আমার প্রিয় পোস্ট

ডকুমেন্টারি ফিল্ম মানেই ওয়াইল্ড শ্যুটিং না

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমাদের দেশের তরুণরা সৃজনশীল কাজ হিসেবে প্রথম যে কর্মটি করেন সেটি হল কবিতা। তাদের অনেকেই বিরাট কবি, সন্দেহ নাই। কিন্তু অচিরেই বেশির ভাগেরই কবিতার লেখার ইতি ঘটে। নানা কারণে। কেউ কেউ টিকেও থাকেন, কেউ কবিতার জোরে। কেউ গায়ের জোরে।

আমাদের দেশের তরুণ ফিল্মমেকাররা তাদের প্রথম ছবি হিসেবে বানান ডকুমেন্টারি। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য (ফিকশনের মতো) কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না, স্ক্রিপ্ট লাগে না, স্ক্রিন প্লে লাগে না (অনেকেই তাই মনে করেন)। ক্যামেরা একটা বগলদাবা করে বের হয়ে গেলেই হল। জায়গা মতো গিয়ে ক্যামেরা খুলে ইচ্ছামতো ঘুরালে আর মানুষজনের সাক্ষাৎকার নিলেই মুটামুটি কর্মটি সারা হয়ে যায়। এরপর বাকী থাকে সম্পাদনা, যেখানে টাইটেল আর মিউজিক বসানো ছাড়া অন্য কাজ খুব কমই করা হয়।

সাক্ষাৎকার সম্পাদনার সময় কথার মাঝখানের কাটা ভরাট করার জন্য ইনসার্ট ঢোকানো হয়। সেই ইনসার্টের কোনো অর্থ থাকে না। কেবলই কাটা ভরার দরকারে তা সম্পন্ন হয়।

দ্বিতীয় কারণটা হল, আনকমন একটা বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাতে পারলে নিজেকে তাদের কলম্বাস কলম্বাস লাগে। তারা এমনও বলে বসে যে অমুক গ্রামটা, তমুক চরটা আমরা 'আবিষ্কার' করেছি।

ডকুমেন্টারির দোষত্রুটির কথা বলতে গেলে তারা মুখস্ত জবাব দিয়ে জানান যে যথেষ্ট বাজেট ছিল না, বাজেট থাকলে হাতী-ঘোড়া মেরে দেখাতাম। কোন শটের ত্রুটির কথা তুলতে গেলে বলেন, এটি চলচ্চিত্রের নতুন গ্রামার। তারা গ্রামার ভাঙছেন। তারা সাবেকী ব্যাকরণ মানেন না। কেউ কেউ এক কাঠি বেড়ে বলেন, ওসব গ্রামার পুঁজিবাদী। ওসব মানতেই হবে, এই মনোভাব হচ্ছে ঔপনিবেশিক মনোভাব, পরাধীন মনোভাব।

কিন্তু তারা জানেন না চলচ্চিত্রের একটা বিশেষ ভাষা আছে। একটা রিয়েল জিনিসকে ক্যামেরায় ধারণ করলে তা আর রিয়েল থাকে না। ফ্লাট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রের ভেতরকার বাস্তবতা হচ্ছে ভারচুয়াল বাস্তবতা, সেটা তৈরি করতে হয়, কেবল ধারণ করে সেটা তৈরি করা যায় না। এই ভারচুয়াল বাস্তবতা তৈরি করতে হয় মূলত সম্পাদনার মাধ্যমে। কখনও কখনও স্পেশাল এফেক্টের মাধ্যমে, শব্দ বা আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে। সম্পাদনার কথা মাথায় রেখে, সে অনুযায়ী দৃশ্য ধারণ করার মাধ্যমেই তার ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করতে হয়। সেই বাস্তবতা বা রিয়েলিটি তৈরি করার জন্য কখনও কখনও (এমনকি প্রায়শই) মিথ্যা বা সাজানো দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তবেই সেই বাস্তবতা ফুটে ওঠে।

আর এটা করতে গেলে সেই জায়গার অন্ধি অন্ধি চিনতে হয়। সেখানে ছয়মাস-একবছর আগে কাটাতে হয়। তাহলে সেখানকার বাস্তবতাটাকে কিভাবে ভারচুয়াল বাস্তবতায় রূপান্তর করা যায় সেটা বোঝা যায়।

