somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি দেখতে পাচ্ছি না, আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে (ব্লগ দিবসে গমন) B-) ;) /:) :D :)

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লিফটের দরজাটা খুলে গেলো। একটা দরজা সামনে। সাধ্য কি তার ভেতরের আওয়াজ ঠেকায়? সভাকক্ষের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে এতো দূর থেকেও.... ক্যাড়কেড়ে গলায় কোন এক ভদ্রলোক কিছু বলছেন... মাইনাস ২.০/২.৫ চোখ চেহারা ঠিকমতো রিড-আউট না করতে পারলেও মাথার ওপরের চকচকে ক্ষেত্রটি অবহেলা করা চলে না। B-)

স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলে বালক। বাড়িটা খুঁজিয়া পাইতে সামান্য হইলেও ক্লেশ হইয়াছে এই শীতের সন্ধ্যায় মাথার সিক্ত কেশ তার কিছুটা প্রমাণ হইলেও বহন করে।

দরজার হাতলে হাত, শীতল অনুভূতি। হালকা মোচড়, যেন আপনা থেকেই ভেতরে চলে গেলো দরজাটা। দরজাটাতো ফ্রেন্ডলিই। কিন্তু লোকগুলো? রুমজোড়া ওরা?

ঢুকেই ব্যাকবেঞ্চারে পরিণত বালক, আর সাথে তার দুই সফরসঙ্গী। ঘন মানবজঙ্গল ডিঙ্গিয়ে নজর কাড়ে আবারো সেই চকচকে ক্ষেত্র। আচ্ছা - নিয়নের আলো নাকি সোডিয়াম লাইট কোনটা বেশি রিফ্লেকশেন দেবে এই ক্ষেত্রে। ;)

ভাবতে ভাবতেই বিরক্ত বালক। এ কি কাণ্ড। সবাই দেখি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। এন্ট্রিটা মোটেও বালকের মনঃপুতঃ হয়নি। দরজা খোলা মাত্রই সব অন্ধকার... স্পটলাইট বালকের ওপর... স্লো-মোশনে পদক্ষেপ ফেলা... মোহাব্বাতের শাহরুখের মতো হাওয়ায় উড়ে বেড়াবে কমলা-বাদামি মেপল লিফ - এই ছিলো ২ বছর ৬ মাস ধরে বালকের স্বপ্নের এন্ট্রি। :D

পরিচিত চেহারা। বুকে বল ফিরে পায় বালক। এগিয়ে যায় ডান হস্ত বাড়িয়ে। শুভেচ্ছাসূচক বক্তব্য মার খেয়ে যায় ফর্মাল জবাবের কাছে।

কি হলো? চশমা? নাকি অন্য কিছু? না চেনার তো কথা নয়। তবে ওরকম করলো কেন? চিন্তা আর নিরাশায় ডোবে বালক। হঠাৎই সফরসঙ্গী ইশারায় দেখায় লালচে 'নিশীথ শ্রমিককে'। এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়ায়। কোণায় টানিয়া লইয়া যায় তাহাকে নিশীথ শ্রমিক... জিজ্ঞাসে ফিসফিসিয়ে একখানি প্রশ্ন... শুনিয়া বালকের ভ্র-কুঞ্চিত। সে কোন দুঃখে 'চার পেয়ে জীবের দু'-পেয়ে ভার্শন' হতে যাবে? কথা হয়... বার্তা হয়... হঠাৎই সুন্দরী এক আপু বলেন - "বসে যান আপনারা, দাঁড়িয়ে থেকে কি লাভ?" শ্রমিক বলে - না না, আমরা ঠিক আছি।" কোণায় গিয়ে চেয়ার দখল করে বালক আর শ্রমিক। খানিক পরে সেও বিদায় নেয়... ধূম্রজালের নেশায় উড়ে যায় মুক্ত প্রকৃতি পাণে।

বালক স্বস্থানে ফিরে যায়। ফুচকা খায়, ১ নয়... ২ প্লেট। পেট ভরে, তবু মন ভরে না। এই নাকি সেল্রেবটি ব্লগারের প্রথম অ্যাটেনডেন্স... হাহ্! অধৈর্য্য বালক আবার উঠে যায় কেদারা ছাড়িয়া। গিয়ে মিলিত হয় 'কুমন্ত্রণাদানকারী', 'চিত্রগ্রাহক',' রেইনি ইভনিংয়ের' আরো কতজনের সাথে। আস্তে আস্তে বালকের মনের রং বদলায়, সাহস বাড়ে।

