হুমায়ুন আজাদ ভেবেছিলেন অনার্স ও মাস্টার্সে যেহেতু প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছেন, সেহেতু সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারবেন। কিন্তু এখানে ঢুকার জন্য যে রাজনীতি লাগে তা তিনি প্রথমে বুঝতে পারেন নি। তবে এক সময় বুঝেছেন। তাঁর এম.এ'র ফল বেরোনোর আগেই চট্টগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগের একটি বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল, তাতে তিনি আবেদন করেছিলেন, তবে ফল বেরোয় নি বলে তাকে ইন্টারভিউ কার্ড দেয় নি। কিন্তু ইন্টারভিউর সপ্তাহখানেক আগে তাঁর ফল বের হয়। কিন্তু তিনি জানতে পারেন এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক অধ্যাপকের স্ত্রীকে নেয়া ঠিক হয়ে রয়েছে, তাই তাকে আর ইন্টারভিউতে ডাকা হয়নি। সে সময় ডিপিআই অফিস থেকে নিয়োগ দেয়ার নিয়ম ছিলো -অস্থায়ী ভাবে। তিনি আবেদন করতেই তাঁকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয়া হলো চট্টগ্রাম কলেজে। ১৯৬৯ এর সেপ্টেম্বরে বা অক্টোবরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে যোগ দেন। সেখানে চার/পাঁচ মাসের মতো ছিলেন। ১৯৭০ এর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। কবি সৈয়দ আলী আহসান তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পদত্যাগ করে ১২ ফেব্রুয়ারি যোগদান করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭০ এর সেপ্টেম্বর মাসের দিকে বিজ্ঞাপন বেরোলো জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের; বিশ্ববিদ্যালয় নতুন শুরু হবে, বাঙলা বিভাগ সহকারী বিভাগ হবে, তিনি সহকারী অধ্যাপক পদের জন্যে আবেদন করলেন। ডিসেম্বরে তিনি নিয়োগপত্র পেলেন। ১২ ডিসেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালযে যোগ দিলেন সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান রূপে। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপকের বিজ্ঞাপন বেরোয়; তিনি আবেদন করেন। এবং বহু আরাধ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে তাঁকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন ড. আহমেদ শরীফ। ১৯৮৬ সালে তিনি অধ্যাপক হন। তিনি বাঙলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আমৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোলার রোডস্থ ১৪/এফ কোয়ার্টারে থাকতেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





