নামকরণের রাজনীতি
প্রসঙ্গ: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ছয়দফা প্রস্তাব
নাজমুল ইসলাম মকবুল
আমরা বড়ো ভাগ্যবান। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থাপনার নামফলক বারবার পরিবর্তন হয়। এতে রষ্ট্রের পুরোটাই লাভ। কারণ একই জিনিস বারবার দেখতে দেখতে অথবা একই নাম বারবার শুনতে শুনতে মনটা কেমন যেন হয়ে যায়। তাই দিনবদলের সাথে নামবদলের রাজনীতিও আধুনিক ডিজিটাল জামানায় বেশ উপভোগ্যই মনে হয়। নামবদলে দেশের যে অর্থ অপচয় হয় তার দায়ভারতো আর বড়লোকের ঘাড়ে বর্তায়না কারন আমাদের দেশে বড়লোকেরা খুটির জোরে দিন দিন বড়লোকই হচ্ছে। তাই নামবদল চলুক অব্যাহত গতিতে। আর আমরা দেশবাসী প্রতিবারই বদলের সাথে সাথে জোরসে লাগাই হাততালি। দেশের উন্নয়নে নামবদল যেহেতু খুবই প্রয়োজন তাই একটি মাস্টারপ্ল্যান করে নামবদলের ছয় দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে তি কি। আমরা এক দুই করে বাস্তবায়ন করতে শুরু করি ছয় দফা।
১। বঙ্গোপসাগরের নাম পাল্টে বঙ্গবন্ধু উপসাগর রাখা হোক।
উপকারিতা: নামের মধ্যখানে শুধুমাত্র বন্ধু শব্দটা যোগ দেয়া হলো, কিন্তু দুনু সাইট ঠিক থাকলো। এতে মনে হয় একেক সরকার একেক সময় মতায় এসে বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তনের ব্যয় নির্বাহের মতো প্রতিবার পাবলিকের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খরছ করতে হবে না বরং আমাদের সবচেয়ে আপন বন্ধু কিংবা শ্রদ্ধাভাজন দাদা ভারতকে রাজী করাতে পারলেই হলো। আর দাদা যেহেতু আমাদের খুবই আপন তাহলে তাতে স্বানন্দে রাজী হওয়ারই কথা। নাম বাস্তবায়নের জন্য সেখানে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু উপসাগর এর কিনারে বাংলাদেশ অংশে ১টি ও দাদাগো দেশে ১টি সন তারিখ না দিয়ে স্বর্নখচিত বিশালাকারের মোট ১ জোড়া নামফলক লাগানো হোক। সন তারিখ না দেওয়ার উপকারিতা হচ্ছে কয়েক বছর পরে ইতিহাসের পাতায় পাতায় ও স্কুল কলেজের পাঠ্য পুস্তকে লেখা যাবে সেই প্রাচীনকালে উপসাগরটির খননকার্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পরে উদ্বোধন করেছিলেন জাতির পিতা। তাই এর নাম বঙ্গবন্ধু উপসাগর। দেশের ১৫ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে এর উপর একটি অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ভাসমান আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বিমানবন্দর করা হোক এবং এর নাম দেয়া হোক দেশরতœ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বিমানবন্দর।
এর উপকারিতা হচ্ছে জনগনের রক্তের হাজার হাজার কোটি টাকা খরছ করে পরিবেশ বিপন্ন করে কৃষি জমি ও মৎস্য সম্পদের তি করে গরিবের পেটে লাত্থি মেরে আড়িয়াল বিলে বা পদ্মার ওপারে বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে এবং এর পার্শ্বে বঙ্গবন্ধুর নামে ডিজিটাল উপশহর নির্মাণ করা হলে হয়ত একদিন বিএনপি মতায় এসে আবারও জনগনের ট্যাক্সের ১২ হাজার কোটি টাকা কিংবা তারও বেশি টাকা খরছ করে নবনির্মিত বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর অন্যতম সহচর হযরত শাহপরান (রহ.) এর নামে নামকরণ ও উপশহরের নাম যার সাহায্যার্থে হযরত শাহজালাল (রহ.) সিলেটে এসেছিলেন সেই বীর সিপাহসালার হযরত খাজা বুরহান উদ্দিন (রহ.) উপশহর নামকরণ করে নেওয়াটা অসম্ভবের কিছু নয়। কিন্তু উপসাগরের বা সাগরের বাংলাদেশ অংশের নাম যদি বিএনপি সরকার এসে পরিবর্তন করেও ফেলে তবে দাদাগো কারণে ভারতীয় অংশের নাম পরিবর্তন করতে পারবেনা। বঙ্গবন্ধু উপসাগর এর উপর ভাসমান দেশরতœ ডিজিটাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ করার পুর্বেই ভারতের সাথে চুক্তি করে তাদেরকে শেয়ার করে নিলে সেই বিমানবন্দরের নামও বিএনপি পরিবর্তন করতে পারবেনা। কারন ভাসমান হওয়ার কারনে তখন ভারত বিমানবন্দরটি সুযোগ বুঝে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে তাদের ভুখন্ডে। তখন কেল্লা ফতে।
২। গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবগঞ্জ এবং টুঙ্গিপাড়ার নাম পরিবর্তন করে জয়পাড়া করা হোক।
উপকারিতা: এতে স্থান দুটির নামের মাধুর্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঐতিহাসিক ভিত্তি মজভুত হবে। সর্বোপরী বিএনপি মতায় এলে এগুলির নাম পরিবর্তন করে জিয়াগঞ্জ ও তারেকপাড়া করার দুঃসাহস দেখালে তখন শ্রীনগরের (আড়িয়াল বিলের পার্শ্বে) চেয়েও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর চমৎকার একটা সুযোগ হবে।
