামিক মতবাদ কতবড় একটি ভ্রান্ত মতবাদ ছিলো সে সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেন ।
আর ৭১ এর প্রসঙ্গ আসছে কেন? গোলাম আজমের বাঙালী জাতি সত্তা ও সংস্কৃতির বিপক্ষে অবস্থান ৭১ পূর্ববর্তী সময়েও স্পষ্ট ছিলো । যেরকম স্পষ্ট ছিলো মুসলিম লীগের বাঙালী জাতি সত্তা ও সংস্কৃতির বিপক্ষে অবস্থান । অনুগ্রহ করে ইতিহাস পড়ে তর্ক করতে আসেন । অনর্থক সময় নষ্ট করবেননা ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
আপনি জোর করে বলছেন এটা স্ব-বিরোধিতা নয়। আপনি চাইলেন গোলাম আযমের নিজস্ব রেফারেন্স, এখন বলছেন নিজস্ব রেফারেন্স চলবে না।যাই হোক, ১৯৫২ এর ৬ জানুয়ারীর পুলিশ রেকর্ড দেখুন, কারাগারের রেকর্ড দেখুন, হয়ত বিশ্বাস হতেও পারে!!!
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
দুঃখিত ৬ মার্চ হবে।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
মিরাজ স্যার,প্যান-ইসলামিক ভাবাদর্শ এক জিনিশ, আর প্যান-ইসলামিক ভাবাদর্শ নিয়ে ব্যবসা করা আর এক জিনিশ। দুটোকে এক করে ফেলবেন না।
লেখক বলেছেন: এই ভাবাদর্শ নিয়ে ব্যবসা করেছে মুসলিম লীগ আর সেটাকে নিরলস সমর্থন জানিয়েছে গোলাম আজম । এক করার কিছু নেই । মুসলিম লীগের প্যান-ইসলামিক ভাবাদর্শ কখনোই সত্যিকারের ইসলামী ভাবাদর্শ ছিলোনা ।
লেখক বলেছেন: আপনার তথ্যসমৃদ্ধ কোন বক্তব্য থাকলে বলুন আর না হলে এই আলোচনা আর চালাতে চাইনা ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
ভূল বললেন, গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করেছেন, দাবীনামা পেশ করেছেন, বীক্ষভ করেছেন, জেল খেটেছেন।
আপনি অনেক বালসুলভ মন্তব্য করেন।(দুঃখিত স্যার)।
লেখক বলেছেন: শুধু দাবীনামা পাঠ করার ব্যাপারটি ঠিক আছে বাকীটার সপক্ষে কোন দলিল নেই ।
এরপর থেকে আলোচনা করতে আসলে একটু জেনে বা পড়াশোনা করে আসবেন আর না হলে এটিই আপনার সাথে আমার শেষ আলোচনা ।
আর শেষ লাইনটি বলে আপনি আপনার চিন্তার দৈন্যতাকেই বোঝালেন ।
আপনার কাছ থেকে আর কোন মন্তব্য আশা করছিনা ।
মানবী বলেছেন:
অসাধারন পোস্টেটির জন্য অনেক ধন্যবাদ মিরাজ।
বেলায়েত বলেছেন:
লেখাটির জন্য অশেষ ধন্যবাদ।আপনার এ লেখাটিকে আমি বাংলা উইকিপিডিয়ায় ব্যবহারের অনুমতি চাচ্ছি।
আশা করবো আপনি লেখাটি কপিরাইট মুক্ত করে দিবেন।
লেখক বলেছেন: সানন্দে অনুমতি দিচ্ছি।
নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই আমার এ লেখা । উইকিপিডিয়াতে অন্তর্ভুক্ত হলে তা নিশ্চিতভাবেই বেশী পাঠককে ইতিহাস জানতে সাহায্য করবে ।
মুনতাসির আলম বলেছেন:
শহীদ মিনারের উদ্বোধনের ইতিহাস - বাংলা উইকি থেকে: ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ২৩ ফেব্রুয়ারির রাত শেষে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু করে। কাজ শেষ হয় ২৪ ফেব্রুয়ারির ভোরে। শহীদ মিনারের খবর কাগজে পাঠানো হয় ঐ দিনই। শহীদ বীরের স্মৃতিতে - এই শিরোনামে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় ছাপা হয় শহিদ মিনারের খবর। মিনারটি তৈরি হয় মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেলের (ব্যারাক) বার নম্বর শেডের পূর্ব প্রান্তে। কোণাকুণিভাবে হোস্টেলের মধ্যবর্তি রাস্তার গা-ঘেশে। উদ্দেশ্য যাতে বাইরের রাস্তা থেকে সহজেই চোখে পড়ে এবং যে কোনো শেড থেক বেরিয়ে এসে ভেতরের লম্বা টানা রাস্তাতে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া।মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলনে জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার। তাদের সহযোগিতা করেন দুইজন রাজমস্ত্রী। মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারনের জন্য জমিয়ে রাখা ইঁট বালি এবং পুরান ঢাকার পিয়ারু সর্দারের গুদাম থেকে সিমেন্ট আনা হয়। ভোর হবার পর একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় মিনারটি। ঐ দিনই অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। । এরপর ঢাকা কলেজেও একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, এটিও একসময় সরকারের নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়। অবশেষে, বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মান কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শহীদ মিনারের ইতিহাস জানানোর জন্য ।
