আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলা ব্লগ: ভাষা, সংস্কৃতি চর্চা ও এক্টিভিজমের নতুন পাটাতন

১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৫

শেয়ারঃ
0 2 0

ভূমিকা: একটি নিপীড়নমূলক বিশ্বব্যবস্থায় প্রায় সকল রাষ্ট্রের অধিপতি শ্রেণীর বহুবিধ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সেন্সরশীপের কাছে যখন ভিন্ন মত, পথ ও চিন্তা প্রকাশের সম্ভাবনাগুলো জিম্মী হয়ে পড়েছে, এবং পড়ছে, প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত, তখন অপেক্ষাকৃত স্বাধীন মত ও চিন্তা প্রকাশের একটি কার্যকর পাটাতন হিসেবে বিশ্ব মানবজমিনে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্লগ। গণতান্ত্রিক লেবাসে স্বাধীন মত প্রকাশের জিকির তুললেও সারা পৃথিবীতে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপন নামের কলকব্জায় প্রধানত কর্পোরেট স্বার্থের কাছেই গভীর আন্তরিকতায় অনুগত। অপরদিকে আধা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা-আধা সামন্ত সংস্কৃতি প্রভাবিত প্রান্তিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর প্রধান প্রধান গণমাধ্যমগুলো, সেটি সংবাদপত্র হোক আর রেডিও-টিভি হোক, এখনও প্রবলভাবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সামরিকায়িত ডাগর চোখের কাছে বন্দী। এ রকম পরিস্থিতিতে এতদিন ধরে সীমিত পরিসরে প্রকাশিত অনুপত্রিকাই (লিটল ম্যাগাজিন) ছিল অন্যতম ভরসা। তথ্য প্রযুক্তির অসাধারণ বিকাশের ধারাবাহিকতায় ইন্টারনেট ভিত্তিক লেখালেখি, শিল্প-সাহিত্য চর্চা, মত প্রকাশ, তর্ক-প্রতর্কের মাধ্যম হিসেবে ব্লগ সে ভরসায় একটি সম্ভাবনাময় সংযোজন। মূধধারার সাংবাদিকতার বিপরীতে বিকশিত অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতা বা সিভিল জার্নালিজমের ধারণা মত প্রকাশের নতুন পাটাতন হিসেবে ব্লগকে অনেক বেশি অনিবার্য ও জনপ্রিয় করে তুলেছে। ব্লগ সার্চ ইঞ্জিন টেকনোরতি ডিসেম্বর ২০০৭ এ সর্বমোট এগার কোটি বিশ লাখেরও বেশি ব্লগ চিহিৃত করেছিল (সূত্র: উইক পিডিয়া) যা ব্লগের উক্ত আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকেই জানান দেয়। ব্লগ সাইটগুলো নিয়ে পৃথিবীজুড়ে রাষ্ট্র, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, কর্পোরেট অধিপতিশ্রেণীর সতর্ক পর্যবেক্ষণ আর নিয়ন্ত্রণ প্রয়াসই প্রমাণ করে বিকল্প মত প্রকাশ এর মাধ্যম হিসেবে ব্লগের কার্যকারিতা।
ফ্লাশব্যাক: জন্মের সময় নামটা ছিল ওয়েবলগ। যতদূর জানা যায়, জর্ন বার্গার নামের একজন আমেরিকান ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রথম ওয়েবলগ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি ব্লগ জগতের আদি মানুষদের একজন এবং প্রথম দিককার ব্লগ সাইটের উদ্যোক্তাও। বিবর্তনের ধারায় পরবর্তীতে ওয়েবলগ ব্লগ হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। ১৯৯৯ সালের এপ্রিল-মের দিকে পিটার নামের এক ব্যক্তি ওযেবলগ শব্দটিকে ভেঙ্গে 'উই ব্লগ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। ক্রমান্বয়ে তার ব্যবহৃত শব্দটিই জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং সামাজিক যোগাযোগ ও মত প্রকাশের মাধ্যম হিসবে বিভিন্ন ব্লগ বিপুল পরিমাণ লেখক-পাঠক-ভিজিটরের অভূতপূর্ব সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হয়। যার ধারবাহিকতা এখনও চলমান এবং ক্রমশ: বিস্তৃত হচ্ছে।

