ক্ষিপ্ত হয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট। দলের প্রতি তাই নির্দেশ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দুই বছরের জন্য স্বেচ্ছা নির্বাসনের। ফ্রান্সের নতুন কোচের ক্ষোভের ফল_বিশ্বকাপ-পরবর্তী প্রথম ম্যাচের স্কোয়াড থেকে বাদ দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়া ২৩ জনই। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণে এমন প্রতিক্রিয়া আপাতদৃষ্টিতে বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে না? কিন্তু উত্তর কোরিয়ার অবস্থা জানলে আর তা মনে হবে না। দিনে ১৪ ঘণ্টা করে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছে তাদের কোচ কিম জং-হুনকে!
স্বৈর শাসকের দেশে সবই সম্ভব। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে তাঁর পুত্র উদে ব্যর্থতার কারণে ফুটবল দলকে চাবুক মেরেছিলেন বলে খবর বেরিয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার স্বৈর শাসকদের প্রতিক্রিয়া তাই বড় কোনো চমক নয়। ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়ে জনগণের পাশাপাশি শাসকদের মন জয় করেছিল 'কোলিমা'রা। বিশ্বকাপের 'গ্রুপ অব ডেথ'-এ ব্রাজিল, পর্তুগাল এবং আইভরি কোস্টের সঙ্গে পড়লেও তাদের ঘিরে ছিল আশার বুনন। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ১-২ গোলে হারলে উত্তর কোরীয়দের লড়াকু মানসিকতা প্রশংসা কুড়িয়েছিল সবার। খুশিতে ডগমগ হয়ে পরের ম্যাচ দেশের টিভিতে সরাসরি দেখানোর অনুমতি দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং-ইল। সেখানে পর্তুগালের কাছে ০-৭ গোলে হার! ক্রোধের আগুন জ্বেলে দেয় এটাই। শেষ ম্যাচে আইভরিয়ানদের কাছেও ০-৩ গোলে হারাটা সেই আগুনে ঢেলে দেয় ঘি।
দেশে ফেরার পর কোচ-খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হতে হয় প্রায় শ চারেক অফিসিয়ালের। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার গুপ্তচরদের খবর, ৬ ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় কোচের কাঁধেই ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে দেয় খেলোয়াড়রা। প্রেসিডেন্ট পুত্র কিম জং-উন ভরসা রেখেছিলেন কোচের প্রতি। সেই আস্থার বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে বিদ্ধ করা হয় কিম জং-হুনকে। বেচারা! ৫৩ বছর বয়সে তাই শাস্তি মেনে নিয়ে দিনে ১৪ ঘণ্টা করে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছে কোচকে। জাতীয় দলকে সেবা করার এই হচ্ছে প্রতিদান!
'অতীতে বিশ্বমঞ্চে উত্তর কোরিয়ার যেসব অ্যাথলেট এবং কোচ খারাপ করেছে, তাদের জেলে পাঠানো হতো। সেই বিবেচনায় এবারকার শাস্তি কমই। স্বৈর শাসকরা এর চেয়েও ভয়াবহ শাস্তি দিতে পারত।'_ দক্ষিণ কোরিয়ার এক গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি এমনই। ব্রাজিলের বিপক্ষে রক্ষণাত্দক ফুটবল খেলে বাহবা কুড়িয়েছিল কোলিমারা। পরের ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে এমন বিধ্বংসী হারের জন্য আক্রমণাত্দক ফুটবলকেই দায়ী করছে সবাই। খেলোয়াড়রা বলছে, কোচই তাদের অমন খেলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। অথচ কোরিয়ার দক্ষিণ অংশের গোয়েন্দাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট কিম জং-ইলের চাহিদামতোই আক্রমণাত্দক খেলেছে উত্তর কোরিয়া। অথচ বেচারা কোচকে এর দায় শোধ করতে হচ্ছে নির্মাণশ্রমিক হয়ে।
'কী কুক্ষণেই না কোচের কাজটি নিয়েছিলাম।'_কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে আনমনা হয়ে নিশ্চয়ই এমন ভাবনা উঁকি দেয় কিম জং-হুনের মনে। ওয়েবসাইট।
(সংবাদটি দৈনিক কালের কন্ঠ থেকে নেওয়া)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


