আমি ব্লগে লিখি কম, পড়ি বেশি। পড়তেই ভালো লাগে। কত কত মানুষ, কত কত ব্লগার, লেখা পড়েই তো সময় পাই না, নিজে লেখার সময় কই? কিন্তু যে বিষয়টা নিয়ে এখন লিখব, সেটা না লিখলে মনে শান্তি পাচ্ছি না।
রিসেন্টলি আমি একটা টিউশনি শুরু করেছি। কম্পু সাইন্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করে টের পেলাম, টাকা পয়সা কিছু কামানো দরকার, তাই এই ধান্ধা (ভাই, যারা টিউশনি করেন, তারা আবার মাইন্ড খাবেন না, অ্যাকচুয়ালি আমার টিউশনিটা টাকার ধান্ধা বৈ তো কিছু নয়)। যাই হোক, টিউশনি খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত এলাকায়ই একটা টিউশনি পেলাম। ক্লাস ওয়ানে পড়া বাচ্চা, ইংরেজি পড়াতে হবে। এখন থেকেই যাতে "ইংলিশ-এর বেসিক" ভাল হয়, সেজন্যেই টিচারের ব্যবস্থা।
তো ভাল কথা। লেগে গেলাম কাজে। প্রথমদিন গেলাম স্টুডেন্ট এর বাসায় (আজকালকার বাচ্চাদেরকে আসলে স্টুডেন্ট বলা ঠিক না, আসল স্টুডেন্ট হচ্ছে তাদের মায়েরা - সিলেবাস বোঝা থেকে শুরু করে হোমওয়ার্ক, সবই এখন মায়েরাই করে, বাচ্চারা নয়!!!)। তো আন্টির (!) সাথে কথা বললাম টাইম শিডিউল নিয়ে। কখন বাচ্চাকে পড়াতে হবে, সেটা আমার জন্যেও একটা চিন্তার বিষয়, কেননা আমার নিজেরও তো ব্যস্ততা আছে।
আন্টি আমাকে একদম অ্যাকুরেট টাইম দিয়ে দিলো রাত সাড়ে আটটায়। আমি সাধারণত সপ্তাহে তিনদিন বিকেলেও ফ্রি থাকি, তাই সে কথাটাও পাড়লাম। কিন্তু আন্টির এক কথা, রাত সাড়ে আটটা থেকে বাচ্চাকে পড়াতে হবে। কারণ জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে যা শুনলাম, তাতে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার দশা!
বাচ্চার দৈনিক রুটিন:
সকাল ৬.০০ টা: ঘুম থেকে ওঠা
সকাল ৭.৩০ টা: স্কুলে যাওয়া
দুপুর ১২.০০ টা: স্কুল থেকে আসা
১২.০০-৩.০০ টা: গোসল, খাওয়া ও ঘুম
৩.০০ থেকে ৬.০০ টা: কোচিং
৬.০০ থেকে ৮.১৫ টা: ম্যাডামের কাছে প্রাইভেট পড়া (সব সাবজেক্ট)
৮.৩০ থেকে ১০.০০ টা: ইংরেজি স্যারের (আমি) কাছে ইংরেজি পড়া
১১.০০টা: খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমুতে যাওয়া
মনে মনে ভাবি, আমার ব্যস্ততা আর আমার ছাত্রীর ব্যস্ততাকে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করলে কোনটা বেশি ভারি হবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