বাংলা ব্লগ: তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় যেখানে ইংরেজি ব্লগের বয়সটাই এখনও অনেক কম সেখানে বাংলা ব্লগতো রীতিমত আঁতুড় ঘরের নবজাতক। তবে নবজাতক হলেও বাংলা ব্লগ ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে প্রথমআলোর মতো মিডিয়া অধিপতির বাংলা ব্লগ উদ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভাব। ব্লগ বলতে যা বোঝায় সে হিসেবে ২০০৫ সালে প্রথম বাংলা ব্লগের যাত্রা শুরু। সামহোয়্যারইনব্লগ এর মাধ্যমে। তারপর এলো সচলায়তন, আমার ব্লগ, পেঁচালী। সর্বশেষ প্রথম আলো ব্লগ। বাংলা ভাষায় একটি পূর্নাঙ্গ ছবি চালুরও আয়োজন চলছে। আশা করা যায় এটিও খুব দ্রুত পথ চলতে শুরু করবে।
বাংলা ব্লগ: দৃশ্যমান সম্ভাবনার কয়েকটি দিক: প্রথম দিকে অনলাইনভিত্তিক ব্যক্তিগত দিনপঞ্জি লেখার ধারণা থেকে ব্লগের যাত্রা শুরু হলেও অল্প দিনের মধ্যে রূপ আর মাত্রিকতায় ভীষণ বৈচিত্রময় হয়ে উঠে। মূলধারার গণমাধ্যম থেকে ব্লগের উৎকর্ষতা ও জনপ্রিয়তার প্রধান সূত্রটিই এখানেই। ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া নানা খুনসুটি থেকে শুরু করে সমাজ, সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি, কী নেই এখানে। সবই আছে। ফলে বিষয় আর মতের এতো বৈচিত্র সমাহার অন্য কোথাও নেই বললে চলে। মূলধারার সংবাদপত্রে যেখানে একটি লেখা পাঠিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়, এবং জাত্যাভিমানের ব্যাকরণে নির্মিত সম্পাদনা নামের ছুরির কবলে অনেক সৃষ্টিই কোন দিন আর সৃষ্টি হয়ে উঠে না, সেখানে প্রচলিত ব্যাকরণে হয়তো অতি সাধারণ চিন্তক-লেখকও তার সৃষ্টিকে অনায়াসে তুলে ধরতে সক্ষম হন ব্লগের মাধ্যমে। মান-নিম্নমান ধারণার আড়ালে শিল্প-সাহিত্যের জগতেও যে একটি কেন্দ্র-প্রান্ত মেরুকরণ প্রক্রিয়া ঐতিহাসিকভাবে টিকে আছে ব্লগ সে প্রক্রিয়াকেই চ্যালেঞ্জ করে প্রান্তিক লেখক-চিন্তকদের জন্য একটি পাটাতন তৈরি করেছে। ফলে বাংলাদেশের যেকোন অঞ্চলের যেকোন অপ্রচলিত লেখক শুধু ইন্টারনেট সুবিধায় প্রবেশাধিকারের সুবাধে তুলে ধরতে পারছেন নিজের চিন্তা, মতামত এবং সৃজনশীলতা। এ ভাবেই বাংলা ব্লগ ইতোমধ্যে লেখালেখি জগতের প্রচলিত শহরকেন্দ্রীকতাকে, আরও সুস্পষ্টভাবে বললে ঢাকাকেন্দ্রীকতাকে অনেকখানি ভেঙে দিয়েছে, বিপরীতে ঢাকা, ঢাকার বাইরের জেলা এবং প্রবাসের বাংলা ভাষাভাষী লেখক-পাঠকদের মধ্যে নিয়মিত মিথস্ক্রিয়ার একটি ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার জায়গাটাকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে একটি সুসংবাদ। একই সাথে ব্লগারদের মধ্যে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়ার সুবাদে ভার্সূয়াল জগত এবং ভার্সুয়াল জগতের বাইরে সমচিন্তার মানুষদের মধ্যে সমাজরূপান্তরের আকাঙ্খাভিত্তিক এক্টিভিজমেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন, বিমান বন্দরের সামনে থেকে বাউল ভাস্কর্য সরানোর বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রাম, এনজিওদের ক্ষুদ্র ঋণের আড়ালে দরিদ্র মানুষদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন এর প্রতিবাদ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি, বিশ্বায়নের মোড়কে কর্পোরেট শোষণের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামাজিক-রাজনৈতিক উদ্যোগে ব্লগারদের নিরবিচ্ছিন্ন সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ থেকে প্রমাণিত। বিদ্যমান এবং সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতাগুলোর পরও বলা যায়, বাংলা ব্লগ আমাদের প্রাণের বাংলা ভাষাকে যেমন নতুনভাবে সমৃদ্ধ করার একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে তেমনি একই পাটাতনে দাঁড়িয়ে বিতর্ক-প্রতর্ক করে সমাজ রূপান্তরের আকাঙ্খাগুলোকে আরও বেগবান করার অমিত সম্ভাবনাও সৃষ্টি করেছে। সুতরাং তরুন প্রজন্ম সহ যতবেশি বাংলাভাষী মানুষ বাংলা ভাষাভিত্তিক এ ব্লগিং-এ যুক্ত হবে, ব্লগিং এর অদৃশ্য সম্ভবানাগুলো তত বেশিই আবিস্কৃত হবে। সে আবিস্কারে নেশাটা তৈরি হওয়ার এবং তা তৈরি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর বিকাশের ওপর অনেকখানি নির্ভর করছে বাংলা ব্লগিং এর আগামী দিনের গতি-প্রকৃতি।
পুনশ্চ: এ লেখাটি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রকাশিত ছোট কাগজ-শ্লেট-এ প্রকাশিত হয়েছে। কাগজটির স্পেসের সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলা ব্লগের সীমাবদ্ধতাগুলো আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলা ব্লগ ;
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২২
হাসিব বলেছেন:

ঠিকাছে । তয় একটা কথা । প্রতিষ্ঠিত-অপ্রতিষ্ঠিত কাগজভিত্তিক লেখক, মাঠ পর্যায় বা ড্রয়িং রুমভিত্তিক এ্যাক্টিভিস্টরা (যারা ব্লগের কথা জানেন ও ব্লগ লেখার কারিগরি জ্ঞান রাখেন) এখনও ব্লগকে লেখার জায়গা হিসেবে বা এখান হতে লিখতে শেখা ব্লগারদের তাদের জগতে লেখক স্বীকৃতি দেন নাই । এ্যাক্টিভিস্টদের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে । ব্লগও যে একটা এ্যাক্টিভিটিজমের জায়গা সেটা তারা প্রায়ই অস্বীকার করেন । দুপক্ষকেই এখানে উপদেশমূলক অবস্থানে চলে যেতে দেখি আমরা । এটা এভাবে ওটা সেভাবে করা ইত্যাদি নানারকম উপদেশ আমরা তাদের কাছ থেকে পাই ।
১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৮

লেখক বলেছেন: সহমত আপনার সাথে..............এ স্বিকৃতি না দেয়ার কারণ, আমার কাছে মনে হয়, কখনও ইচ্ছেকৃত, কখনও আবার না বুঝার কারণে। ইচ্ছেকৃত এ জন্য বলছি যে মূলকাঠামোতে তাদের অবস্থান যেহেতু কেন্দ্রে সেহেতু সে অবস্থানটা ভাংতে নারাজ.........আবার কখনও লেখালেখি এবং এক্টিভিজমেন বিকল্প জায়গা যে হতে পারে তাও বুঝতে পারেন না। কিন্তু এ ধরনের যোগাযোগ এর মাধ্যমে একটি চলমান উদ্যোগ ও আন্দোলন বেগবান হয় তার অনেক উদাহরণ আছে। পৃথিবীর অনেক দেশে তথাকথিত মূলধারার অনেক লেখই ব্লগে লেখেন। মূলধারার সংবাদপত্র যে ধরনের সংবাদ/প্রতিবাদ/বক্তব্য ছাপতে দ্বিধা করে তা তারা ব্লগের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
আপনি যাদের কথা বলছেন তাদের নিজস্ব এক্সক্লসিভনেস এবং ইনক্লুসিভনেস টাইপের আচরণের কারণে অনেক সময় অনেক পক্ষের/সহযোগী বন্ধুও হারাতে হয় বা হারান। লড়াইয়ে শত্রু-মিত্রু খোঁজার এ ব্যাকরণ আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয় না...আমি মনে করি কানেক্টিং ফ্যাক্টরগুলো কাজে লাগানো জরুরি............অনেক সীমাবদ্ধতা থাকার পরও

২. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫
সুরভিছায়া বলেছেন: বিদগ্ধ জনেরা আসলে আরো গুনগত মান বেড়ে যেত । পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ ।
১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: বিগদ্ধজনের এলে আরও.............বেড়ে যেত। সহমত! কিন্তু তথাকথিত বিদগ্ধজনদের, সবাই অবশ্যই নয়, মধ্যে যে জাত্যাভিমান, অন্যকে স্বীকৃতি না দেয়ার প্রবণতা, কেন্দ্রে থাকার বিপুল আগ্রহ ও চেষ্টার কারণে তাঁরা আসতে পারছেন না। তাদের মধ্যে আবার একটি অংশের ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা নেই। এটিও একটি সমস্যা। সহ ব্লগার হাসিব একটি ভাল দিক তুলে ধরেছেন.............সেটি হচ্ছে বিদগ্ধ ব্লগারও আছেন। যারা অন্যের লেখা পড়েন না, পড়তে চান না। কিন্তু আশা করেন অন্যরা গিয়ে তাদের ব্লগে গিয়ে পড়বেন..........কমেন্স করবেন, ইত্যাদি। এগুলো প্রায়শ জাত্যাভিমান এর সাথে সম্পর্কিত। যে জাত্যাভিমানটি তৈরি হয়েছে একটি একটি কেন্দ্রীভূত কাঠামো থাকার কারণে....।

৩. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৩
নুশেরা বলেছেন: চমৎকার পজিটিভ (নরম্যাটিভ নয়; এই অর্থে) বিশ্লেষণ।
পৃথিবীর অনেক দেশেই মূলধারার পরিচিত লেখকরা ব্লগ লেখেন, কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নিজস্ব প্ল্যাটফরম বা ব্যক্তিগত ব্লগে। আমাদের দেশে পাঠকগোষ্ঠীর নগণ্য অংশ অনলাইনে আসেন বা সেই সুযোগ পান। তাই হয়তো ব্লগিংএ মূলধারার লেখক/ব্যক্তিত্বরা আগ্রহী হন না।
১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আমি আসলে নির্দেশিত ছিলাম যে শুধু যেন ব্লগের সম্ভাবনাগুলো নিয়ে লিখি। কারণ স্পেস সংকট।
আর আমাদের এখানে যাদের অনাগ্রহের কথা বললেন তাদের অনাগ্রহ প্রধানত দু'টি বিষয়ের, অন্তত আমার পর্যবেক্ষণে, সাথে সম্পর্কিত। একটি তথাকথিত জাত্যাভিমান..........নতুনকে গ্রহণ করার অনাগ্রহ। অন্যটি প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞতা এবং অভিগম্যতা না থাকা।
এ ধরুন প্রথম আলো ব্লগ এর ভুবনে এসেছে। কিন্তু প্র, আলো যেভাবে আসতে পারতো সেভাবে আসেনি। অন্যদেশে মূল পত্রিকার সাথে ব্লগিং এর যেসুবিধা রয়েছে তা প্রথম আলো চালু করতে পারতো..........এতে পাঠক প্রিয়তা পেত। পাঠকরাও তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত লেখকদের সাথে প্রতর্কে অংশ নিতে পারতো। প্রথম আলো সে সম্ভাবনাটা উন্মুক্ত করলো না। আবার ব্লগ এর যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে সেটিতে নিজেদের অবস্থানটা তৈরি করাও জরুরি। সে জন্য একটি ব্লগ চালু থাকা চাই। সুতরাং চালু করলো। সুতরাং প্রত্যাশার বিপরীতে ব্লগিং এ প্রথম আলো কোন নতুন মাত্রা যোগ করতে পারলো না। এ না পারার সাথে ইচ্ছা এবং জাত্যাভিমান দু'টোরই সম্পর্ক রয়েছে।
................................................................................................
মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ।

