আমার প্রিয় পোস্ট
- কবিতার অভিমানের সময় - সুলতানা শিরীন সাজি
- তাহলে স্যাম মানেকশ-ই বাংলাদেশের স্রষ্টা? - ফারুক ওয়াসিফ
- গুগল বুকস থেকে বই ডাউনলোড করবেন যেভাবে - অনিকেত প্রান্তর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- রাজনৈতিক জিঘাংসা ব্লগে- - অপ বাক
- গরুপ্রধান দেশে শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত শব্দে আমাদের তাল কেটে যায় - মৃদুল মাহবুব
- জোনাক ধরার কাচের বয়াম - মুয়ীয মাহফুজ
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং প্রাসঙ্গিক আইনের বিশ্লেষণ ( শেষ পর্ব ) - একরামুল হক শামীম
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কপিরাইট মাজেজা আমি যেমনে বুঝি - অন্যমনস্ক শরৎ
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- মানুষ একাকী এক মিথ - মৃদুল মাহবুব
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- টুকুনের জন্য । - নরাধম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌবনের দিনগুলি - বিবর্তনবাদী
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- বিহংগের বয়কট - বিহংগ
- বাঙ্গালির আন্দোলনের স্লোগানমালা: '৫২ থেকে '৭১ (দ্বিতীয় পর্ব--'৬৯-'৭১) - ফারহান দাউদ
- একজন কীর্তিমান বাংলাদেশী : যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আইটি সিকিউরিটি সলিউশন কোম্পানীর CIO এবং Senior Vice President হিসাবে নিয়োগ পেলেন ওমর ফারুক খন্দকার - মিরাজ
- তবুও তাহারা মৌন রহেন... - জামাল ভাস্কর
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- একজন জাকির হোসেন ও একটি রুখে দাড়ানোর গল্প - হাসিব
- তোরা সব বোকার দল, মরবি না তো কে মরবে - এহেছান লেনিন
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- জিজ্ঞাসার অন্তরালে - শেখ জলিল
- ম্যারিয়েটা, জ্যাক এবং অতঃপর ভ্যালেরী - সৈয়দ দেলগীর
যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ)
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:০১
মুক্তিযুদ্ধ মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটি অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধ যাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন ৩০ লক্ষ নারী পুরুষ এবং যাদের সিংহভাগই ছিলেন নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ । এর বাইরে হাজার হাজার নারী ধর্ষিত হয়েছেন, যৌনদাসী হিসাবে নির্যাতিত হয়েছেন । এই নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি এমনকি শিশুরাও । ১৯৪৯ সালে গৃহীত জেনেভা কনভেনশন কর্তৃক এই ধরণের ঘৃণ্য কর্মকান্ডের প্রতিটিই যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভূক্ত (১) । ২০০২ সালের জুলাইতে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধের যে আওতা নির্ধারণ করে তার মাধ্যমেও এই অপরাধগুলি যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভূক্ত । তবে পাকিস্তানী বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের সময় কাল ১৯৭১ হবার কারণে তা ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের আওতায় আলোচনা করাই বেশী যুক্তিসংগত হবে ।
বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ নয় যেখানে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়নি তবে সম্ভবত: একমাত্র দেশ যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্যাহার করেছে । আমি এখানে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলছি । এইসব পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের এ দেশীয় দোসর যেসব যুদ্ধাপরাধী আছে তারা সময়ের পালাবদলে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে, এখন সময় সুযোগমত তাদের করা যুদ্ধাপরাধকেও অস্বীকার করছে । পরবর্তীতে এইসব কুলাংগারদের কথাও আসবে, এদের যুদ্ধাপরাধের বিচারে আমাদের ব্যর্থতার কথাও আসবে । তবে এই পোষ্টে আমি মুলত: পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী যারা আটক ছিল, যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ ছিল, বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেবার পরও কোন পরিস্থিতিতে, কি কারনে একটি নব্য-স্বাধীন দেশ তার জন্মযুদ্ধের সময় যারা মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটন করলো তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল চার্জ "as an act of clemency" বা "দয়াশীলতা ও ক্ষমার মহত্ব" দেখিয়ে প্রত্যাহার করলো সেটি তুলে আনার চেষ্টা করবো । (২,৯)
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের পরে প্রায় ৯০,৫০০ জনকে যুদ্ধবন্দী হিসাবে আটক হয় । এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ছিল প্রায় ৮০,০০০ উর্দিধারী সদস্য যার মধ্যে ছিল আর্মি (৫৫,৬৯২), নেভী ও এয়ার ফোর্স (১,৮০০), প্যারামিলিটারি (১৬,৩৫৪) বা পুলিশ সদস্য (৫,২৯৬)এবং বাদবাকী ১০,৫০০ ছিল সিভিলিয়ান (মুলত: বিহারী) যারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে । (৩)
এই যুদ্ধবন্দীদের সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণ করে আটক রাখার মত অবকাঠামো না থাকায় সিদ্ধান্ত হয় ভারত এই ৯০,৫০০ যুদ্ধবন্দীকে আটক রাখবে এবং এদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ ভরণপোষনের দায়িত্ব পালন করবে । এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের ভারতের নিকট হস্তান্তর করা হয় । এই যুদ্ধবন্দীদের জন্য তখনকার হিসাবে প্রতিমাসে ভারতের খরচ ছিল ১,০০০,০০০ মার্কিন ডলার । (৪)
এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০০ জনকে চিন্হিত করা হলেও চূড়ান্তভাবে সর্বমোট ১৯৫ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় । এবং এদের যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার । (৫) বাদবাকী যুদ্ধবন্দীদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা শুরু হয় । বাংলাদেশ তখন স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সহায়তা প্রয়োজন ছিলো ।
পাকিস্তান তখনো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে নাই এবং পাকিস্তানের মিত্র রাষ্ট্র চীনের প্রদত্ত ভেটোর কারনে বাংলাদেশ তখনো জাতিসংঘের সদস্যপদও লাভ করে নাই । ১৯৭২ সালের আগষ্ট মাসে চীন বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্যপদ দেয়ার ব্যাপারে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দেয় । এটি ছিল চীনের জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রথম ভেটো । (৬)
এই অবস্থায় ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ যখন আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৫০০ জন যুদ্ধাপরাধী থেকে ১৯৫ জনকে সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের উদ্যোগ নিল এবং জুলাই মাসে সংসদে "International Crimes Act 1973 " পাশ করলো তখন পাকিস্তান এই বিচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললো । (৭) পাকিস্তানের মতে এটি জেনেভা কনভেনশনের লংঘন কেননা বাংলাদেশ তখনো জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র নয় ।
জেনেভা কনভেনশনের আর্টিকেল ৫, ৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের এই বিচার প্রক্রিয়ার উদ্যোগের কোন সমস্যা ছিলোনা । বাংলাদেশ পাকিস্তানের দাবী প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা পর্যবেক্ষণ করার আমন্ত্রণ জানায় । পাকিস্তান এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে আটকে পড়া ৪০০,০০০ বাঙালীকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে । (৭)
পাকিস্তানের অবস্থান বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছন ফিরে তাকাতে হবে । ১৯৭২ এর ২ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয় যেটি "সিমলা চুক্তি" নামে পরিচিত । এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে সকল প্রকার যুদ্ধ-বিবাদ এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে দুইপক্ষের কাছেই আটককৃত যুদ্ধবন্দী ও আটকে পড়া নাগরিকদের বিনিময় কর্মসূচী চালুর ব্যাপারে সম্মত হয় (৮) । উল্লেখ্য আটককৃত পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের সিংহভাগ মুক্তিযুদ্ধের সময় আটক হলেও সিমলা চুক্তিতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ ছিলোনা । এর প্রধান কারণ ছিলো পাকিস্তান তখনো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে কোন প্রকার আলোচনায় রাজী ছিলোনা । বাংলাদেশ সিমলা চুক্তিকে স্বাগত: জানায় এবং যুদ্ধবন্দীদের রিপ্যাট্রিয়েশন চালু করার ব্যাপারে ভারতের কাছে সম্মতি প্রদান করে । (৯)
এরপর ১৯৭৩ সালের ১৭ই এপ্রিল ভারত এবং বাংলাদেশ এক যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বিদ্যমান হিউম্যানিট্যারিয়ান ক্রাইসিস মোকাবেলায় একটি দিক নির্দেশনা প্রদান করলো । যৌথ ঘোষনায় বলা হলো "they are resolved to continue their efforts to reduce tension, promote friendly and harmonious relationship in the sub-continent and work together towards the establishment of a durable peace ". এই ঘোষণার মাধ্যমেই ১৯৫ জন চিন্হিত যুদ্ধাপরাধী ছাড়া বাদ বাকী সকল যুদ্ধবন্দীর পাকিস্তানে রিপ্যাট্রিয়েশনের পথ উন্মুক্ত হলো (৯, ১০)। একই দিন রেডিও বাংলাদেশের এক ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৫ জনের বিচারের ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলো । (১১)
বাংলাদেশ এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করে এবং ভারত সেই প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করে । এই অবস্থায় পাকিস্তান ভারত কর্তৃক পাকিস্তানী নাগরিক এই ১৯৫ জনকে বাংলাদেশ (যার সার্বভৌম অস্তিত্বকে তখনো পাকিস্তান স্বীকার করেনা) হস্তান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদ করে এবং আটকে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের পণবন্দী হিসাবে ব্যবহারের হুমকি দেয় । (৭)
এরপরও বাংলাদেশ বিচার প্রক্রিয়া চালাবার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে থাকলে ১৯৭৩ সালের ১১ই মে পাকিস্তান এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে (পাকিস্তানের ভাষায় যুদ্ধবন্দী) ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিপক্ষে এবং এই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত বিচার প্রক্রিয়া জেনেভা কনভেনশনের লংঘন উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিসে একটি মামলা দায়ের করে । মামলার নথি নম্বর ৪২৬ । এই মামলার আর্জিতে পাকিস্তান সরকার হেগে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিসের কাছে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দান এবং বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বিচার প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষনার দাবী জানায় । (১২)
এই আর্জিতে পাকিস্তান এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর কর্তৃত্ব দাবী করে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে নিরপেক্ষ ও যোগ্য বিচারক এর মাধ্যমে একটি ট্রাইবুন্যাল গঠনের প্রস্তাব দেয় এবং বাংলাদেশে গঠিত ট্রাইব্যুনালের আইনগত ভিত্তি বাতিলের দাবী জানায় । মামলার মুল নথি থেকে " Pakistan does not accept that India has a right to transfer its prisoner of wars for trial to Bangladesh and claims that by virtue of Article VI of genocide convention, persons charged with genocide shall be tried by a Competent Tribunal of the state in the territory of which the act was committed. This means that Pakistan has exclusive jurisdiction to the custody of persons accused of the crimes of genocide, since at the time acts are alleged to have been committed, the territory of East Pakistan was universally recognised as part of Pakistan.