পোষ্টে প্রথম শহীদ মিনারের ইতিহাস সঠিক ভাবেই আছে ।
পড়বার জন্য আবারো ধন্যবাদ ।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
স্টিকি করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।+
মুনতাসির আলম বলেছেন:
আপনার সম্পূর্ণ পোস্টে এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম সম্পূর্ণ গায়েব। সেটি হল, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতির নাম আমরা জানি, তিনি হলেন মাওলানা ভাসানী। যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন দুইজন শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ । কিন্তু উভয় পদের মাঝে একটা পদ আছে সেটা হল সাধারণ সম্পাদকের (আওয়ামী লীগে আবদুল জলিল সে পদে ছিলেন)। সেই প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক ।
বাংলা উইকিতে - শামসুল হক নিবন্ধটি একটু দেখে আসুন
আপনার তথ্যসমৃদ্ধ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার দেয়া তথ্যেও একটু ভুল আছে । আসলে এটি আপনার ভুল নয় । এই ভুলটি আমাদের ইতিহাসে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্তর্ভূক্ত ।
শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেননা, তিনি ছিলেন তিনজন সহ সাধারণ সম্পাদকের একজন । নেতৃত্বগুণে তিনি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মুল নেতৃত্বে আসেন এবং ১৯৬৬ সালে সভাপতির পদ লাভ করেন ।
শামসুল হকের কথা ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত কোন নিবন্ধে না পাওয়াতে তার নাম এখানে আসেনি । আপনার তথ্যের জন্য ধন্যবাদ ।
মুনতাসির আলম বলেছেন:
আর একটা কথা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না, তিনি ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
মুনতাসির আলম বলেছেন:
ব্লগাররা শামসুল হক -সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুনঅথবা
এই পোস্টে দেখুন
@মিরাজ- শামসুল হক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এটা সব স্থানেই আছে। আমার পড়া অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের বইতে কয়েক বার লেখা আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দেখি আরো কিছু বই ঘাটতে চেষ্ঠা করব সময় পেলে। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: শামসুল হক যে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সেটা আমি জানি । আমি বলছি শেখ মুজিবুর রহমানের সহ সাধারণ সম্পাদক হবার কথা ।
মুনতাসির আলম বলেছেন:
পদের হায়ার্কিতে সহসাধারণ সম্পাদক বা যুগ্ম সম্পাদক কোনটা উপরে আর কোনটা নিচে বা কোনটির গুরুত্বকতটুকু জানি না। আমি পোস্টে উল্লেখিত বইতে দেখেছিলাম তাই উল্লেখ করলাম, আপনিও নিশ্চয়ই ছাপানো গ্রহণযোগ্য দলিল বা বই থেকেই লিখেছেন। যেহেতু আমরা ব্যাপারটা নিয়ে উইকিতে লিখছি, বিধায় ১০০% সঠিক বা সব থেকে গ্রহনযোগ্য তথ্যটাই সেখানে দিতে চাই। আলোচনার মাধ্যমে যদি নিবন্ধকে আরো গ্রহনযোগ্য তথ্যসমৃদ্ধ করা যায় তবে সেটাই ভাল, তাই না? এ কারনেই আপনার সাথে কথাটা তুললাম। এ ব্যাপারে যদি ভবিষ্যতে কিছু জানতে পারেন, তবে আমাদের জানাবেন বা ঐ নিবন্ধে যোগ করবেন প্লিজ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ । আমি আবারও ক্রসচেক করবো এবং আপনার ব্লগে জানিয়ে আসবো ।
একটি প্রাসংগিক তথ্য । ইংরেজী উইকিতে কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহ সাধারণ সম্পাদক হিসাবেই দেখানো আছে ।
মুনতাসির আলম বলেছেন:
নিচের লিংক দুটিতে দেখুন। ১. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রোফাইল দেখুন; লেখা আছে When the East Pakistan Awami Muslim League was formed on 23 June, Bangabandhu was elected its joint secretary despite his incarceration.