৪. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
হাসিব বলেছেন:
নুশেরা,

দেশে সিনিয়র লেখকরা কম্পিউটার অজ্ঞ বলেই হয়তো ব্লগে আসেন না ।

কিন্তু মধ্যবয়সী বা নবীন লেখকেরা অনেকেরই ব্লগ আছে এখানে । এক আহমেদ মোস্তফা কামাল ছাড়া আর কেউকে আমি দেখিনা যে ম্যাঙ্গো পাবলিকের ব্লগ পড়ে বা সেটা পড়ে কমেন্ট করেন । বাকি সব শাহবাগ উত্থিতরা নিজেদের ব্লগেই ঘোরাঘুরি করেন । নিজেরা নিজেদের পিঠ চুলকান আর আশা করেন বাকি সবাই তাদের ব্লগে গিয়া তাদের পিঠটা চুলকে আসবেন । এটাকেই ছুৎমার্গ বলে । আমি বিদেশী দুইমহাদেশের দুইটা লেখক সার্কেলকে চিনি যারা প্রায়ই ব্লগ এসে লেখালেখির মান কমে যাচ্ছে বলে প্রায়ই তাদের মজমায় হাহুতাশ করেন । শাহবাগিয়ানরাও নিশ্চয়ই করেন এরকম - অন্তত আমার সেরকমই ধারনা । তারা মূলতঃ যে মাধ্যমে লিখে থাকেন সেখানে কখনও ব্লগভিত্তিক লেখকদের স্বীকৃতি আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি । এমনকি এদের কথা তারা উল্লেখ পর্যন্ত করেন না তারা ।

আর আপনার "মূলধারার লেখক/ব্যক্তিত্ব" শ্রেনীকরণ বিষয়ে আমি একমত না । সবাইই মূলধারা । কেউই তার বাইরে না ।
১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হাসিব মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের ঋণী করবার জন্য। লেখজ জগতে যে জাত্যাভিমানের কথা বলেছেন সেটি আমিও মূল লেখায় বলার চেষ্টা করেছি। হয়তো অতটা ফুটে উঠেনি। কারণ আমি লেখাটা লিখেছিলাম একটি ছোট কাগজের জন্য। সেখানে স্পেস সংকট ছিল। অনুরোধ ছিল আমি যেন শুধু সম্ভবানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি....।
জাত্যাভিমানের সংকটটা নিয়ে আপনি আলোকপাত করেছেন। আর আমি মূলধারা বলতে কিন্তু অন্যরা মূলধারার বাইরে সেটি বোঝাতে চাইনি। কিন্তু ক্ষমতা ও স্বীকৃতির সম্পর্কের দিক থেকে যেহেতু একটি প্রচলন আছে, এবং সেটি ভাঙেনি, আমি আসলে মূলধারা বললে এ চলমান সম্পর্কে যেকোন কারণে হোক যারা কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, অথবা করছেন বলে মনে করছেন এবং সে কারণে অন্যদের স্বীকৃতি দিতে চাইছেন না, তাদের কথা বলতে চেয়েছি। এটি কোন শ্রেণীকরণের চেষ্ট নয়, বুঝবার জন্য উপায়.........। আপনাকেও আবারও ধন্যবাদ।

৫. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯
নুশেরা বলেছেন: @হাসিব, ঠিক বলেছেন, সবাই মূলধারার। তারপরও ব্লগিংএ লেখার বিষয়বস্তু অনেক বেশী পারমিসিভ, কিংবা এটা অনেক ব্রড স্পেকট্রাম জুড়ে থাকে; মুনীরভাই যেটা বলেছেন এভাবে-- "ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া নানা খুনসুটি থেকে শুরু করে সমাজ, সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি, কী নেই এখানে।" আর এটা এখনও সেভাবে সর্বত্রগামী হয়নি। নইলে ব্লগের লেখার কোন সংকলনের প্রিন্টেড সংস্করণ বের করার দরকার হতো না; বইমেলায় সেটা পাওয়াও যেতনা।
সেকারণেই মূলধারা বলা, হয়তো এর আগে "তথাকথিত" টার্মটা যোগ করাই শ্রেয়, অন্তত ব্লগে লেখার সময় :)
১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০২

লেখক বলেছেন: agreed upon and thanks!!!!!

