আমাদের দেশের রাজনীতির যে অবস্থা, গটনাটি পড়ে ভয় লাগছে কবে জানি আমাদের দেশের রাজনৈনিক দলের নির্বাচনী কায়দায় এরুপ অভিনব প্রচারনা শুরু হয়ে না যায়। গটনাটি নিম্নরুপ:
সুত্র: আজকের কালের কন্ঠ পত্রিকা
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরামহীন প্রচারণা সব দেশেই চোখে পড়ে। নিজেদের সেরা প্রমাণ থাকে বৈচিত্র্যময় জনসংযোগ, থাকে বিগত কিংবা ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তিও। এ দেশের মানুষ এমন নির্বাচনী ওয়াদাসংবলিত প্রচারণার সঙ্গে বহুল পরিচিত। অবশ্য প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সঙ্গেও হরহামেশাই আমাদের পরিচয় ঘটে। নির্বাচনে অনেকেই ব্যতিক্রমী কিছু করে আলোচিত-সমালোচিত হলেও বেলজিয়ামের 'নী পার্টি'র ক্যাম্পেইন ছিল বিস্ময়কর! ২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই পার্টির নেত্রী তানিয়া দারভেয়াক্সের অদু্ভত প্রচরণা দেখে বেলজিয়ামের সাধারণ মানুষের চোখ তো চড়ক গাছ! ২৯ বছরের লাস্যময়ী তানিয়া ঘোষণা দেন তাঁকে ভোট দিলে তিনি চার লাখ তরুণকে নতুন কাজ দেবেন। বেলজিয়ামের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ভিএলডি এবং এসপিএ যথাক্রমে দুই লাখ এবং দুই লাখ ৬০ হাজার নতুর কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছিল। জানা যায়, কাজের সুযোগ বলতে তানিয়া একটি ভোটের বিনিময়ে চার লাখ অবিবাহিত তরুণকে 'ওরালসেক্স'র সুযোগ দেবেন। এ ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনেও তানিয়া অভিনবত্ব দেখান। নিজের সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি দিয়ে তিনি পোস্টার ছাপেন। আবেদনময়ী সে পোস্টারের স্লোগানে লেখা, 'আমি তোমাদের চার লাখ কাজ দেব।' এই প্রচারণা বিকল্প রাজনৈতিক দলের প্রতীকী অর্থে, তবু সিনেট প্রার্থীর এমন নুড প্রচারণা দেশটিতে হুলস্থূল বাধিয়ে দেয়। তানিয়াকে এক নজর দেখতে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মূলত বেলজিয়ামে একটি নতুন রাজনৈতিক গ্রুপ তৈরি করতে চার লাখ জনসমর্থনের প্রয়োজন হয়। সে কাজেই 'নী-পার্টি' তানিয়াকে ব্যবহার করেছে। ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচার কাজে কর্মী হিসেবে তানিয়ার সঙ্গে কাজ করেছে একদল তরুণ-তরুণী। বেলজিয়ামের হতাশ লোকদের নির্ভরতার প্রতীক হতে চেয়ে এবং তানিয়ার মতো আকর্ষণীয় নারীর সঙ্গে সেক্সের প্রস্তাব দিয়েও শেষ পর্যন্ত নী-পার্টির ভাগ্যের শিকাটি ছেঁড়েনি। জাতীয় নির্বাচনে দলটি মাত্র ০.১৮ শতাংশ ভোট পায়, যা তানিয়ার সিনেটর হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
অদ্ভুত প্রস্তাব
