somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণ: জমি দখল ও ক্ষমতা চর্চার সাম্প্রদায়িক ব্যাকরণ

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের যে কয়টি স্থাপনা তার নির্মাণ শৈলীর গুনে আমাকে খুউব কাছে টানে, বিমোহিত করে, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির তার মধ্যে অন্যতম। ফলে আমি যখনই দিনাজপুরে গিয়েছি, সুযোগ পেয়েছি তখন সে সুযোগের শতভাগ ব্যবহার করে সামান্য সময়ের জন্যও হলেও কান্তজিউ মন্দির গিয়েছি। এইতো কিছু দিন আগেও গিয়েছিলাম। যথারীতি অনেকগুলো ছবি তুলেছি।ফিরে এসে একটি পোস্টও দিয়েছিলাম... দিনাজপুর থেকে আমার ফিরে আসার মাস না যেতেই সে প্রিয় মন্দিরকে ঘিরে একটি দু:সংবাদ পড়তে হলো। বাংলাদেশের প্রত্ত্বতাত্ত্বিক স্থাপনার অনন্য নিদর্শন দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের জমিতে হঠাৎ করে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি মাদ্রাসা। এ ভয়াবহ সা¤প্রদায়িক ঘটনার দু:সংবাদটি ছেপেছে গত শুক্রবারের দৈনিক প্রথমআলো। পত্রিকাটি তার প্রতিবেদনে মাদ্রাসা নির্মাণের বর্ণানায় 'হঠাৎ' শব্দটির সংযোজনে বিশেষায়িত করলেও আমার কাছে মনে হয় না ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটেছে। বরং ঘটনাটিকে একটি সা¤প্রদায়িক শক্তির, যারা হয়তো স্থানীয়ভাবে প্রবল রাজনৈতিক ক্ষমতারও মালিক, দীর্ঘ পরিকল্পনার বহি:প্রকাশ বলেই মনে হয়। যারা মন্দিরের জায়গা দখল করেছে তাদের দলীয় রাজনৈতিক পরিচয় কী তা স্পস্ট নয়, অন্তত পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে। তবে এটি স্পস্ট যে, তারা ক্ষমতাবান। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এক বা একাধিক শক্তির সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে একটি ঐতিহাসিক প্রত্ত্বতাত্ত্বিক নিদর্শনের জায়গায় মাদ্রাসা নির্মাণের সাহস ও ক্ষমতা প্রদর্শন সম্ভব হতো না। তাছাড়া মন্দিরের জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণের অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে আ'লীগ, বিএনপি সহ কোন রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এ দায়িত্বহীন মৌনতাও শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা নির্মাণকারীদের সা¤প্রদায়িক তৎপরতার পক্ষেই যাচ্ছে। আর এ রকম নিশ্চিত ক্ষমতা বলেই হয়তো মাদ্রাসা নির্মাণকারীদের একজন কোন ভাবেই মাদ্রাসা সরিয়ে ফেলা হবে না বলে দম্ভোক্তি করতে পারছেন।

উচ্ছেদ ও দখলের রাজনীতিতে ধর্ম ও সা¤প্রদায়িকতার কূৎসিত উদাহরণ নতুন নয়, বরং আগের বেশ কিছু ঘটনা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়, অন্তত রাজনৈতিক উপেক্ষায়, সফল হয়েছে বলে একই ব্যকারণের পুনপৌনিক প্রয়োগ করার ধৃষ্ঠতা প্রদর্শনের সাহস পেয়েছে এ সা¤প্রদায়িক শক্তি। মন্দিরের জায়গায় মাদ্রাসা নির্মাণের অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যদি সফল হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সা¤প্রদায়িক শক্তি তাদের 'জিহাদী জজবার' সফলতা হিসেবে সাধারণ মুসলিমদের কাছে পরিবেশ করতে পারবে। মাদ্রাসা-মসজিদ আল্লাহর ঘর, একবার প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে সরাবার রেওয়াজ নেই, তার জন্য দেবতার ঘরকেও যদি ধংশ করে দিতে হয় তাতে আপত্তি নেই-আমাদের সা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক সংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণের মনে এ বিশ্বাসটি গভীরভাবে বপন করে দেয়া হয়েছে। আর এ বিষবৃক্ষকে অবলম্বন করেই নির্মাণ করা হয়েছে মাদ্রাসাটি। যাতে সাধারণ এর কাছে বলা যেতে পারে, এখানে মাদ্রসাটি চালু হয়েছে, আল্লাহর বানী একবার উচ্চারণরিত হয়েছে। সুতরাং এটি আর বন্ধ করা যাবে না।


দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের কথাগুলো সত্যি হোক, মন্দিরের জায়গায় মাদ্রসাটি টিকে যাক, এটি কোনভাবেই শুভ চাওয়া হতে পারে না। বরং আমরা এখানে কেবল মন্দিরই চাই। তবু ওপরের আশংকটিই যদি সত্যি হয়, যদি সরকার ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসাটি টিকে যায়, তবে তার সাথে আরও একটি আশংকা যুক্ত করতে হয়। আর সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রত্মতাত্ত্বিক সম্পদ থেকে একটি নয়নাভিরাম স্থাপত্য শৈলীর বিয়োজন। কারণ কথিত মাদ্রসায় যখন কোমলমতি শিশু-কিশোররা পড়তে শুরু করবে, আস্তে আস্তে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়বে, তখন এর সা¤প্রদায়িক উদ্যোক্তরা প্রতিদিন এ সব শিশুদের মনে সা¤প্রদায়িকাতার বিষ ছড়িয়ে দিবে। এক সময় মন্দিরের ঘন্টা ধবনির অনুরণণ তাদের কাছে তাদের কাছে কেবলই বেশরীয়তী কাজ হিসেবে অসহনীয় হয়ে পড়বে। পূজারীদের পূজা বন্ধ করে দেয়াটা তাদের ঈমানী দায়িত্বের অংশ মনে করবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এ সম্ভাবনাগুলো উড়িয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
আমরা মনে করি দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোন আইনী মারপ্যাঁচ এর কথা বলে নয়, বরং সে সাংবিধানিক এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সরকার ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত। এ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দাবিদার হিসেবে আ'লীগের দায়িত্বটা মাত্রাগত দিক থেকে অনেক বেশি। আমরা সে বেশির প্রতিফলন দেখতে চাই। মন্দিরের জায়গায় মাদ্রাসা নির্মাণের মতো সা¤প্রদায়িক শক্তির অপতৎপরতা এখনই নিষিদ্ধ করা হোক। যে স্থাপনাটি ইতোমধ্যে স্থাপিত হয়েছে তা উচ্ছেদ করা হোক। ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি রক্ষার্থে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় অপরাপর নাগরিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক শক্তিরও এগিয়ে আসা উচিত। কারণ কান্তজিউ মন্দির শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নয়, বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জন্যও একটি ঐতিহাসিক প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি আমাদের সকলের সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় আসুন জনমত গড়ে তুলি..
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:১৫
৩৫টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×