....That a competent tribunal means a Tribunal of impartial judges, applying international law, and permitting the accused to be defended by counsel of their choice. ..... in the atmosphere of hatred that prevails in Bangladesh, such a competent tribunal cannot be created in practice....." (১১)
পাকিস্তান এই আর্জিতে সুকৌশলে যেটি এড়িয়ে যায় সেটি হলো ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ । এর ফলে যুদ্ধাপরাধ সংঘটন হবার স্থল পূর্ব - পাকিস্তান পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত এবং সেই সুবাদে সকল যুদ্ধবন্দীর কর্তৃত্ব, পাকিস্তানের এই দাবীর আইনগত ভিত্তি ছিল দুর্বল । অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল জাতিসংঘের ততদিনে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান না করা ।
ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিস মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং ভারত-পাকিস্তান উভয় পক্ষকে তাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রদান করার নির্দেশ দান করে । এই মামলাটি ছিলো বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করবার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। (১২)
পাকিস্তান এই মামলা করলেও ভারতের সাথে যুদ্ধবন্দী প্রত্যর্পনের জন্য্ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে । এবং বিপরীতে বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য ট্রাইবুন্যাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে । এর প্রাথমিক ধাপ হিসাবে সংসদে গৃহীত International Crimes Act 1973 বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশের নাগরিক ছাড়াও যে কোন দেশের নাগরিককে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের ক্ষমতা প্রদান করে ।
International Crimes Act এর মুলকপি থেকে
" It gives Bangladesh the power to try and punish any person irrespective of his nationality, who, being a member of any armed, defence or auxiliary forces commits or has committed, in the territory of Bangladesh, whether before or after the commencement of this Act, any of the following crimes… namely crimes against humanity, crimes against peace, genocide, war crimes, violations of
humanitarian rules applicable in armed conflicts laid down in the Geneva Convention of 1949 and any other crimes under international law." (১৩)
এর মাঝে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিস ১৯৭৩ সালের ১৩ই জুলাই একটি সংক্ষিপ্ত সেশনে পাকিস্তানের দায়ের করা মামলাটি আদৌ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিসের আওতার মধ্যে পড়ে কিনা তা নির্ধারণের জন্য পাকিস্তানকে ১ অক্টোবর ১৯৭৩ এবং ভারতকে তার জবাব দেবার জন্য ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৭৩ পর্যন্ত সময় বেধে দেয় । (১৪)
পাকিস্তান মামলাটি মুলত: ভারতকে চাপে ফেলার জন্য করলেও মামলাটি চালাতে উৎসাহী ছিলোনা । এর চাইতে তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দিকে বেশী গুরুত্ব প্রদান করে । যদিও প্রকৃত পক্ষে আলোচনা হচ্ছিল ত্রিমুখী । ভারত আর পাকিস্তানের সাথে আলোচনার পাশাপাশি সেই আলোচনার সূত্র ধরে আলোচনা হচ্ছিল ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে ।
অবশেষে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯ দিন ব্যাপী আলোচনার পর বাংলাদেশের সম্মতিতে ২৮শে আগষ্ট ১৯৭৩ দিল্লীতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই তিন দেশের মধ্যে যুদ্ধবন্দী প্রত্যার্পন ও আটকে পড়া নাগরিকদের বিনিময় অবিলম্বে শুরু করার সিদ্ধান্ত হয় । এই ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী ব্যতীত বাদ বাকী পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যর্পনে সম্মত হয় এবং ১৯৫ জনকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের সম্মুখীন করতে অনড় থাকে । (১৫)
এই চুক্তি মোতাবেক সকল যুদ্ধবন্দীর প্রত্যর্পন সম্পন্ন হবার পর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান প্রথমবারের মত সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর ভাগ্য নির্ধারন করতে সম্মত হয়। এই বিষয়টি নিস্পত্তির আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধাপরাধীরা ভারতের তত্বাবধানে থাকবে । ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ থেকে দিল্লী চুক্তি অনযায়ী যুদ্ধবন্দী প্রত্যর্পন এবং আটকে পড়া নাগরিক বিনিময় শুরু হয় । (৯)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক সংস্থায় রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ পান আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স এ অনুষ্ঠিত ন্যাম (নন এ্যালায়েন্স মুভমেন্ট) সম্মেলনে । ১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির সাথে বাংলাদেশের একটি যোগাযোগ স্থাপিত হয় । ঐতিহ্যগতভাবে প্রায় সকল মুসলিম দেশই ন্যাম এর সদস্যরাষ্ট্র তাই জাতিসংঘের সদস্য না হবার পরও বাংলাদেশকে ন্যাম এর সদস্যপদ প্রধান করা হয় । (১৬)
এই সম্মেলনে আরব নেতৃবৃন্দের সাথে শেখ মুজিবের ফলপ্রসু আলোচনা হয় এবং আরব লীগ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশকে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট ও দেশ পুনর্গঠনে সর্বতোভাবে সহায়তার আশ্বাস দেয় । এরই সূত্র ধরে কুয়েত সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে স্বর্ণ মজুদ রাখে । এই আলোচনা ও সহযোগিতার রেশ ধরেই ৭৩ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আরব লীগ নেতৃবুন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায় । (১৭)
মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে সৌদি আরবের রাজা ফয়সাল, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেডিয়েন এর সহযোগিতায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যার মুলে ছিল ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী যাদের বিচারে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলো এবং এজন্য তখনো পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে নাই । আর পাকিস্তানের মিত্র হিসাবে চীন বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য হিসাবে যোগদানে ভেটো প্রদান করছে । এর মধ্যে চীন পুনরায় জানিয়ে দেয় ""After resolution of the war trials issue, Peking will recognise Dacca, and the way will be open for Bangladesh to be admitted to the United Nations" (১৮) ।
এর মাঝে আন্তর্জাতিক আদালতে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী হস্তান্তর বিষয়ে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের মামলার সকল কাগজপত্র জমা দেবার তারিখ ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ১৭ই মে ১৯৭৪ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও যুদ্ধাপরাধী সমস্যা নিরসনে আরব লীগ নেতৃবৃন্দের নেওয়া উদ্যোগের ফলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় । ১৯৭৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতের রেজিষ্ট্রারের কাছে একটি চিঠিতে পাকিস্তান মামলাটি আর না চালাবার সিদ্ধান্ত জানায় এবং মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারাধীন মামলার তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য অনুরোধ জানায় । এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিস ১৫ ই ডিসেম্বর ১৯৭৩ এক আদেশের মাধ্যমে, আদেশ নং - ৩৯৩, এই মামলাটি বাতিল ঘোষনা করে এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । (১৪)
আন্তর্জাতিক আদালত থেকে পাকিস্তানের মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আরব লীগ নেতৃবৃন্দের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে বিবেচিত হয় এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা ভারতের মধ্যস্থতা ব্যতীত সরাসরি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয় । এবার আরব লীগ নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করেন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান করার জন্য । এর জবাবে জুলফিকার আলী ভূট্টো জানান যে বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করলেই কেবলমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে ।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আরো গতি লাভ করে ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে । বাংলাদেশ তখনো ওআইসির সদস্য নয় । প্রায় সকল সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি থাকা সত্বেও (ইরান, তুরস্ক ও পাকিস্তান ব্যতীত), পাকিস্তানের আপত্তির কারণে বাংলাদেশের ওআইসির সদস্যপদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে । এর মধ্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, সৌদি রাজা ফয়সাল এবং জর্ডানের রাজা হুসেইন এর উদ্যোগে সাতটি মুসলিম দেশের প্রতিনিধি ঢাকা সফর করেন ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের উদ্যোগ থেকে সরে আসার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজী করাতে । কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিকভাবে কোন শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তানের স্বীকৃতি গ্রহণে অস্বীকার করেন এবং এই বিষয়ে আরো আলোচনা প্রয়োজন বলে অভিমত দেন। এরপর এই প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে । তারা সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান জানান এবং যুদ্ধাপরাধী সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের ওআইসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন । (১৯, ২১)
এর মধ্যে আরব লীগ নেতৃবৃন্দ লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ করে কিন্তু পাকিস্তান স্বীকৃতি না দিলে ওআইসি সম্মেলনে যোগ না দেবার নীতিগত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ পুনরায় জানিয়ে দেয় । (২০)
এই অবস্থায় আরব লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে শেষ মুহুর্তের আলোচনায় অনেকটা নাটকীয়ভাবে ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে । একই দিন ইরান এবং তুরস্কও বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে । (২১) তবে পাকিস্তান স্বীকৃতি দিলেও যুদ্ধাপরাধী সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানে অস্বীকৃতি জানায় । এর মাধ্যমে পাকিস্তান আরব লীগ নেতৃবৃন্দের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কৌশলগত কারনে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েও চীনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসা পর্যন্ত জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করার ব্যাপারটি আটকে রাখে ।
২২ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের স্বীকৃতি লাভ করার পর বাংলাদেশের একই দিন থেকে লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়াতে আর কোন বাধা থাকেনা । এই অবস্থায় ২২শে ফ্রেব্রুয়ারী সকালে কুয়েতের আমীরের ভাই কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুসলিম দেশগুলির একটি প্রতিনিধিদল একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকা আসেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এসকর্ট করে লাহোরে নিয়ে যান ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য । ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে পাকিস্তানে রাষ্ট্রবন্দী হিসাবে আটক শেখ মুজিবুর রহমান এবার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখেন । (২০)
লাহোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আনোয়ার সাদাত, সৌদি আরবের রাজা ফয়সাল এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । এর মাঝে পাকিস্তান লাহোর সম্মেলনে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রস্তাব পেশ করে এবং এর সপক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে । (১৯, ২২)
লাহোর সম্মেলনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে আরব লীগ নেতৃবৃন্দ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয় এবং এ ব্যাপারে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা শুরু করে । এর রেশ ধরে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলফিকার আলী ভূট্টোর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । বৈঠকে শেখ মুজিব ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন এবং দেশে ফিরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার কথা জানান । আনোয়ার সাদাতের এই উদ্যোগ এর সাফল্য নিয়ে ১৯৭৪ সালের ১১ই মে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে যার টাইটেল ছিলো "The Return of the Magician" । টাইম থেকে উদ্ধৃতি "In the most dramatic event of the summit, however, Sadat was able to reconcile Pakistan's Premier Zulfikar Ali Bhutto and Bangladesh Premier Sheik Mujibur Rahman, who have been enemies since Bangladesh split off from Pakistan two years ago. Bhutto solemnly recognized the independence of Pakistan's former east wing, while Sheik Mujib hinted that he will no longer press wartime atrocity charges against 195 Pakistani officers held prisoner in India. Mujib promised also to do "my bit" to reconcile Pakistan and India, a task that would tax even Henry Kissinger." (২৩)
শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেবার জন্য লাহোর সম্মেলন এর পরপরই একটি সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আসেন আনোয়ার সাদাত এবং আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হউরি বুমেদিন (Houri Boummedine) । কয়েক ঘন্টার এই সফরে তারা শেখ মুজিবর রহমানের কাছ থেকে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জ প্রত্যাহারের ব্যাপারে পুনরায় প্রতিশ্রুতি লাভ করেন এর বিনিময়ে তারা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সাহায্য দেবার প্রতিশ্রুতি দেন । বাংলাদেশে তখন চরম অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষাবস্থা চলছে । এর একটি বড় কারন ছিলো ১৯৭৩ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্থ বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের চলমান United Nations Relief Organization in Bangladesh (UNROB) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া । (১৯, ২৪)
আরব লীগ ও মুসলিশ নেতৃবৃন্দকে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাংলাদেশের পক্ষে তখন মিত্র দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সম্মতি ব্যতীত এত বড় একটি প্রধান সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন ছিল । এই অবস্থায় শেখ মুজিব চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মস্কো যান ১৯৭৪ এর মার্চ মাসে । সেখানে দুই সপ্তাহ অবস্থান করে চিকিৎসাকালীন সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়নের গ্রীন সিগন্যাল পাবার পর তিনি সম্মতি পাবার পর তিনি দেশে ফেরেন । মস্কো থেকে ফিরে একটি সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি দিল্লী যান (২) এই ব্যাপারে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শের জন্য । ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অনাপত্তির পর, শেখ মুজিবুর রহমানের ওআইসি সম্মেলনে এবং আরব লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে আর কোন বাধা থাকেনা । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু যেই কাজটি করেননি সেটি হলো বাংলাদেশের মানুষের মতামত নেয়া এবং এই ব্যাপারে সংসদেও কোন বিল উত্থাপিত হয়নি ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলিকে সমধানের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালের ৫ই এপ্রিল থেকে নয়াদিল্লীতে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয় । বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, ভারতের পক্ষে শরণ সিং এবং পাকিস্তানের পক্ষে আজিজ আহমেদ । ৫ দিন ব্যাপী আলাপ আলোচনা চলার পর ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেটি "TRIPARTITE AGREEMENT " নামে বেশী পরিচিত । এই চুক্তিতে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটি নিস্পত্তির পাশাপাশি এই তিন দেশে আটকে পড়া নাগরিকদের প্রত্যর্পনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয় ।
এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনা সকল চার্জ "as an act of clemency" বা "দয়াশীলতা ও ক্ষমার মহত্ব" দেখিয়ে প্রত্যাহার করে নেয় । মুল চুক্তি থেকে উদ্ধৃতি "In the light of the foregoing and, in particular, having regard to the appeal of the Prime Minister of Pakistan to the people of Bangladesh to forgive and forget the mistakes of the past, the Foreign Minister of Bangladesh stated that the Government of Bangladesh has decided not to proceed with the trials as an act of clemency. It was agreed that the 195 prisoners of war may be repatriated to Pakistan along with the other prisoners of war now in process of repatriation under the Delhi Agreement." (৯)
এর বিপরীতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত যুদ্ধাপরাধের জন্য বাংলাদেশের কাছে দু:খ প্রকাশ করেন যার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারটিকে স্বীকার করে নেয়া হয় যেটি পাকিস্তান সরকার অস্বীকার করে আসছিলো । আবারো মুল চুক্তি থেকে উদ্ধৃতি "The Minister of State for Defense and Foreign Affairs of the Government of Pakistan said that his Government condemned and deeply regretted any crimes that may have been committed" । বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপমহাদেশের দেশগুলির মধ্যকার বিরাজমান একটি কষ্টদায়ক অধ্যায়ের সমাপ্তির মুল কৃতিত্ব প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে । (In a magnanimous gesture, Pakistan's Foreign Minister Ahmed gave chief credit for bringing an end to a "painful chapter" in South Asia's history to Bangladesh's Prime Minister Sheik Mujibur Rahman.) । (২)
এভাবেই ইতিহাসের ঘৃণ্যতম যুদ্ধাপরাধ সংগঠন করার পরও, তাদের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইন থাকা সত্বেও এবং সকল প্রমাণাদি থাকার পরও মুক্তি পেয়ে গেল ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী । ১৯৭৪ এর ৩০শে এপ্রিল এর মধ্যে সকল যুদ্ধাপরাধী ভারত থেকে পাকিস্তানে ফেরত গেল ।
দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের কাছে এই ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমার বিষয়টি ব্যাপক হতাশা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । বিশেষ করে তৎকলীন বামপন্থী সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে । (২৫)
এই ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে উপজীব্য করে টাইম ম্যাগাজিন ১৯৭৪ সালের ২২ শে এপ্রিল "End of a Bad Dream" নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে । সেখানে লাহোর সম্মেলনের পরে এই চুক্তিটিকে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে উল্লেখ করলেও বাংলাদেশের ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে চার্জ প্রত্যাহারকে একটি বড় ছাড় হিসাবে উল্লেখ করা হয় । একই রিপোর্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিংকে উদ্ধৃত করে লেখা হয় "The trials, tribulations and conflicts of our subcontinent will become a thing of the past—something of a bad dream that is best forgotten." । (২)
কিন্তু আসলেই কি আমরা এই bad dream কে ভুলতে পেরেছি নাকি ভোলা উচিত? মুক্তিযুদ্ধে শহীদ লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী, ধর্ষিত ও নির্যাতিত হাজার হাজার মা বোন, তোমরা আমাদের ক্ষমা করো । আমরা সহজেই অনেক কিছুই ভুলে যাই । তোমাদের উপর করা পাশবিক বীভৎসতার বিচার আমরা করতে পারিনি । তোমাদের এই অথর্ব সন্তানদের ক্ষমা করো ।
তথ্যসূত্র :
১। http://www.unhchr.ch/html/menu3/b/91.htm
২। End of a Bad Dream, Time, Monday April 22, 1974
৩। en.wikipedia.org/wiki/Indo-Pakistani_War_of_1971
৪। Time, Monday September 17, 1973
৫ । Bangladesh in 1972: Nation Building in a New State
Rounaq Jahan
Asian Survey, Vol. 13, No. 2 (Feb., 1973), pp. 199-210
৬ China, the Soviet Union, and the Subcontinental Balance
Sheldon W. Simon
Asian Survey, Vol. 13, No. 7 (Jul., 1973), pp. 647-658
৭। The weakness in the International Protection of Minority Rights, Javaid Rahman, Kluwer Law International, Page 96-97
৮। সিমলা চুক্তি, Click This Link এবং Click This Link
৯। Tripartite Agreement between India, Bangladesh and Pakistan for normalisation of relations in the subcontinent. New Delhi, April 9, 1974.
১০। AHMED, Ziauddin. The case of Bangladesh : bringing to. trial the perpetrators of the 1971. genocide. Page 103
১১। International court of Justice, Proceedings of Trial of Pakistani Prisoners of War (India vs Pakistan)
১২। International court of Justice, Trial of Pakistani Prisoners of War, Oral Arguments - Minutes of the Public Sittings held at the Peace Palace, The Hague, from 4 to 26 June 1973
১৩। Act No.XIX of 1973 (published in the Bangladesh Gazette, Extra, on July 20, 1973): An Act to provide for the detention, prosecution
and punishment of persons for genocide, crimes against humanity, war crimes and other crimes under international law.
১৪। International court of Justice, Trial of Pakistani Prisoners of War, Official Order of 15 December 1973, নথি নং ৩৯৩
১৫। Time, Monday September 17, 1973
১৬। The Non-aligned World, University of California, Page 396
১৭। Bengal and Bangladesh: Politics and Culture on the Golden Delta By Elliot Tepper, Glen Alexander Hayes, Page 101
১৮। The Observer, London, 24 February 1974
১৯। Asian Tribune, 9 August 2007
২০। Bangladesh and the OIC, Syed Muazzem Ali, The Daily Star supplement, February 19, 2006
২১। South Asia in World Politics By Devin T. Hagerty, page 73
২২। The Economist, London, 2 March 1974
২৩। The Return of the Magician, Time, Monday, Mar. 11, 1974
২৪। Bangladesh in 1974: Economic Crisis and Political Polarization, Talukder Maniruzzaman
Asian Survey, Vol. 15, No. 2 (Feb., 1975), pp. 117-128
২৫। The. Case of Bangladesh: Bringing to Trial the Perpetrators of the 1971 Genocide, Page no. 105-106
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: কেউ ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি দেখতে চাইলে এখানে দেখুন
মিরাজ বলেছেন:
কগু এই পোষ্ট তোমার ভালো না লাগার কারণ কি?
আকাশচুরি বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই। ++
লেখক বলেছেন: আপনাকেও প্রতিটি পর্বই পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
শেষ করলাম ... অনেক ধন্যবাদ মিরাজ ভাই ।
লেখক বলেছেন: সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ বিমা ।
আশা করি নতুন কিছু জানাতে পেরেছি ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ মুকুল ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিহংগ । আজকাল দেখিনা আপনাকে, ব্যস্ত নাকি?
