প্রতিদিন ফিরি রাজধানী কোম্পানির বাসে। মোহাম্মদপুর পর্যন্ত রিক্সা ভাড়া ১০ টাকা লাগে। রাজধানী বাসে লাগে ৩ টাকা। ফলে আমার মতো স্বল্প আয়ের লোকের জন্য দারুন সুবিধা।
আজ রাজধানী বাস যাচ্ছে না। কারণ কী? কোথায় না কি মারামারি হইছে। আগে মারামারি হইছে, রাস্তা বন্ধ শুনলে গায়ের মধ্যে চনমন করে উঠত। ছুটে যেতাম আগুপিছু না ভেবেই। হয়ত প্রবল উত্তেজনায় অংশও নিয়ে ফেলতাম। আজ লাগল বিরক্ত। আবার মারামারি। হয়ত হেঁটেই ফিরতে হবে। রিক্সাও যাচ্ছে না। বুঝা গেল গোলমাল জবর।
কিছুদূর এগোতে প্রবল জটলা, হইচই, আগুনের শিখা আর শ্লোগান শোনা যেতে লাগল। আবারও বিরক্ত। ধুর! আজকাল মানুষের ধৈর্য এত কম! একটু থেকে একটু হইলেই মিছিল। সম্পত্তি নিয়া ভাগাভাগি, ছেলে কতটুকু পাবে, মেয়ে কতটুকু পাবে, ইসলাম কী বলে, নাফরমানরা কী বলে, লাগাও গোলমাল।
আর গোলমাল মানেই চালের দাম আরেক দফা বাড়া। অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়া। আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের আশঙ্কা শেষপর্যন্ত এখানে এসে থামে। কী করব? চাল কি এখন আর কিনে খাওয়ার জো আছে?
আরেকটু এগোলাম। পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে গার্মেন্টসের মেয়েরা। কী হইছে ভাই? এক ভদ্দরলোককে জিজ্ঞেস করলাম। বলল, জানি না, ভাই। কতকিছুই তো অয়!
এবার জিজ্ঞেস করলাম এক গার্মেন্টসের মেয়েকে? আপা, কী হইছে এইখানে? ঝামটা মাখা উত্তর, হেতে আফনেগো কী?
দুই চোখে প্রচণ্ড ক্রোধ। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সামলে উঠার আগেই জানলাম মারা গেছে এক শ্রমিক। অসুস্থ্য ছিল। ছুটি চেয়েছিল বাড়ি যাবার জন্য। ছুটি পায়নি। ঘন্টাখানেক শারীরিক দুর্বলতার সাথে লড়াই করে ঢলে পড়ে মেঝেতে। ম্যানেজার এসে ব্যাপার দেখে বলে, ঢঙ। খানিক পর জানা যায় মারা গেছে সে।
সাংবাদিকরা সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে ফ্লাশ জ্বেলে জ্বেলে ছবি তোলার চেষ্টা করছে লাশের পাশে কান্নারত মেয়েটার মা কিংবা বড় বোনের। কয়েকজন ভদ্দরলোক ভিড়ের সুযোগে গার্মেন্টসের মেয়েদের গায়ে হাত টাত রাখার চেষ্টা করছে, স্পষ্টই দেখলাম।
আর আমি? আস্তে আস্তে গুটি গুটি পায়ে নিরাপদে বাসায় চলে এলাম। কী হবে আর এখানে থেকে? আমি আর কী-ই বা করতে পারব? পুলিশ আছে সাংবাদিক আছে, উৎসাহী দর্শক আছে। শুনলাম মালিকও নাকি আসছে।
আসুক। তারাই যা করার করবে। আমি বরং বাড়ি যাই।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