৬. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৬
ফাহমিদুল হক বলেছেন: মিডিয়ার ছাত্র হিসেবে আমি একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সেন্সরমুক্ত মাধ্যমের স্বপ্ন সবসময় দেখতাম। ব্লগ আমার সেই স্বপ্নের কাছাকাছি একটা মাধ্যম। মুদ্রণ মাধ্যমে বা লিটল ম্যাগাজিনে লিখতে লিখতে ব্লগে চলে আসতে তাই বেশি সময় নিই নি।

হাসিব যে-প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমি আমার এক বছরের ব্লগজীবন থেকে দেখছি যে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছে। আমরা যারা নব্বই দশকে লেখালেখি শুরু করি, সেই সহলেখকদের অনেকেই গত ছয় মাসে সামহোয়ারে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং বেশ কয়েকজন নিয়মিত লিখছেন। কয়েকজন তো এর আগে থেকেই লিখছেন। কোনো কোনো বামপন্থী কর্মী-লেখক এবং এক্টিভিস্টকেও ব্লগে দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই আমি মোটামুটি নিশ্চিত। ইন্টারনেটের ব্যবহার যত বাড়তে থাকবে এর সম্ভাবনা আরও বাড়তে থাকবে।

আর ব্লগ ছিল বলেই কত শক্তিমান লেখকের সৃষ্টি হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

আমি বছর দুয়েক আগেও ঢাবিতে ক্লাস নিতাম, তখন দেখতাম শিক্ষার্থীরা নেটের সঙ্গে ততটা যুক্ত না, কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে বুঝতে পারছি তাদের নেটের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এদের কেউ কেউ ব্লগে চলে আসবে, আরও নতুন লেখক-ব্লগারের সৃষ্টি হবে।
১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৮

লেখক বলেছেন: ফাহমিদুল ভাই মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আমিও আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত যে নতুন প্রজন্মের লেখকরা ব্লগে আসছেন। আবার ব্লগের হাত ধরেই অনেকের লেখালেখির দক্ষতা এবং পরিচিতি বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে এ প্রবণতা বাড়বে। কতখানি বাড়বে তা নির্ভর করছে ইন্টারনেট অভিগম্যতার ওপর।
মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ।

৭. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:০৭
ফারহান দাউদ বলেছেন: ভালো বিশ্লেষণ,ধন্যবাদ।
১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ.............আপনাকে।

৮. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৪
নুশেরা বলেছেন: বিখ্যাত ইংরেজ লেখক Geoffrey Archer সম্প্রতি একটা গ্লোবাল চেইন বুকশপ এর সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়া আসেন। টিভিতে সে সময়ের একটা সাম্প্রতিক ইন্টারভিউ দেখেছি। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের প্রাসঙ্গিকতায় একটু শেয়ার করছি। আশা করি মুনীরভাইয়ের বিরক্তি ঘটবে না।

এই লেখক ভদ্রলোকের জীবন সাংঘাতিক বর্ণময়। কয়েকমাস জেলও খেটেছেন কিছুদিন আগে। তো পরবর্তী বইয়ে তিনি কী লিখবেন, তাতে জেল খাটার অভিজ্ঞতা কতটা আসবে এসব নিয়ে তাঁর ব্লগে হুলুস্থুল। কীভাবে সামাল দিলেন, সেইপ্রশ্নের যে জবাব তিনি দিলেন তা ইন্টারেস্টিং। তাঁর ব্লগ পরিচালনা করে প্রকাশক; প্রকাশকই বেতন দেয় ওয়েবমাস্টারদের। এমনকি জেফ্রি মুখ বেশী খুলে ফেললে তার কথাবার্তাও কাটছাঁট করা হয়। এতে তিনি নাখোশ নন। "দে নো দ্য বিজনেস থিং বেটার দ্যান মি"। এতেই শেষ নয়। তিনি এখনো বাড়ীতে টাইপ রাইটার আর বাইরে ডায়েরি কলমের শরণ নেন। তার ব্লগের কথাবার্তা তাঁর নিজের ঠিকই কিন্তু "ইন্সট্যান্ট" না।