সেলিম তাহের বলেছেন:
শেষ পর্বটা পরে সময় নিয়ে পড়বো। টাইগারসদের পারফরম্যান্স দেখে মেজাজটা এখনও খিঁচরে আছে।....+
লেখক বলেছেন: টাইগারদের জন্য চিন্তা কইরেননা... আজকে বিড়াল হয়েছিল। আশা করি ১২ তারিখে বাঘ হবে ।
প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
লেখক বলেছেন: আমরা বিচার করতে পারিনি এটি আমাদের ব্যর্থতা, কূটনৈতিক পরাজয়তো বটেই । ।
নিয়মিত পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
জানা বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ মিরাজ ভাই। আপনার এমন ধারালো বোধ, তার চর্চা আর প্রতিফলনে মুগ্ধ হই বারবার। দেবার যে নিঃশর্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তা অব্যাহত থাকুক। মঙ্গল হোক আপনার।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ । চেষ্টা করছি ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সাথে শেয়ার করতে । আমাদের এই ব্যাপারগুলি জানা জরুরী ।
ভালো থাকবেন ।
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই এই চমৎকার সিরিজের জন্য।
লেখক বলেছেন: নিয়মিত পড়ার জন্য ধন্যবাদ রাশেদ ।
লোকেন বোস বলেছেন:
অজানা অনেক কিছুকে সামনে নিয়ে আসার জন্য আপনার কাছে কৃতজ্ঞ । সবগুলি সিরিজ একত্র করে একটি আলাদা পোষ্ট দেবেন, সংগ্রহে রাখতে সুবিধা হবে ।
লেখক বলেছেন: সবগুলি পর্ব একত্র করে পোষ্ট দিয়েছি ।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
এই ১৯৫ জনের বিচারটা অত্যাবশ্যক ছিল
একটা বিষয়ে পরিষ্কার হতে চাই, বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে? ... আপাতঃ কমনসেন্সে মনে হচ্ছে, এদের বিচার না করায় ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবেনা এমন কোন ব্যারিকেড তৈরী হয়ে গেছে
লেখক বলেছেন: এই চুক্তির ফলে ক্ষতিপূরণ দাবী করা নিয়ে কোন আইনগত বাধা থাকার কথা নয় ।
কিন্তু ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য যে শক্ত মেরুদন্ড দরকার তা স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারেরই ছিলোনা । এখনও সম্ভবত: নেই ।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
অসাধারন বর্ণনা করেছেন।অনেক কিছুকে গোছিয়ে একত্রিত করেছেন।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মিরাজ ভাই আপনাকে (পরিবারবর্গ) কি একদিন বাসায় দাওয়াত দেবার সাহস দেখাতে পারি??
নিজের হাতে রান্না করব
জানালে অনেক খুশী হবো।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ইমন অনেক ধন্যবাদ আপনার আমন্ত্রণের জন্য । নিশ্চয়ই সময় করে সপরিবারে যাবো একদিন আপনার বাসায় ।
লেখক বলেছেন: এই ব্যর্থতার দায়ভার আমরা এখন বহন করে চলছি।
এই ব্যর্থতা পোড়ায় । ২য় বিশ্বযুদ্ধের অনেক বছর পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে আর আমরা প্রমাণ থাকা সত্বেও কূটনীতির কাছে হেরে ব্যর্থ হয়েছি ।
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ স্যার।১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর লিষ্টে আপনার ভাষায় স্বজাতি হত্যায় নেতৃ্ত্ব দানকারী গোলাম আযমের নাম কয় নাম্বারে ছিল, সম্ভব হলে জানাবেন।
লেখক বলেছেন: এই ১৯৫ জনের তালিকা অন্তর্ভূক্ত দু একজনের নাম (জেনারেল নিয়াজী ও দু একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা) ছাড়া আর কারো নাম এখন পর্যন্ত পাইনি । সম্ভবত: নামগুলি পাবলিক ডোমেইনে নেই ।
তবে এই তালিকায় গোলাম আজমের নাম থাকার কথা নয় । এটি পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী যারা মুলত: সামরিক বাহিনীতে ছিলো তাদের তালিকা । আর পাকিস্তানীদের দোসর কুলাংগারদের ভিন্ন আরেকটি তালিকা ছিলো, সেখানে অবশ্যই গোলাম আজমের নাম আছে ।
ভবিষ্যতে এ নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে ।
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন:
আপনার লেখাটা খুবই গোছানো। ভাল লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য ।
অনেক দেশের আচরণ Aggressive , আর আমাদের পুরোপুরিই passive . Aggressive আমরা হতে চাইবোও না , কিন্তু passive এর খোলস থেকে বের হয়ে assertive হবো কবে ?
লেখক বলেছেন: assertive হবার জন্য শক্ত মেরুদন্ড আর দেশের প্রতি অনেক ভালোবাসা লাগে । আমাদের ২য়টি থাকলেও (সব ক্ষেত্রে অবশ্য নয়) প্রথমটির বড় অভাব ।
আমাদের আরো অনেক শক্ত অবস্থান নেবার সুযোগ ছিলো কিন্তু আমরা সেটি নিতে পারিনি ।
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই সিরিজটার জন্য। ব্যাপারগুলো ভাসাভসা জানতাম, এখন পরিষ্কার হল। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে ন্যায় অন্যায় বলে কোন টার্ম নাই, পুরাটাই স্বার্থের খেলা। পাকিস্তানের লবিটা দেখা যাচ্ছে বেশ একটিভ ছিল, পাকিস্তানের স্বার্থ ঠিকই বের করে নিয়েছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের লবি (ভারত, সোভিয়েত) মনে হয় ততটা ছিলনা। এটা আমদের ব্যর্থতা নাকি, ঠিক বুঝতেছিনা।
লেখক বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষণটা ভালো লাগলো । আমাদের ব্যর্থতাতো ছিলোই তবে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে আমাদের অনেক বেশী ছাড় দিতে হয়েছে । মুসলিম দেশগুলির সাথে সম্পর্কোন্নয়নও একটা বড় এজেন্ডা ছিলো ।
আর ভারত অন্যান্য ব্যাপারে সহযোগিতা করলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে খুব একটা আন্তরিক ছিলোনা । যার ফলে এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক লবিইং তারা খুব একটা করেনি । ফলে পাকিস্তানের শক্ত আন্তর্জাতিক লবির সামনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো অনেকটা অসহায় ।
লেখক বলেছেন: পড়বার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ ।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
কিন্তু আসলেই কি আমরা এই bad dream কে ভুলতে পেরেছি নাকি ভোলা উচিত? মুক্তিযুদ্ধে শহীদ লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী, ধর্ষিত ও নির্যাতিত হাজার হাজার মা বোন, তোমরা আমাদের ক্ষমা করো । আমরা সহজেই অনেক কিছুই ভুলে যাই । তোমাদের উপর করা পাশবিক বীভৎসতার বিচার আমরা করতে পারিনি । তোমাদের এই অথর্ব সন্তানদের ক্ষমা করো ।ক্ষমা চাই... ক্ষমা চাই... ক্ষমা চাই...
লেখক বলেছেন: আমরা শুধু ক্ষমাই চাইতে পারি । অথর্ব সন্তান আমরা ।
শুধুই লজ্জিত হতে পারি ।
লেখক বলেছেন: ফারহান এইসব রেটিং এ কিছু যায় আসেনা । সত্যকে সামনে তুলে ধরাটাই মুল কথা ।
কিছু লোকের গায়ে যে এ ধরনের পোষ্ট জ্বালা ধরাবে সেটাইতো স্বাভাবিক ।
স্ক্রু লুজ Screw Loose বলেছেন:
:SURRENDER
মাইনাস উপহার দাতা গোষ্ঠীর সম্মানিত সদস্যদের একজন হচ্ছে স্ক্রু লুজ।
রাগিব বলেছেন:
@ফারহান দাউদমাইনাস দেখে রাগ করে লাভ নাই ... বৃত্ত, লেকবাসি এরা মাইনাস দিবেই। আমার লেখা বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, সব গুলোতেই এরা মাইনাস দিয়েছে। অবশ্য মাইনাস প্লাস এতে কিছুই আসে যায় না।
লেখক বলেছেন: সেটাই । এই ধরনের পোষ্টে রেটিং কোন সমস্যা নয় তবে আপনি দেখছি এই কাজ যারা করে তাদের ভালোভাবেই চিনতে পেরেছেন । ।এখানেও আপনার অনুমান নির্ভুল । ![]()
সাদাকালোরঙিন বলেছেন:
আমি এখনও বুঝতে পারছিনা , শেখ মুজিব এর সামনে অন্য কোন option ছিল কি না। দুর্ভিক্ষ পীড়িত দেশের কাছে আসলে ভাতের চিন্তাই আসল। আমাদের উচিত সেই সময়ের ব্যর্থতা কোনভাবে এখন শুধরে নেয়া যায় কিনা সেই সুযোগ খোঁজা। যুদ্ধাপরাধীদের কোনভাবেই পার পেতে দেয়া যায় না। আর যেসব বাঙ্গালী যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচার আরো গুরুত্বের সাথে করা উচিত।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই....বিচার চাই....বিচার চাই....
লেখক বলেছেন: শেখ মুজিবের সামনে আর কোনো অপশন ছিলো কিনা বলাটা বর্তমান সময়ে সহজ নয় । তবে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার অপশন ছিলো । পাকিস্তান যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলো তাই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে পাকিস্তানের তার বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান থাকতোনা ।
আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ লবির তুলনামুলক নির্লিপ্ততা । ভারত-সোভিয়েত ইউনিয়ন লবি সক্রিয় ভূমিকা নিলে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান আরো শক্ত হতো । মুসলিম দেশগুলির সাথে কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বঙ্গবন্ধুর আগ্রহও আমাদের কূটনৈতিক পরাজয়ের আরেকটি কারণ হিসাবে বিশ্লেষকরা মনে করেন ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
ইয়র্কার বলেছেন:
মিরাজ, এদেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিভাবে করা যায়, একটু ধারণা দেন। নাকি এগুলোও ক্ষমা করা হয়ে গেছে? এখন সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সময়?(মন্তব্যে সারকাজম নাই, রসিকতাও নাই। কারণ আমার রসিকতা আপনি বুঝেন না। অতএব, এই প্রশ্নগুলোকে 'ফালতু' ট্যাগ দিয়ে এড়িয়ে না গেলে খুশি হবো।)
লেখক বলেছেন: এদেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিভাবে করা যেতে পারে সে ব্যাপারে সামনে বিস্তারিতভাবে লিখবো । ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করা হয়নি । তবে এটি ওই সময়ে এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসাবে কাজ করেছে এবং যার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু কিছু নির্দিষ্ট অপরাধে অপরাধী ছাড়া বাকীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ক্ষমা করে দেন ।
এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই করতে হবে । দেরী হয়ে গেলেও এটি এখনো সম্ভব । শুধু প্রয়োজন শাসকগোষ্ঠীর আন্তরিকতা ও জনগণের সচেতনতা । কিভাবে সম্ভব সেটি নিয়ে সামনে আলোচনার ইচ্ছা আছে ।
আর আপনি ফালতু প্রশ্ন করলে সেটাকে ফালতু ট্যাগই দিতে হবে । এটি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ছিলো তাই এড়িয়ে যাবার কোন কারন নেই ।
স্ক্রু লুজ Screw Loose বলেছেন:
:যুদ্ধাপরাধী কি? এটাই আমি বুঝতে পারছি না। যুদ্ধের সময় যারা ছিচকে চুরিটুরি করে অপরাধ করেছিল তারা কি যুদ্ধাপরাধী? নাকি যুদ্ধের সময় ঘুষ টুস খেয়েছিল, নাকি ইলেক্ট্রিক বিল টিল দেয় নাই। যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধীরা কি অপরাধ করেছিল?
