somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মুরগীর অকাল মৃত্যু ও কিছু প্রতিক্রিয়া B-)

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটি মুরগী রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের নিচে চাপা পড়ে মার গেলো। আসুন এবারে দেখে নেই এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া।

অমুক টিভি চ্যানেল: [মৃত প্রায় মুরগীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে এমতাবস্থায় নির্লজ্জের মতো মুখের সামনে মাইক ধরে......] "এ মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কি?"

পরদিনের সংবাদপত্র: "বাস চাপায় মেধাবী মুরগীর মৃত্যু।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণ: "আমরা গত ৪ বছর ধরে এই রাস্তায় একটা স্পিড ব্রেকার বসানোর কথা বরে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ চাই........ঐ!!!! তোরা ভাঙ.......!!!!!"

[ফলস্বরূপ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাট ভাঙচুর। ৮ দফা দাবী। অপরাজেয় বাংলার চোখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেয়া।]

জনৈক রাজনীতিবিদ: "এটি একটি সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র। জনাব মুরগী ছিলেন আমাদের দলের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে আমাদের নাম মুছে ফেলতে চায়। এ তারই প্রচেষ্টা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই..........."

[অপর প্রধান রাজনৈতিক দলও একই কথা বলবে। অতঃপর লাশ নিয়ে টানাটানি.......রাজপথ উত্তপ্ত.......পুলিশের লাঠিচার্জ......ইট পাটকেল ছোঁড়াছুড়ি.........]

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত: "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে, গণতন্ত্রের সুষ্ঠ প্রয়োগ দেখতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশা করে যে মুরগী হত্যার অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটাবে।"

অর্থনীতি বিশ্লেষক: মুরগীটির এই অকাল মৃত্যু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে টালমাটাল করে দেবে। সরকার অচিরেই তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হবে।

সুশীল সমাজ: "মুরগীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা এ দেশের নাগরিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। আমরা কোথায় যাবো? একটি মুরগীর রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারও আজ নেই। যারাই এই কাজ করে থাকুক, তারা এ দেশের শত্রু, তারা জাতির শত্রু, তারা সমাজের শত্রু। এদেরকে আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।"

[অতঃপর শহরে মানববন্ধন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে মৌন মিছিল ও পথিমধ্যে পুলিশের বাধাদান। শহীদ মিনারে আমরণ অনশন ঐচ্ছিক।]

[ততোক্ষণে চাউর হয়ে গিয়েছে যে মৃত মুরগী ছিলেন একজন গার্মেন্টস কর্মী]

বিক্ষুব্ধ গার্মেন্টস কর্মীরা: "আমগো ৬ মাসের বেতন পাই না। ঐ ভাঙ!!!..........."

বিজ্ঞানী: "আসলেই কি মুরগীটি রাস্তা পার হচ্ছিলো? নাকি রাস্তাটি মুরগীর স্থির অবস্থানের সাথে আপেক্ষিকভাবে সরে গিয়েছিলো?"

পূর্বে নাম না শোনা কোন ইসলামিক দল: "উক্ত বাসের ড্রাইভার ছিলেন একজন অমুসলিম।"

[মাদ্রাসা ছাত্রদের একজোট করা হবে। ক্যাতা লাগানোর প্রচেষ্টা হবে।]

এলাকার কোন চায়ের দোকানে গল্পে মত্ত প্রবীনরা: " মুরগীটার পালকে আল্লাহু লিখা ছিলো। মুরগীটা মারা যায় নাই। তার আগেই আল্লাহ ৭০টা ফেরেশতা পাঠায়া তারে বাঁচায় দিসে। এখন মুরগীটা সৌদি আরবের জেদ্দায় বসে বসে ডিম পারতেসে।"

একটি ব্যবসায়ী সংবাদপত্র: "মৃত মুরগীর পরিবারের জন্য সাহায্য তহবিল" (কয় টাকা জায়গামতো পৌঁছাবে জানা আছে)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক: ৪৫,০০০ টাকা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক: ৩০,০০০ টাকা
অমুক গ্রুপ অফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ: ২০,০০০ টাকা
...................................................
...................................................
...................................................
...................................................

রাস্তায় ক্যানভাসার: "........এই বইটি পড়লে জানতে পারবেন মৃত মুরগীটির মৃত্যুর আগে শেষ কথা কি ছিলো........এই বইটি পড়লে আরো জানতে পারবেন মৃত মুরগী কি রঙের ডিম পারতো..........এই বইটি পড়লে আরো জানতে পারবেন........"

সাধারণ জনগণ: ***দীর্ঘশ্বাস***
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৩০
৫৬টি মন্তব্য ৫৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×