ধরা যাক একটা বাস ও রিক্সার অ্যাক্সিডেন্টের কথা। অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে বাস্তবে সময় লাগে এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ। কিন্তু সেই অ্যাক্সিডেন্ট চিত্রায়িত করতে হলে, প্রতিটি ডিটেল দেখাতে হলে সেটার দৈর্ঘ্য দশ সেকেন্ডেরও বেশি হতে পারে। বাসের দ্রুতগতিতে আসা, রিক্সাওয়ালার সময়মতো সরতে না পারা, যাত্রীদের চেহারায় শংকা, বাসের ড্রাইভারের শেষ মুহূর্তে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা এই সবকিছুর পরিস্ফূটন করা হলে দেখা যাবে তার দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। এখানেই বাস্তবতা আর ভারচুয়াল বাস্তবতার পার্থক্য। ভারচুয়াল বাস্তবতায় টাইম আর স্পেসের মাত্রা অন্যরকম।

এই ভিন্ন ল্যাংগুয়েজ না শেখা পর্যন্ত চলচ্চিত্র বানানোর চেষ্টা কামারের অলংকার বানানোর মতো। সেখানে শ্রেণীচৈতন্যের বিলোপ থাকতে পারে, কিন্তু আর্ট নয়।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): চলচ্চিত্র ;
প্রকাশ করা হয়েছে: শব্দের ঘরে নিঃশব্দ  বিভাগে ।

 

  • ৫৭ টি মন্তব্য
  • ৪০৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ২ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯
comment by: অ রণ্য বলেছেন: ভাল লাগল আপনার লেখাটা
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৩
comment by: মানুষ বলেছেন: লেখাটা ভাল্লাগলো
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: শুক্রিয়া।

৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: এইখানকার ডকুকাকারো তো কনটেক্সট না বুইজ্জা খালি নগরে যা চলবো তার একটা যেনতেন প্রোডাক্ট নিয়া টক্কাটক্কী করে। কনটেক্সুচুয়ালো হয় না ডকুও হয় না। হয় আরেকটা ডাকাতী। সবাই আবার এইটারে সেলিব্রেট করে।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৩

লেখক বলেছেন: একজন আরেকজনরে বাঁচায় রাখে আর কি। আর কেউ তো সেলিব্রেট করবে না।

৪. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮
comment by: শুন্য মনির বলেছেন:
অরণ্য ভাই ,সময় করে সমস্তটাই পেড় শেষ করলাম, সত্যি ভাল লেগেছে,কিছু অংশ এত ভাল লেগেছে যে....+
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৪

লেখক বলেছেন: অরণ্য ভাই?

????

৫. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৫
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: তবে এর মধ্যেও অনেক ভালো কাজ হয়..কাজ করার চেষ্টা হয়, এইটাই আশার।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন: কোনো সন্দেহ নাই। তাদের প্রতি স্যালুট। ভাল ডকুমেন্টারি আরো হোক। ভেবে দেখুন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া ডকুমেন্টারি আছে মাত্র ১২টি (সেই সময়ে করা)। অথচ সেগুলারো আসল প্রিন্ট কার কাছে আছে, কী অবস্থায় আছে, সেইডা কেউ জানে না। সরকারো না।

৬. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৭
comment by: অ রণ্য বলেছেন: শুন্য মনির


আরে ভাই এই লেখাটা তো আমার না
কি মুসকিল !!!!!!
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন: আসলেই মুশকিল।
:)

৭. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০২
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: অনেক অনেক ভাল লাগল। প্রিয়তে সাজিয়ে রাখলাম।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার শোকেসে স্থান পেয়ে গর্ববোধ করছি।

৮. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৬
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: চমৎকার লেখা। আরো ডিটেইল লিখবেন চলচ্চিত্র নিয়ে?
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: লেখার ইচ্ছা তো ষোল আনা। চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

৯. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২২
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: অন্যগো মতোন আমার কাছে লেখাটা প্রিয় হইলো না বইলা দুঃখিত।

উল্লেখিত দুর্বল প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাগো মতোন আপনের লেখাটাও দুর্বল লাগলো আমার কাছে...

কিন্তু তারা জানেন না চলচ্চিত্রের একটা বিশেষ ভাষা আছে। একটা রিয়েল জিনিসকে ক্যামেরায় ধারণ করলে তা আর রিয়েল থাকে না। ফ্লাট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রের ভেতরকার বাস্তবতা হচ্ছে ভারচুয়াল বাস্তবতা, সেটা তৈরি করতে হয়, কেবল ধারণ করে সেটা তৈরি করা যায় না। এই ভারচুয়াল বাস্তবতা তৈরি করতে হয় মূলত সম্পাদনার মাধ্যমে। কখনও কখনও স্পেশাল এফেক্টের মাধ্যমে, শব্দ বা আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে। সম্পাদনার কথা মাথায় রেখে, সে অনুযায়ী দৃশ্য ধারণ করার মাধ্যমেই তার ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করতে হয়। সেই বাস্তবতা বা রিয়েলিটি তৈরি করার জন্য কখনও কখনও (এমনকি প্রায়শই) মিথ্যা বা সাজানো দৃশ্যও ধারণ করতে হয়। তবেই সেই বাস্তবতা ফুটে ওঠে।

