আমার প্রিয় পোস্ট
- বি ডি আর হত্যাকান্ডের সেই গোপনীয় অধ্যায়গুলো-১ম খন্ড - স্বাধীনতার_অপেক্ষায়
- সামহয়ারইন ব্লগে আমার করা কয়েকটি পিডিএফ ই-বুক
(আপডেটেড) - ~স্বপ্নজয়~
- বিডিআর হত্যাকান্ড : আমার প্রতিক্রিয়া, আমার প্রতিবাদ - ক্ষতিগ্রস্থ
- বাংলাদেশের প্রায় সকল পর্যটন স্হানের ছবি ব্লগের সংকলন (শত তম পোষ্ট ) - শ।মসীর
- IDM বিষয়ক দরকারী পোস্টের লিংকসমুহ

- মাহিন আহমেদ
- ওয়েসিস অফ দি সিজ : বিশ্বের বৃহত্তম প্রমোদতরী (ছবিসহ বিস্তারিত) - পথে-প্রান্তরে
- ফটোশপ দিয়ে চমৎকার টেক্সট ইফেক্ট তৈরী করুন - মাহমুদ সিএসই
- আসুন সহজে পিসি-টু-পিসি LAN করি (পর্ব – ১) - মাহমুদ সিএসই
-
সামহোয়্যার ইন কিডস
- পুরাতন
- সহজ নেটওয়ার্কিং ও ইন্টারনেট শেয়ারিং - ত্রিভুজ
- বাংলাদেশী ওয়েব এড্রেস (অনলাইনে প্রতিদিন) - সিটিজি৪বিডি
- নাগরিক অবস্থান থেকে আমি বিডিআর জওয়ানদের নিরাপত্তা নিয়েই মূলতঃ চিন্তিত - জ্বিনের বাদশা
- একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু সমস্যা এবং অনেক সম্ভাবনা। - আজমান আন্দালিব
- কেবলই চোখ ভিজে ওঠে... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- হাসন রাজার সংক্ষিপ্ত জীবনী ও হাসন রাজা যাদুঘরে রক্ষিত জিনিষ পত্রের কিছু ছবি - মহলদার
- নির্বাচন ও সংখ্যালঘু হাহাকার - বেতাল
- হিন্দু হওয়াই কি আমাদের আজন্ম পাপ? - অচেনা সৈকত
- এসো পরিচিত হই বাংলার ফুলের সাথে - রাজামশাই
- পেনড্রাইভ থেকে পিসিতে ভাইরাস ঢোকবার পথটাই বন্ধ করে দিন - মোঃ রফিকুল আলম (পাভেল)
লালন ফকির ও কতিপয় গুরুতর প্রসঙ্গঃ পর্ব-১
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১২
পূর্ব কথনঃ গত দু বছর আগে জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের সামনে থেকে লালনের ভাস্কর্য ভেঙ্গে বা সরিয়ে ফেলায় এই ব্লগে তুমুল প্রতিবাদ উঠেছিল। অনেকেই লিখেছেন, বেশীরভাগই এর প্রতিবাদ করে। তখন একটা পঠিত লেখার কথা আমার বার বার মনে হচ্ছিল, ছাত্রাবস্থায় একটি কলাম পড়েছিলাম অধুনালুপ্ত পাক্ষিক পালাবদলে। গত কয়েকদিনে অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করে লেখাগুলো খুঁজে পেলাম। পক্ষে বিপক্ষে হয়তো অনেক কথাই থাকবে এই লেখার। আমি সম্পূর্ণ নিরাসক্তভাবে এই লেখাটি ব্লগে কয়েকটি পর্বে দিয়ে দেব। মূল লেখকের কোন ঠিকানা আমার জানা নেই। থাকলে তার নিকট থেকে অনুমতি নিতাম। যা হোক, এই লেখাগুলো আপনার চিন্তার খোরাক যোগাবে নিঃসন্দেহে, লালন সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য আপনার পূর্ব ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। তাই ধৈর্য্য ধরে কয়েকটি পর্ব পড়তে অনুরোধ করছি।
সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতিঃ এই পদ্মা এই মেঘনা, যমুনা সুরমা নদী তটে অথবা তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম সহ শত শত গানের গীতিকার ও সুরকার জনাব আবু জাফর কে অনেকেই চিনেন না। নিভৃতচারী এই ব্যক্তি এক সময় গান নিয়েই বেশী ব্যস্ত থাকতেন। বিশেষ করে লালন সংগীত নিয়ে। তার নিজের লেখা অনেক জনপ্রিয় গান আছে। বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রসঙ্গক্রমে বলি, নাটোরের বিখ্যাত লালন সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বামী এই আবু জাফর লেখাপড়া করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাঁর লেখা তুলে ধরলামঃ
পর্বঃ ১
শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই কবিতা লেখার কাজটিকে প্রীতির চোখেই দেখা হয়। যদিও এই দেখার মধ্যে সর্বদা যে প্রীতিই প্রতিভাত হয় তা নয়, অবজ্ঞা, করুণা ও কৌতুকও মিশ্রিত থাকে। অর্থাৎ কবিরা নিজে যাই ভাবুন, বিদগ্ধ সাহিত্যপ্রেমীরা যাই বলুন- এটা সত্য যে, কবিদের সামাজিক মূল্য বিশেষ আশাপ্রদ নয়, উল্লেখযোগ্যও নয়। নোবেল পুরস্কার পেয়ে কেউ কেই আকস্মিকভাবে ধনাঢ্য ও জগদ্বিখ্যাত হয়ে যান বটে, কিন্তু সে নিতান্তই ব্যতিক্রম। অধিকাংশ কবিই আমৃত্যু এক ধরণের অবহেলার মধ্যেই জীবন যাপন করেন। অবশ্য একালের কবিরা যেহেতু একটু চতুর প্রকৃতির, তাঁরা কবিতার সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকেও যথোচিত মনোনিবেশ করেন। তাঁরা যুগপৎ শিক্ষিত, সংস্কৃতিসেবী-ব্যবসায়ী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চর্তুদিকে সততই এমন অনুগত লাটিমের মত ঘূর্ণায়মান যে, তারাও বহু সভায় সভাপতি বা প্রধান অতিথির আসন প্রায়শ অলংকৃত করেন। কিন্তু সবাই জানে, তাঁরা নিজেরাও জানেন, এই সম্মান ও প্রতিষ্ঠার মূলধন কবিতা নয়, চাটুকারিতা ও ক্ষমতাবানদের সম্মুখে নতজানু হয়ে নিজেকে এক সহজ দ্রবণে পরিনত করার অসামান্য দক্ষতা এবং যে কবি যত চাতুর্যের সঙ্গে এই দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেন, তিনি তত বড় কবি। কবিরা এ কথায় উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন কিন্তু কথা সত্য।
অবশ্য চিরকাল এমন ছিল না। বিদূষক ধরণের রাজকবি চিরকালই ছিল, কিন্তু তার বাইরের কবিতার প্রতি সৎ ও বিশ্বস্ত এমন অনেক কবিও ছিলেন যারা কারো মন রক্ষার কথা না ভেবে এক সঙ্গে নিজস্ব আবেগে ও অনুরাগে ফুলে ফুলে উঠতেন। এরকমই একজন আত্নমগ্ন, সামাজিক স্বীকৃতির প্রতি সর্বাংশে ভ্রুক্ষেপহীন, একান্ত আবেগে আন্দোলিত একজন লোককবির নাম লালন ফকির। কেউ কেউ বলেন 'সাঁইজী'। তবে 'সাঁই' বা 'ফকির' যাই হোক, লালন যে বাউল পদরচনায় অমিত প্রতিভার অধিকারী ছিলেন, এবং তাঁর গানের আকর্ষণ যে খুবই দুর্বার এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এবং সুর ও বাণীর সমন্বয়ে লালন যে অসংখ্য শিল্পসুষমামন্ডিত, নান্দনিকতায় সমৃদ্ধ হৃদয়দ্রাবী গান উপহার দিয়েছেন, সেই উপহার বাংলাভাষী জনগণের একটি চিরায়ত সম্পদ।
