খাগড়াছড়ি আর চট্টগ্রাম উৎসবের মধ্য দিয়ে আমাদের এবারের ঢাকার বাইরের উৎসবগুলো শেষ হয়েছে। প্রতি বছর উৎসব আমাদের নতুন নতুন অনেক ভাবনার খোরাক দেয়। এবারে সবচেয়ে বেশি দিয়েছে কীভাবে আমরা আরো বেশি শিক্ষার্থীকে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবো। কারণ কোথাও ২/৩ দিনের বেশি রেজিস্ট্রেশন চালু রাখা যায়নি! এমন কী ঢাকাতেও না যেখানে ১৪০০ রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।
একটা প্রস্তাব পাওয়া গেছে যা কীনা ভেবে দেখার মতো - বাছাই অলিম্পিয়াড। অর্থাৎ মূল উৎসবের আগে একটা বাছাই পরীক্ষা নেওয়া এবং তার মাধ্যমে কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যককে চূড়ান্ত পর্বে আনা। এখন আমরা না করলেও অনেক জায়গায় বাছাইটা হচ্ছে। যেমন দিনাজপুর, ফেনী, গোপালগঞ্জ। এগুলোর একটি ভাল দিক্ও আমরা দেখেছি। এরা মোটামুটি মূল উৎসবে ভাল করে।
এখন আমরা যদি বিভিন্ন জেলাতে এই বাছাইগুলো করতে পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে অনেক বেশিকে এই উৎসবে যুক্ত করা সম্ভব হবে। আর অনেক বেশি জায়গাতেও করা যাবে।
মূল পর্ব ১৩/১৪টাই থাকলো কিন্তু আমরা ছোট জেলাগুলোতে/কয়েকটি উপজেলাতে এই উপলক্ষে বাছাই অলিম্পিয়াড করতে পারি। দিনাজপুরে ৭০০, ফেনীতে ১০০০ এবং গোপালগঞ্জেও ৪০০ ছেলেমেয়ে বাছাইতে এসেছিল। এদেরকে আমরা আমাদের বর্ধিত অংশগ্রহণকারী বলতে পারি। এভাবে তাহলে অনেক বেশি জায়গাতে এটা করা সম্ভব হতে পারে।এই প্রস্তাবনাটি আমরা ভালভাবে ভাবছি।
দ্বিতীয় চিন্তা হলো দক্ষতা বৃদ্ধি। সাধারণভাবে এখন আমরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ, তাদের কাছে বই পৌছে দেওয়া আর সঙ্গে আমাদের উৎসবের নতুন নতুন সমস্যা তুলে দেওয়ার কাজটা করছি। সিলেট, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, নাটোর, নওগাঁ এরকম কয়েকটি স্থানে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো খুবই সীমিত। এবারে আমাদের শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে তারা প্রশিক্ষণও চায়। আমরা দুটো পদ্ধতির কথা ভাবছি - একটা হলো শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ আর একটি হলো বিভিন্ন স্থানে গণিতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচী, শিক্ষাথীদের জন্য। দুটোর জন্যই লোক আর অর্থ দুটোই দরকার। দরকার একটি বড়ো নেটওয়ার্কও। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি।
আমাদের রোডম্যাপে ২০১০ সাল পর্যন্ত একরকম গণিত অলিম্পিয়াডের ধারণা ছিল। পরের বছর থেকে উৎসবের স্টাইলটিও বদলানোর ইচ্ছে আমাদের আছে। সেটি নিয়েও আমরা অনেক মত পাচ্ছি। আরো হয়তো পাবো। দেখা যাক।
আমরা বিজ্ঞান নিয়েও কিছু কাজ করার কথা ভাবছি। এর মধ্যে একটি হলো গণিত ক্যাম্পের মতো বিজ্ঞান ক্যাম্পের আয়োজন করা। এটার জন্য পৃষ্ঠপোষক খুজছি। পেলে একটা ট্রায়াল দিবো এই বছরে।
পরিকল্পনাতো অনেক। দেখা যাক কতদূর তার মাঠে নামানো যায়।
সবার সেকেন্ড ডিফারেন্সিয়াল নেগেটিভ হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