ডাস শব্দ 'নী' অর্থ 'না'। নী-পার্টি মূলত একটি বিদ্রোহী রাজনৈতিক গ্রুপ যারা জনগণকে বিকল্প দল গড়তে সচেতন করতে চায়। অনেকটা আমাদের দেশের 'না' ভোটের ক্যাম্পেইনের মত। এই বিদ্রোহী গ্রুপটি বেলজিয়ামে বিদ্যমান রাজনৈতিক হতাশা ও অসন্তোষ নিয়ে কাজ করছে ২০০৫ সাল থেকে। দেশের নেতারা ক্রমাগত সাধারণ মানুষের আস্থা হারাচ্ছে দেখে নী-পার্টির কর্মীরা একটি রাজনৈতিক গ্রুপ গড়ে তোলার কথা ভাবেন। সে জন্য তাদের প্রয়োজন হয় কমপক্ষে চার লাখ মানুষের ভোট। দলটি তাদের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সুন্দরী এবং আবেদনময়ী তানিয়াকে বেছে নেয়। দেশে কর্মসংস্থানের অভাবের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো যখন বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে, তখন তানিয়ার দল জনসমর্থনের আশায় ঘোষণা করে অদ্ভুত এক প্রস্তাব। যারা অবিবাহিত এবং ইন্টারনেটে দক্ষতার অভাবে আনন্দ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য তানিয়া দিয়েছেন অসাধারণ এক কাজের প্রস্তাব। যারা তাঁকে ভোট দেবে তারা পাবে 'ওরালসেক্সের' সুযোগ। তবে শুধু প্রথম চার লাখ ভোটারের জন্য এ অফার প্রযোজ্য। এই ঘোষণায় ভালোই সাড়া পায় তানিয়ার দল। তানিয়ার শারীরিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করে শেষে নী-পার্টি অফারটি চার লাখ থেকে ৪০ হাজারে নামিয়ে আনে। তানিয়া ঘোষণা দেন, তিনি একটানা ৫০০ দিনের এক ভ্রমণে বের হবেন। সে সফরে তাঁকে ভোট দিয়েছে এমন ৮০ জন তরুণকে প্রতিদিন তিনি তৃপ্ত করবেন। এই ঘোষণাসহ তানিয়ার নুড ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপে নী-পার্টি। সারা দেশে সে পোস্টার সাঁটা হয়, টানানো হয় বিশাল বিলবোর্ড। মূল প্রচারণাটা চলতে থাকে ইন্টারনেটে। চারদিকে সিনেট প্রার্থীর এমন খোলামেলা ছবিসহ অদ্ভুত কাজের প্রস্তাব দেখে বিব্রত হয় বেলজিয়াম প্রশাসন। তবে তরুণদের আগ্রহের পারদ বাড়তে থাকে হু হু করে। ঘোষণার পর পরই শত শত মেইল আসতে থাকে তানিয়ার কাছে। প্রতি-উত্তরে তানিয়া জানান, এই প্রস্তাবটি গ্রহণে কিছু শর্ত আছে। যেমন_সময় স্বল্পতার ফলে প্রত্যেক আবেদনকারী মাত্র পাঁচ মিনিট মিলিত হওয়ার সুযোগ পাবে। আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ঊধর্ে্ব হতে হবে। যদি প্রমাণিত হয় আবেদরকারী বিবাহিত তবে এ প্রস্তাব গ্রহণের যোগ্যতা হারাবে। হাইজিনসম্পর্কিত সমস্যায় যেকোনো সময়ে এই চুক্তি বাতিল হতে পারে...ইত্যাদি। বেলজিয়ামের শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলো এই উদ্ভট প্রচারণাকে পাগলামি বলে আখ্যায়িত করেছে। এত কিছু করেও তানিয়ার দলের পরাজয় কেউ ঠেকাতে পারেনি। তানিয়াও হতে পারেননি সিনেটর। মওকা বুঝে সটকে পড়েন তানিয়া। তাঁর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশায় যারা নী-পার্টিকে ভোট দিয়েছিল তাদের কেবল একটি সেক্স ভিডিও ধরিয়ে দিয়েছে তার কর্মীরা। অবশ্য ভিডিওতে ঘনিষ্ঠ হওয়া তরুণীটিও তানিয়া নন, তার এক সহকারী। তানিয়ার নির্বাচনী ওয়াদা ভঙ্গের এমন ঘটনায় বেলজিয়ামের তরুণরা বেশ হতাশ!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


