আমার প্রিয় পোস্ট

আরেকজন পোষাক শ্রমিকের করুন মৃত্যু

০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৪৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রতিদিনকার মতো আজো মিরপুর রোড পার হয়ে রিং রোডে ঢুকলাম। কাজ শেষে বাড়ি ফিরছি। আজকে কাজের শেষে বসের বেশ কিছু প্রশংসাও পাওয়া গেল। খুশী মনেই ফিরছি।

প্রতিদিন ফিরি রাজধানী কোম্পানির বাসে। মোহাম্মদপুর পর্যন্ত রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা লাগে। রাজধানী বাসে লাগে ৩ টাকা। ফলে আমার মতো স্বল্প আয়ের লোকের জন্য দারুন সুবিধা।

আজ রাজধানী বাস যাচ্ছে না। কারণ কী? কোথায় না কি মারামারি হইছে। আগে মারামারি হইছে, রাস্তা বন্ধ শুনলে গায়ের মধ্যে চনমন করে উঠত। ছুটে যেতাম আগুপিছু না ভেবেই। হয়ত প্রবল উত্তেজনায় অংশও নিয়ে ফেলতাম। আজ লাগল বিরক্ত। আবার মারামারি। হয়ত হেঁটেই ফিরতে হবে। রিক্সাও যাচ্ছে না। বুঝা গেল গোলমাল জবর।

কিছুদূর এগোতে প্রবল জটলা, হইচই, আগুনের শিখা আর শ্লোগান শোনা যেতে লাগল। আবারও বিরক্ত। ধুর! আজকাল মানুষের ধৈর্য এত কম! একটু থেকে একটু হইলেই মিছিল। সম্পত্তি নিয়া ভাগাভাগি, ছেলে কতটুকু পাবে, মেয়ে কতটুকু পাবে, ইসলাম কী বলে, নাফরমানরা কী বলে, লাগাও গোলমাল।

আর গোলমাল মানেই চালের দাম আরেক দফা বাড়া। অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়া। আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের আশঙ্কা শেষপর্যন্ত এখানে এসে থামে। কী করব? চাল কি এখন আর কিনে খাওয়ার জো আছে?

আরেকটু এগোলাম। পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে গার্মেন্টসের মেয়েরা। কী হইছে ভাই? এক ভদ্দরলোককে জিজ্ঞেস করলাম। বলল, জানি না, ভাই। কতকিছুই তো অয়!

এবার জিজ্ঞেস করলাম এক গার্মেন্টসের মেয়েকে? আপা, কী হইছে এইখানে? ঝামটা মাখা উত্তর, হেতে আফনেগো কী?

দুই চোখে প্রচণ্ড ক্রোধ। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সামলে উঠার আগেই জানলাম মারা গেছে এক শ্রমিক। অসুস্থ্য ছিল। ছুটি চেয়েছিল বাড়ি যাবার জন্য। ছুটি পায়নি। ঘন্টাখানেক শারীরিক দুর্বলতার সাথে লড়াই করে ঢলে পড়ে মেঝেতে। ম্যানেজার এসে ব্যাপার দেখে বলে, ঢঙ। খানিক পর জানা যায় মারা গেছে সে।

সাংবাদিকরা সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে ফ্লাশ জ্বেলে জ্বেলে ছবি তোলার চেষ্টা করছে লাশের পাশে কান্নারত মেয়েটার মা কিংবা বড় বোনের। কয়েকজন ভদ্দরলোক ভিড়ের সুযোগে গার্মেন্টসের মেয়েদের গায়ে হাত টাত রাখার চেষ্টা করছে, স্পষ্টই দেখলাম।

আর আমি? আস্তে আস্তে গুটি গুটি পায়ে নিরাপদে বাসায় চলে এলাম। কী হবে আর এখানে থেকে? আমি আর কী-ই বা করতে পারব? পুলিশ আছে সাংবাদিক আছে, উৎসাহী দর্শক আছে। শুনলাম মালিকও নাকি আসছে।

আসুক। তারাই যা করার করবে। আমি বরং বাড়ি যাই।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গার্মেন্টস শ্রমিকগার্মেন্টস শ্রমিক ;

 

  • ২৩ টি মন্তব্য
  • ১৯০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৫৮
comment by: লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আপনার যে কাজটি করার তা করেছেন - আমাদের জানিয়েছেন। সে জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনার আরও কিছু করার আছে। এই শ্রমিকরা আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেয়। তারা আমাদের দেশের প্রধান রপ্তানী পণ্যের যোগানদার। সুতরাং তারা আমাদের থেকে অনেক কিছু দাবি করতে পারে। আর কিছু না পারেন, তাদের শ্রদ্ধা তো করতে পারেন। অন্যায়ভাবে তারা মারা গেলে নিন্দা তো জানাতে পারেন। আর সেই সব ম্যানেজার, সুপারভাইজার ও মালিকদের প্রতি ঘৃণা তো জানাতে পারেন।
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:২৭

