somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ মডুর বিয়ে (২য় পর্ব)

১৫ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ মডুর বিয়ে ১ম পর্বের লিংক: View this link আগেরটা না পড়লে এটার কিছুই বুঝবেন না।


আজ ৩ মাস হয়েছে জুবায়ের আর তিথীর বিয়ের। জুবায়েরের সংসারে দিনকাল ভালোই কাটছিলো তিথীর। আর কাটবেই না বা কেন? হাজার হোক তিথীর বাবা বিখ্যাত শিল্পপতি বাবু আহমেদ। অগাধ টাকা তার। টাকা দিয়ে জুবায়েরকে মুড়ে দিয়ে শুধু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিৎই করেননি বাবু আহমেদ, সেই সাথে জুবায়েরের স্বত্তাকেও কিনে নিয়েছেন তিনি। এক কথায় লক্ষ্মীর নেশায় পড়ে জুবায়ের এখন বউয়ের কামলা খাটে - বউ উঠতে বললে উঠে, বসতে বলে বসে, শুতে বললে শোয় আর মধ্যে মাঝে মোডারেশনও করে - সেটাও বউয়ের ইচ্ছেতেই। এরকম অসীম ক্ষমতার অধিকারী কেউ যখন সংসারে থাকে ফলাফল যেটা হওয়ার কথা তিথীর ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিলো।

সংসারে জুবায়ের তো দূরে থাক, তিথী শশুর-শাশুড়ি, ননদ কারো কথাই শুনতো না। শশুর-শাশুড়ি, ননদও বাধ্য হয়েই চুপ থাকতেন কেননা তারা জানেন যে এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলেই জুবায়ের আবার ঘরের মধ্যেই মোডারেশনগিরী শুরু করে দেবে এবং পুনরায় ফারজানা যুগের অবতারণা করবে।

কিন্তু মার্ফির সূত্র ফরে যেতে সময় আর বেশি লাগে না। একদিন দুপুরবেলা কথা নাই বার্তা নাই তিথী হঠাৎ করেই জুবায়েরের বড় বোন নাসরীনকে "বান্দির বাচ্চা" বলে গালি দিয়ে বসে। নাসরীন হতভম্ব হয়ে যায়। সে কাঁদতে কাঁদতে তার রুমে চলে যায়। রাতে জুবায়ের এসে মায়ের মুখে এই ঘটনা শুনে। হঠাৎ করেই জুবায়ের এক অদ্ভূদ কর্পোরেট দ্বান্দিতায় ভুগতে থাকে। সে বুঝতে পারে না কি করবে। তিথীকে সরাসরি কিছু বললেও সমস্যা আবার নিজের বোন বলে চুপ করেও থাকতে পারছে না। ইমরানের সাথে কয়েক দফা এ ব্যাপারে আলোচনাও করে জুবায়ের। ইমরান তাকে একটা অভিনব বুদ্ধি দেয়। জুবায়ের আর ইমরান নাসরীন আর তিথীকে একসাথে ডাকে। হঠাৎই জুবায়ের দু'জনের গালে দু'টো থাপ্পড় বসিয়ে দেয় (বলা বাহুল্য তিথীকে খুবই আস্তে মারে, সেটাকে থাপ্পড় না বলাই ভালো)। এসময় তিথীর দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে ইমরান। জুবায়ের ঘোষণা দেয় আজ থেকে দু'জনের সাথেই পরিবারের সবার মুখ দেখাদেখি, কথাবার্তা বন্ধ। দু'জনই যে যার ঘরে থাকবে। খাবার-দাবার সেখানেই পৌঁছে দেয়া যাবে। জুবায়েরের বাবা-মা ছেলের এ সিদ্ধান্তের সামান্য প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন কিন্তু জুবায়েরের রক্তচক্ষু আর মোডারেশনের হুমকিতে তারাও গুটিয়ে যান। তিথী ইমরানের চোখটেপা দেখেই বুঝেছিলো এখানে অন্য কোন ব্যাপার আছে, তাই সে চুপচাপ থাকে। কিন্তু নাসরীন নিস্ফল দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে ভাইয়ের পাণে চেয়ে থাকে - জুবায়ের কেন থাকে মারলো.....কিভাবেই বা মারতে পারলো। দু'জনেই জুবায়েরের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। ঐদিন রাতে জুবায়ের তিথীকে তার সমস্ত পরিকল্পনা বুঝিয়ে বলে। তিথীও আশ্বস্ত হয়........

