আজ রিকশায় চড়ে ধানমন্ডি যাচ্ছি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন নিউ মার্কেটের পেছনে একটা জায়গা আছে যেখানে একটি মুরগী কসাইখানা আছে। সারাদিন চরম দুর্গন্ধ বিরাজ করে সেখানে। এমনই সে দুর্গন্ধ যে তা সহ্য করাই দায়। নাকে হাত দিলাম যেমনটা অন্যান্য দিন দিয়ে থাকি। হঠাৎই আজ একটা চিন্তা মাথায় আসলো - "আচ্ছা, ভিডিও বা সাউন্ড যেমন রেকর্ড করা যায় কিন্তু গন্ধ বা ঘ্রাণ কেন রেকর্ড করা যায় না?" সারদিন বসে বসে এটাই ভেবেছি। চিন্তাটা মাথায় একদম গেঁথেই গিয়েছিলো।
তো এই চিন্তার মাধ্যমে কিছু হাস্যকর হাস্যকর তত্ত্বে আজ আমি উপণীত হয়েছি। প্রথমেই চিন্তা করেছি কিভাবে গন্ধ রেকর্ড করা হবে। এমন একটা যন্ত্র কল্পনা করলাম যা তার আশে পাশের বাতাসকে বিশ্লেষণ করবে, বিশ্লেষণ করে গন্ধ উদ্রেককারী বস্তুতে কি কি উপাদান আছে ও কি অনুপাতে আছে তা নির্ধারণ করবে। তারপর ঐ তথ্য সে সংরক্ষণ করবে। এবার সবচেয়ে হাস্যকর অংশটি শুনুন, কিভাবে আমরা পুনরায় উক্ত গন্ধকে প্রস্তুত করবো যন্ত্রের মাধ্যমে। ঐ যন্ত্রে আমাদের জানা মৌল পদার্থসমূহের অধিকাংশ উপস্থিত থাকবে। যন্ত্র পূর্বে বিশ্লেষণকৃত গন্ধের Data কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মৌলের সংমিশ্রনে ঠিক ঐ গন্ধটিই পুনরায় প্রস্তুত তথা Replicate করবে।
ভাবলাম আমার উপরে দেয়া তত্ত্বটি পড়ে এ নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন তারা আমাকে হয়তো মারতে আসবেন।
যাই হোক এতে করে ঘ্রাণ রেকর্ড বা প্রস্তুত করার সমস্যার সমাধান না ঘটলেও এটা হলে কি কি সম্ভব ছিলো তার একটি তালিকা আমি ঠিকই করেছি:
১. প্রথমেই যেটা হবে সেটা হচ্ছে পিসির জন্য গ্রাফিক্স কার্ড আর সাউন্ড কার্ড এর মতোই স্মেল কার্ড (Smell Card) বাজারে এসে যাবে। এর কাজ হবে স্মেল কোড এ্যানালাইজ করে Decode করা ও ঘ্রাণ নিঃসারক যন্ত্র (Smell Emitter) এর মাধ্যমে পিসির চারপাশকে আকাঙ্ক্ষিত গন্ধে ভরে দেয়া।
২. মানুষ ফেইসবুকে, ব্লগে ও অন্যান্য সোসিয়াল কমিনিউটি সাইটে নিজেদের প্রোফাইলে স্ট্যাটাস ম্যাসেজের মতোই একটি গন্ধ সেট করে রাখবে। কেউ তার প্রোফাইলে ঢুকলেই ঐ নির্দিষ্ট গন্ধে তার পিসির চারপাশ ভরে যাবে। গন্ধটি হতে পারে গোলাপ ফুলের বাগানের, হতে পারে সোদা মাটির গন্ধের বা নিতান্তই কোন জঘণ্য বস্তুর যেমন: গরুর গোবর।
৩. মোবাইলেও তখন এই প্রযুক্তি এসে যাবে। দেখা যাবে গার্লফ্রেন্ড ও বয়ফ্রেন্ড ফোনে কথা বলছে। হঠাৎই গার্লফ্রেন্ডের নাকে এস ঠেকলো বয়ফ্রেন্ডেরে গায়ের ঘামের দুর্গন্ধ। সাথে সাথে গার্লফ্রেন্ডের আতঙ্কিত জিজ্ঞাসা - "এমা! তুমি গোছল করো না?"