এই প‌্যারাটা রীতিমতো নবীসি মনে হইলো...বাস্তবতা আর পর্দা বাস্তবতা এমনেই অনেক পৃথক দুইটা বিষয় তারে আরো ম্যানিপ‌্যুলেশনের কথা কইতেছেন আপনে, কিন্তু এনজিও ধারার অর্ডারি ডক্যু ফিকশন বাদে আর কোন ডক্যুতে এই ম্যানিপ্যুলেশন করলে অনেকসময় অপরাধ হিসাবেও বিবেচিত হয়। প্রামাণ্যচিত্রের দর্শনে নৈতিকতা অনেক বড় একটা বিষয় হিসাবে বিবেচিত সেইটা বরং মাথায় রাখনটা জরুরী...

তবুও প্রামাণ্যচিত্র নিয়া সাধারনতঃ কেন লেখা এই ব্লগের প্রান্তরে চোখে পড়ে না, আপনে ব্যতিক্রম হইলেন বইলা ধন্যবাদ জানাই।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: একটা উদাহরণ েদই, কানসাটের কথা তো জানেন, সেইটা নিয়া একটা ডকুমেন্টারিতে তিনটা শট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম শটটা হল, কয়েকটা পুলিশ লাত্থি মেরে একটা দরজা ভাঙতেছে; দ্বিতীয় শটটা হল এক মহিলা ঘরের মধ্যে বসে ছিলেন। হঠাৎ চমকে ক্যামেরার দিকে তাকাচ্ছে। তৃতীয় শটটা হল ঐ পুলিশরা দরজার ভেতরের মানুষদের দিকে বন্দুক তাক করতেছে।

এখন আপনাকে বলি, পুলিশের দরজায় লাথি মারার শট, আর ঐ মহিলার শট নেয়া হয়েছে ছয় মাস আগে আর পরে। এখন আপনার কাছে প্রশ্ন, নৈতিকতার প্রশ্নে ব্যাপারটা অনৈতিক। এক ধরনের চিট করা হয়েছে। (এটাও চলিচ্চেত্রের একটা ল্যাংগুয়েজ, চিট করা)। কিন্তু কানসাটে যে পুলিশ লাথি মেরে ঘরের ভেতরে ঢুকেছে এবং ঘরের বাসিন্দাদের দিকে বন্দুক তাক করেছে, এটা তো সত্য। এই চিটটুকু না করলে তো এই ডকুমেন্টারিতে সেই সত্যটুকু তুলে ধরা যেত না। যেত কী? আপনার ব্যাখ্যা কী হবে?

১০. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৯
comment by: মুক্তকথা বলেছেন: এটাই বাস্তবতা আর ভারচুয়াল বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য।
১১. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫০
comment by: লাল দরজা বলেছেন: ভাই 'ফিকশন' আর 'ডকুমেন্টারি' ঘোলাইয়া ফেললে হয় 'ডকুফিক্শন' তিনটা কইলাম তিন জিনিস। আপনে কইলাম আলোচনা করতাছেন ডকুমেন্টারি নিয়া।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: কোনো সন্দেহ নাই, তিনটা তিন জিনিস। ফিকশন দিয়া ডকু করতে যাবার সমূহ বিপদ আছে, যদি না কিছু জিনিস বোঝানোর জন্য তার দরকার হয়। তবে সেটাও সত্যই হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত। মিথ্যা বলার কোনো উপায় নাই।

এখানে সত্য, মিথ্যা কিংবা নৈতিকতা নির্ভর করে নির্মাতার বোধ-বুদ্ধির উপর। তিনি কী বলতে চাচ্ছেন তা নিজে যদি বুঝে থাকেন, তাহলে ডকু মিথ্যা হবার ভয় নাই। কিন্তু লেন্সে যা ধরা পড়ল তাই নিয়া সম্পাদনা কৈরা ডকু বানাইয়া মাঠে ছাইড়া দিলে সেইটা হয় অনৈতিক।

এখানে সত্য-মিথ্যার বিতর্ক ব্যাপারটার সাবধানে আলোচনা করা দরকার। সত্য আর মিথ্যা বড় আপেক্ষিক।

১২. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৫
comment by: রক্তাক্ত যোদ্ধা বলেছেন: হুমম...............ভালো লাগল পড়ে............... +
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, যোদ্ধা।

১৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: প্রামাণ্যচিত্রে enactment একটা বহুব্যবহৃত পদ্ধতি কিন্তু এই ধরণের চিত্রায়নের ব্যাপারটা ঘোষণা দিতে হয় প্রামাণ্যচিত্রে...অনেক ভালো প্রামাণ্যচিত্র আছে যেইখানে কোনরম নির্যাতনের দৃশ্য না দেখাইয়াও প্রামাণ্য কইরা তুলতে পারছে একটা ঘটনারে...

