একটি মুরগী রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের নিচে চাপা পড়ে মার গেলো। আসুন এবারে দেখে নেই এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া।
অমুক টিভি চ্যানেল: [মৃত প্রায় মুরগীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে এমতাবস্থায় নির্লজ্জের মতো মুখের সামনে মাইক ধরে......] "এ মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কি?"
পরদিনের সংবাদপত্র: "বাস চাপায় মেধাবী মুরগীর মৃত্যু।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণ: "আমরা গত ৪ বছর ধরে এই রাস্তায় একটা স্পিড ব্রেকার বসানোর কথা বরে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ চাই........ঐ!!!! তোরা ভাঙ.......!!!!!"
[ফলস্বরূপ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাট ভাঙচুর। ৮ দফা দাবী। অপরাজেয় বাংলার চোখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেয়া।]
জনৈক রাজনীতিবিদ: "এটি একটি সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র। জনাব মুরগী ছিলেন আমাদের দলের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে আমাদের নাম মুছে ফেলতে চায়। এ তারই প্রচেষ্টা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই..........."
[অপর প্রধান রাজনৈতিক দলও একই কথা বলবে। অতঃপর লাশ নিয়ে টানাটানি.......রাজপথ উত্তপ্ত.......পুলিশের লাঠিচার্জ......ইট পাটকেল ছোঁড়াছুড়ি.........]
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত: "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে, গণতন্ত্রের সুষ্ঠ প্রয়োগ দেখতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশা করে যে মুরগী হত্যার অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটাবে।"
অর্থনীতি বিশ্লেষক: মুরগীটির এই অকাল মৃত্যু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে টালমাটাল করে দেবে। সরকার অচিরেই তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হবে।
সুশীল সমাজ: "মুরগীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা এ দেশের নাগরিক নিরাপত্তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। আমরা কোথায় যাবো? একটি মুরগীর রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারও আজ নেই। যারাই এই কাজ করে থাকুক, তারা এ দেশের শত্রু, তারা জাতির শত্রু, তারা সমাজের শত্রু। এদেরকে আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।"
[অতঃপর শহরে মানববন্ধন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে মৌন মিছিল ও পথিমধ্যে পুলিশের বাধাদান। শহীদ মিনারে আমরণ অনশন ঐচ্ছিক।]
[ততোক্ষণে চাউর হয়ে গিয়েছে যে মৃত মুরগী ছিলেন একজন গার্মেন্টস কর্মী]
বিক্ষুব্ধ গার্মেন্টস কর্মীরা: "আমগো ৬ মাসের বেতন পাই না। ঐ ভাঙ!!!..........."
বিজ্ঞানী: "আসলেই কি মুরগীটি রাস্তা পার হচ্ছিলো? নাকি রাস্তাটি মুরগীর স্থির অবস্থানের সাথে আপেক্ষিকভাবে সরে গিয়েছিলো?"
পূর্বে নাম না শোনা কোন ইসলামিক দল: "উক্ত বাসের ড্রাইভার ছিলেন একজন অমুসলিম।"
[মাদ্রাসা ছাত্রদের একজোট করা হবে। ক্যাতা লাগানোর প্রচেষ্টা হবে।]
এলাকার কোন চায়ের দোকানে গল্পে মত্ত প্রবীনরা: " মুরগীটার পালকে আল্লাহু লিখা ছিলো। মুরগীটা মারা যায় নাই। তার আগেই আল্লাহ ৭০টা ফেরেশতা পাঠায়া তারে বাঁচায় দিসে। এখন মুরগীটা সৌদি আরবের জেদ্দায় বসে বসে ডিম পারতেসে।"
একটি ব্যবসায়ী সংবাদপত্র: "মৃত মুরগীর পরিবারের জন্য সাহায্য তহবিল" (কয় টাকা জায়গামতো পৌঁছাবে জানা আছে)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক: ৪৫,০০০ টাকা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক: ৩০,০০০ টাকা
অমুক গ্রুপ অফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ: ২০,০০০ টাকা
...................................................
...................................................
...................................................
...................................................
রাস্তায় ক্যানভাসার: "........এই বইটি পড়লে জানতে পারবেন মৃত মুরগীটির মৃত্যুর আগে শেষ কথা কি ছিলো........এই বইটি পড়লে আরো জানতে পারবেন মৃত মুরগী কি রঙের ডিম পারতো..........এই বইটি পড়লে আরো জানতে পারবেন........"
সাধারণ জনগণ: ***দীর্ঘশ্বাস***
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


