somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

নাস্তিক হয়ে উঠা

১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেক সমাজেই ভালো মানুষদের সাথে মন্দ মানুষদের একটা দ্বন্দ্ব থাকে। এ দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই সমাজ এগিয়ে যায়। এ দ্বন্দ্বটা কখনো প্রকাশ্যে আসে তবে অধিকাংশ সময় থাকে অপ্রকাশ্যে। ভাগ্যকুল গ্রামটির ঐতিহ্য, নদী ভাংগনের আশঙ্কা, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ছাপিয়ে আলোচিত হয়ে উঠে হুমায়ুন আজাদের ভাগ্যকুলে একটি অনুষ্ঠানে আগমন এবং জুম্মার নামাজের সময় তার অনবরত বক্তৃতা প্রদান এবং আয়োজক হাবিবের কর্মকাণ্ড। এখানে ভাল ও মন্দের বিচারটা যখন নিজেদের হাতে পড়ে তখন তা বিপরীতও হয়ে যেতে পারে। হুমায়ুন আজাদকে এলাকার; হয়তো সারাদেশের মৌলবাদীরা ঘৃণ্য মানুষ হিসাবেই মনে করছে আর নিজেদের ভাবছে সঠিক পথের মানুষ। আবার ভাগ্যকুলে একটি ক্ষুদ্র স্রোতও আছে যারা মনে করে হুমায়ুন আজাদই সঠিক, আলোকিত মানুষ, জ্যোতির্ময় আর মৌলবাদীরা অন্ধকারের মানুষ, মন্দ মানুষ। এ দ্বন্দ্বে কিছু মানুষ হাবিবকেও ফেলে দেয় নাস্তিকদের দলে।
হাবিব নাস্তিক হয়ে উঠেছিল শৈশবেই। পিতার ভিন্ন জেলায় চাকরী, মায়ের তাবলীগ জামাত নিয়ে ব্যস্ততা এবং মা-বাবার দ্বন্দ্ব সংঘাত অর্থাৎ পারিবারিক অশান্তি হাবিবকে করে তুলে বহির্মুখী। বিভিন্ন সংগঠন এবং বহু চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য তাকে বয়সের চেয়ে অভিজ্ঞ করে তুলে। মেধা ও উপস্থিত-বুদ্ধি জনপ্রিয়তাও এনে দেয়। মেধার কারণেই এ অবস্থায় যখন যে কারোরই বখে যাওয়ার কথা সেখানে টেস্ট পরীক্ষার পরে মাত্র কয়েক মাস পড়াশোনা করেই উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে তাক লগিয়ে দেয়। ঢাকা সিটি কলেজে ভর্তি হলেও আবার গ্রামের টানে ফিরে আসে। ঢাকায় দমবন্ধ হয়ে আসে। জোৎস্নারাতগুলোতে রূপালী পদ্মা তীব্রভাবে ডাকে। অন্ধকার রাতগুলোতে নিশাচর প্রাণীর মতো ঘুরে বেড়ানো- প্রিয় কুকুর টমির সাথে, ছাড়াবাড়ির শতশত ডাব পেড়ে বন্ধুদের সাথে উৎসব করা, আড়িয়াল বিলে আকাশের শতসহস্র তারায় ন্যায় ফুটে থাকা শাপলা ছেড়ে নোংরা, দমবন্ধ হয়ে আসা ঢাকায় থাকা সম্ভব হল না হাবিবের। ফিরে তাকে আসতেই হয় ভাগ্যকুলে যেভাবে পর্বতারোহীকে সমতলে ফিরতেই হয়। ভর্তি হয় উপজেলাস্থ সরকারী শ্রীনগর কলেজে। এইচএসসিতেও উপজেলার মধ্যে প্রথম হয়ে, প্রকৃতির কথা চিন্তা করে ভর্তি হয়েছিল জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার ফিরে আসার আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়ায় পিতৃ বিয়োগ। আবারো ফিরে আসতে হয় আগের কলেজে।
