-----সর্বশেষ আপডেট--- ২ মে, বিকেল ৫.৩৮ মিনিট
ড. মশিউর রহমানের টেস্ট রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, তার শরীরের অনত্র ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েনি, আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমত। এখন কেবল উদ্দিষ্ট অপারেশন করতে হবে।
আপনাদের সবার সহযোগিতায় এরই মধ্যে যে সাহায্যের প্রতুশ্রুতি পাওয়া গেছে তাই দিয়ে এই অপারেশনের খরচ মেটানো সম্ভব হবে। নতুন করে সাহায্যের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে না।
ড. মশিউরের এবং আমাদের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
সবাইকে আহবান জানাই আসুন আমরা আরো যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে দাড়াই।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। পোস্টটিকে স্টিকি রাখার দরকার নেই।
========================================
আমাদের সেরা ব্রেনগুলোর অনেকেই বিদেশে পড়তে যান, সেখান থেকে দেশে ফিরে এসে কাজ করার জন্য আকুলি পাকুলি করেন, মাতৃভূমির কষ্ট নিয়ে ভাবেন, তবে অনেকেই শেষ পর্যন্ত ফিরতে পারেন না। কারো জন্য দেশে তাঁর মেধা দেখানোর সুযোগ থাকে না, কারো কারো ছেলে মেয়ের পড়ালেখা শুরু হয়ে যায়, কেহ কেহ এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান যে যা কেবল আমরা স্বপ্নে দেখি। ফলে ফিরবো, ফিরবো করে আর ফেরা হয় না।
তারপরও অনেকে ফিরে আসেন এবং কেন জানি না তাদের সঙ্গে আমার এক ধরণের সখ্যতাও গড়ে উঠে। তাদেরকে দেখে আমি অনুপ্রেরণা পাই, নিজের ভেতর থেকে জেগে উঠি, ভাবি কী চমৎকার জীবন ছেড়ে তারা আমাদের এই দেশে এসেছেন, এই দেশটাকে বদলে দেওয়ার লড়াইটাকে নিজের করে নিয়েছেন। ভাবি, একদিন আমিও আলসেমি ছেড়ে তাদের মতো সত্যিকারের কিছু একটা করার কাছে শরীক হতে পারবো। ভেবে ভেবে সময় পার হয়।
এর মধ্যে দেশে আসেন আবেদ চৌধুরী, আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন আতাউল করিম স্যারসহ আরো অনেকে। আরো আসেন ড. মশিউর রহমানের মতো স্কলার লোকেরাও। কারো কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে ড. মশিউরের সঙ্গে আমার প্রথম কথা বলা। তারপর থেকে আমি তাকে দেখেছি শিক্ষার্থীদের জন্য নানান কাজে, গবেষণায় মগ্ন হয়ে সময় কাটাতে। কমিউনিকেশনের যে বিষয়টিতে তাঁর সবচেয়ে বেশি দক্ষতা সেটি এই দেশে ভাসুরের নামের সিনোনিম। এই একটি কারণ যথেষ্ট ছিল তাঁর চলে যাওয়ার। কিন্তু যাননি। যা করা যায় দেশে থেকেই করবেন ঠিক করেছেন।
গবেষণার কাজে জাপান গেলেন। একদিন আমাকে লিখলেন জাপানীরা যে কায়দায় প্রিয়জনকে খুজে ফিরেছে সেরকম একটা ব্যবস্থা নিজেদের জন্য করে রাখা দরকার (ভাবা দরকার, সে সময়ে আমাদের সরকার মনে করেছে জাপানে আমাদের দূতাবাসটা বন্ধ করে দিলে ভাল হয়!)। আমাকে জানালেন কীভাবে তিনি এই কাজের জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক যোগাড় করতে পারেন। তারপর ঠিকই তিনি কয়েকজনকে নিয়ে কাজটি করেছেন।
জাপান থেকে দেশে ফেরার সময় জেনেছেন যে একটি অপারেশন করতে হবে। কিন্তু তখন জানতেন না, ধরা পড়বে ক্যান্সার। এমন অপারেশন করতে হবে যার জন্য লাগবে ২০ লক্ষ টাকা। নিজের সঞ্চয় বলতে স্ত্রীর গচ্ছিত ১০ লক্ষ টাকা।
এখন ব্যাংককে তিনি আছেন। এরই মধ্যে ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আরো ১০ লক্ষ টাকা লাগবে! অনেকে হয়তো ভাববে,বেশিরভাগ সময় যিনি বিদেশে কাটালেন তিনি কীভাবে নি:স্ব থাকেন?
