স্যামসং বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে
০১ লা আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
স্যামসং কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের একটি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট উইং এর কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তাদের প্রথম কিস্তির নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন ইতোমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
অনেকের হয়তো জানা নেই, কয়কে মাস আগে স্যামসনের একজন অতি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা মাত্র কয়েকঘন্টার জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন। সে সময় তিনি এখানে ১০০০ প্রকৌশলীর একটি সেটআপ গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। আমরা তাকে বলেছিলাম একসঙ্গে ১০০০ রিক্রুট না করে কয়েকধাপে এট সম্পন্ন করার জন্য।
আমি অবশ্য ভাবি নাই, তার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তারা সরাসরি নিয়োগ শুরু করত পারবে কেননা নতুন কোম্পানি শুরু করার অনেক হ্যাপা আছে। তবে, বোর্ড অব ইনভেস্টমন্ট দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে দিয়েছে। গুলশানে অফিস হয়েছে স্যামসন বাংলাদেশ।
তা এখানকার সেটআপে কী হবে- মূলত মোবাইল ফোন বেইজড নানারকম কাজ। থাকবে মিডলওয়্যারের কাজ। একটি ট্রেনিং সেটআপও হবে।
আপাতত ১০০ জন। পরের কিস্তি ২৫০ এবং ২০১১ এর মধ্যে এটি ১০০০ জনের একটি সেটআপে পরিণত হবে।
এ অফিসের দায়িত্ব নিয়ে ৫ বছরের জন্য যিনি এসেছেন তিনি তার স্বপ্নের কথা বললেন। আর বললেন তার স্বপ্ন পূরণ হলে বাংলাদেশের আইসিটির ক্ষেত্রে তার কথা সবাই মনে রাখবে।
আমরাও নিশ্চয়ই সেটা চাই।
[রিক্রুটমেন্ট বিডিজবস-এ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হচ্ছে। নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহীদের তাই চোখ কান খোলা রাখাই ভাল]
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অাতাউর রহমান কাবুল বলেছেন:
আমরাও অপেক্ষায় রইলাম ভাল কিছু দেখার জন্য মুনির ভাই
রিফাত হোসেন বলেছেন:
++++ অনেক ভাল
অমিত০৯৭ বলেছেন:
বিডিজবস ডাউন কেন? কি হইলো ওদের?
শেহাব বলেছেন:
আমাদের নীলাভ টেকনলজি গত ৪.৫ বছরে যে সব প্রবলেম পেয়েছে - ১. বাজারে ভাল গ্র্যাজুয়েট সাপ্লাই নেই। এবার আমাদের একটা ওপেনিং ছিল। ৩০০ র উপরে এপ্লাই করেছিল। কাউরে পছন্দ হয় নাই তাই নেয় নাই। আমার ধারণা এই ৩০০ র মধ্যে ২২০-২৫০ কে ২ বছরের ক্র্যাশ কোর্স করালে এরা যেকোন জায়গায় কাজ করতে পারবে।
২. ভাল আই.এস.পি. । একসেসটেল ছাড়া আর কোন আই.এস.পি. মিনিমাম কোয়ালিটি অফ সার্ভিস মেইনটেইন করে না।
নুভান বলেছেন:
মোবাইল ফোন ছাড়াও সামসং কম্পানীর আরও অনেক ক্ষেত্র আছে যেমন, সামসং এনার্জি, ম্যানুফেকচারিং, গাড়ি, এল ই ডি/এলসিডি, আইটি সহ আরও অনেক কিছু (আমরা স্যামসাং বললেও আসল উচ্চারন হবে সামসং)। সবথেকে ভালো হয় সামসং করপোরেশন যদি বাংলাদেশে তাদের ম্যানুফেকচারিং প্ল্যান্ট গুলো বসায়। তাহলে দেশেই আমরা কেমিক্যালস, মোবাইল, টিভি-মনিটর সহ সবকিছু উৎপন্ন করতে সামর্থ হব।
লেখক বলেছেন: তা তো ঠিক। তবে, আজকের আলোচনায় ও আর আগের সব আলোচনায় আমাদের হিউম্যান রিসোর্সের কথা এসেছে (শেহাবের মত দেখা দরকার)। যদি ওদের এই আরএন্ডডি সেন্টার ওরা ঠিক মতো চালাতে পারে, তাহলে নিশ্চয়ই আরো কিছু ওরা করবে।
স্যামসনের মাত্র দেড় লক্ষ স্কোয়ার ফিট জায়গা লাগবে। তাহলে বুঝুন ওরা কত বড় সেট আপের কথা ভাবছে!!!