৪. মানুষ MMS করে তখন ভিডিও আর মিউজিকের মতোই গন্ধ পাঠাতে পারবে।
৫. বাজারে স্মেল রেকোর্ডার (Smell Recorder) নামক যন্ত্র এসে যাবে।
৬. পিসিতে স্মেল ফাইল চালানোর জন্য প্লেয়ার এসে যাবে। আবার প্লেয়ার এসে যাবে আপনার ড্রয়িংরুমের জন্যও যা আপনার আকাঙ্ক্ষিত সৌরভে সৌরভিত করে রাখবে পুরো রুমকে।
৭. নাটক, ম্যুভি প্রভৃতির শুটিংয়ে যখন এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে তখন দর্শকের কাছে এগুলোর নির্মান আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। যেমন ধরুন ডিসকাভারি চ্যানেলে হয়তো মশলা নিয়ে কোন ডকুমেন্টারি চলছে। স্মেল সেন্স (Smell Sense) প্রযুক্তির বলে পর্দায় দেখানো মশলার গন্ধ আপনার টেলিভিশনের মাধমে আপনার নাকে পৌঁছে যাবে। আবার ধরুন কোন যুদ্ধের ম্যুভি দেখতে সিনেমা হলে গিয়েছেন। যুদ্ধের দৃশ্যে প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে দুই পক্ষের মধ্যে। স্মেল সেন্স (Smell Sense) প্রযুক্তির বলে আপনি বারুদের গন্ধ পাবেন পুরো হল জুড়ে।
৮. গন্ধ ভালো না খারাপ তা নির্ধারণ করার প্রযুক্তিও আমাদের হাতে এসে যাবে। গন্ধ রেকর্ডিংয়ের পর এর কোড বিশ্লেষণ করে বলে দেয়া সম্ভব হবে গন্ধ খারাপ না ভালো। এতে করে আমরা কোন অপরিচিত গন্ধ সম্বন্ধে ধারণা পাবো। গন্ধ কতোটা খারাপ ও তীব্রতা কতোটা তাও নির্ধারণ সম্ভবপর হবে। এতে করে ঘ্রাণ দূষণ বলে কোন কিছুর অবতারনা করা সম্ভব। স্মেল সেন্স প্রযুক্তির বলে ট্যানারি শিল্প আছে এমন সব এলাকায় "স্মেল ওয়াচ (Smell Watch)" চালু করা যাবে যা সর্বদা গন্ধের তীব্রতা পরিমাপ করবে ও সহনীয় মাত্রার সাথে সামন্ঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নির্দেশ করবে।
৯. হয়তো তখন পিসির জন্য যারা ভাইরাস বানান তারা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্মেল ভাইরাস বানাবেন যা দুর্ঘন্ধে ভরে দেবে আপনার পিসির চারপাশকে।
১০. নিরাপত্তার স্বার্থে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর ফেইস ডিটেকশন প্রযুক্তির ন্যায় Smell Detetion ও ব্যবহুত হবে।
আরো যা যা ঘটতে পারে:
১. আলু ব্লগে ঢুকলেই ছাগু খোঁয়াড় আর লাদির গন্ধ নাকে এসে পৌঁছাবে।
২. কোন রাজাকারের ব্লগ প্রোফাইলে ঢুকলে ছাগু লাদির গন্ধ নাকে পৌঁছে যাবে।
আপনারাও কিছু কিছু আইডিয়া দিয়ে এই গাঁজাখুরি প্রজেক্টকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন..........
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


