somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পদ্মা আর বিশ্ব’র বিয়ে ;) B-)

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সেই কলেজ জীবন বিশ্বকে ভালোবাসে পদ্মা। শুধু আশেপাশের মানুষই না তাদের প্রেমের কথা জানে দুই পরিবারও। কারো দিক থেকেই কোন আপত্তি ছিল না। আসলে বিশ্বকে বিয়ের পথে পদ্মার চোখে কোন বাধাই ছিল না। তবে কিছু চিন্তা পদ্মার মনে ছিল। তার একটি অবশ্যই অর্থ। বিশ্ব আর পদ্মার পরিবারের আর্থিক অবস্থায় যোজন যোজন পার্থক্য। পদ্মার বাবা ‘মহিশাশুর’ সামান্য সরকারী চাকুরে। মা ‘সুহাসিনী রায়’ আজীবন ঘরগিন্নী। অন্যদিকে বিশ্বের বাবা মাল্টিন্যাশনাল ফিন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের বড়কর্তা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কিছু চিন্তা তাই মনে থেকেই যায়। শেষ মুহূর্তে যদি কিছু একটা এলোমেলো হয়ে যায়?

পদ্মার এসব দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছিল দুই পরিবার একসাথে বসার পর। বিয়ের ব্যাপারে শুধু মৌখিকভাবে একমতই হয়নি, একবারে বিয়ের লগ্ন অব্দি ঠিক হয়ে যায়। তবে বিয়ের মত জাগতিক স্বীকৃত জটিল একটি বিষয়ে এতটা সুন্দর সাজানো-গোছানো ভাব বোধহয় নিয়তির পছন্দ হয়নি। আর তাই বিয়ের মাত্র ক’ মাস বাকি থাকতেই সমস্যার শুরু। প্রথমে কোন আপত্তি না থাকলেও এখন বেঁকে বসে বিশ্বের পরিবার। মেয়ের এটা ভালো না, ওটা ভালো না। এটায় সমস্যা, ওটায় সমস্যা। মেয়ের হাঁটা চলা, কথাবার্তা সবকিছুতেই খুঁত ধরতে শুরু করে তারা।

সবচেয়ে বড় আঘাতটা আসে পদ্মার মামা ‘বাবুল’ এর জন্য। বিশ্বদের পরিবারের অভিযোগ, গয়না কেনার জন্য বাবুল মামাকে নাকি কিছু টাকা দেয়া হয়েছিল যা উনি মেরে দিয়েছেন। কিন্তু বাবুল মামা বারবার বলেছেন, এমন কোন টাকাই তাকে দেয়া হয়নি, তবে মেরে দেয়ার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? এটা নিয়ে পদ্মার পরিবারও বিস্মিত। পদ্মার বাবা মহিশাশুর বাবুল মামার পক্ষ নিয়ে তর্ক অব্দি চালিয়েছেন বিশ্বদের পরিবারের সাথে। এক পর্যায়ে বিষয়টা গালাগালির পর্যায়েও চলে যায়। বাবুল মামার কিছু সমস্যা আছে এটা সবারই জানা। এমনিতেই লোকটা বোকাসোকা কিসিমের, কখন কি বলেন না বলেন কোন ঠিক নেই। কিন্তু টাকা মেরে দেয়ার জন্য টাকা হাতে আসাটাওতো জরুরী। আর বাবুল মামাও একটাই কথা বারবার রেকর্ডের মত বাজিয়ে চলেছেন – “আই ‍অ্যাম এ টোটাল অনেস্ট ম্যান, আই ‍অ্যাম এ প্রুভেন অনেস্ট ম্যান...”।

ফল যা হবার তাই হল। বিয়ের মাত্র ক’ সপ্তাহ বাকি থাকতেই বিশ্বের পরিবার বিয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং খোলাখুলি কথাটা জানিয়েও দেয়। লজ্জায় নত হয় পদ্মার পরিবার।

পাত্রপক্ষের কাছ থেকে এত বড় একটা অসম্মানের পর পদ্মার পরিবার খুবই রাগ হয়েছিল। এতোটাই যে পদ্মাকে না জানিয়েই তারাই অন্য পাত্রের খোঁজ শুরু করেন। তারা ভাবছিলেন, পদ্মার মত মেয়ের জন্য কোনদিনও পাত্রের অভাব হবে না। ব্যাপারটা আসলেও তাই। শিগগিরই পাত্র জুটেও গেল। ছেলে মালয়েশিয়া ফেরত। কাড়ি-কাড়ি ধনসম্পদের মালিক। দেশে নিজেদের বাড়ি-গাড়ি। কিন্তু বিয়ের কথাবার্তা যখন এল বোঝা গেল- এরা অন্য প্যাঁচের মানুষ। তারা বিয়ে করে পদ্মাকে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে চায় এবং ওখানেই রাখতে চায়। মেয়ে কবে দেশে ফিরবে না ফিরবে কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। ‌এত আদরের মেয়ের এমন করুণ পরিণতি পদ্মার বাবা-মা’ও যেন মেনে নিতে পারছিলেন না। তবুও লোকলজ্জার ভয়ে আদরের মেয়ের বিয়ের কথা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

অন্যদিকে বিশ্বদের পরিবারের সাথে ‍বিয়ের কথা চলাকালীন সময়ে বেশ ক’জন আত্মীয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। বিয়ের গুরুগম্ভীর কথাগুলো এরাই চালাতেন। একদিকে ছিলেন পদ্মার পিসেমশাই ‘মুহিত পোদ্দার’ অন্যদিকে বিশ্বের মামী ‘জাইকা দেবী’। কিন্তু দু’ পরিবারের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ার পর জাইকা দেবীও মুহিত বাবুকে এড়িয়ে যেতে থাকেন। কোনভাবে বিয়ের সম্পর্কে ফেরত যাওয়া যায় কি-না এমন প্রশ্নে মুখ খুলে কিছুই বলতেন না।

শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ সপ্তাহ পরে মুখ খোলে বিশ্বের পরিবার। মুহিত বাবু হতাশভাবে জানালেন বিয়ের প্রসঙ্গে ফিরতে একগাদা শর্ত দিয়েছে তারা। যদি এগুলো পূরণ হয় তবেই এই বিয়ে আশার আলো দেখলেও দেখতে পারে। তাদের প্রথম শর্ত পাত্রীর মামা- অর্থাৎ বাবুল রায়ের এই বিয়েতে আর কোন আনুষ্ঠানিকতায় কোন রকম অংশগ্রহণ থাকবে না। কঠিন এই শর্তটা মেনে নিতে পদ্মার পরিবারের খুব কষ্টই হচ্ছিল। কিন্তু এরপরের শর্তটার কাছে এ কষ্ট কিছুই না। পাত্রপক্ষের দ্বিতীয় দাবি, বিয়ের দিন পদ্মার বাবা মহিশ্বাশুরের মুখও যেন তারা না দেখেন! কিন্তু এও কি সম্ভব?

অদ্ভূত এই দুনিয়ায় আসলেই হয়তো সবই সম্ভব। আজ পদ্মা আর বিশ্বের বিয়ের দিন। মেয়ের বিয়ে হচ্ছে, বাইরে সানাই বাজছে। আর মহিশাশুর ঘরে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন। কারও সাথে তেমন একটা কথা বলছেন না। সবই শুধু পদ্মার সুখের কথা চিন্তা করে। মহিশাশুর নিজেও জানেন, এরপর কি হবে। এরই মধ্যে তার আলামত আসতেও শুরু করেছে। বিয়ের মণ্ডপে ওঠার আগেই ছেলে একটা মোটরসাইকেল চেয়ে বসে আছে। আরও আব্দার, বিয়ের পরে তাকে নগদ ২ লাখ টাকা দিতে হবে। তবুও বিশ্বের কাছেই পদ্মাকে বিয়ে দিতে হবে। মুখ বাঁচাতেই হবে। মহিশাশুর জানেন, যত গ্লানি আর অপমান সহ্য করে আজ তারা পদ্মার বিয়ে দিচ্ছেন, এর চাইতেও বেশি কষ্ট হয়তো তাদের ভবিষ্যতে পেতে হবে। তবুও পদ্মা সুখীতো হবে। কথাতো রাখা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:১০
২৪টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কানাডার স্কুলে একেকটি দিন (পর্ব ৫) - ঈদ মোবারক সবাইকে! কিছু পাঠকের প্রশ্নের উত্তরে আজকের পর্ব : কেমন কাটে প্রবাসে ঈদ?

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ২৪ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৮:৪১

পোস্টের শুরুতে সকল ব্লগারকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দোয়া করছি, আপনাদের সকলের ঈদ আপনজনদের সাথে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে, আনন্দে কাটুক।

আগের পর্বগুলো:
আগের সিরিজ: কানাডার স্কুলে একদিন (এক থেকে বাইশ): [link|http://www.somewhereinblog.net/blog/samupagla007/30173473|পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিমানী বুবু...... যেয়ো না চলে

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৩২



বুবু আমার অভিমানী-মুছে দিলো সুখের ছন্দ
আচম্বিতে মনে লাগল-জানি নাকো কিসের দ্বন্দ্ব।
কত কথা লিখা ছিলো- সামু ব্লগের পাতায় পাতায়
পাতাগুলো শূন্য দেখে-মন’টা কষ্টে বড্ড ছাতায়।
গল্প স্বল্প আড্ডাবাজি-কাব্য ছড়া ইসলাম কথন
ছিলো সবই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোমান্টিক, বেরোমান্টিক

লিখেছেন মাহফুজ, ২৪ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:১০

-এই চলো বৃষ্টিতে ভিজি।
-আমার এসব বৃষ্টি ফিষ্টি ভাল্লাগেনা।
-ধুর তুমি যে কি না!
-আমি কি?
-রোমান্স নাই একটুও, বেরোমান্টিক।
-বৃষ্টিতে ভিজা না ভিজাতেই বুঝি রোমান্স নির্ভর করে?
-করেতো।
-তাহলে আমার আসলেই রোমান্স নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামু ব্লগারগণ কোথায়?কারো কাছ থেকে ঈদের দাওয়াত পাইলাম না /#) (হতাশায় হতাশিত হইয়া পোষ্ট)

লিখেছেন দ্যা ফয়েজ ভাই, ২৪ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫২


আজ ২৮রোজা।এবার ২৯ রোজার শেষেই ঈদ হতে পারে।তার :-B মানে কাল বাদে পরশুই ঈদ হবার সম্ভাবনা।আমি তো সেই কবে থেকে প্ল্যান করে রাখলাম,কখন কোন ব্লগারের বাসায় গিয়ে পেট পুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিসকলের গ্যাঁড়াকলে...

লিখেছেন নাদিম আহসান তুহিন, ২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪৮

চাঁদপুরের একটা মেয়ে আমারে খুব ডিস্টার্ব করতেছে। এই মেয়ের হাত থেকে বাঁচার একটা উপায় বলেন তো আমারে। আমারে এর কবল থেকে রক্ষা করেন।
::
ঘটনাটা তাহলে খুলেই বলিঃ
::
বেশ কিছুদিন আগে (প্রায় দু'তিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×