ঘটনার ৩৫ দিন পর, টেলিফোনে জুবায়ের আর নাসরীনের কথোপকথন:

জুবায়ের: হ্যালো নাসরীন।
নাসরীন: হ্যাঁ ভাইয়া, বলো।
জুবায়ের: দুপুরে কোথাও কাজ আছে তোর?
নাসরীন: না।
জুবায়ের: তাহলে চলে আয়। ধানমন্ডি, হ্যালভেশিয়াতে।

নাসরীন বুঝতে পারে না যে ভাইয়া তার সাথে গত ১ মাসে একটা কথাও বলেনি সে কেন আজ তার সাথে এতো দরদ দিয়ে কথা বলছে। যাই হোক, নাসরীন আমতা আমতা করে রাজি হয়ে যায়।

জুবায়ের: দাঁড়া, এখনই বের হোস না। আমি গাড়ি পাঠাচ্ছি।

৪০ মিনিট পর গাড়ি আসে নাসরীনদের বাসার গেটে। কিন্তু কি ব্যাপার? এতো জুবায়েরের গাড়ি না। তবে এই গাড়িটা সে আগেও দেখেছে। এটাতো তিথীর বাবা বাবু আহমেদের গাড়ি। যারপরনাই অবাক নাসরীন। গাড়ির ভেতর থেকে ইমরান তাকে ডাকে। নাসরীন গাড়িতে চড়ে বসে।

আধঘন্টার মধ্যেই গাড়ি রাইফেলস স্কোয়্যারের দোরগোড়ায় এসে যায়। ইমরান আর নাসরীন সিঁড়ি দিয়ে উঠে হ্যালভেশিয়ায় প্রবেশ করে। সেখানে গিয়ে সে দেখে আগে থেকেই বসে আছে সেখানে বাবু আহমেদ, তিথী আর জুবায়ের। প্রচন্ড অস্বস্তি বোধ করে নাসরীন।

মুখ খোলেন বাবু আহমেদ। কেমন আছো, পড়াশোনা কেমন চলছে এসব প্রশ্ন করতে করতেই বাবু আহমেদ মূল প্রসঙ্গ তুললেন। প্রসঙ্গ আর কিছুই না, তার আর তিথীর ব্যাপারটা। বাবু আহমেদ সরাসরি বলে বসলেন - "নাসরীন তুমি তিথীকে মাফ করে দাও"। নাসরীন অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো ভদ্রলোকের বলার ধরনটা এমন যেন হয় তাকে মাফ করতে হবে নয়তো তাকে মাফ করতেই হবে। ওদিকে ইমরান আর জুবায়েরও পীড়াপীড়ি করতে লাগলো। অবশেষে অনেকটা বাধ্য হয়েই নাসরীন বলে সে তিথীকে মাফ করে দিয়েছে। হাসি ফুটে ওঠে ওদের সবার মুখে। তিথী কি জানি বলার চেষ্টা করছিলো কিন্তু তার আগেই নাসরীন উঠে দাঁড়ালো। বললো - "ভালো লাগছে না, বাসায় যাবো"। জুবায়ের বললো - "যাবি? আচ্ছা যা।" নাসরীন প্রস্থান করলো হ্যালভেশিয়া থেকে। সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর চিন্তা করছে টাকার কতো শক্তি - মুখের কথা কিভাবে পাল্টে দেয়, আপনকেও পর করে দেয়। কিন্তু মনের কথা পাল্টায় পৃথিবীতে এমন কোন শক্তি নেই।
নাসরীনের মনে যখন এসব চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে ঠিক সেই সময়ই হ্যালভেশিয়ার ভেতরে জুবায়েরের হাতে একটি কালো ব্রিফকেস তুলে দিলেন বাবু আহমেদ - হাসতে হাসতেই। সে হাসি নেহায়েতই হাসি নয়, কর্পোরেট তৃপ্তির হাসি..........




* বিঃ দ্রঃ এই পোস্টে উপস্থাপিত চরিত্র, ঘটনা ও প্রেক্ষাপটসমূহ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কোন বাস্তব ঘটনার সাথে এর মিল খুঁজে পেলে তা হবে নিতান্তই কাকতালীয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:১১
৫৪টি মন্তব্য ৪৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×