হাবিবের প্রিয় স্যার নূর উল হোসেন। একমাত্র এই স্যারই তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখেছিলেন। বলেছিলেন, তোর মতো মেধাবী ছেলে এই বিদ্যালয়ে আমার ২৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে দেখিনি। রাড়িখাল স্যার জেসি বোস ইন্সটিটিউশনে দেখেছিলাম একজনকে; সে ছিল বিশেষ মেধাবী ছাত্র, ওর নাম হুমায়ুন আজাদ। অনেক আগের কথা এই বিদ্যালয়ের এক ছাত্র প্রধান শিক্ষক সাহেবের পা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, স্যার আমাকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেন, আমি পাশ করবোই। ওকে ৪ মাস কেউ দেখেনি। এসএসসিতে তৃতীয় বিভাগ, এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগ, বিএ তে প্রথম বিভাগ এবং এমএতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম। এরপর ওখানেই অধ্যাপনা করেছেন। তুই ৪মাস ঘর থেকে বের হবি না, শুধু বই নিয়ে থাক স্ট্যান্ড করবি।
কদিন আগেই হাবিব টেস্ট পরীক্ষায় গণিতে ১৪ পাওয়াতে সহপাঠী বন্ধু আসাদের ছোট বোন শাহজাদীর বিদ্রুপের সন্মুখীন হয়েছিল। স্যারের কথায় হাবিবের একটি সংকল্প তৈরি হয়। একটি স্বপ্ন, একটি বিশ্বাস এবং একটি প্রত্যয় তৈরি হয়। সব সম্পর্কের জাল ছিন্ন করে গৃহবন্দি হয়।
জাহাঙ্গীর নগরে ভর্তি হওয়ার কদিন পরেই ওর স্যার অবসরে চলে যায়। এই বিদ্যালয়ে ২৫ বছর শিক্ষকতা করে কোন সংবর্ধনা ছাড়াই নিরবে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেনি। তাই সহপাঠীদের নিয়ে, সিনিয়রদের নিয়ে নিজেই সংবর্ধনার আয়োজন করে। স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিল, প্রধান অতিথি কাকে করবো, স্যার বলেছিল তুই ছাড়া আমার আরেকজন প্রিয় ছাত্র আছে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ। কিন্তু এতেই সমাজের একটি শ্রেণী ওকে চিহ্নিত করে একটি দলে ফেলে দেয়, কেউ বলে হুমায়ুন আজাদের সারগেদ কেউ বলে নাস্তিক। পরীক্ষার ফল, জাহাঙ্গীর নগরে পড়া আরেকজনের ধারণাতেও ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয় তা হাবিবের জানা ছিল না। ও বসেছিল পোস্ট অফিসের মাঠে, আফগান বোরকা পরিহীতা শাহজাদী সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থেমে বললো, কি আপনেতো নায়ক হয়ে গেছেন।
- তাই নাকী, কে বললো?
- বললো তো আপনার বন্ধু আসাদ ভাইয়াই।
- তাহলেতো নায়ক মানতেই হয়। কিন্তু নায়িকার কোন সন্ধানইতো পাচ্ছি না।
- আপনি চাইলে কত জনা নায়িকা হওয়ার জন্য এক পায়ে খাড়া আছো।
- তাই নাকী, আমিতো জানতাম না, তবে আমার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে এক পায়ে খাড়া আছে তো।
শাহজাদী খুশি হল না রাগান্বিত হল বুঝা গেল না বোরকা আবৃত থাকার কারণে। আর কোন কথা না বাড়িয়ে বাড়ির দিকে চলে গেল।