২. ইংরেজী উইকি; লেখা আছে Mujib launched his political career, leaving the Muslim League to join Suhrawardy and Maulana Bhashani in the formation of the Awami Muslim League, the predecessor of the Awami League. He was elected joint secretary of its East Pakistan unit in 1949.
লেখক বলেছেন: ইংরেজী উইকির আওয়ামী লীগ নিয়ে নিবন্ধটি দেখুন ।
The "All Pakistan Awami Muslim League" was formed as a breakaway faction of the "All Pakistan Muslim League" in 1949. The word "Muslim" was dropped in 1955. Two parties of the same name were created in Pakistan, one in the then East Pakistan (now Bangladesh) on June 23, 1949 by Maulana Abdul Hameed Khan Bhashani with Sheikh Mujibur Rahman as one of its three initial assistant general secretaries;
একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করি । আওয়ামী মুসলিম লীগ কিন্তু পূর্ব-পাকিস্তানে ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৪৯ সনে প্রতষ্ঠা হয় এবং মুজিবুর রহমান ছিলেন তিনজন সহ সাধারণ সম্পাদক এর একজন । একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানেও পীর মানকি শরীফ এর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় । পরবর্তীতে এই দুই দল একীভূত হয়ে পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এর আহবায়ক নিযুক্ত হন ।ভাসানী এর সভাপতি এবং মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক ।
আমাদের ইতিহাস শুরু করা হয়েছে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একীভূত দল দিয়ে । ভাসানীর নেতৃত্বে প্রথম যে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হলো যেখানে মুজিবুর রহমান ছিলেন সহ সাধারণ সম্পাদক সেটিকে মুছে ফেলা হচ্ছে । এবং দু:খজনকভাবে বর্তমান আওয়ামী লীগও একই দোষে দুষ্ট ।
যাহোক আমি আপনাকে রেফারেন্সগুলো দেবো, এক দুইদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে ।
লেখক বলেছেন: ইংরেজী উইকির লিংক..
http://en.wikipedia.org/wiki/Awami_League
আমাদের জাতীয় সমস্যা সমাধানে এইরকম ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে পারলে কোন পরাশক্তিই আমাদের কাবু করতে পারবে না।
অনেক দেরীতে পড়ে আফসোস হচ্ছে কেন কাল লগইন করিনি।
তবু ভাল বেটার লেট দেন নেভার। ষ্টিকি করায় বিষয়টি আরও সহজ হয়েছে। ধন্যবাদ কতৃপক্ষকে।
**************************** অসংখ্য তারকা সমৃদ্ধ স্যালুট টু ইউ স্যার।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়বার জন্য ।
আমাদের সমস্যার পরাশক্তি আমাদেরই সৃষ্টি করা, সমাধানও আমাদেরই করতে হবে ।
মিরাজ বলেছেন:
যারা যারা পড়ে এবং মন্তব্য করে উৎসাহ দিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
দেরিতে হলেও শুরুতেই পড়লাম। আন্তরিক ধন্যবাদ অসাধারণ এই প্রামাণ্য ও দালিলিক উপস্থাপনার। তথ্যসূত্র সমৃদ্ধ এই ধারা প্রচলনেই আপনাকে সামহোয়ারে অগ্রদূত মানতেই হচ্ছে। এবং অবধারিতভাবেই প্রিয় পোস্টে সংযুক্তি
লেখক বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আপনাদের প্রচেষ্টাই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে । চেষ্টা করছি সঠিকভাবে ইতিহাসকে তুলে আনতে ।
পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং প্রিয় পোষ্টে রাখায় কৃতজ্ঞতা ।
নেমেসিস বলেছেন:
সঠিক ইতিহাসের সফল উপস্থাপনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ । বাংলা উইকিতে এই তথ্যগুলোর অন্তর্ভুক্তি সামনে আরওতথ্য গবেষনার পথ উন্মুক্ত করে দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি । অভিনন্দন আবারো ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়বার জন্য ।
দেবদারু বলেছেন:
আপনি অসাধারণ একটা পোস্ট দিলেন মিরাজ ভাই.................. আপনাকে সালাম..............
