আমি তখন মাস্টার্সে। ঢাবির এসএম হলে থাকি। জন্ম দিন উপলক্ষ্যে বন্ধুরা ঘটা করে শুভেচ্ছা জানালো সেদিন। কেউ কেউ উপহারও দিল। পলাশ নামে আমাদের দুজন সহপাঠি ছিল। দুষ্টুমি করে সবাই একজন কে ডাকতো জন্ডিস পলাশ বলে। আরেকজনকে এইডস পলাশ (বর্তমানে সমাজসেবা কর্মকর্তা)। শেষোক্তজন সব সময় হাসি-তামাসাই ওস্তাদ ছিল। আবার সেসব হাসি-তামাসার বেশির ভাগই ছিল আদি রসাত্বক। তো এইডস পলাশ উপহার হিসেবে একটি রঙিন বক্স দিয়েছিল। পলাশ এর সমাজসেবা ও রসবোধকে সবাই ভয় পায়। আমিও। সে ভয় থেকে আমি আর প্যাকেটটি ক্যাম্পাসে খুলিনি। হলে নিয়ে যাই এবং ঐ অবস্থায় ট্রাংকে রেখে দেই। কী যেন ব্যস্ততার জন্য সেদিন আর প্যাকেটটি দেখা হয়নি। সেদিন রাত দু'টার দিকে দরজার করাঘাত শুনে রুমমেটদের ঘুম ভাঙ্গে। আমিও জেগে উঠি। দেখি সেসময়ের যৌথবাহিনীর সদস্যরা। হল রেইড করতে এসেছে। সম্ভবত তত্ত্ববধায়ক সরকারের (বিচারপতিহাবিবুর রহমান) নেতৃত্বে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এ অভিযান। আমার সাথে সাথে পলাশ এর দেয়া 'গিফট' বক্সের কথা মনে পড়ল। আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। রুমে সিনিয়র ভাইরা আছেন। আছে জুনিয়ররাও। একে একে চেক করা হচ্ছে। বিছানা, ট্রাংক, সবই। যথারীতি সবিনিময়ে আমার ট্রাংকটিও খুলতে বললেন। আমি খুলে দিলাম। একজন এগিয়ে এসে গিফট বক্সটিও খুলল। সবার চক্ষু ছানাবড়া!! গোটা শ'খানেক কনডম!! তাও বাংলাদেশী নয়, বিদেশী। উপস্থিত সেনা সদস্য ট্রাংকবন্ধী কনডম দেখে শুধু বললেন-এতগুলো কেন??? আর হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে পড়লেন। রুমে সিনিয়র-জুনিয়র সবার মুখে হাসি হাসি ভাব। আমি শুধু 'জাত জাত গেল' ভাবনায় নিমগ্ন!!!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