ভাইরে আপনে খালি চোখে যা দেখেন...একটা লেন্সের মধ্য দিয়া সেই একই ফ্রেম দর্শকরে দেখাইতে পারবেন না জীবনেও...স্ক্রীনের চাইরকোনা ফ্রেমের মধ্যে গেলে এমনেই পাল্টাইয়া যায় আপনার নিজের দেখা চাইরপাশ...একজন নির্মাতা ঠিক নিজে যা দেখতে চায় সেইটারেই দেখায়...এই আয়ত ফ্রেমের বাইরেও অনেক কিছু একই সময়ে ঘটে যারে দেখানো যায় না একই আবেদনে...বাস্তব অনেক বেশি happening...screen reality তাই lifestyle reality-এর থেইকা আলাদা হয়...তার মধ্যে আরো ম্যানিপ‌্যুলেশন প্রয়োজন আপনের!

অর্ডারি তথ্যচিত্র আর প্রামাণ্যচিত্রের মধ্যেকার পার্থক্যটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন...
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৪

লেখক বলেছেন: আমি তো সেই কথাই বলতেছি। খালি চোখের দেখা বাস্তবতা আর লেন্সের মধ্য দিয়ে দেখা বাস্তবতা এক না। এখানেই একটা বিশেষ ল্যাংগুয়েজের প্রয়োজন। খালি চোখের বাস্তবতাটা বুঝানোর জন্য একটা সাধারণের অতিরিক্ত ভাষা প্রয়োজন। আর সেইটাই সম্ভব হয় না ওয়াইল্ড শ্যুটিং-এ।

আপনি চলচ্চিত্রের মানুষ, আপনার জানা থাকার কথা, সং অব সিলোন কিন্তু একখানা অর্ডারি তথ্যচিত্র। কিন্তু ভাষা জানা থাকার কারণেই তা অসাধারণ প্রামাণ্যচিত্র।

১৪. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: জামাল ভাষ্করের কথা আরেকটু খিয়াল কইরা মুক্তকথা। ভাইবা দেখেন যে কোন লোকই কিন্তু খালি মাথায় যায় না। আরো মজার আসলে সে যেটা নিয়া যায় সেটা নিয়া সে সাধারণত সচেতন থাকেনা বা এই রাজনৈতিক অর্থনীতিতে এইটা তথাকথিত "সৃষ্টিশীল' বইলা গণ্য হয় না। কেন হয় না সেইটা বুজন দরকার। ডকুর টেকনিকাল বিষয় প্রায় বুঝি না কিন্তু রেপ্রিজেন্টশনটা মনে হয় বুঝার চেষ্টা করতে পারি...তর্কটা শুরু হইছে যখন থামানীর দরকার দেখি না।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬

লেখক বলেছেন: না না তর্ক চলুক। ধন্যবাদ।

১৫. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: আরেকটা কথা ,লেন্সের মধ্য দিয়ে যে বাস্তবতার উৎপাদন রাজনীতি খেলা করে সেইটা মনে হয় ডকু মেকারগো আরো বেশি বোঝা দরকার।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন: আমাগো বিপদ কিন্তু সেইখানেই। লেন্সের ভিতর দিয়া উৎপাদনের রাজীতি। আপনার শব্দগুচ্ছটা ভাল লাগল।

মিডিয়া এভাবেই সম্মতি পুনরুৎপাদন করে। কারণ এই উৎপাদিত বাস্তবতাকে সাধারণ দর্শক অগ্রাহ্য করতে পারে না। রাজনীতির শুরু এখানেই।

১৬. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: আমি নিজে সাত বছর পেশাগত প্রয়োজনে অর্ডারি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের লগে জড়িত ছিলাম...এই দেশের বহুজাতিক সাহায্য সংস্থা আর তার লগে সরকারী বিভিন্ন প্রজেক্টের তথ্যচিত্র নির্মান করছি-করাইছি...সেই অভিজ্ঞতা থেইকা কই প্রামাণ্যচিত্রের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য্য প্রধান বিবেচ্য হয় এই সব অর্ডারি কাজেই...গ্রাফিক্যালি বা কাঠামোগত দুইভাবেই আমরা সৌন্দর্য্য নিয়া ভাবতাম বেশি...

কিন্তু আমার দেখা পছন্দের প্রামাণ্যচিত্রের একটা বড় অংশই দেখতে খুব চটকদার ছিলো না...ধরেন নানুক অফ দ্যা নর্থ কিম্বা নর্মদা ডাইরী দুইটার কোনটারেই আমার নির্মাণশৈলী অনুযায়ী অনেক উচুদরের মনে হয় না...কিন্তু তারপরেও এই প্রামাণ্যচিত্রগুলি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয় তার বক্তব্য আর honesty দিয়া...