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
মিরাজ ভাই, আমাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে লজ্জিত করবেন না । আমরা অনেকেই চাইছিলাম পোস্টটি ষ্টিকি করা হোক ।আমাদের সেই চাওয়াকে,পোস্ট দিয়ে, কোন সমস্যাতে মেইল করে জানাতে হয়েছে, এটা খানিকটা দুঃখের এজন্য যে, আমাদেরকেই কেন কর্তৃপক্ষের দরোজায় কড়া নাড়াতে হলো ! কেন ওনারাই পোস্টটি ষ্টিকি করার সিদ্ধান্তটা নিতে পারলেন না, নিজেদের বুদ্ধিতে আর বোধে ?
তবু, ওনাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ,দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্তটি তারা নিয়েছেন ।
ভবিষ্যত কর্তৃপক্ষের আরো বেশী সচেতনতা আশা করি ।
মিরাজ বলেছেন:
আব্দুর রাজ্জাক শিপন, দেবদারু এবং বাপ্পীকে পোষ্ট পড়বার জন্য ধন্যবাদ ।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
দুই দিন অফিস ছুটি থাকায় প্রায় নেট বিহীন ছিলাম। আজ সামহোয়ারে ঢুকেই আপনার পোস্ট প্রথমে দেখলাম এবং পড়লাম।
অসাধারণ পোস্ট।
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই
আশা করছি ইতিহাস সমৃদ্ধ আরো কিছু পোস্ট পাবো। বিশেষ করে মুক্তিযদ্ধ নিয়ে।
ভালো থাকবেন
মিরাজ বলেছেন:
পরশ পাথর এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বকে অনেক ধন্যবাদ পড়বার জন্য ।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
মুক্তিযদ্ধ = মুক্তিযুদ্ধ
নুর3ডিইডি বলেছেন:
কে বলে আমরা এক হতে পারিনা ! এই পোষ্টই সাধুবাদ এবং ঐক্যের নজীর সৃষ্টি করেছে..আমাদের জাতীয় সমস্যা সমাধানে এইরকম ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে পারলে কোন পরাশক্তিই আমাদের কাবু করতে পারবে না।
অনেক দেরীতে পড়া হলো এমন চমৎকার একটা লেখা। যদি ষ্টিকি করা না থাকতো হয়তো পড়া হতো না...।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ষ্টিকি করার জন্যে কর্তৃপক্ষকে ও ধন্যবাদ।
মিরাজ বলেছেন:
নুর3ডিইডি, অচেনা বাঙালি এবং চতুর্ভুজকে ধন্যবাদ পড়বার জন্য এবং মন্তব্য করবার জন্য ।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
এই পোস্টটিকে বারবার পড়তে চাই। এমন তথ্যবহুল এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ পোস্ট দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ মিরাজ ভাইকে। আরো অনেকের মতো আমার শো-কেসও ধন্য হলো; প্রিয়তে রাখলাম।
অলস বলেছেন:
ব্লগারদের মাইরপিট দেখে বিরক্ত হয়ে এখানে ঢুকা বাদ দিয়ে দিসিলাম। আজকে অনেকদিন পর এসে খুব ভালো লাগলো, ঢুকেই এমন সুন্দর একটা পোস্ট দেখলাম। কালকেই প্রিন্ট করে ভালোমত পড়া শুরু করবো। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
অনুরোধ রইলো- আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময় নিয়ে লিখবেন মিরাজ ভাই।
মিরাজ বলেছেন:
ধন্যবাদ অনুশীলনকারিণী, অলস এবং এরশাদ বাদশা । @ এরশাদ বাদশা
মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী ঘটনা নিয়ে লেখার চেষ্টা এখনো করছি । ভবিষ্যতে আরো গোছালো আকারে লেখার চেষ্টা করবো ।
রাগিব বলেছেন:
বাংলা উইকিতে যোগ করা হলোভাষা আন্দোলনের কালপঞ্জি