থাকেন, কারণ তিনি তার স্বপ্নের পেছনে দৌড়ান। আমরা যারা চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলে পড়েছি তারা আমাদের নূরুল ইসলাম স্যারকে দেখেছি। তিনি আমরা অংক পারলে ব্রিজ হোটেল থেকে পরোটা কিনে এনে খাওয়াতেন। সেরকম ড. মশিউর তার শিক্ষার্থীদের গবেষণার পেছনে, বিজ্ঞানী.অর্গ নামে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার কাজে, শিক্ষার্থীদের নানান কাজে যুক্ত থেকে সব টাকা খরচ করে ফেলতেন।
নিজের কঠিন দিনের কথা ভাবেন নি।
ভাববেনই বা কেন?
যে দেশের ডাকে তিনি প্রাচুর্য ছেড়ে এই লড়াই-এ ফিরে এসেছেন, সেখানে কি তিনি একা?
আমরা কী প্রমাণ করবো যে, দেশে ফিরে তিনি ভুল করেছেন?
আমার মনে হয় না।
তার শিক্ষার্থীরাতো বটে, আমরা যারা এই দেশটাকে বদলে দেওয়ার জন্য, জ্ঞান বিজ্ঞানে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুন্দর স্বপ্নের পেছনে একটু একটু করে লড়ে যাচ্ছি, তারা কী মাত্র ১০ লক্ষ টাকার কাছে হেরে যাবো?
১০ লক্ষ টাকা কতো টাকা? প্রত্যেকে একহাজার টাকা করে দিলে এক হাজার জন। ৫০০ টাকা করে দিলে দুই হাজার জন!!! মাত্র!!!
আসুন আমরা স্যারের পাশে দাঁড়াই।
কীভাবে সাহায্য করবেন?
ড. মশিউরের চিঠি (Click This Link) তে তিনি একাউন্ট নম্বর দিয়েছেন। দেশে ও বিদেশে যারা সমন্বয় করছেন তাদের নাম ধামও সেখানে আছে।
ড. মশিউর সেখানে লিখেছেন -
মার্চের শুরুতে জাপানের একটি গবেষনার কাজ গুছিয়ে যখন দেশে ফিরবার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছি, তখন জানতে পারলাম আমার মুত্রথলিতে একটি পাথর ও টিউমার আছে। এর পর জাপানের সুনামি ও তেজস্ক্রিয়তার কারণে আর এটি নিয়ে ভাবার সময় পাইনি। জাপানের কাজ শেষ করে মে মাসে যথারীতি বাংলাদেশে আমার কর্মস্থল নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার কথা। ভাবলাম বাংলাদেশে যাই, তারপরে সেখানেই অপারেশন করা যাবে। একটু খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম পাথরের অপারেশন বাংলাদেশে নিয়োমিত হচ্ছে এবং খুব একটি সমস্যা হবার কথা নয়। বাংলাদেশে ফিরে পিজির প্রোফেসর সালামের কাছে গেলাম এবং এপ্রিলের ১০ তারিখে অপারেশন করে পাথর ও টিউমার সরানো হলো। তবে ভয়াবহ খবরটি জানতে পারলাম তার তিনদিন পরে, টিউমার এর কোষগুলি টেস্ট করে সেখানে ক্যানসার ধরা পড়েছে।
সবার পরামর্শে ব্যাংককে আসি উন্নত চিকিৎসা করার জন্য। ব্যাংককে এসে তারাও জানায় যে ক্যানসার আছে। ক্যানসার থেকে রক্ষা পাবার জন্য খুব দ্রুত একটি জটিল অপারেশন করে মূত্রথলিটি সরিয়ে ফেলতে হবে। এই অপারেশন বাবদ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। হাতে আছে ১০ লক্ষ টাকা। এখন আমার আরো ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এখন আমি আপনাদের কাছে হাত পাতছি, বাকি অর্থ সংগ্রহ করবার জন্য সহায়তা করার জন্য।