হাবিব অসীমদের পাড়ায় ঢুকে। অসীম তার সহপাঠী হলেও পাড়ার ছোট বড় সকলের সাথেই ও ঘণিষ্ট। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যায় কেউ অসীমের চিন্তা করে না, করে হাবিবের। অসীমদের দাওয়ায় প্রতিদিন বিকেলেই ব্রীজ খেলা হয়। তিনটি গ্র“প খেলতে বসে গেছে। ও ঢুকলেই অসীমের বড় ভাই অজিত ডাকে, আয় এদিক আয়। হাবিব গেলে একজন খেলোয়াড়কে উঠিয়ে ওকে বসায়। বসতে বসতে বলে, অসীম আসে নাই।
একগাল হেসে অজিত বলে, এসেছে। মনে হয় আসাদরে নিয়ে বের হয়েছে। যেন আসাদকে নিয়ে বের হওয়ারই কথা।
অসীমের উদ্দেশ্যে এলেও খেলাতেই মনোযোগী হয়ে উঠে। এখানেও মেধার পরিচয় রেখে সে ইতোমধ্যে ভাল ব্রীজ খেলোয়াড় হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

মানিকজোড় যাকে বলে অসীম আসাদের সে রকমের বন্ধু। একজন ঢাকা কলেজে আরেকজন নটরডেম কলেজে পড়তো। অসীম হলে আর আসাদ ম্যাছে। বহু বছরের মধ্যে ওরাই দুই বন্ধু এই গ্রাম থেকে দেশের সেরা দুটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। ওরা একসাথে বাড়ি আসে, একসাথে ঢাকায় যায়, একসাথে গ্রামেও ঘুড়ে বেড়ায়। আবার একসাথেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভাগ্যকুল জামে মসজিদের পাশ দিয়ে নদীর পাড়ের দিকে যাচ্ছিল। মসজিদের বারান্দা থেকে ওয়াসিম সর্দার ডাক দিলেন, ভাইগনা এদিকে আয়। ওয়াসিম সর্দার আপন মামা নয়। কি কারণে আসাদ তাকে মামা ডাকে নিজেও জানে না। লোকটাকে পছন্দ করে না। তার মূল পেশা বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, আজান দেয়। মাঝেমধ্যে ইমামতিও করে। আসাদ এগিয়ে যায়। সালাম দেয়। জিজ্ঞাসা করে, কেমন আছেন মামা।
ওয়াসিম সর্দার জোড় গলায় বলেন, তুই যে দিনরাত একটা মালাউনের সাথে ঘুরে বেড়াস, আখেরাতে কি জবাব দিবি?
আসাদ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, অসীম শুনে ফেলল কিনা। বলে, মামা ও ভাল ছাত্র, ওর মতো ভাল ছেলে আর কে আছে এই গ্রামে? মুসলমানরা আর কেউতো সেভাবে পড়ে না।
ওয়াসীম সর্দার আরো জোড় গলায় বলেন, খৃষ্টানগো কলেজে পড়ে ইহুদী নাছাড়া হচ্ছস। নাছাড়াগো সাথে থাকলে তুইও নাছাড়া হবি। আসাদ বুঝতে পারে অসীমকে শোনানোর জন্যই ওয়াসীম সর্দার জোড় গলায় কথা বলছে। অসীমের ওর দিকে এগিয়ে আসতে দেখে আরো বিব্রত হয়ে পড়ে। ওরা নদীর দিকে হাটতে থাকে। অনেকক্ষণ পড়ে অসীমই নিরবতা ভাঙ্গে, আসাদ আমরা এসব শুনে অভ্যস্ত। তোর মন খারাপ করার কিছু নাই। বিকেলে হাবীবের সাথে দেখা হলে, ওয়াসীম সর্দারের প্রসঙ্গ উঠাতেই বলে, ওতো হারামজাদা টাইপের লোক। ভারতে অনেকদিন গায়ল করে, হাড়ি পাতিল বিক্রি করেছে। বছরে একবার দেশে আসতো। এখন বৈদ্যুতিক কাজ করে এবং সাইকেল মেরামতের দোকান দিছে। তবে রসিক মানুষও। আমার সাথে গুড সম্পর্ক। কদিন আগে গান শুনাল। গলা কাশি দিয়ে হাবীব গান ধরে।
সাধের ভাইগনারে তুই ভাল তোর মামা ভাল না .. ..