শেহাবের মত অনুসারে আমাদের ফ্রেশদের ভালমত ট্রেনিং দিতে পারলে আমাদের রিসোর্চের সমস্যার সমাধান করা যাবে।
দেখা যাক।
আল্লাহ ভরসা!
সাহাদাত বলেছেন:
ভাল কথা শুনালেন।
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন:
তো আপ্নে বলতে চাচ্ছেন যে ঐ ১০০০ এর লিস্ট তৈরীর সঙ্গে আপ্নের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে। এবং তাদের নীতি নির্ধারণী সব ব্যাপার স্যাপার তারা আপ্নের সঙ্গে বসে ঠিক করে নিচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ। ভাল লাগল ভাইজান।
লেখক বলেছেন: স্যামসঙের মতো কোম্পানি নিজেদের ব্যাপার নিজেরাই করে। আমরা শুধু কিছু বিষয় ফ্যাসিলিটেড করার চেষ্টা করি। জানতে চাই ওরা কেমন লোক খুঁজছে, কী কী করতে চাই। চেস্টা চালাচ্ছি যদি ওরা কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্কে যেতে রাজী হয়। এসব আর কী।
শেহাব বলেছেন:
আরেকটা জিনিস হল আমাদের পাওয়ার স্টেবিলিটি। দেশের বাইরের যেসব ইউ.পি.এস. আছে তাদের মান খুব খারাপ। দেশি মাইক্রো বা রহিমআফরোজের কোয়ালিটি অনেক ভাল। এদের ট্যাক্স ওয়েভার দিলে ইনভ্যাস্টমেন্ট কম করতে হবে।
ওরাকল বলেছেন:
ভল উদ্দগ।
বিলাশ বিডি বলেছেন:
দারুণ ব্যাপার! আশা করি এরপর গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম এর মতো কম্পানীগুলোও বাংলাদেশে ওদের অফিস খুলবে।লেখক বলেছেন: দু:খ কী জানেন, এই বাংলাদেশে প্রথম যে আইটি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠত হয় সেটি কিন্তু কোন দেশী কোম্পানি ছিল না। বাংলাদেশের প্রথম আইটি কোম্পানির নাম আইবিএম বাংলাদেশ (With limited liability of IBM USA)। আজকে যারা আমাদের দেশে আইটি সেক্টরে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন তাদের অনেকেই এই আইবিমে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেন। আইটি সেক্টরে আমাদের একমাত্র বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধা জামান ভাই (শাহজামান মজুমদার, এখন থাকরেলে), মাইক্রোসফটের ফিরোজ ভাই (আইবিএমে থাকতে একবার কাঁচের দরজার ভিতর দিয়ে ওয়াক থ্রু করেছিলেন), ইমরান, ডাটাএজের আসিফ, মাইক্রোসফটের ফরিদভাই (মাহবুব ভাই চলে যাওয়াতে হার্ডওয়্যারের চার্জে চলে যান। ফরিদ ভাইকে দেখলে আমার মনে হয় এই বুঝি একটা লাইন প্রিন্টার ঠিক করতে শুরু করবেন), রুমেসাও মনে হয় (আমি খুব শিওর না)। একাউন্স-এ মুন্নী আপা, আরো দুইজন নাম ভুলে গেছি (ক্ষমা করবেন) আর সবার ওপরে সাজ্জাদ ভাই। তো, সেই আইবিএম বাংলাদেশকে সম্ভবত আমরা তাড়িয়ে দিয়েছি!!!
আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি আইবিএম আবার বাংলাদেশে অফিস করবে। তবে, নিশ্চিত হতে পারিনি।
গুগল বা অন্যরা কবে আসবে আমি জানি না। তবে, আমাদের তরুনরা কিন্তু এখন সবার জন্যই কাজ করছেন। এ কয়েকদিন আগে এপল ডেভেলপার ফোরাম থেকে ঘুরে এসেছে তানভীর। ফেসবুকে যোগ দেয়ার অফার ছেড়ে দিয়েছে এমন কয়েকজনকে তো আমি চিনি। আমরা চেনাজানার গণ্ডির বাইরে আরো অনেক আছেন।
আমাদের পটেনশিয়াল আমরা জানি। আমাদের সাফল্যের গল্পও আমরা জানি। আমরা কেবল সেগুলো ধরে রাখতে পারি না কারণ আমাদের ইমিডিয়েট আগের এবং আমাদের জেনারেশন যাদের জন্য রাজনীতির মতো জটিল পড়াশোনার বিষয়টি উপযুক্ত নয় তাদের হাতে রাজার নীতিটা ছেড়ে দিয়েছি। নিজেদের আখের গোছানোর জন্য সমষ্টির দায়িত্ব নেইনি। আমরা নিজেদের ভালর জন্য সমগ্রের ভালর লড়াই থেকে সরে এসেছি।
এখন তাই বদলের লড়াইটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম যদি তাদের লড়াইএর মাঠে ঠিকমতো ফিরতে পারে তাহলে তাদের জীবন আর সঙ্গে বাংলাদেশটা সুন্দর হবে।
আমি শেষ আশাবাদী লোকটা।
ইসতিয়াক আহমদ আদনান বলেছেন:
এখন তাই বদলের লড়াইটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম যদি তাদের লড়াইএর মাঠে ঠিকমতো ফিরতে পারে তাহলে তাদের জীবন আর সঙ্গে বাংলাদেশটা সুন্দর হবে।
আমি শেষ আশাবাদী লোকটা।আমিও স্বপ্ন দেখি আমরা আমাদের লড়াইয়ের মাঠে ঠিকমত ফিরতে পারব।
বিলাশ বিডি বলেছেন:
মুনির ভাই,আপনাদের লড়াইটা আমাদের দেশ নিয়ে আশাবাদী করে তোলে।
আমি নিজেও প্রচন্ড আশাবাদী মানুষ। এবং আশা করি একদিন আপনাদের লড়াইয়ে পাশে থেকে শামিল হতে পারবো।
আমাদের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আমি কিছু আশা করিনা। কিন্তু আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমি আশা করি এবং ওদেরকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই।
আমেরিকাতে অসংখ্য ভারতীয় ছেলেমেয়ে কাজ করে বিশেষ করে কম্পিউটার সেক্টরে, এবং ওদের অনেকেই দেশে ফিরে যাচ্ছে ওখানকার আইবিএম, গুগল, মাইক্রোসফটএ কাজ করতে। ইদানিং ভারতীয়রা আর আগের মতো আমেরিকাতে আসতে চায়না কারণ ভারতেই এখন সব কম্পানীর বড় বড় অফিস আছে। আপনার মতোই আমি জানি যে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের অনেক পটেনশিয়াল আছে, স্কিল আছে, কিন্তু ওদেরকে আমরা সুযোগ করে দিতে পারছিনা। রাজনীতিবদরা বিশাল সব বাধার প্রাচীর তৈরি করে রাখছে যাতে এসব কম্পানী বাংলাদেশে আসতে না পারে (কিন্তু নিজেদের ছেলেমেয়েদের ঠিকই বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে এসব কম্পানীতে কাজ করার জন্যে)। আপনার মতো মানুষদের চেষ্টার কারণেই হয়তো ওরা আস্তে আস্তে আসা শুরু করবে।
অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা আপনাদের এসব উদ্যোগের জন্যে!
