প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী এলেই আমাদের পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়াতে আবেগ আপ্লুত বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখা যায়। দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবি আর রাজনীতিকরা নানান বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্য শুনে আমরা ফিরে যাই বায়ান্ন সালের মহান আত্নত্যাগকারী ভাষা শহীদদের স্মৃতি রোমন্থন করতে। আসলে বাঙ্গালী জাতির আবেগ প্রবনতা সুনাম আছে। আমি এই আবেগকে কোন দোষণীয় মনে করি না।
গত বছর ঠিক এই সময়ে কোন টিভি চ্যানেলে দেখেছিলাম, মনে নেই শহীদ বরকতে স্ত্রী অন্নহীন বস্ত্রহীন জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় আছেন। সরকারী কোন সহযোগীতা পাননি। খুব কষ্ট লেগেছে এটা জানতে পেরে। আমার মতো অনেকেই হয়তো কষ্ট পেয়ে থাকবেন। আমাদের আবেগ খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে উবে যায়। আমরা স্বাধীনতার কথা বলি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সকলে ইতিবাচক ভূমিকা নিচ্ছেন। এক কথায় সোচ্চার এই দাবীতে। এতে সাধুবাদ জানাই, সমর্থন জানাই। পাশাপাশি যে আন্দোলনের জন্য আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলছি, যাদের আত্নত্যাগের জন্য আজকের বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই আত্নত্যাগী শহীদদের আমরা গল্প কবিতায়, সাহিত্যের সকল শাখায় রেখেছি, গানে আবৃতিতে তাঁদেরকে স্মরণ করছি। অথচ তাদের রেখে যাওয়া বংশ ধরদের কে কোথায় আছেন, কেমন আছেন ব্যক্তি বা সরকারী পর্যায়ে তাঁদের সহায়তার জন্য কোন উল্লেখ করার মতো কার্যক্রম জানা নাই।
যাহোক সরকার, বা কোন এনজিও অথবা ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ এগিয়ে আসবেন আশা করি। বিশেষ করে যারা ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করছেন তারা এগিয়ে এলে বড়ই ভাল হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