ওম্মা। আমি এত বোকা। যুদ্ধের সময় করলে সেটা যুদ্ধাপরাধ। আর যুদ্ধের পরে করলে সেটা? একটু সংকেত দেই। ৪ দলীয় ঐক্য জোট।
যুদ্ধাপরাধীর কাধে কাঁধ মিলিয়ে চলা হয়। আবার যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়া হয়। হা হা হা ... অট্টহাসি। এজন্যই আমার স্ক্রু লুজ হয়ে গেছে।
নাভদ বলেছেন:
++
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ নাভদ ।
সততার আলো বলেছেন:
আজ অনেকদিন পর ব্লগ পড়ার শুরুতেই আপনার অসাধারণ লেখাটি চোখে পড়ল । এক নি:শ্বাসেই পড়ে ফেলেছি। সত্যিই অসাধারণ ও পরিশ্রমী লেখা। ধন্যবাদ।লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । ভবিষ্যতেও আমার ব্লগ পড়ার আমন্ত্রণ রইল ।
বাঙাল যুবক বলেছেন:
পুরো সিরিজটি ভাল লাগল। এ বিষয়ে আমার মনে কয়েকটি প্রশ্ন জেগেছে। আমরা কি এখন "TRIPARTITE AGREEMENT " টি বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে পারি? এটা বাতিল করতে কি তিন পক্ষই একমত হতে হবে? যদি একপক্ষীয়ভাবে বাতিল করা হয় তবে কি আন্তুর্জাতিক আইনে কোন সমস্যা আছে? আমার মনে হয় যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এই "TRIPARTITE AGREEMENT " টাই বাতিল করা প্রয়োজন।
আপনার পুরো লেখাটায় একটা তথ্য ঢুকালে মনে হয় আরো ভাল হতো। সেটা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ভারতীয় একটি অংশের অনীহা। এ বিষয়ে ইত্তেফাকের লেখা থেকে তুলে ধরছি ঃ
'মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনাগ্রহের কারনেই বাংলাদেশ পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারেনি। তবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এনিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ ছিল। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বিচার চেয়েছিলেন। তার সিনিয়র উপদ্ষ্টো ডিপি ধরও সকল বন্দিকে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে ছিলেন না। ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে দু'দেশের মধ্যে অব্যাহত আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব এনায়েত করিম দিল্লিতে যান। জানা যায়, ওই সময়ে পিএন হাকসার (ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মূখ্য সচিব) স্পষ্ট ভাষায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে বলেন, কোন পেশাদার আর্মি অপর কোন পেশাদার আর্মির বিচার আশা করেনা-ভারতের সেনাবাহিনী এই যুক্তিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। ভারতের অনাগ্রহের অবশ্য অন্য কারনও ছিল বলে অনেকে মনে করেন। ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে সিমলা চুক্তিকালেই ভারত বাংলাদেশের পক্ষে পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, যুদ্ধাপরাধীদের কোন বিচার হবে না এবং সকল বন্দিকে ফেরত দেয়া হবে।'
এ বিষয়ে ইত্তেফোক জে এন দীক্ষিত রচিত 'লিবারেশন এন্ড বিয়ন্ড' বইয়ের রেফারেন্স টেনেছেন।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অনাগ্রহের কথা পড়েছি । ভারতীয়দের পক্ষে আমাদের জনগনের উপর পাকিস্তানী বাহিনীর করা বর্বরকার প্রকৃত স্বরূপ বোঝার কথা নয়, এটি বোঝাবার দায়িত্ব ছিলো আমাদের । তারপরও ভারত কিন্তু বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি ।
আমরা আসলে আমাদের লবিকে পাকিস্তানের বৃহৎ লবির বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারি নাই ।
আমরা এখন একপক্ষীয়ভাবে এটি বাতিল করতে পারি । কিন্তু সেটি বাতিল করলেই যুদ্ধাপরাধী বিচারের পথ উন্মুক্ত হবেনা । আর বাংলাদেশ এখন কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র লবিতে... যুক্তরাষ্ট্র মনে হয়না এরকম একটি অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে । বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মিত্রতা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ।
আরিফ জামান বলেছেন:
আপনার পুরো ব্লগটাই পড়টে হবে ! +
ব্লুজ বলেছেন:
অসাধারন মিরাজ। সমস্ত রেফারেন্স একসাথ করে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে গিয়ে কি পরিমান কষ্ট যে করেছেন তা বুঝতে পারছি। শুধু ধন্যবাদ যথেষ্ট নয়। স্যালুটআমি আপনার এই পোস্টটি শো কেসে রাখতে চাই তাই আপনি যদি পোস্টটিতে পূর্বের পর্বগুলোর লিংক এড করে দিতেন তাহলে নেভিগেটে সুবিধা হতো। [অন্যায় আবদার আর কি]। +
লেখক বলেছেন: সব পর্ব একসাথে করে পোষ্ট দিলাম ।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
মিরাজ বলেছেন:
সামহোয়্যারইন কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতাপোষ্টটি ষ্টিকি করায় । আশা করি অনেকেই নতুন কিছু জানতে পারবেন এই সিরিজটি থেকে । আমি সিরিজের সবগুলি পোষ্ট একত্রে করে একটি পোষ্ট দেব আজকে, কর্তৃপক্ষ তখন সেই পোষ্টটি ষ্টিকি করলে সকলে একত্রে সব তথ্য জানতে পারবেন । কর্তৃপক্ষের কাছে সেই অনুরোধ রইল ।
এই মুহুর্তে একটু ব্যস্ত আছি । কিছু পরে সকলের মন্তব্যের জবাব দেবার আশা রাখি ।
ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অবশ্যই মেইল করবো ।
ভালো থাকবেন ।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
চমৎকার পোষ্ট।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
পড়লাম এবং খুবই ভাল লাগল। পরিস্কার হল কেন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করতে পারি নাই। সদ্য স্বাধীন দূর্বল দেশ হওয়ায় বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের আন্তজার্তিক রাজনীতির কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া উপায়ও ছিল না। সংকটকালে সামনে দুটি বিপদজনক পথ থাকে তবে দুটির মাঝে যেটিতে চলমান সংকট দূর সেটিই নির্বাচন করা ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু দেশী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তো কোন সমস্যা ছিল বলে মনে হয় না? হয়ত কয়েক হাজার রাজাকার, আলবদর, আলশামস কর্মীকে শাস্তি দিতে সময় লাগত, কিন্ত সারা দেশ খুঁজে কি ৫০০ টিও খুঁজে পাওয়া গেল না যাদের প্রকাশ্য হত্যা করা সম্ভব। আমারতো মনে হয় না অসম্ভব ছিল, কিন্তু কেন হল না?
মিরাজ ভাই, ভেবেছিলাম আপনার এই সিরিজে হয়ত এই ব্যাপারটা আসবে, কিন্তু এল না। তৃষ্ণা রয়েই গেল। আশারাখি সময় পেলে এই ইতিহাসও আমাদের কাছে তুলে ধরবেন। অপেক্ষায় রইলাম। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: দেশী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েও কিভাবে বন্ধ হয়ে গেল । কোন পরিস্থিতিতে কিছু অপরাধীকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মাফ করে দেয়া হলো... এই ব্যাপারগুলি নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা আছে ।
এই সিরিজের মধ্যে সেই তথ্যগুলিকে নিয়ে আসলে সেটা প্রাসঙ্গিক হতোনা ।
নিয়মিত পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।
আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট বলেছেন:
সূর্য সন্তান আবার কি জিনিস? জীব শ্রেষ্ঠ মানুষকে অলংকৃত করিতে চন্দ্র, সূর্য, অগ্নি এসব আমদানি করিবার হেতু কি?
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
ব্যাড ড্রিম শব্দটা কেন জান ম,নে হচ্ছে আমাদের তুচ্ছতা প্রকাশ করছে। ...ভীষণ ভাবেঅতি সুন্দর উপস্থাপন করেছেন মিরাজ ইতিহাস এর অজানা অনেক তথ্যকে। অনেক ধন্যবাদ
ভেবে দেখেন রাজাকার হারামজাদাগুলো ...সেই শুরু থেকেই কি পরিমাণ ব্যাক আপ প্রাপ্ত .....
ফুলে ফেপে কেনো এত উঁচুতে উটবেনা?
লেখক বলেছেন: এটা একটা ব্যাড ড্রীম না ... এটি আমাদের জীবনের একটা অন্ধকার অধ্যায় ।
কতবতবকতকত বলেছেন:
জটিল পোস্ট দিয়েছেন মিরাজ ভাই। এরকম একটা পোস্ট সারাবছর স্টিকি করে রাখা উচিৎ। কিন্তু রাগ ইমনের কোন কমেন্ট না পেয়ে অনেকক্ষন ভ্রু কুঁচকে ছিলাম।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ । এখানে অপ্রাসঙ্গিকভাবে রাগইমনকে টেনে আনলেন কেন ভাই?
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
অনেক জানা হলো।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
পলাশ রহমান বলেছেন:
সময় উপযোগী এবং ভাল পোষ্ট।
সবুজ ভাই বলেছেন:
রাজনৈতিক স্বার্থের প্রাধান্য ছিল। জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার প্রয়োজনী্য়তা আমাদের দেশে নেই। সমস্যাগুলোকে বড় মনে হয়নি, স্বদিচ্ছার অভাব ছিল। প্রধান সমস্যা অসচেতনতা দ্বিতীয়টি পরনির্ভরশীলতা, তৃতীয়টি দেশের থেকে ব্যক্তিস্বার্থ ও মতামত বড় করে দেখা। যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম তা জানাগেল এখন জানতে হবে কিভাবে বিচার করা যায়, এবং বাস্তবায়িত করা যায়। বাস্তবায়িত করার মানসিকতা চাই। আপনার লেখা পড়লাম, শিখলাম, জানলাম। CANCER এর চিকিৎসা তখন ছিল না, এখন আছে। শুধু উপায়টা জানলেই হবেনা, সঠিক treatment করতে হবে।
লেখক বলেছেন: এখনও কি আছে? আমাদের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে সে সদিচ্ছা কই?