যাউগ্গা তারপরেও কই ওয়াইল্ড শ্যুটিংপন্থী প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাগো নিয়া যা কইছেন তাতে অনেকটাই বাস্তবতা প্রতিভাত হয়। ওয়াইল্ড শ্যুটিং পন্থী প্রামাণ্যচিত্র নব্বইয়ের দশকের সকল ফেস্টিভ্যালেই এক্সপেরিমেন্টাল বিভাগে দেখানো হইতো এই দেশে...তার একটা গ্রাফিক্যাল গুরুত্ব আছে অবশ্যই...কিন্তু সেইটাই প্রামাণ্যচিত্রের মোদ্দাকথা বা গন্তব্য কী না সেইটা নিয়া আমি আজো সংশয়ী...
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫১

লেখক বলেছেন: বিতর্কটা কিন্তু সেখানেই।

একটু অন্যভাবে বলি। অর্ডারি কাজে সময় পাওয়া গেছে, টাকা পাওয়া গেছে। ফলে সৌন্দর্যের দিকে মনোযোগ দেয়া গেছে। কিন্তু নান্যুক অব দ্য নর্থ কিংবা নর্মদা ডায়েরি কিংবা এ জাতীয় অ্যাকটিভিস্ট ডকুমেন্টারিতে সাধারণত কোনোটাই পাওয়া যায় না।

আমরা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার আনন্দেই কিন্তু নির্মাণশৈলীর দুর্বলতা মাফ করে দিই। কিন্তু মনে রাখুন, কথাটা কিন্তু 'নির্মাণশৈলীর দুর্বলতা'। ভাবুন, যদি নির্মাণশৈলী প্রয়োগ করার মতো সময় ও অর্থ জোটান সম্ভব হতো এসবব ছবির ক্ষেত্রে, তাহলে সেসব ছবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত?

১৭. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: আনন্দ পটবর্ধনের মনে হয় না ফান্ডিংয়ের সমস্যা ছিলো...তিনি বরং চাইছেন আন্দোলনের ছবি বানাইতে যেই ছবিতে কোন ম্যানিপ‌্যুলেশন নাই...
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৩

লেখক বলেছেন: আপনি নির্মাণশৈলীকে ম্যানুপুলেশন বলছেন?

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৬

লেখক বলেছেন: সেইটা পটবর্ধনের স্টাইলও হইতে পারে। আমরা যেমুন, ব্লগে যামু, খামু লিখতাছি, একটা ঘেটো ভাষা আর কি।

১৮. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: যদি নির্মাণশৈলী প্রয়োগ করার মতো সময় ও অর্থ জোটান সম্ভব হতো এসবব ছবির ক্ষেত্রে, তাহলে সেসব ছবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত?

এইবার পয়েন্টে। অন্যভাবে ভাবেন যে কোন ব্যবস্থা তার বিপরীত বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না এরকম প্রজেক্টে টাকা ঢালবো?
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৪

লেখক বলেছেন: বরং অন্যভাবে ভাবি, সেই টাকা দিবে জনগণ। এক টাকা দুই টাকা কইরা চান্দা দিবে। তাদের কথা বলে, এমন একটা ডকু বানানোর জন্য।

কী, অসম্ভব মনে হচ্ছে?

১৯. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০২
comment by: মুক্তকথা বলেছেন: আরেকটা কথা, বক্তব্য আর অনেস্টির কথা বললেন তো?

আমাদের মধ্যে একটা সাধারণ ধারণা আছে, বক্তব্যধর্মী আর অনেস্টি সমৃদ্ধ ডকুর সৌন্দর্য্য দরকার নাই। সৌন্দর্য কেবল অর্ডারি কাজেই দরকার। কথাটা ঠিক নয়।

একটা উদাহরণ দেই, এই ব্লগে কৌশিক নামী একজন ব্লগার একটি পোস্ট দিয়েছিলেন পলিভিনাইল ক্লোরাইডের ভাত শিরোনামে, (শিরোনাম ভুল হইতে পারে), কিংবা ফারুক ওয়াসিফের খাদ্য সংকট বিষয়ক একটা পোস্টও দেখলাম ব্লগে (দুঃখিত, লিংক দিতে পারছি না এই মুহূর্তে)। তারা খাদ্য নিয়ে, বিশেষ করে ভাত নিয়ে মানুষের যে কষ্টটার কথা তুলে ধরেছেন তা বক্তব্যধর্মী। তা তারা কাঠখোট্টা ভাষায়ও দিতে পারতেন। তা না করে তারা সেখানে অসাধারণ ভাষাশৈলী প্রয়োগ করেছেন। ফলে লেখাগুলি অসাধারণ মানবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হয়েছে।

আপনারা যে অর্ডারি কাজ করতেন বলে জানালেন, সেখানে বললেন যে, গ্রাফিক্যালি বা কাঠামোগতভাবে সৌন্দর্য নিয়ে ভাবতেন বেশি। কেন? যাতে তার মধ্যে একটা মানবিক আবেদন ফুটে ওঠে, তাই তো? তাহলে একটা বক্তব্যধর্মী ও অনেস্ট একটা বিষয় নিয়ে ডকু বানানোর সময় যদি নির্মাতার অসাধারণ ভাষাশৈলীও সাথে যুক্ত হয় তাহলে তাকে নিরুৎসাহিত করা হবে কেন?