গানটি অশ্লিল। রাধা তার প্রেমিক প্রবর কৃষ্ণকে আহবান করে। যৌন তাড়না আর যৌন ক্রিয়ার গান। আর একটি গান শোনায় ঐ যে রাধার ফাঁক দেখা যায়। এই গানটিও রাধাকৃষ্ণের এবং যথারীতি অশ্লিল মনে হয় আসাদ ও হাবিবের কাছে। আসাদ বলে, আমিতো মনে করেছিলাম উগ্রপন্থী লোক। হাবীব কথা কেড়ে নিয়ে বলে, এখনো উগ্রপন্থীই। তবে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নয়। এখন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করে। মিলিরে বিয়া করতে চায়। এখনকার বউর সাথে নাকী কাজ হয় না। আমি জানতে চেয়েছিলাম, কাম না হইলে বছর বছর পোলাপান হচ্ছে কিভাবে? আসলে বাজারের মাইয়া মিলিরে দেখে ওর মাথা খারাপ হইছে। মিলিরতো বাজারে নাং এর কমতি নাই। মনে হয় ওয়াসিম সর্দাররেও কাম দেয়।
সেই প্রাইমারী জীবন থেকেই অসীম আর আসাদ দুই বন্ধু হরিহর আত্মা। একজন আরেকজনকে এগিয়ে দিয়ে আসে, আমার উল্টোটা ঘটে এভাবে অনেকবার ঘটে। অসীমকে বাড়িতে দিয়ে আসাদ বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে ওয়াসিম সর্দার ধরলেন। ভাইগনা তুমি নাকি অসীমদের বাড়িতে ভাত খাও। আসাদের খুবই রাগ লাগে। জিদ চেপে রেখে বলে, হ্যাঁ খাই, এই তো এখনই খেয়ে আসলাম। নাছোরবান্দা ওয়াসীম সর্দার জিজ্ঞাসা করে, কাছিম কুছিম খাওয়ায় নি আবার?
আসাদের রাগ এবার প্রকাশ পায়। কঠিনভাবে বলে, বাজারের মাইয়াগো লগে আকাম কুকাম করার চেয়ে কাছিম খাওয়া বেশি খারাপ না।
ওয়াসীম সর্দার হেসে ফেলে। আসাদের মনে হয় লোকটি ব্যক্তিত্ব আসলেই নাই। আসাদ একটু লজ্জা পায়। ওয়াসীম সর্দার বলে, ভাইগনা কি রাগ করলা নি? তোমার বাবা নামকরা আলেম। তোমার মেঝোভাইও আলেম। সেই জন্যই বলা।
আসাদ মনে করার চেষ্টা করে সকালে এই লোকটি তাকে তুই তুই করে বলেছে এখন বলছে তুমি তুমি। কিছুটা এগিয়ে গেলে ওয়াসীম সর্দার ডাকে, ভাইগনা শুনে যাও। শোনলাম তুমি নাকী লট্টরড্রাম কলেজে পড়।
আসাদ বলে, হ্যাঁ পড়তাম কলেজের নাম নটর ডেম কলেজ। ওখান থেকে পাশ করে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি পড়ি।
এবার ওয়াসীম সর্দার পকেট থেকে ২৫ পয়সা বের করে বলল, ভাইগনা একটা বিড়ি কিনে দিয়ে যাওতো। আসাদ বুঝতে পারে ওকে ছোট করার জন্য এ কাজটি করছে। আসাদ একটি বিড়ি কিনে দেয়। ওয়াসীম সর্দার ভাবে তুমি যত বড়ই হও বলতে পারুম ওকে দিয়ে বিড়ি কিনিয়ে খেয়েছি।
পরের মাসে বাড়ি এসে শুনে ওয়সীম সর্দার মারা গেছে। কদিন আগে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে সদ্য লাগানো বৈদ্যুতিক তার চুরি অভিযোগে। বেদম মারপিট করেছে। বাড়িতে কদিন অস্স্থু হয়ে ছিল। দুই মাস পেরুতে না পেরুতেই ওয়াসীম সর্দারের বড় মেয়েটি তার সহকারী জালালের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে গ্রামে ফিরে এসেছে। শ্বশুর বাড়ির হাল ধরেছে। গ্রামের লোকেরা বলছে, সর্দারের স্ত্রীই ওদের পালিয়ে বিয়ে করতে সহায়তা করেছে। সে ভেবেছিল তার আত্মীয় স্বজনরা এই বিয়ে মেনে নিবে না। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য নিজস্ব লোক দরকার। এতে দোকানও চালু থাকবে। সর্দারের দ্বিতীয় ছেলে আলীম সর্দার। মুখে নতুন গোফ উঠেছে। দুজনে পথিমধ্যে অসীমকে ধরে। কিরে মালাউনের বাচ্চা, তুই নাকী মুসলমান মাইয়ার সাথে প্রেম করস? কালকের মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিবি আর প্রেম ছাড়বি। নইলে হাড্ডিগুড্ডি ভাইঙ্গা ইন্ডিয়া পাঠাবো। অসীম হতভম্ব হয়ে পড়ে। বলে তোমরা কি যাতা বলছ?