রাজনীতির মারপ্যাচে আমরা নীরব পুতুল ।
পরিবর্তন হবে এই আশাতেই আছি ।
প্রচেত্য বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই
রাফা বলেছেন:
হ্যা ব্যার্থই বলব,আসলে আমরা বঙ্গালীরা খুবই আবেগপ্রবন তথ্যবহুল প্রতিবেদনটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।এই ভূলের জন্যই আজ স্বাধীনতা িবরোধীরা নির্লজ্জের মত গলা উচিয়ে দাবি করে বাংলাদেশে কোন যুদ্ধ অপরাধী নেই।ধিক কুলাঙ্গার যত রাজাকার,আলবদর,আলসামশ কেয়ামত পর্যন্ত তাদের ক্ষমা নাই।ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
ভুল হয়েছে.. ভুলের মাশুলও দিয়েছি কিন্তু ভুল থেকে কি কোন শিক্ষা নিয়েছি?
সবার উপরে রাজনীতি সত্য বা রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই এই বুলির আড়ালে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আতাত করলে বিচারের আশা দুরূহ।
সাইমুম বলেছেন:
ধন্যবাদ মিরাজ ভাই।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
বকলম বলেছেন:
আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এসব লেখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। এমন একদিন আসবে যে দিন হয়তো আর কোন জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে বাংলাদেশের মানুষ দেখবে না। সেই অনাগত প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য দলিলের খুব প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের মতো এত বড়, এত ব্যাপক একটা বিষয়কে ধারণ করার জন্য এ বিষয়ে আরো বেশি বেশি তথ্য নির্ভর বই, রেকর্ডস দরকার। আপনার এই কষ্ট সার্থক হোক। আমাদের অক্ষমতা, আমরা অনেক কিছু করতে পারিনি, অনেক কিছু পারলেও করিনি, এখনও করছি না। আশা করছি আপনার এই লেখাগুলি বই আকারে বের হবে, এবং গুরুত্বপূর্ন দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে আগামী শত শত বছর ধরে, যতদিন এই বাংলাদেশ থাকবে। মনে করিয়ে দেবে জাতির সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগের কথা, গৌরবের কথা। বুঝতে সাহায্য করবে যেসব দেশকে আমরা বন্ধু ও ভাতৃ প্রতিম দেশ হিসেবে জানি তাদের অতীত ভুমিকার কথা। কোনদিন যাতে কোনো রাজাকার বড় গলায় বলতে না পারে 'আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম'। আমাদের হতভাগা শহীদ মৃক্তিযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধের আপনার এই প্রচেষ্টাকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্যালুট জানাই।
লেখক বলেছেন: আমি চেষ্টা করছি অতীতকে সামনে নিয়ে আসতে যাতে অতীতের ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে সামনে আগাতে পারি । আর এই ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা প্রয়োজন ।
কাজটি কষ্টসাধ্য, কিন্তু সত্য ইতিহাসকে জানার প্রেরণার সাথে আপনাদের উৎসাহও একটা বড় প্রেরণা । জানিনা এই লেখাগুলি কোন দিন কোন প্রকাশ হবে কিনা, তবে কিছু মানুষের মাঝে যে লেখাগুলি ছড়িয়ে দিতে পারছি, সেটাই প্রাপ্তি ।
পুষ্প বলেছেন:
অসাধারন,তথ্যপূর্ণ,বিশ্লেষণধর্মী,সমৃদ্ধ এ লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।লেখার জন্য যে কষ্ট করেছেন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।অনেক অজানা ছিল;জানতে পেরেছি। প্রিয় পোস্টে রেখে দিলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় পোষ্টে রাখায় কৃতজ্ঞতা ।
একস্লিপ বলেছেন:
জানার জন্য তো বটেই, রেফারেন্স হিসেবেও লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। যতোটা কাম্য, ব্লগে হয়তো এ ধরনের বিশ্লেষণধর্মী লেখা নিয়ে ততোটা আলোচনা হয় না, ব্লগাররা ততোটা উচ্চকন্ঠ হয়তো নন। কিন্তু তাতে এ ধরনের লেখার গুরুত্ব কমে যায় না। আমি নিজে আলোচনা করার জন্য নিঃসন্দেহে যথার্থ ব্যক্তি নই। তবে সবাইকে অনুরোধ করবো, লেখাটা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হোক এই পোস্টেই। তাতে বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ হবে আরো, যুক্ত হতে পারে নতুন নতুন তথ্য, ভিন্নমাত্রার বিশ্লেষণও।মিরাজ ভাই, লেখাটির একটি পিডিএফ সংস্করণ আমি আপনাকে উপহার হিসেবে দিতে চাই, যদি আপনি সম্মতি দেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ একস্লিপ ।
আলোচনা হলে ভালো লাগতো ।
পিডিএফ এর অপেক্ষায় থাকলাম ।
লেখক বলেছেন: আপনার করা পিডিএফ ভার্সন পেয়েছি । চমৎকার কাজ করেছেন ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা ।
প্রশ্ন কত বলেছেন:
৩০ লক্ষ শহীদ তথ্যটি সত্যের অপলাপ ,যা শুরুতেই আছে ।" তিরিশ লাখের তেলেশমাতি" বইটি অবশ্যই পড়বেন যদি সত্যানুসন্ধানী হয়ে থাকেন ।আর ইন্ডিয়া -সোভিয়েত লবি সক্রিয়ই ছিল। যুদ্ধপরাধীদের বিচারে নয় , নিজ নিজ দেশের জন্য সুবিধা আদায়ে ।
+
মাহিরাহি বলেছেন:
ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোষ্টের জন্য।আমি মনে করি নীতিতে অটল থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত ছিল।
মাহিরাহি বলেছেন:
দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা উচিত, তবে এটি যেন কোন গোষ্ঠি কিংবা দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে করা না হয়। তাহলে অনেক যুদ্ধাপরাধী রেহাই পাবে আর নিরীহ অনেক মানুষ ভুল বিচারের শিকার হবে।
লেখক বলেছেন: সহমত । সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে । বর্তমানে বিভিন্ন আদর্শের আড়ালে লুকালেও তাদের একমাত্র পরিচয় যুদ্ধাপরাধী ।
রাজনীতি বলেছেন:
মিরাজ ধন্যবাদ একটি পরিশ্রমি পোষ্টের জন্য।তবে শুরুতেই দুটি তথ্য ভুল আছে।
@ ৩০লক্ষ নয় হবে ৩লক্ষ। দেখুন দুশো ছিশট্রিদিনে স্বাধিনতা - লেখক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কাদের,ভ্রাম্যমান রাষ্ট্রদুত মুজিব নগর সরকার।
@ বাংলাদেশ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ভারতের হাতে দেয়নি বরং ভারত কৌশলে পাকিস্তান সৈন্যদের আত্বসমর্পন ভারতের কাছে করানো হয়।শুধু তাইনয় সেখানে স্বাধিনতার সমস্ত যুদ্ধকে পাক ভারত যুদ্ধহিসেবে দেখানো হয়। দেখুন - ঐ
লেখক বলেছেন: টাইম ম্যাগাজিনের ১৯৭১ সালের ২৫শে অক্টোবর প্রকাশিত সংখ্যা থেকে
No one knows how many have died in the seven-month-old civil war. But in Karachi, a source with close connections to Yahya's military regime concedes: "The generals say the figure is at least 1,000,000."
স্বাধীনতা যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করাটা নোংরামী। টাইম এর অক্টোবর নিবন্ধে সংখ্যাটা বলা আছে ১ মিলিয়ন মানে ১০ লক্ষ। যুদ্ধ এর পরেও চলেছে। আর শেষের দিকে নির্মমমতা আরো বেড়েছে । পাকিস্তানী বাহিনী অক্টোবর মাসের দিকেই স্বীকার করলো প্রায় ১০ লক্ষ , আর আপনারা বলছেন পুরো মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে ৩ লক্ষ!! পাকিস্তানীদের চাইতেও ওদেরকে এত ডিফেন্ড করার চেষ্টা করার কারণ কি?
আর আপনাদেরকে দেখি সবসময় সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে! ৩ লক্ষ শহীদ হলে পাক বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসরদের অপরাধ কমে যায়? নির্মমতা আর নৃশংসতা ভুলে যাওয়া যায়? শহীদ ৩ লক্ষ হলে কি মাত্র এই কজন (!) লোকের মৃত্যুর জন্য এখন আর কারও বিচার চাওয়া উচিত নয়... এই কথা বলা যায়? সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের আড়ালে আপনারা আসলে কি বলতে চান.. সেটা পরিস্কার করে বলুন । আপনাদের আসল অবস্থানটা তাতে পরিস্কার হয় ।
আর পাকিস্তানী যুদ্ধ বন্দী ও যুদ্ধাপরাধীদের ভারতের কাছে হস্তান্তর এর ব্যাপারে কয়েকশ নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক দলিল আছে... গবেষণা গ্রন্থ আছে । সেখানে আপনাদের মত করে কথা বলা একটি বইকে আমি রেফারেন্স হিসাবে নিতে রাজী নই ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আহমদ বলেছেন:
ধন্যবাদ মেরাজ । অসাধারণ পোষ্ট । তবে দেশে কোন যুদ্ধাপরাধ হয় নাই এ কথা কেউ কি বলেছেন ? বললে নিশ্চয়ই ভূল বলেছেন । সঠিক কথা হবে দেশে বর্তমানে কোন যুদ্ধাপরাধ বা দেশদ্রোহী নেই । যা ছিল শেখ মুজিব তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন বাআপনার পোষ্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী দিতে বাধ্য হয়েছেন । শুভরাত্রি ।।
লেখক বলেছেন: অনেক গুলি মন্তব্যের জবাব দেওয়া বাকী যেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে তবে প্রথমে আপনারটার জবাব দেওয়া প্রয়োজন কেননা আপনি একটির সাথে অপরটি গুলিয়ে ফেলছেন (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে) ।
এই পোষ্টে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের কোন পরিস্থিতিতে বা কেন শেখ মুজিব ক্ষমা করে দিয়েছিলেন সেটি ব্যাখ্যা সহ তুলে ধরা হয়েছে । এই সব পাকিস্তানীদের এ দেশীয় দোসর যেসব যুদ্ধাপরাধী আছে তাদের কিন্তু এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমা করা হয়নি । তাদের বিচার হবার পেছনে এই চুক্তি কোন বাধাও নয় ।
এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতেই হবে । সেটা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে সামনে লেখার আশা রাখি ।
ইরতেজা বলেছেন:
প্রিয় পোষ্ট
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা ইরতেজা ।
অপু ফিরোজ বলেছেন:
ধন্যবাদ লেখককে
একটা উপকার করা যাবে? আমার একটা বইয়ের নাম দরকার, মনে করতে পারছি না কিছুতে। জিয়া বাকশালে যোগ দিতে চিঠি দিয়েছিলো অথবা অভিনন্দন জানিয়েছিলো - সেই বইটাতে হুবহু চিঠিটা ছেপেছিলো - স্ক্যান্ড। প্লিজ! খুব দরকার। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: এই তথ্যটি বেশ কয়েকটি বইয়ে আছে । এই মুহুর্তে অনেক বাংলা বই কাছে নাই । লিগ্যাসি অব ব্লাড - বইটাতে তথ্যটি আছে, হুবহু চিঠি আছে কিনা নিশ্চিত নই । আপনাকে আপনার ব্লগে যেয়ে জানিয়ে আসবো দু-একদিনের মধ্যে ।
স্বপ্ন-দ্রহ বলেছেন:
ইতিহাস সবসময় সত্য, তা গৌরবের বা বেদনার হোক , সাফল্যের বা ব্যর্থতার হোক তাকে মুছে ফেলার কোন উপায় নেই। ইতিহাসকে বর্তমানে বা বর্তমান প্রজন্ম কতটুকু মূল্যায়ন করল বা কি করে মূল্যায়ন করবে তা আজ একটা বড় প্রশ্ন ।বাংগালী জাতি হিসাবে আমাদের দূর্ভাগ্য যে আমরা গত ৩০ বছরে কোন প্রকৃত leadership পাই নি । জানি না আর কত দিন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
++++++
প্রশ্ন কত বলেছেন:
'এদেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতেই হবে ।" এতদিন পর হঠাৎ এত জরুরী কেন?