অনেকে হয়তোবা ভাবতে পারেন দীর্ঘদিন যে বিদেশে ছিল তার কি অর্থের প্রয়োজন? কিন্তু আমাকে যারা ব্যাক্তিগতভাবে চিনেন, আমি হলাম ঘরের খেয়ে বাহিরের মোষ তাড়িয়ে ফিরি, দিনরাত বিজ্ঞানি.org নিয়ে ভাবি, অর্থ জমিয়ে বিত্তশালি হবার কথা ভাবিনি। ভাবলে প্রবাসেই জীবনটা কাটিয়ে দিতাম, বাংলাদেশে ফিরার সাহস করতাম না। আমার যা সংগ্রহ হয়েছিলো তাও আমার স্ত্রীর তিলতিল করে সংসার থেকে জমানো অর্থ। অথচ ব্যংককে আসার আগে সব কিছুই সে আমার হাতে তুলে দিয়েছে। আর পাশে এসে দাড়িয়েছে আমার পরিবারবর্গ। ইতিমধ্যে চিকিৎসা বাবদ আমার ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে।
আমি আমার জীবনের সমস্ত পাপ-পূণ্য আল্লাহর হাতে তুলে দিয়েছি। তিনি যা করার তা করবেন। আর আমি এখন আপনাদের সহায়তার পাণে তাকিয়ে আছি। আপনাদের সহায়তা পেলেই আমি আবার সুস্থ জীবন ফিরে পেয়ে দশ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারি।
এবং যেভাবে সাহায্য করা যাবে -
----------------------------------------------
অর্থ সংগ্রহের জন্য নিম্নে লিখিত লোকজন কাজ করছেন
বাংলাদেশ: মাহফুজুর রহমান মিলন +8801740615720 [email protected]
আমেরিকা: মাসুদুর রহমান +1 (304) 840-5861 [email protected]
জাপান: AKMF Azam হেলাল 090 4258 3837 [email protected]
সরাসরি অর্থ প্রেরনের ঠিকানা
Prime Bank
Name: Dr. Mashiur Rahman
Account no: 16421030001480
Account type: Savings
Bank name: Prime Bank Limited
Branch: Pallabi Branch
Bank Address: 1/11 Pallabi, Mirpur, Dhaka, Bangladesh
Swift code of the Prime Bank: PRBLBDDH
-------------------------------------------------------
প্রাইম ব্যাংক একটি অনলাইন ব্যাংক। কাজে দেশের যেকোন প্রাইম ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সরাসরি তাঁর একাউন্টে টাকা জমা দেওয়া যাবে। তবে, সবচেয়ে ভাল হয়, নিজে যাওয়ার আগে আশে পাশের লোকদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া যে তারা কেহ সাহায্য করবে কী না। তাহলে সবার থেকে নিয়ে একবারে জমা দেওয়া যাবে। সেটি বরং ভাল।
শ্রাবণীর জন্য টাকা তুলতে গিযে আমি দেখেছি অনেকে ব্যাংকে যেতে চান না। তারা কাউকে খুঁজে নিন। কয়েকজন মিলে টাকা তুলে নিজের কাছে রাখতে পারেন। নিজরা ব্যাংকে যেতে না পারলে আমাকে খবর দেবেন। আমি তেমন ব্যস্ত লোক নই। দরকার হলে আমি টাকা নিয়ে এসে ব্যাংকে জমা দেবো। অথবা কাউকে অনুরোধ করবো। তবুও ব্যাংকে যাওয়ার সময় হবে না এ কারণে দূরে থাকবেন না।
ড. মশিউর রহমানকে এই দেশের খুবই দরকার।
তিনি নিশ্চয়ই সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।
-----
সর্বশেষ আপেডট : গতকাল ১ মে, সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। আজ পরীক্ষার রিপোর্ট পাবেন। সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছন।
---
কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। কেবল স্টিকি করেই তারা দায়িত্ব শেষ করেন নাই। আমার মত এক অলসকে সেটি জানিয়েছেন। নতুবা এই আপডেট হয়েতা দেওয়া হতো না।
সবাইকে ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৫:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