কিন্তু লালনকে নিয়ে অন্য সমস্যা আছে; এবং সমস্যা একটি নয়, একাধিক। এখনো যে একটি বিষয়ের মিমাংসা হলো না, তাহলো লোকটি জন্মসূত্রে কী ছিলেন, হিন্দু না মুসলমান? নানা রকম তর্ক বির্তকের পর এখন অবশ্য মুসলমান বলেই মনে করা হচ্ছে। যারা তাকে হিন্দু বলে বিশ্বাস করেন, কান্তি ও অনীহাবশত তারা এখন অনেকটাই নীরব। লালন যে সকল গবেষকের কাছে মুসলমান তারা লালনের জন্মস্থান হরিশপুরসহ পিতামাতা, আত্নীয়-পরিজনের পরিচয়ও নির্ভূলভাবে চিহ্নিত করেছেন। লালন নিজে অবশ্য নিজের সম্পর্কে কিছুই বলেন নি, এমনকি ভুলক্রমে গানের কোথায়ও কোনরূপ পরিচিতি প্রকাশ হয়ে পড়ে এ বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন।
অর্থাৎ খুব সচেতনভাবেই লালন তার ধর্ম ও জন্মগত পরিচয় গোপন করেছিলেন। গবেষকদের চিন্তাভাবনার পরিসরও বড়, রহস্যভেদী দুরদর্শিতাও অপরিসীম। তাদের কারও সাথেই কোন তর্কে প্রবৃত্ত হবার ইচ্ছে নেই, শক্তিও নেই। অতিশয় ক্ষীণকন্ঠে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই, প্রাণদন্ডে দন্ডিত কোন খুনী বা বড় ধরণের কোন দস্যু-তস্কর ছাড়া কোন মুসলমান কি কখনো আত্নগোপন করে? তার তো জাতি ধর্ম নিয়ে কোন ভয় নেই, হীনমন্যতাও নেই, বিনা কারণে সে কেন জন্ম ও ধর্ম পরিচয়কে সর্বদা আড়াল করে রাখবে? সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে এই ধরণের গান লেখার জন্য রহস্যময় আবরণ সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন হয় না; সব ধর্মকেই অস্বীকার করাই যথেষ্ট অথবা সব ধর্মকেই আপন ভেবে সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ হলেই যথেষ্ট। আসলে লালনের এই ধরণের আত্নগোপন ইচ্ছেকৃত নয়, বাধ্যতামূলক।
ডঃ উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের কথাই সর্বাংশে সঠিক, লালন ছিলেন জন্মসূত্রে একজন কায়স্থ হিন্দু এবং তার জন্মস্থান ছিল কুমারখালীর অপর পারে গড়াই নদী তীরবর্তী ভাঁড়রা গ্রামে। বর্তমান নিবন্ধকারের যুক্তি, লালনের সমসাময়িক হিন্দু সমাজ ছিল অত্যন্ত কঠোর। ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হোক বা অন্য কোন কারণেই হোক লালন মুসলমান পরিবারে অবস্থানসহ 'অন্নজল' গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভাঁড়রায় ফিরে গিয়ে তিনি দেখলেন, তিনি কঠিনভাবে সমাজচ্যুত। হয়ত প্রায়শ্চিত্তের কোন ব্যবস্থা ছিল কিন্তু স্ব সমাজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা ও ক্ষোভে এবং অভিমান নিয়ে লালন ফিরে এলেন ছেঁউড়িয়ায় তার মুসলমান আশ্রয়দাত্রীর কাছে। সমাজ তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। তিনিও রক্ত-ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে পরিণত হলেন এক নবজাত-লালনে। যৌক্তিক দিক থেকে জন্ম পরিচয়হীন এই ধরণের আত্নগোপনতাই স্বাভাবিক বলে ধারণা করা হয।