জালাল অসীমের চেয়ে বয়সে ছোট। সামাজিক পরিচয় ছিল না। এখন সর্দার বাড়ির মেয়ে বিয়ে করে ক্ষমতা দেখাচ্ছে। চড়া গলাতেই বলে, তর বাড়িতে যে মুসলমান মাইয়া বেড়াতে এসেছে তার লগে তুই প্রেম করস না?
অসীম বলে, ওনাকে আমি আপা বলি। তোমরা না জেনে এভাবে কথা বলবা না।
আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ির দিকে ফিরে এবং হোসনে আরাকে নিয়ে ঢাকা ফিরে আসাদের রুমে যায়। ঘটনা শুনে আসাদ বলে, আপাকে নিয়ে তোর গ্রামে যাওয়া ঠিক হয়নি।
-কি করবো ও বাড়ি দেখতে চাইল, মাকে দেখতে চায়। ভাবতেই পারছি না, এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব।
-সম্ভব না কেন? গ্রামের অশিক্ষিত অসচেতন মানুষদের বর্বর আচরণ অস্বাভাবিক নয়। আর ওরাতো এরকমই।
আসাদ প্রসঙ্গ ঘোরাতে নাজনীনকে হাত পাততে বলে। হাত পাতলে ৩টি টিকিট তুলে দিয়ে বলে, আগামী কাল ভারত অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ম্যাচ। একসাথে খেলা দেখবো। আপনি পরটা আর ডিম ভেজে আনবেন। অসীম খাবার পানির বোতল আনবে আর আমি আপনাদের সাথে থাকবো। ওরা তিনজনই খুশি হয়ে উঠে।
পূর্ব গ্যালারীতে সকালটা ভালই কাটবে। ভারত টস হারে লং অফে ফিল্ডিং দিচ্ছিল অনিল কুম্বলে। ওদের খুব কাছে। বাইনাকুলার চোখে লাগিয়ে দেখে বিন্দুবিন্দু ঘাম জমেছে কপালে। বোলার আর মিড-অফের ফিল্ডারের মাঝখান দিয়ে একটি বল আসতে থাকে লং অফে। ঠিক ওদের পেছন থেকে এক দর্শক চেচিয়ে উঠে এই মালাউনের বাচ্চা বল ছাড়, বল ছাড়!
অসীমের সামনে আসাদ অসহায় হয়ে পড়ে, বিব্রত বোধ করে হোসনে আরাও। লোকটির দিকে তাকিয়ে মাঠে চোখ ফেরায়। অনিল কুম্বলে বল ফেরত পাঠায়। ভাল ফিল্ডিং হওয়াতে ওরা তিনজন হাত তালি দেয়। আসে পাশে আরো কয়েকজন হাততালি দেয়। এর মধ্যেই একটি আধ খাওয়া পানির বোতল অনিল কুম্বলের কাছে গিয়ে পড়ে। কুম্বলে হাত দিয়ে বোতলটি তুলে দড়ির বাইরে রাখে। খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সার্ট প্যান্ট পড়া, ক্লীন স্যাভ করা যুবকেরা মাঝে মধ্যেই এই মালাউনের বাচ্চা এই ইন্দুরের বাচ্চা বলে গালি দেয়। হোসনে আরা জানতে চায় ভারত অষ্ট্রেলিয়া খেলায় পার্শ্ববর্তী ভারতের সাপোর্ট না দিয়ে এতো অষ্ট্রেলিয়ার সাপোর্ট দিচ্ছে কেন?
