আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ খুবই সাদামাটা জীবন যাপন করি। জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুবই কম। আমাদের এখানে কর্মসংস্থানের অভাব, সীমিত পরিসরে যে কয়টি কল কারখানা গড়ে উঠেছে তাও রুগ্ন শিল্প হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। গত কয়েক দশকে ঢাকা শহরের শণৈঃ শণৈঃ উন্নতি, মানুষের ভীড়, জ্যাম, জীবন জীবিকার তাগিদে মানুষকে ছুটতে দেখে আমার জীবন সম্পর্কে ধারণাই পাল্টে গেল।
গত সপ্তাহে অনেকদিন পর ঢাকা শহরে গিয়েছিলাম। এর আগে এতো খারাপ অবস্থা দেখিনি। সাভার হতে রাস্তায় জ্যাম। যেখানে আমার পৌঁছানোর কথা সন্ধ্যা ৮টায় সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম রাত সাড়ে দশটায়। গাড়ী প্যা.. প্যা.. ভুঁ ভুঁ শব্দে আমার মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। এক নিদারুন অস্বস্তিকর অবস্থা। এর মধ্যে মানুষ বাস করে কিভাবে! ভোর হতে মানুষের ছুটে চলা, সামান্য মোহাম্মদপুর হতে গুলশান-২ যেতে আমাকে আড়াই ঘন্টা গাড়ীর মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে জ্যামের কারণে। ছোট বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে প্রাইভেট কারে বসে (অবশ্যই ধনী লোকের পুলাপান) গাড়ীতেই সকালের নাস্তা সারছে। দুই বা একজনের জন্য একটি করে গাড়ী! রাস্তায় জ্যাম কেন হবে না। আমার ধারণা হলো শুধু এর জন্যই ঢাকা শহর জ্যামের শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতিদিন কত লোক যে বাড়ছে এই শহরে তার সঠিক কোন হিসাব কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না। এক কথায় এখানে কেউ সুখে নেই বলেই মনে হল। সবাই চলছে... শুধু ছুটে চলছে। আমার নিস্তরঙ্গ জীবনে একটা ধাক্কা লাগলো। আসলেই আমরা আধুনিক যুগের কাছে ছোট্ট অবুঝ শিশু মাত্র।
গ্রামের মতো এখানে লোডশেডিং নেই। নানা সুবিধা-অসুবিধা মনে ঈর্ষা জাগাতে পারে। তারপরও কামনা করি ঢাকা শহর ভাল থাকুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

