somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

ড. হুমায়ুন আজাদের জীবনী ৪র্থ পর্ব

২১ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষাজীবন ৩য় অংশ


তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্স ভর্তি হন। তিনি বাংলায় ভর্তি হয়ে সুখ পান; আবারো পড়তে ভালো লাগে, ক্লাশ করতে ভালো লাগে। বিশ্বসাহিত্য পড়তে শুরু করেন। বদলে যেতে থাকেন। এখানে তিনি মন দিয়ে পড়তে থাকেন, বিদেশি সাহিত্য আর সমালোচনাও পড়তেন। লেখা শুরু করেন কবিতা আর প্রবন্ধ। তাঁর উদ্দেশ্য সফল হতে শুরু করে। বাংলা পড়ে তিনি সুখ পেয়েছিলেন; এবং ভালো ফল করারও ইচ্ছে ছিল। বিজ্ঞানে এইচএসসির ফল তাকে কষ্ট দিয়েছে, ওই কষ্টটা তিনি কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিলেন। অনার্সে পড়ার সময় তিনি বেশি আড্ডা দেন নি, অধিকাংশ সময়ই পড়েছেন, মিশেছেনও কম। মধুর ক্যান্টিনে যেতেন না। বিভাগের শিক্ষকদের কাছেও বেশি যেতেন না। তবে কয়েকজন শিক্ষক তাকে এভাবেই স্নেহ করতেন; একজন বিভাগের অধ্যক্ষ মহুম্মদ আব্দুল হাই, আরেকজন অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আরেকজন অধ্যাপক আনোয়ার পাশা। তখনকার বিভাগের অধ্যক্ষ আর এখনকার চেয়ারম্যানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য; তখন অধ্যক্ষরা ছিলেন বিভাগের প্রভু, এমনকি বিভাগের শিক্ষকেরাও হাই সাহেবকে দেখলে কাঁপতেন, আর তিনি বারান্দায় বেরোলে বারান্দা নির্জন হয়ে যেতো। হুমায়ুন আজাদ বি.এ (অনার্স) পরীক্ষা দেন ১৯৬৭ সালে। বাংলায় সাধারণত কেউ প্রথম শ্রেণী পায় না; সম্ভবত ১৯৫৯ সালের পরে আর কেউ পায় নি। তারমধ্যে তাঁর একবন্ধু জানায় কন্ট্রোলারের অফিস থেকে জেনেছে এবার কেউ প্রথম শ্রেণী পায় নি। শুনে তিনি স্তব্ধ বিষণ্ণ হয়ে রয়েছিলেন কয়েক দিন। ফল বেরোনোর দু-তিন দিন আগে অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে নিলেন। বললেন, একটি কথা বলবো, তুমি কাউকে বলবে না, তোমাকে অভিনন্দন, তুমি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছো। তিনি একাই প্রথম শ্রেণী পেয়েছিলেন। তিনি সুখে ভরে গিয়েছিলেন। তারপর কয়েক দিন তাঁর সুখে কেটেছে, তিনি জেনে গেছেন তাঁর ফল, বুকের ভেতরে সেটা বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেটা খুবই সুখের ছিলো। ফল বেরোলো, দেখলেন সত্যিই একা প্রথম শ্রেণী পেয়েছেন, বুকের একটা পুরোনো ব্যথা সেদিন কেটে গিয়েছিল।
এমএ‘র জন্য আর তাকে বিশেষ ভাবতে হয় নি; ভালো করে পড়েছেন। এখানে তাকে রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধে রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা নামে একটি সন্দর্ভ লিখতে হয়েছিল। যা পরবর্তীতে বই আকারে বের হয়। তাঁর এমএ পরীক্ষা হয় পরের বছর ১৯৬৮ সালে। তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন।
১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাকে কমনওয়েলথ বৃত্তির জন্যে মনোনীত করেন। কিন্তু তিনি বেশি খোঁজ রাখেন নি বলে এক সরকারি কর্মকর্তা সেটি নিয়ে বিলেতে চলে যায়। পরের বছর তিনি কমনওয়েলত বৃত্তির জন্য ইন্টারভিউ দেন, বৃত্তিও পেয়ে যান। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি এডিনবরা চলে যান ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য। তিন বছর পর ১৯৭৬-এ পিএইচডি করে ফিরে আসেন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩২
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×