আলাপ পাতায় এবং সম্পাদনা সারমর্মে এই ব্লগপোস্টটির লিংক ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়েছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাগিব ভাই ।
একটা ছোট্ট সংশোধনী - আমার নামের বানান আমি মিরাজ লিখি (মেরাজ নয়) ।
রাগিব বলেছেন:
দুঃখিত মিরাজ ভাই, বানানটা ঠিক করে দিয়েছি। আপনার অবদানের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ । বাংলা উইকিতে কাজ নিজের অজান্তেই শুরু হয়ে গেলো । ![]()
ভবিষ্যতেও কাজ করার ইচ্ছা রাখি ।
নেমেসিস বলেছেন:
যাক!!! স্বার্থক হলো এবার মিরাজভাই আপনারপিশ্রম । ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই আপনাদের দুজনকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করবে @ মিরাজ ও রাগিব ভাই ।
নেমেসিস বলেছেন:
পিশ্রম= পরিশ্রম . হবে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
প্রতিবার ব্লগে ঢুকি, পোস্টটা বার বার পড়ি। মন্তব্য গুলাও পড়ি। পড়তে পড়তে একটা কথা বলতে ভুলে যাই। সেটা হল, অসাধারণ এই কাজের জন্যে অনেক ধন্যবাদ।
মিরাজ বলেছেন:
আমাকে ভাই আর ঋণী করবেননা । আপনাদের উৎসাহ পেয়েই এই ধরণের একটি কাজ শুরু করতে পেরেছি । এই পোষ্টের পরে সবার এত আন্তরিকতায় আমি সত্যিই অভিভূত ।
ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাদের মন্তব্যগুলো অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে ।
সুনীল সমুদ্র বলেছেন:
প্রচুর তথ্য ও গবেষণা সমৃদ্ধ, সংগ্রহে রাখার মতো অসাধারণ এক লেখা।
লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ এ ধরণের লেখা পোষ্ট করে সামহয়্যারইনব্লগকে সমৃদ্ধ করার জন্য।
প্রিয় লেখার তালিকায় রাখলাম।
মিরাজ বলেছেন:
লোকেন বোস, আজমান আন্দালিব ও পথিককে পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
রাকিব হাসনাত সুমন বলেছেন:
অসাধারন।
লেখক বলেছেন: কোন উর্দুপ্রেমী বাংলাদেশীর পোষ্টটি ভালো লাগে নাই একটু জানলে খুশী হতাম ।
রেটিং কোন সমস্যা না কিন্তু এই পোষ্টে কেন মাইনাস দেয়া হলো জানতে ইচ্ছা করছে ।
বুমবুম বলেছেন:
শেষ পর্যন্ত মাইনাস না দিয়া থাকতে পারে নাই।সাহস নাই।থাকলে জানায়ে দিত।
মিরাজ বলেছেন:
লাবণ্য প্রভা, রাকিব হাসনাত সুমন, বুমবুম ও নগর বাউলকে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
ওয়ামি বলেছেন:
দেরিতে পড়লাম। অনেক কিছু জানলাম যা আগে জানতাম না। মিরাজ, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ তথ্যসমৃদ্ধ অসাধারণ এই পোস্টটির জন্য। এই পোস্টটি সামহয়ার ইনের সম্পদ।
টোপাজ বলেছেন:
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস খুজতে বসে হাতের কাছে পেয়ে গেলাম, অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি বাংলাদেশ ক্যানাডা এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আপনার এই লেখা আমাদের প্রকাশনায় ছাপানের অনুমতি চাচ্ছি। দয়া করে ইমেইল করলে খুব খুশি হব। আমাদের ওয়েব সাইট - বি সি এ ও সি ডট সি এঅনেক ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: সানন্দে অনুমতি দিচ্ছি । নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই আমার এ লেখা ।
আপনাদের প্রকাশনায় ছাপা হলে তা নিশ্চয়ই আরো বেশী লোকের দৃষ্টিগোচর হবে ।
