নদী (সমার্থক শব্দ - তটিনী, তরঙ্গিনী, সরিৎ ইত্যাদি) সাধারণত মিঠাপানির একটি প্রাকৃতিক জলধারা যা মহাসাগর, হ্রদ, সাগর অথবা অন্য কোন নদীতে দিকে প্রবাহিত।
নদীকে তার গঠন অনুযায়ী শাখা নদী, উপ-নদী, প্রধান নদী, নদ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা যায়। আবার ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে ছোট নদীকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ১০টি নদী -
১. নীল নদ
দৈর্ঘ্য : ৬৬৫০ কিমি, উৎপত্তি : ভিক্টোরিয়া হ্রদ, পতিতস্থল : ভূ-মধ্যসাগর, প্রবাহপথ : উগান্ডা, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান ও মিসরের মধ্য দিয়ে, শহর-বন্দর : কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, খার্তুম, আলবারা (সুদান), কাম্পালা, বৈশিষ্ট্য : বিশ্বের দীর্ঘতম নদী (এককভাবে)।
২. আমাজান
দৈর্ঘ্য : ৬২৯৬ কি.মি., উৎপত্তি : আন্দিজ পর্বতমালা, পতিতস্থল : আটলান্টিক মহাসাগর, প্রবাহপথ : দক্ষিণ আমেরিকা, শহর-বন্দর : মাকাপা, উপনদী সংখ্যা : ২০০, দীর্ঘতম উপনদী : মেডইবার।
৩. ইয়াংসিকিয়াং
দৈর্ঘ্য : ৫৭৯৫ কি.মি., উৎপত্তি : তিব্বতের মালভূমি, পতিতস্থল : পূর্বচীন সাগর, প্রবাহপথ : চীনের মধ্য দিয়ে, শহর-বন্দর : তিব্বত, ইয়ান্নান, হুনান, জিয়াংসি, সাংহাই, নানাজং, বৈশিষ্ট্য : বিশ্বের তৃতীয় ও এশিয়ার দীর্ঘতম নদী।
৪. মিসিসিপি মিসৌরি
দৈর্ঘ্য : ৬২৭০ কি.মি., উৎপত্তি : মিনসোটর বা মিটিটর হ্রদ (কানাডা), পতিতস্থল : মেক্সিকো উপসাগর, প্রবাহপথ : কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে, শহর-বন্দর : উইনিপেগ (কানাডা), নিনোপলিস (যুক্তরাষ্ট্র), বৈশিষ্ট্য : মূলত পরস্পর সংযুক্ত নদী।
৫. হোয়াংহো
দৈর্ঘ্য : ৫৪৬৪ কি.মি., উৎপত্তি : কুনলুন পর্বত, পতিতস্থল : পীত সাগর, প্রবাহপথ : চীনের ভেতর দিয়ে, শহর-বন্দর : লানযে, বাত্তথৌ, যেমষ্ঠে, জিনোন, বৈশিষ্ট্য : এশিয়ার ২য় বৃহত্তম নদী, অন্যনাম : পীতনদী।
৬. দানিয়ুর
দৈর্ঘ্য : ২৮৪২ কিমি, উৎপত্তি : ব্লাক ফারেস্ট (জার্মানি) থেকে নির্গত ব্রেগে ও ব্রিগাগ নামের ২টি জলধারা থেকে, পতিতস্থল : কৃষ্ণসাগর, প্রবাহপথ : জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী, স্লোভাকিয়া ও রোমানীয়া, শহর-বন্দর : ভিয়েনা, বুদাপেস্ট, বুখারেস্ট, বৈশিষ্ট্য : আন্তর্জাতিক নদী।
৭. ভলগা :
দৈর্ঘ্য : ৩৬৯০ কি.মি., উৎপত্তি : রাশিয়ার ভলদাহ পাহাড়, পতিতস্থল : কাস্পিয়ান সাগর, প্রবাহপথ : রাশিয়ার মধ্য দিয়ে, শহর-বন্দর : ভলগাগ্রাড, টিভার, ইরোস্লোভাকিয়া, ইভানোভিল, পিলিটক, বৈশিষ্ট্য : ইউরোপের দীর্ঘতম নদী।
৮. ইউফ্রেটিস
দৈর্ঘ্য : ২৭৯৯ কি.মি., উৎপত্তি : আর্মেনিয়ার চৈবভূমি, পতিতস্থল : পারস্য উপসাগর, প্রবাহপথ : ইরাক, তুরস্ক, সিরিয়া, শহর-বন্দর : মালাটিয়া, নাসিরিয়া, আদ-দিওয়ানিয়া, কারবালা, পূর্বনাম : ফোরাত, উপনদী : কারা-সু, মুরাদ সু।
৯. টাইগ্রিস
দৈর্ঘ্য : ১৮৯৯ কি.মি., উৎপত্তি : আর্মেনিয়ার উচ্চভূমি, পতিতস্থল : পারস্য উপসাগর, প্রবাহপথ : তুরস্ক, ইরাক, সিরিয়া, শহর-বন্দর : বাগদাদ, মাশুল, পূর্বনাম : দজলা।
১০. মারে ডালিং
দৈর্ঘ্য : ৩৭১৮ কি.মি., উৎপত্তি : কোসিয়াস্ক পর্বত, (অস্ট্রেলিয়া), পতিতস্থল : এন কাউন্টার উপসাগর, প্রবাহপথ : অস্ট্রেলিয়ার মধ্য দিয়ে, শহর-বন্দর : বুরকি, ডুবু, কোরার, বৈশিষ্ট্য : ওশেনিয়ার দীর্ঘতম নদী।
বিশ্বের দীর্ঘতম ১০টি নদী
১. নীল নদ (৬৬৫০ কি.মি.), ২. আমাজান (৬২৯৬ কি.মি.), ৩. মিসিসিপি মিসৌরি (৬২৭০ কি.মি.), ৪. ইয়াংসিকিয়াং (৫৭৯৫ কি.মি.), ৫. হোয়াংহো (৫৪৬৪ কি.মি.), ৬. কঙ্গো (৪৩৭১ কি.মি.), ৭. আমুর (৪৩৫২ কি.মি.), ৮. লেনা (৪২৬৪ কি.মি.) ৯. নাইজার (৪১৮৪ কি.মি.), ১০. মেচেং (৪১৮০ কি.মি.)
তথ্যসূত্র : মীজানুর রহমান সম্পাদিত ত্রৈমাসিক - 'নদী' সংখ্যা
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৫:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