৩। দেশের প্রধান তিনটি নদীর নাম পাল্টে যথাক্রমে পদ্মাকে বঙ্গবন্ধু নদী, মেঘনাকে দেশরতœ শেখ হাসিনা নদী এবং যমুনাকে শেখ রেহানা নদী নামে নামকরণ করা হোক এবং সিলেটের সুরমাকে জয় নদী ও কুশিয়ারাকে টিউলিপ নদী নামে নামকরণ করা হোক।
উপকারিতা হচ্ছে এসব নদীসমুহের বিরাট অংশ ভারতে রয়েছে। তারা আমাদের আপনজন। তারা রাজী হয়ে গেলেই নামকরণ বাস্তবায়ন এক্কেবারে পানির মতো সহজ কাজ বলে মনে করাটা দূষনীয় নয়। এতে ১২ হাজার কোটি টাকা খরছ হওয়ারও সম্ভাবনা নেই উপরন্তু ভারতকে আমরা বলতে পারবো যে, এখন আমরা নদীর নাম পরিবর্তন করে আমাদের ও আপনাদেরই প্রিয়জনদের নামে নামকরণ করেছি, তাই এই মুহুর্তে উজানে দেয়া ফারাক্কা টিপাইসহ সকল বাঁধ ভেঙ্গে একাকার করে আমাদের ন্যায্য হিস্যা পানি দিয়ে আমাদের মালামাল করে দেন। তাতে সাপও মরবে লাটিও বাঁচবে। আমাদের নগদানগদ লাভ। পরবর্তীতে বিএনপি মতায় এসে নদীগুলোর আবার পুরনো নাম ব্যবহার করতে চাইলে তখন ভারতকে আমরা বলে দেব দাদা আপনারা হুংকার করে বলেন, নাম পরিবর্তন করা হলে আবার ফারাক্কা ও টিপাই দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে তোমাদের দেশকে মরুভুমিতে পরিণত করে দেব। বন্যার সময় বাধ ছেড়ে দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে মারবো আর শুকনো মৌসুমে এক্কেবারে তোমাদের দেশকে কারবালা বানিয়ে ছাড়বো।
৪। দেশের জন্য সিমাহীন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের প্রতিটি বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জাতির পিতা ও তাদের পরিবারবর্গের নামে নামকরণ করা হোক। এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল কলেজ ও মাদরাসার সিলেবাসেও জাতির পিতা ও তাদের পরিবারবর্গের পুর্ণাঙ্গ জীবনী স্বসম্মানে সন্নিবেশ করা হোক।
উপকারিতা হচ্ছে এতে জাতির দায়বদ্ধতা বা ঋন কিছুটা হলেও লাগব হবে। মান সম্মান ইজ্জত বাড়তে থাকবে।
৫। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অভ্যন্তরিন বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করে এর পার্শ্ববর্তী জমি ভারতের কাছে লিজ দিয়ে দেয়া হোক।
উপকারিতা হচ্ছে এতে দাদারা খুশি হবেন, রাজস্বও পাওয়া যাবে এবং বিএনপি মতায় আসলে ভারতের ভয়ে এবং আরও ১২ হাজার কোটি টাকা খরছ করে নাম পরিবর্তন করে পুণরায় জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণ করতে যেন সম না হয়।
এছাড়া এমনিতেই ঢাকা নিউইয়র্ক সরাসরি ফাইট অনেক আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিমানের অপ্রতুলতার কারণে। বর্তমানে ঢাকা লন্ডন সরাসরি ফাইটও বন্ধ হচ্ছে একই কারণে। দেশে পর্যাপ্ত বিমানই নেই। রুটও ক্রমাগত বন্ধ হয়ে হয়তো একদিন আমাদের বিমান শুধুমাত্র আভ্যন্তরিন রুটে চলতে চলতে পরবর্তীতে আভ্যন্তরিন বিমানেরও সংকট সৃষ্টি হলে তখন ট্রাকের উপর সামিয়ানা বেধে যাত্রীদের বহন করে নিয়ে যাওয়া হবে দেশের এক বিমান বন্দর থেকে অন্য বিমান বন্দরে। যাদের সাথে ট্রানজিট চুক্তি হবে তাদের দেশেও একই কায়দায় যাত্রী পাঠানো সম্ভব হবে সড়কপথে। আর ঢাকায়তো উড়াল সড়ক হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সারাদেশে এবং আমাদের দেশ থেকে ভারত নেপাল ও ভুটান পর্যন্তও উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হোক। গাড়ি দিয়ে উড়াল সড়ক দিয়ে দ্রুতবেগে চলে দুধের স্বাধ পানিতে মিটাতে পারলে তি কি। তবে উড়াল সড়কগুলোর নামও যেন হয় একই ধাচের।
৬। দেশের প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও অকেজো করে রাখা হোক যাতে সেখানে জীবনেও আর সরাসরি আন্তর্জাতিক ফাইট উড়াল দিতে না পারে।
উপকারিতা হচ্ছে আলতাব আলীর মতো সিলেটের যাত্রীদের ঢাকায় নিয়ে হেনস্তা করতে ও টুপাইস কামাতে আরাম বেশি। এছাড়া ওই নামটাতো ওসমানী সাহেবের। তবে সম্ভব হলে পাঁচ বছর পর পর এর নামও পছন্দমতো পরিবর্তন করা যায় কিনা তাও খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
আপাতাত: এই ছয় দফা প্রস্তাব জাতির সামনে উপস্থাপন করলাম।
দয়া করে এই দাবীগুলো বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