আপনার ইমেইল এ্যাড দিলে আমি ইমেইল করে আপনাকে লেখাটি পাঠাতে পারি ।
মিরাজ বলেছেন:
@ টোপাজঠিক আছে মুছে দিলাম । আপনি কপি পেষ্ট করে নিন । প্রোফাইলে আমার পুরো নাম দেয়া আছে দেখে নিবেন । আর লেখাটি প্রকাশ করার পর এখানে একটি লিংক দিলে ভাল লাগবে ।
ধন্যবাদ ।
টোপাজ বলেছেন:
অবশ্যইআপনাকেউ অসংখ্য ধন্যবাদ
আমার বয়স মাত্র ২৫, আমি থাকি কানাডায়, আমার অনেক রাগ, অভিযোগ, কষ্ট আছে আমার বাংলাদেশকে নিয়ে কিন্তু আপনার মত মানুষদের জন্যই দেশকে এখনো ভালোবাসি।
keep up the good work
লেখক বলেছেন: অনুমতি দিচ্ছি ।
আগামীকাল আপনার ই-মেইল ঠিকানায় লেখাটি পাঠিয়ে দেবো ।
ধন্যবাদ আপনাকে ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ই-মেইল পাঠিয়েছি । অটোমেটেড রেসপন্স পেলাম । ঠিকমতো পেলেন কিনা জানাবেন ।
লেখক বলেছেন: জনাব, শতভাগ হতবাক আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ । বানান ভুল করলে ভাষার প্রতি ভালবাসা কম থাকে এই নতুন তত্বে আমি বিশ্বাসী নই ।
আর আপনি যাকে ইতিহাস সম্পর্কে জানে বললেন (৭১ এর চেতনা) তিনি আদৌ ইতিহাস সম্পর্কে কি জানেন সেটি এই পোষ্টের মন্তব্যগুলি থেকে বুঝতে পারিনি (কেবলমাত্র গোলাম আজম রংপুর এ গ্রেফতার সম্পর্কিত অংশটুকু ছাড়া যেটির আবার কোন রেফারেন্স নেই) । এখন ইতিহাস না জেনে কেউ ইতিহাস নিয়ে তর্ক করতে আসলে তার সাথে অসীম সময় যুক্তিহীন তর্ক করা সম্ভব নয় ।
কার গায়ে কাঁদা ছিটালাম এই পোষ্টে বুঝতে পারলামনা । রাজনীতিকদের মত বক্তব্য না দিয়ে সরাসরি বলুন ।
আর পড়ার জন্য ধন্যবাদ রইল ।
কানমলা-০৮ বলেছেন:
ইতিহাস জেনে ভালো লাগল......
পরাগ জাফর বলেছেন:
অসাধারণ লিখেছেন। অনেক কিছু জানতে পেরেছি
মিরাজ বলেছেন:
ওয়ামি, কানমলা-০৮ এবং পরাগ জাফরকে ধন্যবাদ ।
আপনি আর আমি বোধহয় একই স্কুলের ছাত্র।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ।
আপনি কি খুলনা গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরী স্কুল এর ছাত্র? কোন ব্যাচ?
লেখক বলেছেন: খুব ভাল লাগলো স্কুলের একজনকে পেয়ে। রশিদ স্যার, হক স্যার, সন্তোষ স্যার এরা কি এখনও আছেন?
১৯৯১ তে বেরিয়েছি স্কুল থেকে ।
আপনার বাসাও তো স্কুলের কাছাকাছি হওয়া উচিত।
মিরাজ বলেছেন:
নতুন কোন উর্দুপ্রেমিকের কাছে পোষ্টটি পছন্দ হয়নি?চুপেচাপে উর্দুপ্রীতি না দেখিয়ে সাহস করে বলে ফেললেইতো হয় বাছাধনেরা ।
কানা বাবা বলেছেন:
শততম প্লাস...
তয় ফ্রন্টপেইজে এইটারে আর টাঙ্গায়া রাখনের দর্কার আছে বৈলা মনে হয় না...
একস্লিপ বলেছেন:
অসামান্য কাজ আপনার। তথ্যসূত্রই বলে দিচ্ছে কী শ্রম দিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য মিরাজ ভাই।
মিরাজ বলেছেন:
পোষ্টটিকে আবার ঠেলা দিলাম কারণ আজ দেখছি ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে । কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পোষ্টটিকে আবারো ষ্টিকি করতে পারেন । ভাষা আন্দোলনের সত্যিকার ইতিহাস আমাদের সবারই জানা প্রয়োজন ।
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন:
১৯৪৭ সালের......১ সেপ্টেম্বর..........সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দাবী জানা্য়তমদ্দুন মজলিস........."বাংলা না উর্দু" এই বই প্রকাশের মাধ্যমে..