লেখক বলেছেন: ম্যানেজার, মালিক আর সুপারভাইজারদের প্রতি অসীম ঘৃণা।

২. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:০০
comment by: মুক্তকথা বলেছেন: হ্যাঁ, চুপচাপ চলে এসেছি। কেমন এপ্রিল ফুল দেখুন।

হায় পোষাক বালিকা, তোমায় আজ এপ্রিল ফুল!!!!!
৩. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:১৩
comment by: সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন: আরেকজন পোষাক শিল্পের নারী শ্রমিকের করুন মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।

পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে গার্মেন্টসের মেয়েরা। অথচ পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি তো মালিকের সাথে হওয়ার কথা। আইন ভঙ্গ করেছে মালিক।

'ওই নারী শ্রমিক অসুস্থ্য ছিল। ছুটি চেয়েছিল বাড়ি যাবার জন্য। ছুটি পায়নি। ঘন্টাখানেক শারীরিক দুর্বলতার সাথে লড়াই করে ঢলে পড়ে মেঝেতে। ম্যানেজার এসে ব্যাপার দেখে বলে, ঢঙ। খানিক পর জানা যায় মারা গেছে সে।' অর্থাৎ এখানে দেখা যায় মালিক আইন ভঙ্গ করেছে।
আইনে আছে, শারীরিক অসুস্থতাজনিত বা দুর্বলতার কারণে শ্রমিকরা মজুরী বা বেতনসহ ছুটি পাবে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ওই মেয়েটি ছুটি পেল না কেন?
এর জন্য পুলিশ কি ভূমিকা নিয়েছে?
কিছুদিন আগে পুলিশ অধ্যাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে এক পরামর্শ সভায় আমি কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম। এখন তো দেখি, আমার কথাই ঠিক।
অধ্যাদেশে দেখেছিলাম ও পুলিশ সুপারের বক্তব্যে জেনেছিলাম যে, পুলিশ বিভাগে আমূল সংস্কারের কথা। সংস্কারের এই হচ্ছে নমুনা?


৪. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:১৬
comment by: মাইনুল বলেছেন: বিচার চাই।
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:২৬

লেখক বলেছেন: অবশ্যই বিচার চাই। চাইতেই হবে।

৫. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:১৬
comment by: সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন: লেখাজোকা শামীম ভাই ঠিকই বলেছেন। সে জন্য ধন্যবাদ।

৬. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:১৯
comment by: মুক্তকথা বলেছেন: আন্দোলনকারীদের শান্ত করার জন্য উপস্থিত পুলিশের এক বড় কর্তা হাত-মাইকে বলছিল, 'মালিককে খবর দেয়া হয়েছে। দশ মিনিটের মধ্যে আসবেন উনারা।'

একজন মহাক্রোধে চেঁচিয়ে বলল, এই কথা তো শুনতাছি বিকাল ৫টা থেইকা। একজন কিছু চুরি করলে তো মালিকের আইতে ৫ মিনিটও লাগে না। এহন রাইত ৮টা বাজে ক্যা? কতদূর থিকা আহে?

পুলিশ বলল, আমরা তো চেষ্টা করতাছি। মালিক কি আমাগো ভাই লাগে? ডাকলেই আয়া পড়ব?

আরেকজনে ক্রুদ্ধ উত্তর, 'ভাই-ই তো! আমরা বুঝি না? ভাই না অইলে কি আমাগো মারতেন?'

পুলিশ তখন খুঁজতে শুরু করে উত্তরদাতাকে।
৭. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:১৩
comment by: মুকুট বলেছেন: গার্মেন্টস সেক্টর যেমন বৈদেশিক মূদ্রা এনে দিচ্ছে বাংলাদেশকে, তেমনি কোটিপতি করছে এর মালিকদের! কিন্তু যাদের রক্তঝরা অক্লান্ত পরিশ্রমে এই অর্জন, তারা কখনই তাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছে না! মারা গেলে/আহত হলে ক'দিন মিছিল/মিটিং, অবরোধ হয়, রাজনীতিকদেরমত মালিক পক্ষ ওয়াদা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে, কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ আর হয় না! অভাগাদের ভাগ্যের পরিবর্তন যে কবে আসবে!
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: আজকাল মিডিয়াও আর খবরটাকে গুরুত্ব দেয় না। তাদের কাছে খবরটাতে আর নতুনত্ব নাই। রাস্তাঘাটে কত কুকুর বিড়ালই তো মারা পড়ে। এও তেমনই একটা মৃত্যু।

৮. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:২২
comment by: জাহিদ হাসান বলেছেন: মালিক-মহাজনরা হইল গিয়া সরকার ভগবানের ঘনিষ্ট আত্মীয়, তেনাগো কিছু হইবে বলে বিশ্বাস হয় না।

তবে, মালিক ভাইজান যদি কিনা বর্তমান ভগবানের বিরুদ্ধাভাজন হন তবে কাউলই তেনার মামলা এই এইডা মোর বিশ্বাস...........
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: কাঁচপুর ব্রিজের ওদিকে একটা গার্মেন্টস শ্রমিক মারা গেল, এনটিভিতে দাঁত কেলিয়ে সাক্ষাৎকার দিল আনিসুল হক নামের গার্মেন্টস মালিক।

কই? কোনো গার্মেন্টস কর্মীর সাক্ষাৎকার তো আজ পর্যন্ত দেখলাম না!!!!