না করলে ক্ষতি কি ? করলে লাভ কি ?
বিস্তারিত লিখবেন আশা করি
এস্কিমো বলেছেন:
আরারো পড়লাম। ডা হাসান এই বিষয়ের উপর একটা গবেষনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে সবগুলোর নাম এবং অপকর্মের বিস্তারিত বিবরন আছে। বইটা অনলাইনে পাওয়া যায়।
আর একটা কথা -
"পরবর্তীতে এইসব কুলাংগারদের কথাও আসবে, এদের যুদ্ধাপরাধের বিচারে আমাদের ব্যর্থতার কথাও আসবে "
- অপেক্ষায় থাকলাম।
আবারো ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ । সময় করে অবশ্যই লিখবো ।
মুকুট বলেছেন:
++++
কোলাহল বলেছেন:
পড়লাম, অনেক কিছু বিস্তারিত জানলাম। বোঝা যাচ্ছে জন্ম থেকেই বাংলাদেশ কুটনীতিতে দুর্বল এবং সেই দুর্বলতা এখনো আছে।+
লেখক বলেছেন: সহমত । আমাদের অদক্ষতাকে আদর করে আমরা এখনো দুর্বলতা বলি ।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
প্রশ্ন কত বলেছেন: ৩০ লক্ষ শহীদ তথ্যটি সত্যের অপলাপ ,যা শুরুতেই আছে ।" তিরিশ লাখের তেলেশমাতি" বইটি অবশ্যই পড়বেন যদি সত্যানুসন্ধানী হয়ে থাকেন ।আর ইন্ডিয়া -সোভিয়েত লবি সক্রিয়ই ছিল। যুদ্ধপরাধীদের বিচারে নয় , নিজ নিজ দেশের জন্য সুবিধা আদায়ে ।
রাজনীতি বলেছেন: মিরাজ ধন্যবাদ একটি পরিশ্রমি পোষ্টের জন্য।
তবে শুরুতেই দুটি তথ্য ভুল আছে।
@ ৩০লক্ষ নয় হবে ৩লক্ষ। দেখুন দুশো ছিশট্রিদিনে স্বাধিনতা - লেখক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কাদের,ভ্রাম্যমান রাষ্ট্রদুত মুজিব নগর সরকার।
@ বাংলাদেশ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ভারতের হাতে দেয়নি বরং ভারত কৌশলে পাকিস্তান সৈন্যদের আত্বসমর্পন ভারতের কাছে করানো হয়।শুধু তাইনয় সেখানে স্বাধিনতার সমস্ত যুদ্ধকে পাক ভারত যুদ্ধহিসেবে দেখানো হয়। দেখুন - ঐ
কুলাঙ্গারদের ধৃষ্টতায় আমি অবাক হই! পাঠ্য বই ছেড়ে নোটবই পড়ে অভ্যস্ত এসব ধর্ম বেনিয়া আল-কোরআন রেখে মওদুদীর বইয়েই সোয়াব বেশী বলে মনে করে। পোস্ট মিরাজের, তার বিবেচনার উপর আস্থা আছে, দেখতে চাই কিভাবে তিনি ট্যাকেল করেন ব্যাপারটা। শুধু কিছু কথা না বললেই নয়। কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা যুদ্ধ ও এর অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন পোস্ট নিষিদ্ধ করেছেন আর তার মধ্যে মন্তব্যও পড়ে। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এই আইনভাঙার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। দ্বিতীয় যেটি তা এই মিথ্যাচারিতার পক্ষে তাদের আরো মিথ্যাচারের। উল্লেখিত বইয়ের লেখক হিসেবে যার নাম বলা হয়েছে এমন নামে মুজিব নগর সরকারের কোনো ভ্রাম্যমান রাষ্ট্রদূত নেই। ছিলো না। লেখকের নাম হয়তো রাজাকার গোলাম আযম হবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে এক ভ্রাম্যমান দালাল
লেখক বলেছেন: এইসব প্রশ্ন হলো একটা কাভার, এই কাভারের নীচে আসলে অন্য কথা আছে ।
একদল লোককে দেখি সবসময় সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে! ৩ লক্ষ শহীদ হলে পাক বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসরদের অপরাধ কমে যায়? নির্মমতা আর নৃশংসতা ভুলে যাওয়া যায়? শহীদ ৩ লক্ষ হলে কি মাত্র এই কজন (!) লোকের মৃত্যুর জন্য এখন আর কারও বিচার চাওয়া উচিত নয়... এই কথা বলা যায়? সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের আড়ালে এরা আসলে কি বলতে চায়.... সেটা পরিস্কার করে বলার সাহস নেই...
আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । বক্তব্যের সাথে সহমত । মন্তব্য স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী হলে তা এডিট করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের ।
রামন বলেছেন:
তথ্যভিত্তিক আকর্ষনীয় লেখাটি উপহার দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।যে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর কথা উল্ল্যেখ করেছেন তদের মধ্যে যারা জীবিত আছে এবং বাংলাদেশে বাস করছে যদি সম্ভব হয় তাদের একটি পূর্নাঙ্গ তালিকা পরর্বতে আশা করি প্রকাশ করবেন ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য । ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী যাদের কথা পোষ্টে বলা হয়েছে তারা পাকিস্তানী নাগরিক ছিলো, এদের কেউ বাংলাদেশে বসবাস করছেনা ।
এদেশীয় যুদ্ধাপরাধী নিয়ে সামনে লেখার ইচ্ছা আছে ।
নয়ন বলেছেন:
++++++++++++++++++++++++++++এতো আকর্ষণীয় পোষ্ট আমি আজকে পড়লাম। ৪ দিন আগে পড়লাম না কেন আফসোস হচ্ছে।
আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই।
কোন পাকী গো আজমের বাচ্চা (-) দিছে?
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ । রেটিং কোন সমস্যা নয় ।
সিরিজের সমস্যা হলো যে পড়তে গেলে খেই হারিয়ে ফেলি। তাই আগে পড়িনি। আর লম্বা পোষ্টের সমস্যা হলো যে, অনেক্ষন ধরে পড়তে হয়। কম্পিউটারে এতো লম্বা লেখা পড়াটা অধমের জন্য সত্যিই কষ্টকর। এখনও ডিজিটাল হতে পারিনি পুরোপুরি

তবে হাজার হোচট খেয়েও পড়ে ফেললাম লেখাটি। অনেক জানলাম, যা অজানা ছিলো

দারুন কাজ মিরাজ ভাই
.....আপনাকে অশেষ কৃতজ্ঞতা।
লেখক বলেছেন: শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলায় ধন্যবাদ । ![]()
আপনাদের উৎসাহেই লেখার সাহস পাচ্ছি ।
রোকন বলেছেন:
অঅঅঅসাধারন!!! +++++
প্রাকৃত বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম! শুভেচ্ছা লেখককে!
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
মিরাজ ভাই, এই পোস্টটি কি রিপোস্ট হয়েছে ?ভুলটা আমার কিনা বুঝতে পারছিনা । মন্তব্য দিয়েছিলাম বলে মনে পড়ে । কিন্তু খালি চোখে সেটা খুঁজে পেলাম না এখন আর ।
যাইহোক, আপনার এই চমৎকার প্রয়াসের জন্য কৃতজ্ঞ আপনার প্রতি ।
প্রিয়তে রাখলাম ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শিপন, প্রিয় পোষ্টে রাখায় কৃতজ্ঞতা ।
আগের মন্তব্য মনে হয় বাগে খেয়ে ফেলেছে ।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
পড়লাম.......আপনার অনেক সময়ের কস্টসাধ্য লেখা শুধু ভালো লাগলো বলতে দ্বিধা হয়.......এই জানা গুলোর বড় প্রয়োজন আমাদের।
সাধুবাদ এই সদিচ্ছার জন্য।লিখতে থাকেন....পড়বার জন্য তো রইলাম।অনেক শুভকামনা আর শুভেচ্ছা।ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনাদেরকে নতুন কিছু জানাতে পারাটাই এই লেখাগুলির প্রেরণা । ভালো থাকবেন . আর নিয়মিত উৎসাহের জন্য ধন্যবাদ ।
হাসিবুল বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ।+
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
তথ্যমুলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ মিরাজ ভাই।যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রাসঙ্গিক আইনগুলো নিয়ে আমি লেখা শুরু করেছিলাম। দুই পর্ব লেখার পরে থেমে আছে। তবে খুব শিগগিরই লেখাটা ব্লগে দিব।
লেখক বলেছেন: লিখতে থাকুন । আপনার পর্বগুলি চমৎকার হচ্ছিলো । অপেক্ষায় থাকলাম ।
প্রশ্ন কত বলেছেন:
" লেখক বলেছেন: এইসব প্রশ্ন হলো একটা কাভার, এই কাভারের নীচে আসলে অন্য কথা আছে । একদল লোককে দেখি সবসময় সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে! ৩ লক্ষ শহীদ হলে পাক বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসরদের অপরাধ কমে যায়? নির্মমতা আর নৃশংসতা ভুলে যাওয়া যায়? শহীদ ৩ লক্ষ হলে কি মাত্র এই কজন (!) লোকের মৃত্যুর জন্য এখন আর কারও বিচার চাওয়া উচিত নয়... এই কথা বলা যায়? সংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের আড়ালে এরা আসলে কি বলতে চায়.... সেটা পরিস্কার করে বলার সাহস নেই...
আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । বক্তব্যের সাথে সহমত । মন্তব্য স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী হলে তা এডিট করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের । ""
৩ লক্ষকে বাড়ায় ৩০ লক্ষ বলার দরকারটা কি ? চেতনার ব্যবসার প্রসারের জন্য ?
লেখক বলেছেন: সমগ্র বিশ্বের কাছে নথিভুক্ত আছে ৩০ লক্ষ আর আপনারা ৩ লক্ষ বলে কি ফায়দা লুটতে চান?
কি বলতে চান স্পষ্ট করে বলুন । ৩ লক্ষ শহীদ হলে পাক বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসরদের অপরাধ কমে যায়? নির্মমতা আর নৃশংসতা ভুলে যাওয়া যায়? শহীদ ৩ লক্ষ হলে কি মাত্র এই কজন (!) লোকের মৃত্যুর জন্য এখন আর কারও বিচার চাওয়া উচিত নয়... এই কথা বলা যায়?
কেউ এখানে বাড়িয়ে কিছু বলছেনা । আপনারা কিছু জ্ঞানপাপী এটা মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে নোংরামী করছেন । যখনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্ন আসে, তখুনি আপনাদের শহীদের সংখ্যা নিয়ে নানা কথা বলতে দেখা যায় । মুল প্রশ্নে না যেয়ে প্রসংগান্তরে যাবার চেষ্টা । এই করে আশা করি শেষ রক্ষা হবেনা । এই বাঙলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একদিন হবেই ।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
ভেরী গুড পোষ্ট।
অমিও বলেছেন:
াবার পড়লাম,
মিরাজ বলেছেন:
পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।
িসরাজুল ইসলাম বলেছেন:
আমার ভাল লেগেছে ।
স্বাধীন বাংলা বলেছেন:
সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে । বর্তমানে বিভিন্ন আদর্শের আড়ালে লুকালেও তাদের একমাত্র পরিচয় যুদ্ধাপরাধী ।অন্য কিছু নয়।
চালিয়ে যান সফল্য নিশ্চিত। তবে দেরী হেত পারে।
আশাবাদী।
মিরাজ বলেছেন:
সিরাজুল ইসলাম এবং স্বাধীন বাংলাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।
ত্যান্দর বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম। এটা সারাজীবন পড়ার মত। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মিরাজ ভাই।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ । প্রিয়তে রাখায় কৃতজ্ঞতা ।
লেখক বলেছেন: আমি সাধারণ একজন ব্লগার ভাই । পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
মানুষ বলেছেন:
বিশাল পোষ্ট। কপি রেখেছি (অনুমতি ছাড়া)। সময় নিয়ে পড়বো উইকেন্ডে।
লেখক বলেছেন: কপি করার জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেইরে ভাই । পড়ার পর প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকলাম ।
সাগর নীল বলেছেন:
তাহলেত যুদ্ধাপরাধী ইস্যুটি এখানেই শেষ করা উচিত। যে কারনেই হোক আমরা প্রধান যুদ্ধাপরাধী অর্থাত পাকিস্থানী সেনা দের বিচার করতে ব্যার্থ হয়েছি । তাহলে এই ইস্যু নিয়ে আবার হৈ চৈ করা কেন? যেখানে প্রাইম সাস্পেক্টদের কিছু করা গেলনা, সেখানে তাদের সহযোগীদের আর কি করা যাবে? তাছাড়া কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাপরাধ করেছেন। তাই আমি মনে করি এই ইস্যু নিয়ে আর বাড়াবাড়ি নাকরে আমাদের উচিত দেশ গড়ার কাজে মনযোগ দেয়া। অর্থনৈ্তিক মুক্তি না আসলে স্বাধিনতার কোন মুল্য নেই।
প্রশ্ন কত বলেছেন:
মেরাজ সাহেব, সারা পৃথিবীর কাছে কি লিপিবদ্ধ আছে তার রেফারেন্স পারলে দিয়েন । কিসের ভিত্তিতে এসব নম্বর লিপিবদ্ধ হইছে, কোনকালে কোন জরীপ হইছিল ? পাইলে জানাবেন আশাকরি ।তবে আমার রেফারেন্স আমার চোখ । তিরিশের বেশী বয়স হইছে কিন্ত আজ পর্যন্ত তিরিশটি ফ্যামিলি চোখে পড়ল না যার নূন্যতম
একটা সদ্স্য মুক্তিযুদ্ধে নিহত হয়েছে । তিরিশ কেন দশটিও পড়েনি ।
তাই আমি বিশ্বাস করি না ৩০ লাখের হিসাব।
আপনার চারপাশে এরকম কয়টা ফ্যামিলি আছে হিসাবটা জানাইবেন। আপনার বয়স আমার মতই তো ।
আর পাকিদের নির্মমতা ও নৃশংসতা তো বান্গালী ভূলে গেছে ৭২-৭৫ এ আওয়ামী নির্মমতা ও নৃশংসতা দেখে । তাই পাকিদের নির্মমতা ও নৃশংসতা কমানো বা ভোলানোর জন সংখ্যা কমায়ে বলার দরকার নাই ।
আমরা তো ৭২-৭৫ দেখি নাই । দেখেছি ১৯৯৬-২০০১ সালে ধর্ষণে সেন্চুরী আর সেন্চুরীয়ানকে জামাই আদরে আমেরিকা প্রেরণ। চেয়েছিলেন কি সেই সেন্চুরীয়ানের বিচার ? কোন পোষ্ট দিবেন সেই বিচার চেয়ে ?
৭১ এ কোন রাজাকার বা পাকি সেন্য কি ধর্ষণে সেন্চুরী করেছিল ?
যে দেশে ধর্ষণে সেন্চুরীয়ানের বিচার চায় না কেউ,হয় না সে দেশে যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে কি ?
ও আপনি তো বলেছেন "এই বাঙলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একদিন হবেই । "
হয়ত হবে একদিন , আজ থেকে আরও ৩৬ বছর পর যখন ৭১ এর প্রজন্মের আর কেউ থাকবে না ।
লেখক বলেছেন: আমার প্রায় প্রতিটি ব্লগ পোষ্টেই রেফারেন্স দেওয়া আছে , একটু খুজলেই পাবেন । বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্র - পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট । আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভে সংরক্ষিত দলিলাদি সর্বত্রই প্রমাণ আছে ।
আমি এইসব প্রমাণকে আপনার মত একজনের মুখের কথার চেয়ে অনেক বেশী বিশ্বাস করি ।
আর আপনার অবগতির জন্য জানাই । আমার রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন । আপনার জানার পরিধি কিছুটা বাড়ল আশা করি ।
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
[wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28730147]বিচারের পথ যে ভাবে রুদ্ধ হল-১[wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28733154]বিচারের পথ যে ভাবে রুদ্ধ হল-২
[wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28737853]বিচারের পথ যে ভাবে রুদ্ধ হল-৩
[wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/akandablog/28738046]বিচারের পথ যে ভাবে রুদ্ধ হল-৪
লেখক বলেছেন: আপনার দেয়া লিংকগুলি পড়লাম । আপনি বলতে চেয়েছেন ভারতের চক্রান্তের কারনেই বিচারের পথ রুদ্ধ হয়েছে ।
প্রকৃত ইতিহাস ঠিকমতো জানা না থাকলে এরকম ভাবাটা অস্বাভাবিক নয় । কিন্তু এই পোষ্টেতো পিছনের সব ঘটনা, প্রকৃত কারণগুলি, ভারতের ভূমিকা, আরব নেতৃবৃন্দের ভূমিকা, চীনের অবস্থান সবই দেয়া আছে । এই পোষ্ট পড়ার পরতো আপনার ভুল ধারণা ভেংগে যাবার কথা ।
সেটা যখন হয়নি, এরপরও যখন আপনি আগের পোষ্টগুলির লিংক দিচ্ছেন ,, তাতে বোঝা যাচ্ছে সত্য জানা ও বলার চেয়ে আপনার প্রোপাগান্ডাতেই আগ্রহ বেশী । অর্ধসত্য মিথ্যার চেয়েও ক্ষতিকর মনে করি ।
আমার ভাই সত্য জানায় আগ্রহ আছে, প্রোপাগান্ডায় আগ্রহ নেই ।
আকডুম বাকডুম বলেছেন:
পুরোটা পড়তে পারিনি। যতটুকু পড়ছি ভাল লাগছে। লেখায় সততা এবং আন্তরিকতার ছাপ স্পষ্ট। পিডিএফ ফাইল কি পাওয়া যাবে?
লেখক বলেছেন: পিডিএফ পাওয়া যাবে । ব্যস্ততার কারণে আপলোড করার সময় পাচ্ছিনা । আজ থেকে ৭ দিনের ছুটি । কালকে অবশ্যই পিডিএফ আপলোড করবো ।
প্রশ্ন কত বলেছেন:
আমার রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন । কয়জন ? আপনার রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন বলে সংখ্যা লাফ দিয়ে ৩০ লাখ হয়ে গেল ।
আর মোট কতলোক মারা গেছে তার কি কোন জরিপ হইছে কিনা ?
কোন দলিলে কি লেখা আছে তারচেয়ে বেশী জরুরী কোন জরিপ হইছে কিনা ।
লেখক বলেছেন: আপনি বললেন যে আপনি মুক্তিযুদ্ধে কোন সদস্য শহীদ হয়েছে এরকম পরিবার খুব একটা দেখেননি, আর সেজন্যই উদাহরণটি দিলাম । আর না হলে আপনাকে একথা বলার কোন কারন ছিলোনা ।
আর জরিপ এর কথা বলছেন? পৃথিবীর ইতিহাসে কোন যুদ্ধে নিহতদের জরিপ হয়েছে সেটা একটু জানাবেন? মুক্তিযুদ্ধের মত একটি বড় এবং জীবননাশী একটি যুদ্ধের নিহতদের সংখ্যা আদমশুমারীর মত জরিপ করতে হবে এই দাবিটি যে উদ্ভট শোনায় সেটি কি বোঝেন?
একলব্য১৯৭১ বলেছেন:
"আমাদের পুরানো কথা ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ,শহীদ ৩০ লক্ষ না ৩ লক্ষ......"-----রাজাকার কি আর গাছে ধরে, এসব মন্তব্য দেখে বুঝতে হয়।এসব পাকি ক্রস স্পার্ম বর্বরদের কথায় কান দেবেন না মিরাজ ভাই।অসামান্য পোস্ট।আশা করি আরো লিখবেন এরকম।
গিফার বলেছেন:
ধন্যবাদ দেবার ভাষা নেই ভাই.....অনেক কিছু জানলাম।
অনেক ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















১। Click This Link
২। Click This Link