আবু সালেহ সুমন বলেছেন:
আশাবাদী হওয়ার মতো একটা সংবাদ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।আমাদের রাজনৈতিক নেতারা যদি নিজেদের আখের গুছানোর চেয়ে দেশের মানব সম্পদ উন্নয়ন নিয়ে একটু ভাবতো!!
অনেক হতাশার মাঝেও বিশ্বাস করি দেশ একদিন ঠিকই এগিয়ে যাবে, তবে তার নেতৃত্ব দেবে এই তরুণ তুর্কিরাই...
শেহাব বলেছেন:
খুব শিগগির বাংলাদেশ লাইনে চলে আসবে। নিশ্চিত!
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন:
মুনির ভাই ৭ নং এর উত্তরে বলছি। আপনি বলেছেন " স্যামসঙের মতো কোম্পানি নিজেদের ব্যাপার নিজেরাই করে। আমরা শুধু কিছু বিষয় ফ্যাসিলিটেড করার চেষ্টা করি।"আচ্ছা এই আমরা মানে স্পেশিফিক কি ধরনের অর্গানাইজেশন ও কারা?
লেখক বলেছেন: প্রিয় ইচ্ছেফড়িং, আমরা বলতে আমি সরকারের বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে বুজিয়েছি।
অনেকসময় আমাদের ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক বা ম্যাথ অলিম্পয়াডের ভলান্টিয়ারদের সাহায্য নেই যাতে কিছু ছোট স্টাডি করে বা কিছু তথ্য যোগার করে দেওয়ার ব্যাপারে। যেমন ধরুন এখন আমরা চাইনীজ একটি প্রতিষ্ঠানকে পটানোর চেষ্টা করছি যাতে তারা এখানে একটি প্ল্যান্ট করে। ওরা আমার কাছে চাইলো গত তিন বছরের বাংলাদেশে পিসি আর ল্যাপটপ মার্কেটের সাইজের তথ্য। তখন একজন স্বেচ্ছাসেবক সে তথ্যগুলো যোগার করে দিল আর আমি সেটা পাঠিয়ে দিলাম। আর একজন আমাকে যোগাড় করে দিল বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কী কী সুবিধা আছে। এটি ওয়েব ঘাটাঘাটি করে কয়েকটি লিংক জানানোর কাজ সঙ্গে হয়তো ২/৩ লাইনের সামারি।
আমাদের মন্ত্রণালয়ের সব কাজ এখনো সুসংবদ্ধ হয়ে উঠেনি। কাজেই, যারা যা কিছু আছে তাই নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।
ধন্যবাদ।
সাজিদ. বলেছেন:
মুনির ভাই, এই R&D facility তে কি Electrical Engineer দের সুযোগ আছে কাজ করার? থাকলে specific কোন field ( VLSI / Cotrol System / VHDL Coding / Signal Processing)?আমার এখানকার অফিস জব করতে ভালো লাগেনা, আমি আমার লাইনের R&Dতে কাজ করতে চাই। আশা করি জানাবেন। আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবো আরো বিস্তারিত জানবার জন্য?
আজম বলেছেন:
ভালো খবর...শুনে খুব ভালো লাগল।দেশে অবশ্যই এই ধরনের প্রযু্ক্তির কোম্পানি গুলোকে জায়গা করে দেওয়া উচিত...আমরা প্রযুক্তি পন্যের ভোক্তা হচ্ছি উৎপাদান করতে পারছি না,এটা ভালো লক্ষন নয়।
শুনেছিলাম ইন্টেল কর্পোরেশন গত দশকে একটা ইন্ড্রাস্ট্রি বাসাতে চেয়েছিল এই দেশে,কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক অস্তিরতার জন্য সেটা সরে যায় ভিয়েতনামে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে এগিয়ে নিতে এইরকম যেন আবার না হয় সেই দিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