কেন বলা হবে, বস্তুনিষ্ঠ আর নৈতিক বিষয় নিয়ে নির্মিত ডকুতে ওইসব গ্রামাটিক্যাল সৌন্দর্য থাকা বাঞ্ছনীয় নয়?
২০. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২২
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: সৌন্দর্য্য থাকবো না এইটা আমি কখনোই বলতে চাই নাই...সৌন্দর্য্য থাকনটা জরুরী না বইলা আমি মনে করি। একটা ডক্যুমেন্টারী ফিকশনেট হইতে পারে...কিন্তু তখন সেইটারে ডক্যু ফিকশনই কওয়া হয়। enactment একটা ডক্যুমেন্টারীর প্রধান অংশ হইতে পারে...কিন্তু সেইখানে ঐটারে enactment হিসাবেই দেখা হয়, সত্য বইলা ধরা হয় না।

চলচ্চিত্রের ভাষা বিতর্ক এইখানে নিয়া আসাটা সমিচীন মনে হইতাছে না। চলচ্চিত্রের উত্তরাধুনিক বিশ্লেষকরা ইমেজ'রে চলচ্চিত্রের ভাষা কওনের বিরোধীতা করেন। এখন ইমেজের সৌন্দর্য্য নিয়া একজন প্রামাণ্যকার আগ্রহী হইতে পারেন কিন্তু সেইটা সেই ডক্যুমেন্টারীরে চিত্তাকর্সক বানানের তাগীদেই করা হয় বক্তব্য জোরালো করনের তাগীদে না।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: ইমেজ আর চলচ্চিত্রে ভাষা দুইটা দুই জিনিস। চলচ্চিত্রে খালি ইমেজ না, আরও অনেক কিছু থাকে। যাকে চলচ্চিত্রের ভাষা বলা যায়।

এঅ্যাক্টমেন্ট বাস্তব না, এইটা সবাই জানে, কিন্তু এঅ্যাক্টেমেন্টের কাজ তাইলে কী? সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই তো? অন্য কিছু থাকলে তা আমার জানা নাই।

আমি কেবলমাত্র নিছক ইমেজের সৌন্দর্যের কথা বলতেছি না। বলতেছি উপস্থাপনের মধ্যে একটা মানবিক আবেদন থাকতে পারে। একটা বক্তব্যধর্মী গানেও যেমন ভাষা চাতুর্য কিংবা মেলোডিয়াস সুর থাকতে পারে। এই সৌন্দর্য কখনও বক্তব্যকে খর্ব করে না। বরং তার সহায়ক হয়।

সৌন্দর্য কেবল চিত্তাকর্ষক করার জন্য, তা আমি মানতে পারছি না। দুঃখিত। সৌন্দর্যর আলাদা আবেদন আছে। সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনও আছে।

জনগণকে অতি সত্ত্বর ভাত দেওয়া হউক

আর

ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাব।

পার্থক্য আছে না?

২১. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৪
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: চিত্তাকর্ষক*
২২. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৮
comment by: জেনারেল বলেছেন: এইটা বুইড়া ছাগু
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৭

লেখক বলেছেন: ???

২৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৪
comment by: দারাশিকো বলেছেন: খুব ভালো লাগল তর্ক বিতর্ক দেখে, পোস্ট এর চেয়েও বেশী ভালো লাগল। খুব ভালো হয় যদি মুভি নিয়ে আরও পোস্ট দেন। ব্লগে সিনেমাওয়ালাদের দেখলে উৎসাহিত বোধ করি।

'সিনেমাখোর' গ্রুপে জয়েন করেছেন কি? না হলে করুন প্লিজ

Click This Link
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০০

লেখক বলেছেন: আমন্ত্রণের জন্য অজস্র ধন্যবাদ।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: আবেদন কর্লাম।

২৪. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৪
comment by: ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: এই পোস্টের শিরোনামের সাথে একমত। প্রামাণ্যচিত্র মানেই যাচ্ছেতাই শুটিং না। আরও কিছু। তবে প্রামাণ্যচিত্র বিষয়টা নিয়েই আমার যথেষ্ট সন্দেহ এবং কৌতুহল আছে।

অনেক খেটেখুটে প্রামাণ্যচিত্রের নামে যে বিশ্বাসযোগ্য ন্যারেটিভ আর পর্দা-বাস্তবতা তৈরি করা হয়, তাকে আমি ফিকশন বলি। আপত্তি?