তৎকালীন বাম দলী্য় নেতারা এর বিরোধীতা করেন এবং তাদের মুখপত্র দৈনিক সংবাদ বাংলা ভাষার বিপক্ষে বিবৃতি দে্য়,
এর ফল স্বরূপ ভাষা আন্দোলনের সময় ছাত্ররা সংবাদ অফিস পুড়িয়ে দে্য়।
আমাদের বাম নেতা দের আস্ফালন দেখলে মনে হ্য় যে আমাদের দেশ তারা ই স্বাধীন করেছেন।
অথচ মুক্তিযুদ্বের সময় চীনপন্থী বাম নেতারা যে মুক্তিযুদ্বের বিরোধীতা করেছেন তা আজ অনেকেই মানেননা।সূত্র----পূর্ব-পশ্চিম,,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়....
তারা আজ কোথায়????
গোলাম আজম ভাষা আন্দোলনের সময়...........আপনার কথামত ভাষার দাবী না তুলে অন্য দাবী তুলেছেন........।তমদ্দুন মজলিের একজন সদস্য হিসেবে তার তিনি তো এই দাবী আগেই তুলেছেন,,,,,,,এদিন না তোলার কথা যা বললেন.....সেটা কতটুকু যৌক্তিক?????
অপ্রীয় হওয়া সত্বেও মেনে নিতেই হবে ,,,তার একটা ভূমিকা আছে........
এবং তিনি ভাষার জন্যে জেল খেটেছেন............আর আমাদের দেশের ওয়েবসাইটের রেফারেন্স দেওয়া কতটুকু নির্ভরযৌগ্য????তাও পার্সোনাল সাইট??????
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন:
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন:
((উল্লেখ্য তৎকালীন সময়ে ডাকসুর ভিপি এবং জি এস সরকার কর্তৃক মনোনীত হতো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলির ছাত্র সংসদের ভিপি এবং জি এসরা এই দায়িত্ব পর্যায়ক্রমিকভাবে পালন করতো । গোলাম আজম ফজলুল হক মুসলিম হলের জি এস হিসাবে মুসলিম লীগ সরকার কর্তৃক ঢাকসুর জি এস পদে মনোন্নয়ন লাভ করেন ।গোলাম আজম সমাবেশে দাবীনামাটি পাঠ করেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত দাবীটি এড়িয়ে যেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত কয়েকটি দাবী মেনে নেন । রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত দাবীটি এড়িয়ে যাওয়ায় সমাবেশস্থলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয় । (৮)
এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হবে যে, গোলাম আজম রাজনৈতিক ভাবে মুসলিম লীগ সরকারের নীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন । রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে ডাকসুর জি এস পদের কারণে সমাবেশে দাবীনামা পাঠের মধ্যে দিয়েই গোলাম আজমের ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার অবসান হয় । এরপর থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত কোন আন্দোলনে গোলাম আজমের অংশগ্রহণ বা কোন ভূমিকা রাখার কথা কোথাও জানা যায়না ))
এটা চূড়ান্ত রকমের ইতিহাস বিকৃ্তি!!!!!!!!!!!!!!
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন:
((এখানে বলা হচ্ছে যে গোলাম আজম দাবীনামাটি পাঠ করলেও তিনি দাবীনামাটি তৈরীর সাথে যুক্ত ছিলেননা । দাবীনামাটি তৈরী করেন আব্দুর রহমান চৌধুরী (পরবর্তীতে বিচারপতি) এবং এতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুবসহ স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতৃবৃন্দ ।এখানে গোলাম আজমের ভূমিকা একজন পাঠকের চাইতে বেশী কিছু ছিলোনা । এখানে বলা হচ্ছে যে গোলাম আজম দাবীনামাটি পাঠ করলেও তিনি দাবীনামাটি তৈরীর সাথে যুক্ত ছিলেননা । দাবীনামাটি তৈরী করেন আব্দুর রহমান চৌধুরী (পরবর্তীতে বিচারপতি) এবং এতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুবসহ স্টুডেন্টস একশন কমিটির নেতৃবৃন্দ ।
এখানে গোলাম আজমের ভূমিকা একজন পাঠকের চাইতে বেশী কিছু ছিলোনা । )))))???/
ধরুন.......আপনি একটা উল্লেখযৌগ্য সভা্য় বক্তব্য রাখবেন।অথবা আপনি বক্তৃতার স্কৃপ্ট লিখে রাখলেন........কালকে তা সভা্য় কাউকে দিয়ে পাঠ করাবেন......আপনি কাকে বেছে নিবেন????
