"জীবন পুষ্পশয্যা নয়"....... শিক্ষাজীবন শুরু করার পর থেকেই শুনে আসছি কিম্বা পড়ে আসছি। কিন্তু এ বাক্যটির কতভাগ জীবনে প্রয়োগ করতে পেরেছি- সেটার জবাব কেউ দিতে পারবেনা। আমরা বাঙ্গালী জাতি অপরকে উপদেশ দিতে তখন মাথা থেকে সুন্দর সুন্দর বুদ্ধি আবিস্কৃত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেয়া উপদেশগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে গেলে আমরা হোঁচট খাই। কথাগুলোকে কাজে পরিণত করার মত কোন স্পৃহা আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়না।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে- আমার পাড়াতো এক ছোট ভাইয়ের সামনে পরীক্ষা। ঐ ছোটভাইকে আমি খুব ভালবাসি। তাই তাকে দেখামাত্রই আমি বলি- "ভাইয়া মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়া কর.....এটা কর .........ওটা করা..... এভাবে করলে তুমি পরীক্ষায় ভাল মার্ক পাবে।
অন্যদিকে পাড়াতো আমার আরেক বড় ভাই আমাকে খুব ভালবাসে। তাই তিনিও আমার আমার জীবনে সফলতা লাভ করতে হলে আমাকে কি করতে হবে বা কোন পথে আগালে আমি সুফল পাবো তা বললো। আর আমি কথাটাগুলোকে জাস্ট বড়ভাইয়ের মুখ থেকে নিৎসৃত কিছু অর্থহীন বাক্যমালা হিসেবে নিলাম। এটার কোন প্রয়োগ আমার জীবনে ঘটেনি।
এখন কথা হচ্ছে- আমি বড়ভাইয়ের কথাটাকে যেভাবে নিয়েছি..... নিশ্চয় আমার পাড়াতো ছোট ভাইও আমার কথাগুলোকে একই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করেছে।
আরও দুই-এক বছর আগে যখন টিউশনি করতাম ছাত্রদের কাছ থেকে পড়া ঠিক মতই আদায় করতে পারতাম, এমনকি তাদের লেখাপড়ার উন্নতিও হত। কিন্তু ঘরে সে যখন নিজের বইগুলো নিয়ে পড়ার টেবিলে বসি..... তখন বলি- আজ শরীরটা খারাপ লাগছে কালকে পড়ব। কিন্তু সেই কালকে বলে যেই দিনটা তা কিন্তু প্রতিদিনের জন্য কাল হিসেবেই থেকে যায়। কবে যে কাল টা আজ হবে সেটা আমি স্বয়ং নিজেও জানিনা।
সবকথার সারকথা হচ্ছে "উপদেশ অপেক্ষা দৃষ্টান্তই শ্রেয়" এই বাক্যটিকে জীবনে প্রয়োগ করার সময় আমাদের কখন আসবে সেটা ঠিক বলা যাচ্ছেনা। তাই সমাজ, দেশ তথা পৃথিবীকে বদলাতে হলে আমাদেরকে সর্বপ্রথম নিজেকে বদলাতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