আর তিনি যদি মুসলমান হতেন এবং তার জন্মস্থান হতো হরিশপুর, তিনি চাইলেও তার পরিচয় তিনি আড়াল করে রাখতে পারতেন না। তিনি জীবদ্দশায়ই বিখ্যাত; এবং তার ছেঁউড়িয়াস্থ আখড়া থেকে হরিশপুরের দুরত্ব এমন বেশী নয়। হরিশপুর থেকে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই বলতো-এ লালন আমাদেরই সন্তান। কিন্তু না, তার দীর্ঘ জীবনে এমন কথা কেউ কখনো বলে নি। অতএব দু’একজন উপাধি লিপ্সু গবেষক যত যাই বলুন, যত দলিল প্রমাণই উপস্থাপন করুন, বিশ্বাস করা খুবই কষ্টকর যে, লালনের বাড়ি ছিল হরিশপুর এবং তিনি মুসলিম সন্তান। যে এক কলমিপুঁথির অবলম্বণে লালনকে মুসলমান বানানো হয়েছে, খুবই রহস্যময় ও কৌতুককর যে সেই পুঁথিটিও কোন এক সর্বনাশা অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেছে; এখন একটি নকল পুঁথিই সম্বল। কিন্তু আসলটা যখন অক্ষত ছিল তখন আরেকটি নকল লেখনের কী প্রয়োজন ছিল? তারপর মূলকপিটি যখন পুড়েই গেল, হুবহু দ্বিতীয় একটি কপি তৈরী হলো কি করে? পুরো ব্যাপারটাই কোন মতলবী-নাটক নয় তো? বিশেষ করে পুঁথি বিশেষজ্ঞরা যখন ভাষা শব্দ ও অন্যান্য বিচারে উপস্থাপিত এই নকল কপিটিকে ঘোরতরভাবে সন্দেহ করেন, তখন আমাদের মত মুর্খজনেরা ভাবতে বাধ্য হয় যে, আমাদের কতিপয় উপাধিলোভী গবেষক গবেষণার চেয়ে নাটক রচনাতেই বেশী পারঙ্গম।
বলা আবশ্যক, আমার নিজের নানা কারণে আমার মধ্যে লালনের প্রতি কিছু অনুরাগ জন্মেছিল, সেই সূত্রে তার জীবন ও শিল্পকর্ম সম্পর্কে কিছু চিন্তা-ভাবনাও করেছিলাম। আমার মনে হয়েছে, আমাদের মধ্যে একজন মাত্র আছেন যিনি লালন গবেষণায় নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী, তিনি ডঃ আবুল আহসান চৌধুরী। তাছাড়া অধিকাংশই পূর্ব ধারণা ও মতলবী-উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত। তবে সুখের বিষয় আলোচ্য সমস্যাটি একটি অতিশয় লঘু সমস্যা। এ নিয়ে কেউ কেউ জীবনপাত পরিশ্রম করলেও করতে পারেন কিন্তু এতে মেধা ও মনীষার কোন হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। লালন হিন্দু ছিলেন না মুসলমান ছিলেন, এ বিষয়ে সাধারণ জনমনে যদিও কিছুটা কৌতুহল আছে, কিন্তু এই অনাবশ্যক লঘু-কৌতুহল আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়; এবং এতে বিশেষ কিছু এসেও যায় না।
চলবে...........
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): লালন, আমাদের মানস, লোক সংস্কৃতি ;
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৪২ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, এই পর্ব পরিচিতিমূলক এবং প্রথম প্রশ্ন আছে দ্বিতীয় প্রশ্নে আমাকে অনেক ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। আগামী পর্বে তা পাবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার কাছে কোন ছাগপোষ্ট হয় তা আগাম জানা থাকলে ভাল হতো।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
ভালো লাগছে..........চলুক.........।অনেকদিন পর জাফর স্যারের কথা মনে করিয়ে দিলেম, স্যার আমাদের বাংলা ক্লাস নিতেন। খুব খুব মজা করে পড়াতেন। ক্লাসে তিনি আমাদের ভাই বলে ডাকতেন!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনি জাফর স্যারের ছাত্র! যাক ভাল লাগলো, পরের পর্বগুলোও পড়বেন আশা করি।
আসিফ রেজা রাজ বলেছেন:
চলুক...........