মিডিয়াওয়ালাদের প্রতিও ঘৃণা ....

৯. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:২৫
comment by: সবুজমিয়া বলেছেন: দু:খজনক...
ম্যানেজার, মালিক আর সুপারভাইজারদের প্রতি ঘৃণা..
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: ঘৃণা! ঘৃণা!! ঘৃণা!!!

১০. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২০
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: ম্যানেজার, মালিক আর সুপারভাইজারদের প্রতি ঘৃণায় কাম হইব না। বড় বড় শোষণ মূলক ব্যবস্থারে না দেইখা। শ্রম শোষণের রাজনীতির প্রতি ঘৃণা।
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: খাঁটি কথা। সহমত।

শ্রম শোষণের রাজনীতি নতুন না, আবার সহসা শেষও হবে না। মুশকিলটা হইল শ্রমিকদের পক্ষ নেবার কেউ নাই। যারা তাদের পক্ষে সামান্য কথা বলেন, (যেমন আমি) তারা করুনা করার ভান করেন। লড়াইয়ে পক্ষ নেন না। চুপচাপ সইরা পড়েন।

এই পক্ষ যতদিন শক্তি অজর্ন না করছে, যতদিন ঘাড় ধরে আদায়ের ক্ষমতা অর্জন না করছে ততদিন সম্ভবত এই চলবে।

১১. ০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:১৬
comment by: জাহিদ হাসান বলেছেন: চিন্তা করে বলুন কি করা যায় ?

আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে থাকার .......
০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৫৭

লেখক বলেছেন: অনেক চিন্তা করিনাই, কিন্তু কাল সন্ধ্যায় ওখান দিয়ে আসার সময়, লাশকে ঘিরে কয়েকজনে কান্নাকাটি দেখছিলাম। পাশেই আরেকটা গার্মেন্টসে তখনও চুটিয়ে কাজ চলছে। কয়েকটা আগ্রহী মেয়ে কেবল বিষন্ন চোখে তাকিয়ে আছে জানালা দিয়ে। তাদের ছুটি হয়নি সমবেদনা জানাবার। আমাদেরও ছুটি হবে কি?

কাজেই কিছু করা হবে না। আমার খালি তখন ইচ্ছা করতেছিল পাশের গার্মেন্টসটার তালা ভেঙে ওই বিষন্ন মুখের মানুষগুলিকে বের করে নিয়ে আসি। আমি জানতাম, ছাড়া পেলেই বিষন্ন মুখগুলি হয়ে উঠবে ক্রোধম্মত্ত। বুক পেতে গুলি নেবার মতো ভয়-ভীতিহীন। ওরা পারবে, ওরাই পারবে।

আমার মতো মধ্যবিত্তরা পারবে না। এই জাতির কুনু চ্যাদব্যাদ নাই।

১২. ০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:২৬
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: কি করবো ? :)

বিচার চাই বলে গলা ফাটানো ছাড়া আর কিছু করার সাধ্য নাই ...
০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৫৯

লেখক বলেছেন: গলা ফাটাতেও পারব কি?

১৩. ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫৫
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: স্যরি, হাসির ইমোটিকনটা ভুলে পড়ে গিয়েছে :(
১৪. ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০৫
comment by: মানবী বলেছেন: খুব দুঃখজনক, অমানবিক!

আমাদের দেশে শুধু পোশাক শিল্পে নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের অসুস্থতাকে এভাবে অবজ্ঞা করা হয়। একবার একজন পাকস্থলীর ক্যান্সারের শেস স্টেজে হাসপাতালে আসেন! তাঁর দেরীর কারন, তিনি পেট ব্যথার কথা জানালেই সবাই বলতো, "ঢং করছে"!!!


পোশাক শ্রমিকদের সাথে এই নির্মমতার কোন সমাধান নেই? সাভারের সেই ধ্বসে পরা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির দোষীরা শাস্তি পেয়েছে বলে মনে হয়না। পড়েছিলাম আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা শেষের আগেই মালিকপক্ষ "ঐকন বাড়ি গেলে পরে চাকুরী ফিরে পাওয়া যাবে" আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে ডিসচার্জ করে দেয়। এসব নিয়ে পত্রপত্রিকায় আর কোন লেখালেখি নেই!


পোস্টের জন্য ধন্যবাদ মুক্তকথা।
১৫. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫৬
comment by: মুনিয়া বলেছেন: হুমমম....

 



 


আমি নিজেকে একজন মুক্ত মানুষ বলে ভাবতে চাই। আমার মনে হয় মুক্ত চিন্তা বলার চেয়ে চিন্তার মুক্তি বলা অনেক শ্রেয়।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৬৬২