এবার নৈর্ব্যক্তিক প্রেক্ষণবিন্দুর ব্যবহার, রেপ্রিজেন্টেশন তত্ত্ব, ভিজুয়াল নৃবিজ্ঞান ইত্যাদির ছুরিচাকু নিয়ে সমালোচকগণ নামলেন, একে মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে।

ডকুড্রামা, এথনো-ফিকশন, মকুমেন্টারি, শকুমেন্টারি, mondo film - জঁরা-উপজঁরা আক্রান্ত অসংখ্য ট্যাগ লাগানো হলো। কিন্তু কোথায় প্রামাণ্যচিত্র? re-enactment না থাকলেও সম্পাদনার পর যা দেখছি, তার পুরোটাই কি আদতে ফিকশন না? নির্দিষ্ট থিম প্রতিষ্ঠা করতে ভিজুয়াল গল্প বলার চেষ্টা না?

সাথে রয়েছে টেলিভিশনের নিউজরিল, ডিসকভারি-ন্যাটজিও চ্যানেল আর রিয়েলিটি শো। এবং আকাশে-বাতাসে-টিভি পর্দায় এনজিও, সরকার বা করপোরেটদের ফরমায়েশি উন্নয়নমূলক/অবনয়নমূলক তথ্যচিত্রের ঘটঘটা।

নিশ্চয়ই কেউ এসবকে প্রামাণ্যচিত্র বলছেন না। এমনকি কিয়ারোস্তামির ক্লোজআপও। যদিও সিনেভাষার প্রথা/নান্দনিকতা খুঁজে পাবেন সেখানে। চিত্রনাট্যে, চিত্রগ্রহণে, সম্পাদনায়।

লেখার শেষ অনুচ্ছেদে মাস্টারিসুলভ বক্তব্য পড়ে একটু ক্ষোভ জন্মে। কামার হবার দোষে বা অলঙ্কার বানানোর ভিন্ন ল্যাংগুয়েজ না শেখার কারণে, কে জানে।

ধন্যবাদ আপনাদের। সিনেমা বিষয়ক লেখালেখি এবং উপজাত মন্তব্যের জন্য।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১২

লেখক বলেছেন: গল্প বলার চেষ্টার দোষেই সবকিছু ফিকশন হয়ে যায়? তাহলে অভিসন্দর্ভও ফিকশন? সেও তো নির্দিষ্ট থিম প্রতিষ্ঠা করার জন্য গল্প বলার চেষ্টা।

এনজিওওয়ালাদের অর্ডারি কাজকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। কিন্তু সে অন্য ব্যাপার। তবে অর্ডারি কাজ আর আন্দোলনের প্রেষণা থেকে নির্মিত ডকুমেন্টারিকে আলাদা করতে যাবার একটা মুশকিল আছে। আমার মতে দুটোই ডকুমেন্টারি। সবাই একটা নির্দিষ্ট থিম ও মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই গল্প ফাঁদতে চাইবে। এই হক সবার আছে।

কথা হচ্ছে চলচ্চিত্রের ভাষা নিয়ে। তার নান্দনিকতা নিয়ে। সেসব কথা উপরেই আছে মনে হয়। বারবার বলার কিছু নাই।

কামারের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু তারপরও আমার স্বীকার করতে কুণ্ঠা নাই যে অলঙ্কার বানাতে যে শিল্পবোধ দরকার তা কামারের শক্ত পেশিতে নাই। তার দরকারও কামারের নাই। আর কামারের কাজকে শৈল্পিক মর্যাদা দেবার পার্টিজান প্রেষণাও আমার নাই। কামার তার ধার ধারে বলেও মনে করি না।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৪

লেখক বলেছেন: আপনার লেখার অনেক শব্দ আমার কাছে নতুন। অন্য কোনো সময় শব্দগুলো নিয়ে আপনার কাছে শিখব। হয়ত সেখানে অন্য অনেক ম্যানিপুলেশন আছে।

অসংখ্য ধন্যবাদ।

২৫. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৬
comment by: কৌশিক বলেছেন: নানা কারণে পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো। ফেভারিটে নেবার আগে লেখককে ধন্যবাদ।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২০

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।

লেখায় আপনার একটা পোস্টের রেফারেন্স দিয়েছি। কিন্তু লিংক দিতে পারিনি। কেমন করে দিতে হয়, জানাবেন?