লেখক বলেছেন: চলবে ইনশাল্লাহ্।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আবু জাফর ভদ্রলোক কি এখনো বেচে আছেন ?
লেখক বলেছেন: বেচে আছেন বলেই জানি। তাঁর মৃত্যুর কোন খবর আমার জানা নেই।
লেখক বলেছেন: পরের গুলোও পড়ুন। ধন্যবাদ।
রোজনামচা বলেছেন:
এই লেখাটা কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল এর আগে ?
লেখক বলেছেন: শুরুর দিকে লেখা আছে। পাক্ষিক পালাবদলে।
নাঈম বলেছেন:
সুন্দর উদ্যেগ, অনেক অজানা কথা জানার সুযোগ আছে এতে। লেখা চলুক, পরের পর্বের অপেক্ষায়...........
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পরের গুলোও পড়বেন আশা করি।
ভূপর্যটক বলেছেন:
"কিন্তু লালনকে নিয়ে অন্য সমস্যা আছে; এবং সমস্যা একটি নয়, একাধিক। এখনো যে একটি বিষয়ের মিমাংসা হলো না, তাহলো লোকটি জন্মসূত্রে কী ছিলেন, হিন্দু না মুসলমান?"--লালন হিন্দু না মুসলমান - এটা সমস্যা কেন?
মূল লেখক আবু জাফর কেন এটাকে "লালনকে নিয়ে অন্য সমস্যার" মধ্যে একটা মনে করলেন কেন?
এর কোন উত্তর আবু জাফরের এই লেখার মধ্যে নাই।
আমি মনে করি এটাকে সমস্যা হিসাবে দেখিয়ে খোদ আবু জাফর নিজেই একটা সমস্যা হিসাবে উপস্হাপিত।
এর উত্তর "ফালতু মিয়া" দিবেন বা কী দিবেন নাকি আদৌ দিবেন কী না জানি না।
লেখক বলেছেন: লালন হিন্দু না মুসলমান - এটা সমস্যা কেন?
সমস্যা এজন্য যে আমরা অনেকেই তাকে উচ্চ মাপের আউলিয়া মনে করে থাকি। পরের পর্বগুলোতে দেখুন।
ভূপর্যটক বলেছেন:
"সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে এই ধরণের গান লেখার জন্য রহস্যময় আবরণ সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন হয় না; সব ধর্মকেই অস্বীকার করাই যথেষ্ট অথবা সব ধর্মকেই আপন ভেবে সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ হলেই যথেষ্ট"। আবু জাফরের নিজস্ব এই ভাবনাই সব সমস্যার গোঁড়া।
১. আমার আগের মন্তব্যে দেখিয়েছি, লালন হিন্দু না মুসলমান এই মীমাংসা না হওয়াটা তাঁর কাছে লালন একটা সমস্যা। অর্থাৎ লালনকে ধর্ম পরিচয়ে জানতেই হবে নইলে আবু জাফরের কাছে তা এক বিরাট সমস্যা।
২. আবার দেখুন উপরে তুলে আনা কোটেশনে, বলছেন "সব ধর্মকেই অস্বীকার করাই যথেষ্ট"। অর্থাৎ সব ধর্মকে তিনি অস্বীকার করার পথের মানুষ তিনি। প্রচলিত অর্থে যাকে আমরা "ধর্মনিরপেক্ষবাদী" বা নাস্তিক বলে চিনি।
৩. পরের বাক্য আবু জাফরের কথা আরও পরিস্কার, বলছেন "সব ধর্মকেই আপন ভেবে সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ হলেই যথেষ্ট"।
আবু জাফর যদি "সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ"বাদী হতে আমাদের উপদেশ দিতে চান তবে তাঁর নিজেরই আবার লালন হিন্দু না মুসলমান এই মীমাংসা না হওয়াটা তাঁর কাছে লালন একটা বিরাট সমস্যা কেন?