চকচকে ক্ষেত্রকে এইবার একটু কাছে পাওয়া গিয়াছে। বালক গিয়া পরিচিত হয়। সে বলে, "আসিতেছি"। ইতোমধ্যে 'ব্লগাধিপতি' ও 'ব্লগাধিপত্নীর' প্রবেশ। হালকা গুঞ্জন সভাক্ষেত্রে। বালক তাকায়, আবার চোখ নামায়। পরিচয়টা আরেকটু পরেই হোক। :D

মঞ্চে চকচকে শুরু করেছেন... শুরু করেছেন বালককে ডাকিয়া আনি কথা কওয়াইবার দু'-চারখানি। বালক মনে মনে খুশি চাপিয়া রাখতে পারে না, তবুও আপ্রাণ চেষ্টা করে মঞ্চে উচ্চারিত প্রশংসাবাণী গ্রেটনেসকে অবজ্ঞা করিবার। এইটুকু পার্ট যদি সে নাই লইবে তবে আর কিসের ব্লগার হইলো সে? B-) B-)

মঞ্চে তাহার ডাক পড়িয়াছে। সফরসঙ্গী-২ তাকে যাইতে বলে। বালক উঠিয়া দাঁড়ায় বটে কিন্তু অমনি সভাক্ষেত্রে প্রধান অতিথির প্রবেশ। বালকের যাত্রা বিলম্বিত হয়। 'ব্লগাধিপতি' ও 'ব্লগাধিপত্নী' তাহাকে লইয়া স্বস্থানে বসে। কিন্তু বালকের মনে চিন্তা। সাময়িক এই বাধায়, এই 'ঘণীভূতিকরণ বিঘ্নে' - চকচকে তাহাকে ভুলিয়া যায় নাই তো? :-*

কিন্তু না চকচকে আবারও মঞ্চে ডাকে বালককে। এবার আগের চাইতেও বেশি গুণকীর্তণ... এইবার তাহলে মঞ্চে ওঠা যায়। বালক আজ সন্ধ্যায় এই কক্ষে উপস্থিত আছে, এই বাক্যে সভাস্থলে শোর পড়িয়া যায়। সবাই ঘাড় ফিরিয়ে খোঁজে তাকেই। বালক আপন মনে হাসে আর সিট ছাড়িয়া ওঠে। দ্রুতপদে মঞ্চে গিয়া চকচকেকে অব্যাহতি দেয়। ;)

আহা! এই মূহুর্তটির জন্য বালক কতো কিছু মনে ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলো। কিন্তু এখন আর কিছুই মনে পড়ছে না। ধূর্ছাই! :|

মাইক হাতে বালক চকচকেকে আশ্বস্ত করে সে তাকে মারিয়া ফেলিবে না। নিজের কথা বলে বালক। বলে কি বিরোচিত কর্শকান্ডের মধ্য দিয়া বলক ২ বছর ৬ মাসে ৬ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি হিট সংগ্রহ করিয়াছে । হিটের কথাটা দুই বার বলে বালক। "আহা! ইহাই যদি না বলিলো, তবে সে কিসের ব্লগি করিলো?"

মঞ্চ ছেড়ে আসে বালক। এটিএন এর জনৈক রিপোর্টার তাহার পথ আলগায়। জিজ্ঞাসে প্রশ্ন এক-দুই। উত্তর দেয় বালক, প্রসিদ্ধতম ব্লগারের ন্যায়। বৃত্ত পর্বে যোগ দেয়া বালক তবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসে না। 'ব্লগাধিপতি'র বাংলা শুনিয়া ইমপ্রেসড হয়। 'ব্লগাধিপত্নি'র সাথে কথা হয়। দুইজনের সাথে একখানি ছবিও হয়ে যায় ফাঁকে।

শেষমেষ... আবারও ঠান্ডা হাতল ঘোরে... ঘড়ি পাণে। বাইরের শীতল হাওয়া বালককে শিহরীত করে।

রেখে আসে বহু স্মৃতি, নিয়ে যায় বাকি। কার পার্কিং এরিয়ায় মনে মনে ভাবে, "তবে আবার আসিবো ফিরে..." :((

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২১
৪৫টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×