সকালে এক বাজারে গিয়েছি। যেকোন শাক আটি ১৫ টাকা! কিছু টুকটাক কিনতেই টাকা খতম। এই বাজারে আমি সচরাচর বাজার করি না। আজ সকালে ছুটির মুড থাকায় সময় বাঁচাতে চেয়েছি। সেটা টাকার ওপর দিয়ে গিয়েছে! যারা বুঝেছেন, তারা জানেন – বাজারের নাম হাতিরপুল বাজার। যেদিন ঢাকা শহরের সব বাজারে কাচামরিচের কেজি ১০ টাকা সেদিন হাতিরপুল বাজারে মরিচ বিক্রি হয় ২০ টাকায়!
বিকেলে রূবাই সহ বইমেলায় গিয়েছি। ম্যালা লোক। তিনলাইনের পেছনে দাড়িয়ে ঠিক মতো মেলায় ঢুকেছি। মাঝখানে এক দাড়িওয়ালা বউ সহ লাইনে ঢুকে গেল। কঠিন ভাবে তাকানোতে বলল- মানে, ...। যার সামনে সে ঢুকেছে সে কিছু বললো না। ঐ লোক হয়তো ভাবে স্বর্গে যাবে। যাবে, তবে বোকার স্বর্গে!
মেলা থেকে বই ছাড়াও কোকের গ্লাস, পেয়ারা খাওয়ার কাগজ এগুলো ফেরত বাসায় আনতে হয়। আজকেও এনেছি।
মেলায় গেলে হুমায়ুন আহমেদ-এর নতুন বই কেনা হয়। আজকেও তিনটে কিনেছি। নগদ পড়ে ফেলেছি নলিনি বাবু। নতুন একটা ফরম্যাট নিয়ে খেলছেন আমার অন্যতম প্রিয় লেখক। রাক্ষস, খোক্কস আর ভোক্কস-এ সেটা দেখেছি। নলিনীবাবুতে সেটার বিস্তৃতি করেছেন। তাঁর লেখার মধ্যে ফিজিক্সটাও আসে আজকাল। প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে আগে একটা লিখেছেন, অনেক আগে। এক লোক অন্য জগতে চলে যেত। মিসির আলীর পরামর্শে সে জগতের ছবি নিয়ে আসে যেখানে বোঝা গেল যে ঐ জগতটা আমাদের জগতের মিরর ইমেজ। নিষাদ পড়ার সময় কোয়ান্টাম ফিকিক্সটা ঠিকমতো বুঝতাম না। আজকে অনেক মজা পেয়েছি।
তবে, একটু মন খারাপ হয়েছে। আমাদের শক্তিমান লেখকের ইদানিং মনে হয় মৃত্যু চিন্তা বেড়েছে। রাশেদ হুমায়ুনের জন্য মন খারাপ হয়, নিষাদ যখন বড়ো হবে তখন তিনি থাকবেন না-এরকম বোধও আজকাল বেশি হয়। তার লেখাতে তাই এইসব চিন্তা উঠে আসে বেশি। আমি দর্শন সেভাবে পড়িনি। তবে, নলিনী বাবু পড়ে ভাল নাড়া খেয়ে গেছি!
একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল, ক্যাডেট কলেজ ক্লাবে। সেখানে যাওয়ার কারণে পরেরটা পড়তে হলো একটু আগে। হিমুর নীল জোস্না হিমুর অন্য বইগুলোর মতো। শেষটা মনে হলো আরো একটু পরে করা যেত, এই যা।
আল্লাহ হুমায়ুন আহমেদকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




