ছেলেটা ছিল মোটা। চেয়ারে বসলে চেয়ার ভেংগে যেত। থুতনি ছিল তার পাঁচ ছয়টা। সিক্স-প্যাক না কি জানি কয় সেটাও ছিল, তয় সেটা মোটা ভুড়ির স্তরবিন্যাসের জন্য হয়েছিল। পায়ে কোন জুতাই সাইজে হতনা। স্পেশাল অর্ডার দিয়ে জুতা বানাতে হত। রিকসাওয়ালারা কোনদিনই তাকে রিকসাই নিতনা। নিলেও ভাড়া চাইত দশগুন বেশী। একবার ওজন মাপার মেশিনে ওজন মাপতে গিয়ে দেখে মেশিনের কাঁটা ঘুরতেই আছে, ঘুরতেই আছে। আর শেষ হয়না ঘুরাঘুরি। পরে যখন সে মেশিন থেকে নিজের ওজন না জেনেই নামল মেশিনটা আগের স্থানে আসতে নাকি বছরখানেক লেগেছিল। ছেলেটার মাথায় চুল নেই। টাক্কু আরকি। ছেলেটা পড়ত "কাজিয়া আলিয়া কামিল ফাজিল মাদ্রাসায়"। ফাজিল ক্লাসের ছাত্র ছিল সে। ফাইজলামি কিন্তু সে করতনা। পরীক্ষায় ফেল করাতে তার খ্যাতি ছিল।এই কেলাশে সে আজ নয় বছর পড়তেছে। ছেলেটার নাকের ছিদ্র ছিল অনেক বড়। তাই নিশ্বাস নিলে আশেপাশে অন্যরা নিশ্বাস নেওয়ার জন্য বাতাসের অভাব অনুভব করত। ছেলেটার কান ছিল সুন্দর, হাতির মত বড় কান। ছেলেটার সবচাইতে পছন্দের খাবার ছিল জলপাই। জলপাই রং তার খুব পছন্দ ছিল। নামটা বলেই ফেলি ছেলেটার। না, নাহয় পরেই বলি।
মেয়েটা ছিল অসম্ভব সুন্দরি। তার পটলচেরা ঠোঁট, মার্ভেলের মত চোখ, বাঁশের মত সরু নাসিকা। আরো কি কি থাকে সুন্দরি মেয়েদের সব ছিল। কবি হলে হয়ত আরো সুন্দর করে বর্ণনা দিতে পারতাম অপূর্ব সুন্দরি সেই মেয়ের। মেয়েটা গান জানত, নাচ জানত। রান্নায় ছিল অসাধারণ। হার্ভারডে ফুল ফান্ডিং নিয়ে পড়তেছে। খানদানী বংশ একেবারে। তার চেহারা দেখে টম ক্রুজ টাসকি খেয়ে গেছে।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় ছেলেটা আর মেয়েটার মধ্যে প্রেম হওয়ার কথা না। এটা স্বাভাবিক যে মেয়েটা ছেলেটাকে পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাবে। কিন্তু ছেলেটা কি রাজি হবে? রাজি হওয়ার কথা কি? যেখানে চার্লিস থেরন ছেলেটার অটোগ্রাফের জন্য বসে থাকে সেখানে মেয়েটা ত কিছুই না। কিন্তু প্রেম হয়ে গেল। কিভাবে হল? বড় নাটুকে এ প্রেম কাহানী।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


