somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিলেশনের ঝগড়া (Extended)

১৭ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"রিলেশনের ঝগড়া" পোস্টটার খসড়া লিখেছিলাম ভার্সিটির একটা খাতায়। যখন সেটাকে ব্লগে আনতে গেলাম, তখন ক্লাসে বসে আসা ভাবনাগুলোর কিছু বাসায় এসে হারিয়ে যায়। হয়তো এতোই সংক্ষেপে লিখেছিলাম পরে আর মনেই করতে পারিনি আসলে কি লিখেছিলাম। তারই কয়েকটা পয়েন্ট পরে আপনিই মনে পড়ে যায়, আর তাই এই সম্পূরক পোস্ট।

দূরত্ব: দূরত্ব রিলেশনের শান্তির বড় শত্রু এবং ঝগড়ার প্রভাবক।

● Long Distance রিলেশনশিপে দূরত্বটাই অধিকাংশ ঝগড়াকে টেনে এতোদূর নিয়ে যায়, হয়তো কাছাকাছি থাকলে একবার দেখা হলেই এটা আর কোন ব্যাপারই ছিলো না।

● দূরত্ব মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ: যে ছেলেটি ঢাকায় থেকে রাজশাহীর মেয়েটির সাথে রিলেশন চালিয়ে যাচ্ছে সে স্বভাবতই জানে না মেয়েটি কোথায় যাচ্ছে/কি করছে/কার সাথে দেখা করছে। সারাদিন হয়তো মাথার মধ্যে এ কথাগুলাই কাজ করে। আর তার ওপর ফোন এনগেজ পাওয়া আর ফেইসবুকে রোমান্টিক স্ট্যাটাস দেখে সন্দেহপ্রবণতা তো আছেই। সব মিলিয়ে একটা খুবই বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়। আর সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো, এক্ষেত্রে চাইলেও রিলেশনের ঝগড়ার মহৌষধ: 'সামনা-সামনি দেখার' সুযোগটাও নেই।

● সামনা-সামনি দেখা হওয়াটা ঝগড়ার সবচেয়ে বড় ওষুধ। হয়তো পুরো ঝগড়াটাই হয়েছে ফোনে/ফেইসবুকে এবং দু'জনেই অথবা একজন তার যুক্তিবলে শক্ত অবস্থানে আছেন। কিন্তু শুধু একবার সামনে দেখা হলে দু'জনের কেউই হয়তো আর যুক্তির ধারও ধারবেন না। সামনা সামিনি দেখার পর ঝগড়া না মিটিয়ে যাওয়াটাই বরং বেশি শক্ত।

● রিলেশনের একটা পর্যায়ে গিয়ে (যাদের প্রথম রিলেশন) দু'জনেই 'দেখা করার' সাথে ঝগড়া মেটানোর সম্পর্কটি অনুধাবন করে, একে ওষুধ হিসেবে কাজে লাগানোর বুদ্ধিটা শিখে ফেলেন।

কমন ডায়লগ:

● "তোমার সাথে কথা আছে..."

● "কার সাথে দেখা করেছো? কাকে দেখে স্ট্যাটাস দিসো?"

● "তুমি কি আমাকে অবিশ্বাস করছো?"

● "দেখা করবো... কখন পারবা?"

● "আমার আর কিছু ভালো লাগছে না... প্রতিবার কি ঝগড়া মিটাতে আমাদের এভাবে দেখা করতে হবে? আমরা কি ঝগড়া না করে থাকতে পারি না? এই জন্য রিলেশন করেছিলাম?"

● "মনের ভেতর এতো কিছু ভেবে চিন্তে রাখি... তোমায় বলবো বলে। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমার কাছে আসলে সব ভুলে যাই। আর কিছু বলতে ইচ্ছে করে না... রাগটা ধরে রাখতে পারি না।"

● "প্রতিবার সেই একই গল্প। ঝগড়া হবে। দু'জনে কেঁদে-কেটে একাকার হবো। কিন্তু দেখা করার পরে আবার সব ঠিক... আমার আর ভালো লাগে না..."

বয়স: কাপলের বয়স ঝগড়ার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান:

● সমবয়সী/কাছাকাছি বয়সের কাপলের ঝগড়াগুলো অপেক্ষাকৃত কম ভায়োলেন্ট হয়। সেখানে তর্কের চাইতে যুক্তির খেলাই বেশি চলে। কথার মার-প্যাঁচও তাকে অনেক বেশি। Direct কথা খুব কম হয়, আর হলেও একদম ঝগড়ার শেষের দিকে গিয়ে হয়। এধরণের ঝগড়া চলেও বেশ ধীর গতিতে। কোন কোন ক্ষেত্রে মাস অব্দি গড়াতে পারে।

● কাপলের বয়সে মোটামুটি পার্থক্য থাকলে ঝগড়াগুলো তুলনামূলকভাবে এক্সট্রিম পর্যায়ের হবে। এ জগড়ায় প্রায় সব কথাই Direct হয়ে থাকে। নিজের অবস্থানটা জানিয়ে দেয়ার ইচ্ছেটা দু'জনের মধ্যেই প্রবলভাবে কাজ করে। এ ধরণের ঝগড়া বেশ তাড়াতাড়ি এগোয় এবং মিটেও যায় (বা বিপরীতটা) খুব তাড়াতাড়ি। ঝগড়ার একদম শেষে গিয়ে একজন আরেকজনকে ছেড়ে থাকতে পারবে না, এর বাদে আর খুব কম বৈধ Logic-ই এ ধরণের ঝগড়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে।

