তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্স ভর্তি হন। তিনি বাংলায় ভর্তি হয়ে সুখ পান; আবারো পড়তে ভালো লাগে, ক্লাশ করতে ভালো লাগে। বিশ্বসাহিত্য পড়তে শুরু করেন। বদলে যেতে থাকেন। এখানে তিনি মন দিয়ে পড়তে থাকেন, বিদেশি সাহিত্য আর সমালোচনাও পড়তেন। লেখা শুরু করেন কবিতা আর প্রবন্ধ। তাঁর উদ্দেশ্য সফল হতে শুরু করে। বাংলা পড়ে তিনি সুখ পেয়েছিলেন; এবং ভালো ফল করারও ইচ্ছে ছিল। বিজ্ঞানে এইচএসসির ফল তাকে কষ্ট দিয়েছে, ওই কষ্টটা তিনি কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিলেন। অনার্সে পড়ার সময় তিনি বেশি আড্ডা দেন নি, অধিকাংশ সময়ই পড়েছেন, মিশেছেনও কম। মধুর ক্যান্টিনে যেতেন না। বিভাগের শিক্ষকদের কাছেও বেশি যেতেন না। তবে কয়েকজন শিক্ষক তাকে এভাবেই স্নেহ করতেন; একজন বিভাগের অধ্যক্ষ মহুম্মদ আব্দুল হাই, আরেকজন অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আরেকজন অধ্যাপক আনোয়ার পাশা। তখনকার বিভাগের অধ্যক্ষ আর এখনকার চেয়ারম্যানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য; তখন অধ্যক্ষরা ছিলেন বিভাগের প্রভু, এমনকি বিভাগের শিক্ষকেরাও হাই সাহেবকে দেখলে কাঁপতেন, আর তিনি বারান্দায় বেরোলে বারান্দা নির্জন হয়ে যেতো। হুমায়ুন আজাদ বি.এ (অনার্স) পরীক্ষা দেন ১৯৬৭ সালে। বাংলায় সাধারণত কেউ প্রথম শ্রেণী পায় না; সম্ভবত ১৯৫৯ সালের পরে আর কেউ পায় নি। তারমধ্যে তাঁর একবন্ধু জানায় কন্ট্রোলারের অফিস থেকে জেনেছে এবার কেউ প্রথম শ্রেণী পায় নি। শুনে তিনি স্তব্ধ বিষণ্ণ হয়ে রয়েছিলেন কয়েক দিন। ফল বেরোনোর দু-তিন দিন আগে অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে নিলেন। বললেন, একটি কথা বলবো, তুমি কাউকে বলবে না, তোমাকে অভিনন্দন, তুমি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছো। তিনি একাই প্রথম শ্রেণী পেয়েছিলেন। তিনি সুখে ভরে গিয়েছিলেন। তারপর কয়েক দিন তাঁর সুখে কেটেছে, তিনি জেনে গেছেন তাঁর ফল, বুকের ভেতরে সেটা বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেটা খুবই সুখের ছিলো। ফল বেরোলো, দেখলেন সত্যিই একা প্রথম শ্রেণী পেয়েছেন, বুকের একটা পুরোনো ব্যথা সেদিন কেটে গিয়েছিল।
এমএ‘র জন্য আর তাকে বিশেষ ভাবতে হয় নি; ভালো করে পড়েছেন। এখানে তাকে রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধে রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা নামে একটি সন্দর্ভ লিখতে হয়েছিল। যা পরবর্তীতে বই আকারে বের হয়। তাঁর এমএ পরীক্ষা হয় পরের বছর ১৯৬৮ সালে। তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন।
১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাকে কমনওয়েলথ বৃত্তির জন্যে মনোনীত করেন। কিন্তু তিনি বেশি খোঁজ রাখেন নি বলে এক সরকারি কর্মকর্তা সেটি নিয়ে বিলেতে চলে যায়। পরের বছর তিনি কমনওয়েলত বৃত্তির জন্য ইন্টারভিউ দেন, বৃত্তিও পেয়ে যান। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি এডিনবরা চলে যান ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য। তিন বছর পর ১৯৭৬-এ পিএইচডি করে ফিরে আসেন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



