somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

ড. হুমায়ুন আজাদের জীবনী ৫ম পর্ব

২২ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখালেখি শুরু

ছোটবেলা থেকেই হুমায়ুন আজাদের কবিতা ভাল লাগতো। ইচ্ছে করতো কবিতা লিখতে। কিন্তু জানতেন না কিভাবে কবিতা লিখতে হয় বা কবিতায় কী থাকতে হয়। তাঁর এক বন্ধু, যাকে তিনি বলেছেন তাঁর বাৎসায়ন, তারও কবিতা লিখতে ইচ্ছে হতো। তাঁরা দুজনে কবিতা লিখতেন, কিন্তু বুঝতে পারতেন কিছুই হচ্ছে না। সেভেনে ওঠার পর থেকেই তিনি 'রবীন্দ্রজয়ন্তী', 'নজরুলজয়ন্তী', '১৪ই আগস্ট (পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস)'- এর অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পড়তেন। তাঁর পড়ার ঘরের সামনেই ছিল একটি কদম গাছ। বর্ষায় ফুল ফুটে ওটি অপরূপ রূপসী হয়ে উঠতো। এইট-নাইনে পড়ার সময়ই তিনি ওটিকে নিয়ে একটি উপন্যাস লিখতে শুরু করেছিলেন, একশো পাতার মতো লিখেছিলেন, তাতে কোনো কাহিনী ছিলো না। শুধু গাছটির রূপের বর্ণনা ছিলো, কিন্তু শেষ করতে পারেন নি; বুঝতেই পারেন নি তিনি কী লিখেছেন। নাইনে ওঠার পর ইত্তেফাকের 'কচিকাঁচার আসর' আর আজাদের 'মুকুলের মাহফিল' পড়তে ভাল লাগে। নিজের নাম ছাপা দেখতে ইচ্ছে হয়। একদিন 'কচিকাঁর আসর' এর সদস্য হওয়ার কুপন পুরণ করে পাঠয়ে দেন; দু-তিন সপ্তাহ পর দেখেন তাঁর নাম ছাপা হয়েছে। নিজের নাম ছাপা দেখে সুখে মন ভরে যায়। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রথম কবিতা লিখেছিলেন। লিখে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন 'কচিকাচার আসর'-এ ছাপানোর জন্য। কয়েকটি কবিতা পাঠালেও তা ছাপা না হওয়ায়; গদ্য লিখেন। 'ঘড়ি চলে টিক টিক' শীর্ষক একটি প্রবন্ধ পাঠিয়ে দিলে তা ছাপা হয়। পরে তাঁর অনেক প্রবন্ধ ছাপা হয় কচিকাঁচার আসরে। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময়ও তিনি অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন কচিকাচাঁর আসরে ও মুকুলের মাহফিলে। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার শেষ দিকে ওদুটোকে তিনি ছেড়ে দেন। কেননা তখন বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমানের লেখা পড়তে শুরু করেছেন, এলিয়ট-পাউন্ডের নাম শুনতে শুরু করেছেন, বুঝতে শুরু করেছেন যে উৎকৃস্ট সাহিত্য অন্য রকম। এমএ পড়ার সময় অনেক কবিতা লিখেছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন। এমএ পরীক্ষা দেয়ার পর বৃত্তি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে, টাকা পয়সার দরকার হলে ইত্তেফাকের দাদাভাইকে ব্যাপারটি বললেন। তিনি তখন তাকে সাহিত্যের পাতায় প্রতি সংখ্যায় কিছু লিখতে বললেন; তিনি 'জর্নাল' নামে একটি কলাম লেখা শুরু করলেন। ওটি ছিল পুরোপুরি সাহিত্য নিয়ে লেখা কলাম, খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল, শত্রুও সৃষ্টি হয়েছিল অনেক। এখানেই প্রথম ষাটের কবিদের কবিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিলো, ওই প্রথম তাদের নাম কোনো গদ্য রচনায় ছাপা হয়; শুধু তাঁর নিজের নাম ছাড়া। এতে তাঁর ক্ষতি হয়েছে। এখানে যাদের তিনি কবি বলেছেন, তারাই কবি; নিজের নাম যেহেতু লিখেননি তাই তিনি কবি নন, এমন অনেকে মনে করেন। জর্নাল তিনি লিখতেন আর্থিক কারণে তবে এতে তাঁর তীব্র সাহিত্যিক মতামত থাকতো। দু-বছরের মতো লিখেছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজে থাকার সময় 'ব্লাড ব্যাংক' নামের কবিতাটি লিখেছিলেন ছাত্রদের একটি সাময়িকীর জন্যে। এখানে পড়াতে গিয়েই তাঁর মনে 'লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী' বইটি লেখার কথা মনে আসে; তবে লিখেন জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পরে। স্বাধীনতার পরে তিনি দৈনিক বাংলার সাহিত্যের পাতায় 'এক একর সবুজ জমি' নামে একটি কলাম লিখেছিলেন কিছুদিন। ১৯৭৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতার বই 'অলৌকিক ইস্টিমার' প্রকাশিত হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৩
২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×