somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ ১৯ "

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-"হ্যালো, কই তুমি?" -"কেনো? বাসাতেই।" -"ও। আজকে বুঝি কাজ নাই?" -"আরেহ ছিল। কাজ শেষ তাই বাসায় জলদি জলদি চলে আসলাম।" -"কেনো? ঘুরতে যাও নাই ইফতির সাথে?" "কেনো? আপনার জ্বলতেছে নাকি?" -" নাহ। আমার কেনো জ্বলবে? মানুষজনবিয়ে করবে আর আমি ভাই পোলাও মাংস খাবো। আমার আর কিছুর দরকার নাই।" -"আপনাকে বিয়ে করতে কি কেউ মানা করছে। আচ্ছা দাড়ান দাড়ান। মানুষজন মানে? আরও কেউ বিয়ে করছে নাকি? কে করছে? বলে ফেলেন। আপনি জানেন আপনি আমার থেকে কথা লুকাতে পারেন না।" -" এই তো ১২.১২.১২ উপলক্ষে বিয়ে করছে একজন।" মিতু এইবার আর না হেসে পারে না। অট্টহাসি দেয একটা। "রিমা বিয়ে করতেছে নাকি? হাহাহা। কেমনে জানলেন?" -"জানলাম। তুমি হাসতেছ কেনো?" -"স্যরি স্যরি। আর হাসবো না। ব্যাপার নাহ। আপনিও একটা বিয়ে করে দেখায়ে দেন।" সায়েমের মেজাজ গরম হয়ে গেলো। " আমি রাখি।বাই।" রেখে দিল ও।
যতই রাগ দেখাক সায়েম কিন্তু মিতুকে ওর কোনো কথা শেয়ার না করলে ওর কিছুতেই ভালো লাগে না। রিমার বিয়ের কথাটাও ও জানার পরপরই মিতুকেই প্রথম ফোন করেছে। মিতুর বিয়ের কথাবার্তা চলছে এখন। একটা ছেলেকে মোটামুটি মিতুর পছন্দও হয়েছে। সায়েম কখনোই মিতুকে ভালোবাসেনি। তবুও মিতুর বিয়ের কথা শুনে কেনো জানি ওর ভালো লাগেনি। হয়তোবা নিজের অজান্তেই ও মিতুকে নিজের সম্পত্তি ভাবা শুরু করেছে। তিন বছর আগে যখন মিতুর জীবনে আরেকটা ছেলে এসেছিল সেই সময়ও সায়েম কেমন জানি একটা প্রচন্ড রাগ অনুভব করেছিল। অনেক দিন মিতুর সাথে ভালোভাবে কথাও বলেনি , যদিও ও জানে এভাবে রাগ করে থাকলে বাসার সবাই ভাবে যে ওরা একে অপরের শত্রু আর দুজন হিংসুটে। অথচ রিমার সাথে ব্রেক আপের পর সায়েম মিতুর কাছে যখন যেতে চেয়েছিল মিতুর একটা দাবী সে পূরন করতে পারেনি। মিতু চেয়েছিল, সায়েম ওকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিক। সব মেয়েই তো চায় ভালোবাসার মানুষের সংসার করতে। সায়েম বলেছিল সে ভবিষ্যতের কথা জানেনা। আর সব থেকে কঠিন যে কথাটা ও মিতুকে বলেছিল তা ছিল সে ফ্যামিলির সামনে কালার হতে পারবে না। ওর বাসায় ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন আর ওর ইমেজ অনেক ভালো ফ্যামিলির সামনে। মিতু রেগে গিয়েছিল। আর ওর দিকে ফিরে তাকায়নি। তবে ওদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। যখনই দুজন অনেক বেশি কোনো সুখ অথবা দুঃখের সামনে পড়েছে একে অপরকে স্মরন করেছে। যেমন আজ সায়েম করল।
মিতু কিছুই ভুলেনি। আজ রিমার বিয়ে। ও মনে মনে অনেক খুশি। আজকে সায়েম বুঝবে কতটা খারাপ লাগে এভাবে নিজেকে পরিত্যক্ত ভাবতে। ও সায়েমের খারাপ চায়নি কখনোই । কিন্তু মানুষ তো, তাই আজ কিছুতেই নিজের প্রতিশোধপরায়ন মনকে থামাতে পারছে না। ও মনে মনে হাসছিল। এমন সময় ফোন আসলো। ইফতির ফোন। মিতু একটু থেমে গেলো। ইফতি ছেলেটা ভালো। কিন্তু তাও কেনো জানি ওর ওকে ভালো লাগে না। মিতু আসলে পোড় খাওয়া গরুর মতোই ভয় পায়। ভালোবাসা ওর কপালে নেই এটা ও অনেক আগেই বুঝে গেছে। তাই মা বাবার কথা মতো ভালো পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেছে। কিন্তু ইফতির সাথে কথা বললেই ওর ভয় লাগে। ইফতির সাথে কথা বললে মনে হয় ইফতি পাত্রী কম, প্রেমিকা বেশি খুঁজছে। নরমালি পাত্ররা জিজ্ঞেস করে মেয়ের ভালো গুণ আর ইফতি চায় খারাপ গুণ। মিতু কনফিউজড হয়ে যায় । আর খুব ভালো বুঝতে পারে যে ইফতির সাথে বেশি কথা বললেই মিতু ওর প্রেমে পড়ে যাবে। আর একটা জিনিস ও খুব ভালো জানে। সেটা হলো, যেই মাত্র ও প্রেমে পড়বে তখন থেকেই ওর জীবনের দুঃসময় শুরু হবে। এটা ওর জীবনের সব থেকে বড় সত্য। ফোনটা কি ধরবে ও? ধুর। ধরতেই হবে। না হলে ল্যান্ডলাইনে ফোন করবে আবার লোকটা। "হ্যালো.."

" দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ ১৮ "
" দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ ১৭ "
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ অভিন্ন ফিকাহ মানার কথা বললে রাসূল (সা.) কোরআন ও হাদিসের মানার কথা কিভাবে বললেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১



সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৪। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন বাইয়ান (ভাব প্রকাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ের সংস্কৃতি নয়, চাই জবাবদিহিমূলক রাজনীতির বাংলাদেশ

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান। পনের বছরের দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু অনুভূতি

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

" কিছু অনুভূতি "

অনেক দিন থেকেই অসুস্থ ছিলাম , তারপরও এখন সবার দোয়ায় আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছি আলহামদুলিল্লাহ। মাঝেমধ্যে ব্লগে এসে সবার সুন্দর সুন্দর লেখাগুলো পড়ে আমার মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পারমাণবিক বিস্ফোরণের আগে সন্তানের সাথে আমি যে কথাগুলো বলবো

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১০


যদি শুনি আজ রাত আটটায় পারমাণবিক বোমা হামলা হবে আমাদের এই শহরে, যেমন ইরানে সভ্যতা মুছে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মহামান্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তাহলে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রান্সজেন্ডাদের উপর কারা হামলা করলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত সপ্তাহে সংসদে দাঁড়িয়ে একটি কথা বললেন যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে কেউ সরকারিভাবে বলেননি। মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আলোচনার মাঝখানে তিনি বললেন, বাংলাদেশে LGBT ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×