ভাই আজকাল ঘর থেকে বের হলেই দেখি নানান ধরনের প্রাইভেট কার ও গাড়ি। জনপ্রতি একটি করে গাড়ি এখন হাল সময়ের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এটি আমাদের ঢাকাসহ সারা দেশের ওপর একটি নতুন বিপত্তিতে পরিণত হয়েছে। এই উটকো ঝামেলা থেকে রেহাই পেতেই হবে আমাদের। ট্রাফিক বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা শহরে যানজটের মূল কারণ মাত্রাতিরক্ত প্রাইভেট কার বা গাড়ি। বিআরটিএ এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ২০০টি গাড়ি নিবন্ধন নেয়। তবে রাস্তায় নামলেই অন টেস্ট গাড়ির কমতি দেখতে পাইনা....। ট্রাফিক বিভাগ এত গাড়ির উৎসের কোন হদিস দিতে পারে নাই। সরকারসহ সব মহলের ধারণা যে মানুষের আয় ইনকাম বাড়ছে তাই বুঝি গাড়িও বাড়ছে... কিন্তু বিষয়টা তা না...........
আজ সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল এই প্রাইভেট গাড়ি।
আমাদের আড্ডায় একটি বিষয় উঠে এল.... আর তা হল... সিএনজি...........
হ্যা সিএনজি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের অবাধ ব্যবহারের সুযোগই এই হারে প্রাইভেট গাড়ি বেড়ে যাওয়ার কারণ।
কারণ ৩০০ টাকার গ্যাস ভরলে নাকি সারাদিন গাড়ি চালানো যায়। আর অপরদিকে তেলের লিটার ৭৭ টাকা। গ্যাসের তুলনায় তেলে গাড়ি চালাতে হলে ৩০০ টাকার তেলে উত্তরা থেকে মহাখালী যেতেই তেল শেষ হয়ে যাবে। তাছাড়া যে হারে যানজট আছে তাতে করে তো ৩০০ টাকার তেলে উত্তরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পার হওয়ায়ই দায় হবে। সে অবস্থায় একই পরিমাণ টাকায় তারা সারাদিন ঘুরে। তাই জনপ্রতি গাড়ি ব্যবহারতো হবেই।
আমার মতে প্রাইভেট গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
১। সকল প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে সিএনজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা।
২। রাষ্ট্রায়াত্ব সকল প্রতিষ্ঠানের সকল গাড়ি সিএনজি চালিত করা। (কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব বাহন সিএনজি করার সুযোগ পাবে না)।
৩। পাবলিক পরিবহন, যেমন বাস, মিনিবাস, টেম্পু, ট্যাক্সি ক্যাব, অটোরিক্সা; পণ্যবাহী বাহন যেমন, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, লরি ইত্যাদি বাদে বাকী সকল বাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া।
৪। জরুরী সার্ভিস প্রদানে নিয়োজিত যেমন- এম্বুলেন্স, কুরিয়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যেমন- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ইত্যাদি ব্যাতীত অপর সকল বাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া।
৫। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আমদানী করা তেলে সকল প্রকার ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করে দিতে হবে। এতে করে যদি তেলে লিটার ১০০ টাকায় দাড়ায় তা ১০০ টাকাই থাকবে। ফুটানী মারা ফকিন্নীগো লাইগা তেলের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে কোন প্রকার ভর্তুকি দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে লাভের জন্য দু-এক টাকা বাড়ানো যেতে পারে।
৬। উপোরোক্ত বিষয়গুলো যাতে সঠিকভাবে পালিত হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন করা। যেহেতু আমাদের মাঝে দুর্নীতি করার প্রবণতা বেশি সেজন্য প্রয়োজনে জেল ও জরিমানা রাখার ব্যবস্থা করা।
এসব ছাড়াও আরো কিছু প্রস্তাবনা আছে। তবে আমি মনে করি এইসব প্রস্তাব কার্যকর করতে পারলে অটোমেটিক ভাবে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রাইভেট গাড়ির দৌরাত্ব কমে যাবে। ঢাকার রাস্তা বর্তমানের তুলনায় ৮০ ভাগ প্রাইভেট গাড়ি কমে যাবে। আমরা চলাচল করতে পারবো অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে। তখন ফকিন্নীরা আর গাড়ি হাঁকায়া মৌজ করতে পারবো না। এসি চালায়া ফুল ভলিউম দিয়া কয়টা গাড়ি রাস্তা দিয়া চলাচল করে তা দেখার জন্য হয়তো ভাঙা হারিকেন লাগবো। তাও খুইজা পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে। তখন দেখা যাবে রাস্তা-ঘাটে দামি দামি গাড়ি পইরা আছে নেওনের কেউ নাই। গাড়ি বেশিরভাগই তখন রাস্তায় পইচা নষ্ট হইবো। তবু ওই ফকিন্নীগো গরীমা কিছুটা কমবো। এখন তো নিজের প্রত্যেকটা সন্তানরে আলাদা আলাদা গাড়ি ছাড়া স্কুলে পাঠায় না। এক জনের লাইগা একটা কইরা গাড়ি। তখন দেখমু নি কয়টা গাড়ি তারা পালতে পারে। আমরা তখন দেখবো যে, কোন অবৈধ গাড়ি পার্কিং নাই, রাস্তাঘাট ফাঁকা। কারন বৈধ পার্কিংয়ের জায়গাইতো ভরাট করার মতো গাড়ি থাকবো না.................
যাই হোক বিষয়টা নিয়া চিন্তা কইরা উত্তর দিয়েন......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



