somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খালি দেখি আর হাসি......

২১ শে জুন, ২০১০ সকাল ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


***সতর্কতা: এটি লেমন জ্যুস, তবে লেবু কচলানি নয়***

ফ্যাবিয়ানো ওটা "হ্যান্ডলিং দ্যা বল" (ইচ্ছাকৃত) হয়েছে কিনা সেটা বিচারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিলো রেফারীর - যদি তিনি সেটা দেখে থাকেন। আমি রেফারীকে হাসতে হাসতে ইশারাও করতে দেখেছি টিভিতে হ্যান্ডবলের ব্যাপারটা.....তাই ধারণা করেছি তিনি জানতেন। জেনেও তিনি কেন এমনটা করলেন সেটা বলা অবশ্য মুশকিল। আমার মনে হয় যারা ফুটবল দেখেন তাদের সবাই জানেন রেফারীরা কতোটা খামখেয়ালী হন। (জামার্নী-সার্বিয়ার ম্যাচটা মনে করেন - রেফারী ৯টা হলুদ কার্ড দেখাইসে পুরা ম্যাচে আর ক্লোজাকে দুইটা দেখিয়ে বের করে দিসে......) বিশ্বকাপের ইতিহাসে মজার ঘটনাগুলোর অধিকাংশটা জুড়েই রেফারীদের গল্প। "হ্যান্ড অফ গড" বলে কিছু নেই, কিছু যদি থাকে তবে সেটা হলো রেফারীর ভুল সিদ্ধান্ত বা স্পট করার অক্ষমতা। আজ পর্যন্ত কোন ফুটবলারকে দেখেনি রেফারীকে গিয়ে বলতে - "ভাই বলটা আমার হাতে লেগেছে, গোলটা ক্যান্সেল করেন".......Why should this be any different? তবে এ ধরনের গোলের সৌন্দর্য্যটা কেড়ে নেয় ঐ হাতটাই। এক্ষেত্রে তো তাও বলটা জালে যাওয়ার আগে পায়ের ছোঁয়া পাইসিলো।



তবে একটা কথা অবশ্যই বলা প্রয়োজন - আর তা হলো যদি ফ্যাবিয়ানো অনিচ্ছাকৃতভাবে বলে হাত লাগিয়ে থাকেন তাহলে এটি অবৈধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর রেফারী যে পরে "হাত দেখিয়ে ইশারা করেছেন" সেটি হতে পারে যে তিনি বুঝিয়েছেন - বল হাতে লাগার বিষয়টি তিনি জানেন। সেক্ষেত্রে জানা সত্ত্বেও যেহেতু তিনি গোল বাতিল করেননি, তাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভব যে তিনি এটিকে ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডলিং দ্যা বল মনে করেননি।

***একটা ছোট কথা উল্লেখ করে রাখি। ধরেন ফ্যাবিয়ানো/হেনরী/মেসি রেফারীর কাছে গিয়ে স্বীকার করতো যে তারা হাত দিয়ে গোল দিসে। তাতে কি কোন লাভ হতো?

ফিফার অফিশিয়াল ল' বুকের রুল ৫ বলছে:

The decisions of the referee regarding facts connected with play, including whether or not a goal is scored and the result of the match, are final.
The referee may only change a decision on realising that it is incorrect or, at his discretion, on the advice of an assistant referee or the fourth official, provided that he has not restarted play or terminated the match.


অনুবাদ: খেলা সংক্রান্ত যে কোন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রেফারীর সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত - সেটি গোল হওয়া বা না হওয়ার সিদ্ধান্ত বা খেলার ফলাফল নির্ধারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন।

রেফারী শুধুমাত্র তখনই তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন যখন তাঁর মনে হবে যে সিদ্ধান্তটি ভুল অথবা তার ইচ্ছানুযায়ী অথবা সহকারী রেফারীর পরামর্শ অনুযায়ী অথবা চতুর্থ অফিশিয়ালের পরামর্শ অনুযায়ী। তবে শর্ত থাকে যে তিনি খেলা নতুন করে শুরু করতে পারবেন না বা ম্যাচ বাতিল করতে পারবেন না।


সুতরাং কোন লাভই হতো না ঐ সততা দেখালেও। রেফারী তার মত পাল্টাতে পারতেন না ফিফার নিজস্ব আইন অনুযায়ীই। ফিফার ল' বুকটি ডাউনলোড করতে পারেন এখান থেকে: View this link

ঠিক তেমনি খামখেয়ালিপণা চোখে পড়েছে কাকার সিদ্ধান্তেও। কাকাকে দেখানো দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটা মোটেও জাস্টিফাইড না। পুরো ম্যাচে আইভরি কোস্ট ফাউল করে ফেলেছে - আফ্রিকান ফুটবলের আসল ডার্ক সাইড এটাই। স্পেশালি এলানোকে ওরা যেভাবে মাঠছাড়া করলো তাতে আমি মর্মাহত! তবে আমার বারবার মনে হচ্ছিলো কাকাকে দুঙ্গার আরো আগেই সাবস্টিটিউট করা উচিৎ ছিলো। তবে অনেকদিন পর কাকা ফিট থাকায় তিনি হয়তো চেয়েছিলেন তাকে পুরো ৯০ মিনিট খেলাতে। মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় কাকার হাসিটা ভালো লেগেছে - অনেক কিছু বলে দেয় হাসিটা।

প্রাসঙ্গিকতায় রিভাল্ডোর কথা উঠে এসেছে - এবং কথাটা সত্য। ২০০২ এ রিভাল্ডোও ঐরকম (নাকি এর চাইতেও বেশি?) ওভারএ্যাক্টিং করে তুরস্কের এক প্লেয়ারকে রেড কার্ড পাইয়িছিলেন।

ফিফার কাছে আপিল করে কোন লাভ হবে না - মোটামুটি শিউর। এর চাইতে ব্রাজিলের এখন পরবর্তী মিশনের দিকে নজর দেয়া উচিৎ। সেটা হলো কাকাকে ছাড়া ম্যাচ জেতার মিশন। সেটা খুব একটা কঠিন হবে বলে মনে হয় না।

আপততঃ কাকার চেয়ে ব্রাজিলের বেশি ভাবা উচিৎ কি করে কোন গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সেটা নিয়ে। ব্রাজিলের খেলার এই একটা দিকই ভালো লাগছে না এবার। এমনিতে আমার কোন অভিযোগ নাই অন্ততঃ এই দুই ম্যাচের পরিপ্রেক্ষিতে। কালকের খেলায় প্রথম গোলটা আমার অসাধারণ লেগেছে।

ব্লগের অবস্থা এখন - "শালা তুই মরলে আমি বাঁচি"......এই টাইপ.......আর কয়েক বছর পর বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদেরকে নিম্নশ্রেনীর মানসিকতার লোক বলে অভিহিত করলেও অবাক হবো না.......

সমর্থক হওয়ার পাশাপাশি দর্শক হওয়াটাও জরুরী.......

নিজের দলের দোষ আর গুণ দু'টোই স্বীকার করে নেয়ার মানসিকতা থাকা উচিৎ.......

খালি দেখি আর হাসি........
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২৩
৩৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×