প্রেমের সম্পর্ক ছেদের জের ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে (প্রেমিকা) ছুরিকাঘাত করেছে তাঁর সাবেক প্রেমিক। মারাত্মক আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয়বিজ্ঞান ভবনের এ ঘটনা ঘটে। তাঁরা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী।
আহত ওই ছাত্রীর সহপাঠিরা জানান, পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ওই ছাত্রীকে দেড় বছর থেকে ভালবাসতএকই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জাকির হাসান ওরফে রিয়াল। সম্প্রতি রিয়ালের সাথে মেয়েটির সম্পর্কের টানাপোড়ন চলে। এরপরেও জাকির মেয়েটিকে কোন বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করতে বাধা দেওয়াসহ তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। এছাড়া কিছুদিন আগে সে তাঁকে চড়-থাপ্পরও মারে। এ ঘটনায় তখন তিনি বিভাগীয় সভাপতি বরাবর অভিযোগও করেন। কিন্তু সভাপতি তখন তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
আহত ওই ছাত্রী জানান, সোমবার সকাল আটটায় তিনি ক্লাশ করতে আসলে জাকির হাসান বিভাগের দোতলায় তাঁর গতিরোধ করেন। পরে প্রেমের বিষয় নিয়ে বাগ্বিতন্ডা শুরু হলে সে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়িতে ফেলে দিয়ে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এসময় তাঁর সহপাঠীরা উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর বাম হাতে সাতটি সেলাই করা হয়েছে। এ ঘটনায় মতিহার থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওই ছাত্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভাগের সভাপতি বরাবর ইতিপূর্বে জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলেও তখন এর কোন বিচার না হওয়ায় সে এখন এমন ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছে। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাকির হাসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে জাকিরের দুই সহপাঠি সূত্রে জানা যায়, জাকির অনেক দিন থেকে সে একটি মেয়েকে ভালবাসতো বলে জানতাম। আর যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সে অত্যন্ত নিরহ প্রকৃতির। তবে কি কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।
এদিকে এ রির্পোট লেখা (সন্ধ্যা ৬) পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ নাসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