● কথায় কথায় রিলেশন ভেঙে দেয়ার বিষয়টিও বেশি দেখা যায়। এমনটা সমবয়সীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না, কারণ দু'জনেই জানে দু'জনের দৌড় কতোটুকু।

*উল্লেখ্য, এখানে সিরিয়াস রিলেশনশিপ নয় এমন রিলেশনে কাপলের 'কথায় কথায় ছেড়ে চলে যাওয়ার' বিষয়টি নিয়ে বলা হচ্ছে না। সেটা খুবই স্বাভাবিক।*

কমন ডায়লগ:

● "তাইলে যাও? তোমার তো সেটাই ইচ্ছা তাই না? রিলেশন রাখার দরকার কি?"

● "মনে রেখো, ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা তুমি বলছিলা... আমি বলি নাই..."

এইবার একটা ডায়লগ চক্র:

ওকে, বাই... ভালো থেকো... তুমি অনেক ভালো কাউকে deserve করো। আমার মতো ফালতু ছেলে/মেয়েকে তোমার লাগবে না। শুধু মনে রেখো... কেউ একজন ভালোবেসেছিলো। (ফোন কাট)

(আবার রিং)

"চলে যাবা? না? ওকে যাও। সবতো এমনিতেই গেছে... তুমি আর থেকে কি করবা? আসলে আমার কপালেই ছিলো না।" (ফোন কাট)

(আবার রিং)

যাবো না... আমি পারবো না...

(নীরবতা)

"নাহ, আর থেকে কি হবে? সবতো বলেই দিসো..."

(নীরবতা)

"I'm Sorry... আমি তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারবো না (এখানে নাম হবে)।"

পারবা... মুখে যখন আনতে পারসো তখন থাকতেও পারবা। আর তোমাকে ছাড়া আমার কিছু হবে না। চিন্তা করো না, আমি উল্টা-পাল্টা কিছু করবো না। একটু মন খারাপ হবে... হয়তো একটু কাঁদবো... হয়তো অনেক। হয়তো আর কোনদিন কাউকে বিশ্বাস করতে পারবো না... But it's OK... আমি ভাববো আমার কপালে ছিলো...

Please...

(নীরবতা)

Please... আমি আর পারছি না।

(নীরবতা)

ওকে ঠিক আছে... ফিরবা নাতো। ওকে! মনে রাইখো আর কোনদিন আমার ভয়েস শুনতে পারবা না। চাইলেও পারবা না। বাই! (ফোন কাট)

(চক্র শেষ!)

ক্যারিয়ার ও বিয়ে: ক্যারিয়ারের ঝগড়াটা রিলেশনের প্রো-লেভেলের ঝগড়া। ইনফ্যাক্ট এই ঝগড়ায় একটা ব্যাপার নিশ্চিত হয়েই যায় - বিয়েটা এখন শুধু সময়, সুযোগ আর ভাগ্যের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ছেলের চাকরি, ক্যারিয়ার গোছানো ও শেষমেষ বিয়ের এ ঝগড়াটা রিলেশনের আর যে কোন ঝগড়ার চেয়ে বৈশিষ্ট্যে আলাদা -

● মেয়ে ছেলেকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়। এ সময়রে মধ্যে তাকে চাকরী খুঁজে বের করে ক্যারিয়ার গোছাতে হয়।

● আবার সময় বেঁধে দেয়া গতে পারে বিয়ের ক্ষেত্রেও। বাসায় সম্বন্ধের কথা তোলা বা বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর (বা পালিয়ে বিয়ে) জন্য বেঁধে দেয়া হয় সময়। অনেকদিন ধরে রিলেশনের পর একটা ছেলে এ পর্যায়ে এসে টের পায় বিয়েটা আসলে সহজ নয়।

● রিলেশনের প্রথমে "পরে দেখা যাবে বলে" যে ব্যাপারগুলোকে সে ঠেলে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে তা এবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কমন ডায়লগ:

● "আমি আর অপেক্ষা করতে পারবো না, ৪ মাস সময় আছে তোমার কাছে। এর মধ্যে কিছু করো, না হলে আমাকে ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে। তখন কি করবা?"

● "বাসায় একটার পর একটা সম্বন্ধ আসছে। আর কতদিন ঠেকিয়ে রাখবো আমি?"

● "বাসায় বলো... বাকিটা আমি দেখবো। তুমি শক্ত থেকো।"

● "যখন হাত ধরেছিলা তখনতো সাহস কম ছিলো না, এখন হঠাৎ বিয়ের কথা ওঠাতে পিছপা কেন?"

● "আমার সমস্যাটাতো বোঝো..."

একই বিষয়ে লেখকের অন্যান্য জ্ঞানগর্ভ গবেষণাসমূহ:

১. প্রেম - কত প্রকার ও কি কি - সবিস্তারে বর্ননা (১৮+ পোস্ট) ♥♂♀
২. রিলেশনের শুরু
৩. রিলেশনের ঝগড়া
৪. ছেলেদের ব্রেক আপ
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:১৪
২৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×