আসাদ বলে, এরা সবাই পাকিস্তানের সমর্থক। ভারতের বিরোধীতা করতে গিয়ে তাদের প্রতিপক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। অষ্ট্রেলিয়ার প্রতি এই সমর্থন দেয়ার ফলও নাকী পাওয়া যায়। কদিন পরেই অসীমের রুমমেট আশুতোষ জানানায়, ভারত অষ্ট্রেলিয়া খেলার পরদিন, অষ্ট্রেলিয়া হাইকমিশনে যারা দাঁড়িয়েছিল ভিসার জন্য সবাইকেই ভিসা দিয়ে দিছে। অসীম হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলে, কোন প্রমাণতো নেই। শুধুই অনুমান, শুধুই গুজব।

আসাদের চেয়ে অসীমেরই ভাল বন্ধু লিটু। ওদের পরিবারের সকলেই শিক্ষিত। ওর ছোট কাকা যতিন্দ্র ঢাকায় পড়াশোনার সময় এক মুসলমান মেয়েকে বিয়ে করে মুসলমান হয়ে যায়। ঘটনাটা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও সে আর কখনোই গ্রামে না আসায় চাপা পড়ে যায়। শুক্রবার জুম্মার ফরজ দুই রাকাত নামাজ শেষে মনাজাতের পরে ইমাম সাহেব বললেন, বিশেষ কারণে সুন্নত পড়ে কেউ যাবেন না। ইসলাম আজ বিপন্ন। এই মুসলিম দেশে কাফেররা এক মুসলীম মেয়েকে হিন্দু বানিয়েছে। আজ তার বিহিত করা হবে। ঘটনাটা আসাদ কিছুই বুঝতে পারে না। অন্যরা হয়তো জানে। সুন্নত শেষ করে বসে। ইমাম সাহেব বলেন, রায় বাড়িতে এক মুসলিম মেয়েকে আটক করে হিন্দু বানানো হয়েছে। মেয়েটিকে উদ্ধার করতে হবে। আপনার চলেন উদ্ধার করে নিয়ে আসি। মুহুর্তেই হইচই পড়ে যায়। বাঁশ, লাঠি, চলা, রড নিয়ে শতাধীক মুছল্লী নারায়ে তাকবীর বলে ছুটতে থাকে। আসাদ বুঝে উঠার আগেই তারা ছুটে যায় রায় বাড়ি মানে লিটুদের বাড়ির দিকে। আসাদ শুধু জানে আজ লিটুর বোনের বিয়ে। মুছল্লীরা রায় বাড়িতে আক্রমন করে। বিয়ে বাড়ির লোকজন দিকবিদিক পালাতে থাকে। আগুনে ৫টি ঘর পুড়ে মাটির সাথে মিশে যায়। কাকে উদ্ধার করা হবে কেউ খুঁজে পায় না। কাকে হিন্দু বানানো হয়েছে জানা যায় না। বাড়ির ভাত, মাছ, সব্জি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। লুট হয়ে যায় বাড়ির থালা-বাসন থেকে গয়না-গাটি।
অসীমই খবর নিয়ে আসে। লিটুর বোনের বিয়ে হচ্ছে যে পাত্রের সাথে সে পাত্রের পিতার বন্ধু লিটুর মুসলমান হওয়া কাকা যতীন্দ্র। পাত্র পক্ষের সাথে দীর্ঘ পনের বছর পরে এসেছেন নিজের পৈত্রিক বাড়ি দেখার অভিপ্রায় নিয়ে। স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রকেও সাথে করে নিয়ে এসেছেন। এত বছর পরে যতীন্দ্রকে দেখে সকলেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিল। যতীন্ত্রের স্ত্রীকে তারা বরণ করেছিল ধান দূর্বা দিয়ে, হিন্দু রীতিতে। তাতেই কেউ হয়তো ধরে নিয়েছিল যতীন্দ্রের স্ত্রীকে হিন্দু বানানো হয়েছে।