আপনার সমমতের একজন না ভিন্নমতের?????
গোলাম আজম কোন রকমের ছাত্রনেতা ছিলেন তাও সে আমলের যে ....তাকে দিয়ে জোর করে দাবীনামা পড়ি্য়ে দেওয়া হল আর সে পাঠ করল.........যেখানে সে নিজেও তমদ্দুন মজলিসের একজন সদস্য ছিলো????.....
লেখক বলেছেন: জনাব সারওয়ার ইবনে কায়সার, আপনি কি বলতে চান সেটা স্পষ্ট করে বলুন । আমি যা লিখেছি প্রতিটি ঐতিহাসিক দলিল এবং তা সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স উল্লেখ করে ।
১৯৪৮ সালে জি এস পদমর্যাদায় থাকার ফলে দাবীনামা পাঠকরার সুযোগ পাওয়া ছাড়া ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কবে কোথায় গোলাম আজম বাংলা ভাষার সপক্ষে একটি কথা বলেছেন তার রেফারেন্স উল্লেখ করে আমাদের কি একটু জানাবেন?
জামাতে ইসলামী পাকিস্তানের আদর্শিক অবস্থান ছিল উর্দুর পক্ষে আর সেই রাজনীতিতে বিশ্বাসী হবার কারনে ভাষা আন্দোলনের কোন পর্যায়েই গোলাম আজমকে কোন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি ।
আর একটা সহজ কথা, দাবীনামাটি কোন জি এস বা কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বক্তৃতা ছিলনা, এটি স্টুডেন্টস একশন কমিটির একটি সমন্বিত কার্যক্রম ছিল । আর গোলাম আজম এই ষ্টুডেন্টস একশন কমিটির সাথে কোনভাবেই যুক্ত ছিলেননা ।
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন:
তাহলে উনাকে কেন বেছে নেয়া হয়েছিলো?????/একজন ভিন্নমতের লোককে স্টুডেন্টস একশন কমিটি কেন বেছে নিবে?????তমদ্দুন মজলিসের একজন সদস্য হিসেবে তিনি তো ভাষার দাবী সবার আগে তুলেছেন,,,,,,,তাই নয় কি?????
আর তিনি তখন জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত ছিলেননা আর তখনকার সময় জামায়াতে ইসলামীর ভাষা আন্দোলন বিরোধী একটা ও বিবৃতির কোন প্রমান নেই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...






























১। Talukder Maniruzzaman, The Bangladesh Revolution and its Aftermath, Bangladesh Books International Ltd., Dhaka, Bangladesh, 1980
২। virtualbangladesh.com/history/ekushe.html
৩। ভাষা আন্দোলন, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ।
৪। Rangalal Sen, “Political Elites in Bangladesh” (Dhaka, UPL, 1986)
৫। Hasan Zaheer, The Separation of East Pakistan - The Rise and Realization of Bengali Muslim Nationalism, Oxford University Press, Karachi, Pakistan, 1994
৬। Martyr Dhirendranath Datta
My tribute to the forgotten Harbinger of the Bengali language movement
৭ । http://www.mofa.gov.pk/Pages/Qua_Speeches/
৮। ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি । বদরুদ্দিন ওমর ।
By M. Waheeduzzaman Manik
৯ । Kabir, Ghulam Muhammad (1980). Minority Politics in Bangladesh (1947-’71). (New Delhi: Vikas Publishjng House Pvt. Ltd).
১০ । en.wikipedia.org/wiki/Bengali_Language_Movement
১১। DEFINING THE FRONTIERS OF IDENTITY : BALANCING LANGUAGE AND RELIGION IN BANGLADESH, Smruti S Pattanaik
১২। M.B. Nair, Politics in Bangladesh: A Study of Awami League, 1949-'58, New Delhi: Northern Book Centre, 1990, p. 61 and pp. 248-249
১৩ । Constitutional Development, Banglapedia, 1773-1972
১৪ । Maulana Bhasani: The Founder of Politics of Opposition and Agitation during the Formative Years of Pakistan
M. Waheeduzzaman Manik