২৬. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৭
comment by: কৌশিক বলেছেন: পোস্টে ও মন্তব্যে লিংক দেয়ার পদ্ধতি দুইধরণের। পোস্টে আপনি যে বাক্যে বা শব্দে লিংক স্থাপন করতে চান সেটি সিলেক্ট করে বক্সের উপরে অনেকগুলো বাটনের মধ্যে থেকে লিংকের জন্য নিদৃষ্ট বাটনটি খুঁজে বের করতে হবে। সেটা চেপে যে ডায়লগ বক্স আসবে সেখানে লিংক পেস্ট করার ঘরে দিয়ে দেবেন।

লিংকটা পোস্টে চলে আসবে। মন্তব্যে ঐটুকু কপি করে পেস্ট করতে হয়। মানে মন্তব্যে যদি লিংক দিতে চান তবে সেটা নতুন একটা পোস্টে এভাবে কারিশমা করে পরে কপি করে আপনার নিদৃষ্ট মন্তব্যে পেস্ট করে দিলেই কেবল তা সম্ভব। জটিল ও সময়সাপেক্ষ কর্ম।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩০

লেখক বলেছেন: কিন্তু যে মন্তব্য লিখে প্রকাশ করা হয়ে গেছে সেটাতে বোধহয় আর সম্ভব না। তাই না? আমি তো সেটা এডিট করার কোনো কায়দা দেখতেছি না।

২৭. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৩
comment by: মুক্তকথা বলেছেন: এই পোস্টে ব্যবহার করা দুইটি পোস্টের লিংক:

কৌশিক-এর "পলিভিনাইল ক্লোরাইডের ভাত" :-- Click This Link

ফারুক ওয়াসিফের "বৈশ্বিক খাদ্যসংকট: ভুখা বাঙালির ভাতের কষ্ট বনাম শতাব্দীর বৃহত্তম জোচ্চুরির ইতিহাস" :-- Click This Link

তাদের দুইজনকে ধন্যবাদ।
২৮. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭
comment by: কৌশিক বলেছেন: সেটাও পারবেন। আপনি মন্তব্যটা যদি অন্য কারো মন্তব্যে লেখকের জবাব অপসনটা সিলেক্ট করে দিয়ে থাকেন (যেমন এটাতে দিলেন) তবে মন্তব্যটি কপি করে রেখে মুছে ফেলুন। তারপরে নতুন করে মন্তব্যটি পেস্ট করুন লিংক সহযোগে। তবে স্বতন্ত্র মন্তব্যের ক্ষেত্রে (যেমন "আরেকটা কথা, বক্তব্য আর অনেস্টির কথা বললেন তো?" এই শিরোনামে যে মন্তব্যটা শুরু করেছেন) মুছে ফেলে আবার নতুন করে দিতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেক্ষেত্রে মন্তব্যটি নিচে চলে আসবে। তবে আপনার উল্লেখিত স্বতন্ত্র মন্তব্যটি জামাল ভাস্করের একটা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলে সেটিকে আপনি তার আগের মন্তব্যের জবাবে দিয়ে দিতে পারেন।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। বহুত জটিল আছে। এতোকিছু চিন্তা করিনাই। আপনি অনেক চিন্তা করেছেন দেখা যাচ্ছে।

২৯. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: জিকোর ফিকশন গল্পটা চমৎকার। আরো চমৎকার বাস্তবতার ট্যাগিং উপলব্ধিটাও। কিন্তু এইটা যে শিশুতোষ ডেডএন্ড এর কথা কয় তাতে মেকিং এবং চক্র তো বন্ধ থাকবো না। তাইলে আমার প্রশ্ন সবার কাছেই....কেবল পজিশন ঠিক করতে করতে জীবন যাইব নি? নাকি এর সবুগলা ৫ম স্তরেরর বাস্তবতার উপজাত??
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৪

লেখক বলেছেন: বিপদটা সেখানেই। বিশ্লেষণের ফেৎনায় পইড়া কাজের বারোটা বেজে যাবার দশা। আমি ফেৎনা বাজাইতে চাইনাই। কিন্তু এ কথা স্বীকার করতে দ্বিধা নাই, ফেৎনা বাদলে অনেক কথাই আমার অজানা থাকত। আর পজিশন ঠিক করার মনে হয় দরকারও আছে। সারা জীবন সাদা চামড়ারাই তো সংজ্ঞা বানাইয়া গেল আর আমরা বিনা দ্বিধায় তা মাইনাও নিলাম। এখন আসলে সময় আসছে কিছু কিছু সংজ্ঞা আমাদের হাতে তৈরি হবার।

এ জায়গা থেকেই ‍"থার্ড সিনেমা" কথাটার উদ্ভব। সে আলাপ না হয় আরেকদিন করা যাবে।

ধন্যবাদ শরৎ।

 



 


আমি নিজেকে একজন মুক্ত মানুষ বলে ভাবতে চাই। আমার মনে হয় মুক্ত চিন্তা বলার চেয়ে চিন্তার মুক্তি বলা অনেক শ্রেয়।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৬৬০