বিকেলে হাবীবের সাথে দেখায় হয় আসাদ ও অসীমের। হাবীবই জানায়, লিটুদের বসতবাড়ির উপর দৃষ্টি ছিল জব্বর গাজীর। সেই একটা মিথ্যা রটনা দিয়ে ইমামকে কাজে লাগিয়ে এই সুযোগে লিটুদের সর্বশান্ত করতে চেয়েছিল। লিটুরা এলাকা ছাড়লে জমিটা তারই হবে। তার থাবার নীচের জমি আর কেউ কিনতে যাবে না।
আসাদ বলল, ওনিতো আমাদের জনপ্রতিনিধি। হাবিবের চেয়ে জনপ্রতিনিধির অবস্থা বেশি কে জানে। ও বলে, জনপ্রতিনিধিরা হল শিশুর মতো। এতটুকু শুনেই আসাদ ও অসীম অবাক হয়েছিল, জানতে চায় কিভাবে? হাবিব অভিজ্ঞ, সে অনেক বিচার শালিসিতে থাকে। বলে, শিশুরা মিষ্টি হাসি দিয়ে এটা ওটা চায়, না দিলে ঝামেলা করে; কিন্তু তুমি চাইতে যাও, অসম্ভব দিবে না কিছুই। এই সমাজকে বদলানো সহজ নয়। একটা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন দরকার, এর জন্য ড. হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে এগোতে চাই। তাকে দিয়ে ভাগ্যকুল হাইস্কুলে একটি পাঠাগার গড়ে তুলতে চাই। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পরিবর্তনটা আনা সহজ হবে। তারা ড. আজাদকে কাছে পেলে নতুন কিছু ভাবতে শিখবে। তোমরা ঢাকা যাবে কবে?
আসাদ বলে, কালই। হাবিব বলে, তাহলে চল একসাথেই যাই। হুমায়ুন আজাদ স্যারের ফোলার রোডের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে আলোচনা করে আসি।
যদিও আসাদ জানে হাবিব শূন্য থেকেই কাজ করতে পারে তারপরেও বলে, একটি লাইব্রেরি করতে অনেক বই লাগবে, আলমারী লাগবে, কক্ষ লাগবে পাবে কোথায়?
হাবিব বলে, দেখ আলমারিতো বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রলালই বানিয়ে রেখে গেছে। একাত্তরে লাইব্রেরির বইগুলো লুট হয়ে যায়। আলমারিগুলো মেরামত করেই ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যালয় আলমারিগুলো রাখার কক্ষটি খুলে দিবে অথবা একটি কক্ষ ছেড়ে দিবে। বই আমাদের জোগাড় করতে হবে। আমার কিছু আছে, তোমরা কিছু দিবা আর হুমায়ুন আজাদ স্যারকে দিয়ে আগামীর প্রকাশক ওসমান গণীর কাছ থেকে কিছু বই আনা যায় কিনা দেখতে হবে। তবে স্যারের বইতো দিবেই। বই সমস্যা না।
হুমায়ুন আজাদের কাছে তার মেয়ে মৌলীর হাতে শ্লিপ পাঠালে, ওদের ভিতরে ডাকে। মিলি বলে, আব্বা এ সময়তো কাউকেই ঢুকতে দেয় না। হাবিব বলে, বুঝলেন তো আমরা তার বিশেষ কেউ। মৌলী হেসে বলে, তাইতো মনে হচ্ছে।
হাবিবকে দেখে স্যার খুব খুশি হয়, অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাবিব নয়। স্যার বলে, কি অবস্থা বল? হাবিব বলে, স্যার সব ঠিক আছে। হেড মাস্টারতো রাজিই, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুন্নবী সর্দারও রাজি। আপনি একটি তারিখ দেন এবং শ্বেতপাথরের ফলকে কি লিখবো লিখে দেন। স্যার বলেন, তুমি লিখ, আমি ঠিক করে দিচ্ছি। হাবিব একটি সাদা কাগজে লিখে দিলে স্যার দেখে বলে ঠিক আছে তবে ড. না লিখে সম্পূর্ণ ডক্টর লিখ। পরের