আমার বন্ধু সাকিব কোন সিনেমার নায়ক নয়, ও খেটে খাওয়া একজন মানুষ,নিম্ন মধ্য বিত্ত ফ্যামিলির সন্তান সে, এইচ,এস,সি পাসের পর বাবা মারা গেলে লেখা-পড়া করা আর সাকিবের হয়ে উঠেনি, একটি চাকরির খোজে সাকিব ঢাকা আসে ২০০২ সালে,প্রথমে একটি গার্মেন্টস প্রতিস্টান,পরে একটি প্রাইভেট ছোট্র প্রতিষ্টানের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে মাসিক ৩,০০০ টাকা ভেতনে চাকরি পায় ২০০৫ সালে,
বর্তমানে ওর মাসিক বেতন সর্ব সাকুর্লে ৪,৩০০ টাকা ,আমার এই বন্ধটি যে মেসে থাকে সেখানে ওর মেস ভাড়া বাবদ দিতে হয় ৫০০ টাকা,৩বেলা খাবার বাবদ দিতে হয় ২০০০ টাকা, ওর বাসা থেকে অফিসে আসতে এবং যেতে মাসিক খরচ ৬০০ টাকা , অবিশিস্ট টাকা প্রতি মাসে বাড়িতে পাঠাতে হয়, কিন্তু বাড়িতে ওর মা ওর পাঠানো টাকায় ওর ছোট ২টি ভাই বোনের মুখে দু বেলা দু-মুঠো আহার তুলে দিতে পারেন না । সাকিব গত কাল রাতে আমার বাসায় এসেছে কিছু টাকা কর্জ নেওয়ার জন্য, ওর খুব বিপদ ওর ছোট বোন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত, তাই গ্রামে কিছু টাকা পাঠাতে হবে,ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মায়া লেগে গেল বললাম কিরে সাকিব তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন, ও হাউ মাউ করে কেদে উঠল, বলল, আমি এখন কি করব বলতো আমি তো আর পারছিনা আমার মনচায় আমি আত্রহত্যা করি,আমি বললাম কেন, উত্তরে ও যা বলল তার সারমর্ম নিম্নরুপ:
১।যে ছেলে বছরে একবার মাকে দেখতে যেতে পারেনা যাতায়াতের টাকার অভাবে, সেই ছেলের বেচে থেকে কি লাভ।
২।সকাল ৮.০০ টায় অফিস হওয়ার কারনে ৫.০০ টায় ঘুম থেকে উঠতে হয়, ঘুম থেকে উঠে গোসলের পানির জন্য লাইন দিতে হয় সপ্তাহে ২ দিন হয়তো বা পানি পাওয়া যায় গোসলের জন্য,গোসল করতে করতে সকাল সারে ছয়টা বেজে যায়।গোসল শেষে কোন রকম নাস্তা সেরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হতে হয়,অফিস ছুটি হয় রাত ৮.০০ টায় রাস্তার জ্যাম পেরিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০.০০টা ,বাসায় এসে দেখে বিদ্যু নেই , মোম জ্বালিয়ে রাতের খাবার খাবে তাতে ও নাকি ভয়, এক পিস মোমের দাম নগদ কিনলে ৬.০০ টাকা, বাকিতে ৭.০০ টাকা, তাও আবার জ্বলে ২ ঘন্টা, সেই ভয়ে মোম না কিনে অপেক্ষা করে বিদ্যুতের, অবশেষে বিদ্যুত আসে রাত বারটায়, তারপর রাতের খাবারের পর অফিসের সারদিনের হিসাব মিলিয়ে বিছানায় যেতে যেতে রাত দেরটা, আবার বিদ্যুতের লোডসেডিং গরমের অসয্য যন্ত্রনায় বিছানায় ছট-ফট করতে করতে রাত পার, সাকিবের ভাষায় এই অসয্য কষ্টের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।
৩।গত বছরের মাঝা-মাঝি সময়ে সাকিবের বুকে ব্যাথা অনুভত হয়েছিল,এলাকার চেয়ারম্যানের এখানে বড় ডাক্তার আসায় সেখানে গিয়েছিল সাকিব, ডাক্তার বলেছিল হার্টে সমস্যা আছে, কিছু টেস্ট করার জন্য বলেছিল কিন্তু টাকার অভাবে করতে পারেনি,ব্যাথাটা ইদানিং খুব ভোগাচ্ছে,এভাবে ধিরে ধিরে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।
ইতিকথা
সাকিবের এই সমস্যাটা কি শুধুই একজন জন সাকিবের সমস্যা নাকী আমদের জাতীয় সমস্যা।এর সমাধানের পথ ই বা কি, সরকার সাকিব দের জন্য কি ই বা করছে।মানুষের মৌলিক অধিকার গুলো পুরনের দায়িত্ব যদি সরকারের হয়ে থাকে তাহলে সরকার ই বা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এসব মানুষের জন্য কি করছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