এই উদাহরণ কোন সাধারণীকৃত উপসংহার নয়। তবে আমাদের দেশের মতো প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত লেখকদের ব্লগিঙে অনাগ্রহ বা ছুঁতমার্গ (যে যা ভাবেন) তেমন অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে হয়।
১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৩

লেখক বলেছেন: এ রকম একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য না হয় একটু বিরক্ত হলামই........তাতে কি..পোস্টটাতো সমৃদ্ধ হলো আপনার/আপনাদের অভিজ্ঞতা বয়ানের সূত্রে। সুতরাং কৃতজ্ঞতা প্রকাশটাওতো জরুরি হয়ে পড়ে। হা হা..................
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এ অভিজ্ঞতা শেয়ার করবার জন্য।
ব্যক্তিগত ব্লগিং এর যে বিকিকিনির (বিকিকিনি এ জন্য বললাম যে লেখকের জনপ্রিয়তাটা এখানে বাজার জাত করছে প্রকাশনা সংস্থা) অভিজ্ঞতা বললেন, এটি হয়তো এখানেও একদিন সম্ভব হবে, কারও কারও ক্ষেত্রে, কিন্তু সেটি নির্ভর করছে জনমানুষের প্রযুক্তি, বিশেষ করে ইন্টারনেটে অভিগম্যতার ওপর।
প্রতিষ্ঠিত লেখকদের ছুঁতমার্গের পাশাপাশি প্রযুক্তিতে দক্ষতার অভাবও বোধহয় এর সাথে সম্পর্কিত। আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের দু জন সাবেব ভিসি নিয়মিত পত্রিকায় কলাম লেখেন। এক সময় একটি দৈনিক এর উপসম্পাদকীয় পাতায় কাজ করার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমাদের দু'জন সাবেক ভিসি তখনও, বোধ করি এখনও, হাতে ড্রাফট করে পত্রিকায় লেখা পাঠান। সে সময় দু'জনের লেখার পাঠ উদ্ধার করতে রীতিমত লড়াই করতে হতো। এ হচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'জন ভিসির অবস্থা। সেখানে অন্যদের অবস্থা বোঝা খুব কঠিন নয়। তবে আশার কথা হচ্ছে তরুন প্রজন্ম এর আইটির প্রতি টান..........সে টানটা ধরে রাখতে পারলে ব্লগ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। যদি রাষ্ট্র বা কর্পোরেট পুঁজিপতি তাতে সেন্সরশীপ আরোপ না করে.........।
আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ।

৯. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৬
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: এখন কিছু বলছি না। রাতে ভাল করে পড়ে মত দেবো। খুব চামচিকা হয়ে আছি। আপনি নিশ্চয় ভালো আছেন।
১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনার মতের অপেক্ষায় রইলাম..........ভাল আছি। ভাল থাকবেন।

১০. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪১
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: এখন আপনার পুরো লেখাটা পড়লাম। আপনি দারুণভাবে ব্লগেতিহাসসহ বাংলাব্লগ ও তার তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। একটা আশার আলো এসেছে বাংলা ব্লগচালুর ফলে। এখানে সমমনাদের কোন না কোনভাবে ভাব বিনিময় ঘটছে। একটা পাটাতনও তৈরি হচ্ছে।
ভার্সুয়াল জগতের এই সম্পর্ক বাস্তবেও একটা সামাজিক সম্পের্কর রুপ নিচ্ছে। এখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক লাভবান হয়েছি। অনেকের সাথে আমার মতটাকে যেমন মিলিয়ে নিতে পারছি আবার ভিন্নমতের সাথেও পরিচিত হতে পারছি।
একটা বন্ধনও তৈরি হচ্ছে। এইটা একসময় কাজে দিবে বলে আমার ধারণা গড়ে উঠছে। আপনাকে শুভেচ্ছা রইলো এইরকম একটি পোষ্ট এখানে দেবার জন্য। ভাল থাকবেন।
১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৮

লেখক বলেছেন: আপনার মতামত অনুপ্রাণিত করলো...........ভাল থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২০০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লড়াই টা যখন মুক্তির.....,
চিন্তার মুক্তির,
বুদ্ধির মুক্তির,
শৃঙ্খল মুক্তির
এবং অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ গণমানুষের........
তখন এ লড়াই
পৃথিবীর প্রাচীনতম লড়াই,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