শুক্রবারের পরের শুক্রবার তারিখ দিলেন। কাজকর্ম সবই করল হাবিব। আসাদ ও অসীম একটু চিন্তিতই ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে ওরা দুজনও সাহসী হয়ে উঠে। অনেক লোকজনই এসেছে। বেশ কয়েকজন মৌলবাদী এসেছে। তারা বসেছে সামনের আসনে। আসাদ হাবিবকে বলে মৌলবাদীদের কথা। হাবীব বলে ওদের সবকটাকেই চিনি। এখানে সবচেয়ে বড় ভয় তোমার মেঝভাইকে নিয়ে। তুমি আছ ওনি কিছু করবেন না।
হুমায়ুন আজাদ পাঠাগার উদ্ভোধন করে, প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিতে উঠে বললেন, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন সাহেবকে আমি একদা ভয় পেতাম, এখন মনে হচ্ছে তিনিই আমাকে ভয় পাচ্ছেন। .. .. যারা বেহেস্তে যেতে চায় তাদের বেহেস্ত যাওয়ার পথে আমি কোন বাঁধা সৃষ্টি করছি না; আমি নিজে যেতে না চাইলে তাদেরও আপত্তি থাকা উচিত নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জন্মের পর থেকেই শুনে আসছি, তোমরা সীমা লংঘন করো না। সীমা লংঘন করেই আমি প্রথম রাড়িখাল থেকে ঢাকায় গিয়েছিলাম। বিক্রমপুর থেকে হাজার হাজার যুবক ইউরোপ, জাপান, কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য গিয়েছে সীমা লংঘন করেই। তোমাদেরও সীমা লংঘন করতে হবে, সীমা অতিক্রম করতে হবে। তিনি প্রধান শিক্ষকের বক্তৃতার প্রেক্ষিতে বলেন, আপনি বলেছেন কবিরা হয় আত্মভোলা। এটা ঠিক নয়, আত্মভোলা হয়ে কেউ কবি হতে পারে না। কবিদের অত্যন্ত সচেতন হতে হয়। তিনি পাঠাগারে যাতে শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে সে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন। নিজের শৈশবের স্মৃতি চারণ করেন।
হাবিরের নিকট কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসাদ ও অসীম ঢাকায় ফিরে পরদিন সকালে। হাবিরের সাথে কলেজে দেখা হয় শাহজাদীর। হাবিব ভাই আপনাকেই খোঁজছিলাম। কি ব্যাপার? হাবিব জানতে চায়। শাহজাদী বলে, আমি একটি কবিতা লিখেছি একটু দেখে দিবেন। রাতে কবিতার খাতা খুলে দেখে, একটি প্রেমের কবিতা। কাকে নিয়ে লেখা আমাকে না তো। সেদিনের কথা ভাবে যেদিন শাহজাদী তাকে নায়ক বলেছিল। হাবিব একটু কেঁপে উঠে। কাঁপা কাঁপা অবস্থাতেই কবিতাটি বুক পকেটে রাখে। একটি চিঠি লিখতে বসে। কয়েকবার ছিড়ে একপাতার একটি চিঠি শেষ করে। পরদিন কলেজে দেখা হলে কবিতাসহ চিঠিটি দেয় শাহজাদীকে। শাহজাদী মুখে বলে, আমি কিন্তু আপনাকে উদ্দেশ্য করে কিছু লিখিনি। আপনি আবার কিছু ভেবে বসেননি তো। হাবিব ভরকে যায়। শাহজাদী মুচকি হেসে চলে যায়, বোরকার আড়ালে থাকায় হাবিবের তা চোখে পড়ে না তাই বিভ্রান্তি দূর হয় না।

[কদিন আগে আরেকটি পর্ব লিখেছিলাম উপন্যাসটির, আজ দিলাম প্রথম পর্ব।]
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×