ভাবছি কি নিয়ে লিখব আমার ১ম ব্লগ । ১ম ব্লগ হতে হবে স্পেশাল , নজর কাড়া, নিমিষেই পড়ে শেষ করা যায়, এ টাইপেরই কিছু ।কিন্ত তেমন কিছু র জন্ম দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব কিনা তা এখনও আমার অজানা। তবুও আমার ব্লগার ভাইদের খুশি করতে আমার ভাবনার শেষ নেই। দেখি না কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় আমার এই প্রচেষ্টা!
ভাবছি আর ভাবছি, কি হবে আমার ১ম ব্লগ এর বিষয়বস্তু? মনের সার্চ ইন্জিল দিয়ে সার্চ করে ফিরছি ফেলে আসা ২৬ টি বছরের নানা রং এর দিনগুলি। কিন্ত কিছুতেই কিছু মনে পড়ল না।কারন আমার মন জুড়ে আছে একটি ছোট্ট মুখের মায়াবী চোখের করুন চাহনিটি। মনের পর্দায় বারবার ভেসে উঠছে তারই প্রতিচ্ছবি।
সে আমার আহিয়ান, আমার একমাত্র বুকের ধন, আমার সোনামনি, আমারই ছেলে আমার আহিয়ান। ওকে ফাঁকি দিয়ে আসা ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। তাই তার চোখের অগোচরে অফিসের উদ্দেশ্যে আমি যখন দরজা দিয়ে বের হয়ে দরজা লাগিয়ে দেই, তখন মায়ের চলে যাওয়া বুঝতে পেরে দৌড়ে গিয়ে বিছানায় উঠে জানালা দিয়ে অমন করুন চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়াও তার আর কিছুই করার থাকে না। আমার শরীরটা তাই অফিসে আসে বটে কিন্ত আমার মনটা ওখানেই পড়ে থাকে।
প্রতিদিনই সেইম রেকর্ডটির পুনরাবৃত্তি ঘটে। মাঝে মাঝে মায়ের বকুনিও শুনতে হয় আমাকে - বাচ্চার থেকে তোমার চাকরীটা বড় হয়ে গেল! চাকরীর মায়া এবার ছাড়। কিন্ত চাকরীর মায়া কি ছাড়া যায়! মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে একটি ভালো চাকরীর খুঁজে আর আমি কি ভাবে চাকরী ছেড়ে দেই ! ভাগ্য ভালো চাকরীটা হয়ে ছিলো না হলে তো আমি হতাশায় মরে যেতাম। আমার সব বন্ধুরাই অনেক ভালো ভালো জব এ আছে। আমি কি পারতাম হাত পা গুটিয়ে চুপচাপ ঘরে বসে থাকতে ! তাই চাকরীর মায়া আমি ছাড়তে পারিনা।
অফিস ছুটির পর যখন আমি বাড়ী ফিরি তখন যা হয় আমার বেবি যদি ঘুমে না থাকে তাহলে সে সোজা এসে আমার কোলে উঠে এবং মা মা বলে অনেক কিছু বলার চেষ্টা করে (যদিও সে এখনও কথা বলতে শিখেনি টুকটাক মা, পাপাপু, নানানি, মামানি, আপু, দাদা , কুক্কু (সকল পোকা/প্রানী) ইত্যাদি বলতে পারে) এবং নানান ভাবে আদর করে।যতক্ষণ পর্যন্ত না তার বাবা আসে ততক্ষণ পর্যন্ত তার এই আদর সোহাগ চলে। এই সময়ে আমার অন্য সব কাজ বন্ধ। মাঝে মাঝে এমনও হ্য় আমি অফিস থেকে আসছি আমার ওয়াশ রুমে যাওয়া খুব প্রয়োজন, তখন আমি ওকে না দেখার ভান করে দৌড়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়, ও ও তখন আমার পিছে পিছে দৌড় দেয়। মা-ছেলেতে একটি দৌড় প্রতিযোগিতা হয়ে যায়।
ওর বাবা আসলেই আমি তার এই ভালোবাসা থেকে বন্ছিত হয়। জানিনা বাচ্চারা, বাবাদের কেন বেশি ভালোবাসে? ওর বাবা বলে আমি ওকে কম আদর করিতো তাই সে ওকে বেশি ভালোবাসে।ভাবি তাই কি? অফিসে একদিন এক মহিলা আমার বাবুর বয়স জানতে চাওয়াই বললাম দেড় বছর। সে বলল দেড় বছরের বাচ্চা ফেলে আপনি সারাদিন এখানে বসে থাকেন! আপনি তো সৎমায়ের চেয়েও খারাপ। আসলেই আমি সৎমায়ের চেয়েও খারাপ, না হলে আমার এতো লক্ষী সোনামনিটাকে ফেলে এসে এখন তার স্মৃতি চারণে বসে থাকি!
আমি এক চাকুরীজিবী মা । আমার কিছু অভিগ্গতার কথা আপনাদের জানালাম। হয়ত আপনারা বোর ফিল করবেন। কিন্ত তবুও আমার মনটাতো একটু হালকা হলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