লালনকে ধর্ম পরিচয়ে জানতেই হবে নইলে "সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ"বাদী আবু জাফরের কাছে তা এক বিরাট সমস্যা।
এই পুরা রচনাটাই আবু জাফরের বয়ানের "সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ"বাদী
যার স্বরপ আমরা এখনই দেখলাম, সেই জায়গায় দাড়িয়ে লেখা। এই দুষ্ট চোখের কারণে পুরা লেখাটাই অগ্রহণযোগ্য হতে বাধ্য।
এমনিতেই লালনকে "ধর্ম নিরপেক্ষবাদী" চোখে বুঝা অসম্ভব। কারণ লালনের কাছে ধর্ম কী, মানুষ কী - এনিয়ে তার বিস্তর গানে এর সুনির্দিষ্ট প্রকাশ আছে। এই দৃষ্টভঙ্গীর, প্রকাশের জন্যই তিনি লালন - আজ এবং আগামি দিনের। এবং তা কোনভাবে "ধর্ম নিরপেক্ষবাদী"দের ধর্মের প্রতি মনোভাবের সাথে মিলের প্রশ্ন নাই বরং একদম বিপরীত। সেসবের কারও যদি জানা না থাকে, লালন সেই অবস্হান জ্ঞানে যদি কেউ না পৌছাতে পারেন তবে কি আর করা কেউ তাঁর "ধর্ম নিরপেক্ষবাদী" চোখ দিয়ে এক লালন বানাবেন, ঠিক যেমন একটা সুফি মন লালনকে সুফি মনে করে। কেইবা লালনকে তাঁর গাঁজা খাওয়ার স্বপক্ষে ন্যায্যতা হাজিরে কাজে লাগায়, কেউবা চারিচন্দ্রের পারভারশন-কামীর মনের পক্ষে ন্যায্যতা হিসাবে কাজে লাগায়।
এখানের প্রসঙ্গ আমরা দেখছি আবু জাফর এক বিশেষ ধরণের "সর্বপ্রেমী ধর্ম নিরপেক্ষ"বাদী; যিনি লালনের ধর্ম পরিচয় না জানা পর্যন্ত একটুকু নড়তে রাজি না। তিনি এমনই এক "ধর্ম নিরপেক্ষ"বাদী যে ধর্ম দিয়ে লালনকে না চিনতে পারলে তাঁর চলছে না।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি কোথাও বলিনি যে সকলেই এই লেখার উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন। লেখক তা নিজস্ব চিন্তা থেকে তার লেখা লিখেন। একজন লেখক কখনই সবাইকে তার মতের পক্ষে নিয়ে আসতে পারেন না।
রোজনামচা বলেছেন:
পালাবদল কোত্থেকে প্রকাশিত হতো ? একটু বিস্তারিত জানাবেন ?
লেখক বলেছেন: ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে। এখন অজানা কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সময় দিয়ে পড়ার জন্য।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
পড়তে হবে।
লেখক বলেছেন: পড়ার পরে আপনার মতামত জানাবেন আশা করি।
লেখক বলেছেন: ভাল শুনেছেন, আপনাদের নিয়ে এই হলো সমস্যা। আপনারা সব জায়গাতেই জামাত শিবির খোঁজেন।
এখন ফালতু মিয়া আশা করি আমার অবস্থান বুঝতে পারছেন।
লেখক বলেছেন: মৌলবাদীরাও যে সৎ থাকেন, এই আবু জাফরই বোধহয় একমাত্র প্রমাণ।
++ সত্য কথা বলার জন্য এবং ......
প্রফেসর হিজিবিজবিজ বলেছেন:
এই লেখায় ভাঁড়ারা এবং দেঁউড়িয়া বলে যে দু জায়গার উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো আসলে হবে,ভাঁড়রা এবং ছেঁউড়িয়া।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রফেসর। বানান দু'টি ঠিক করে দিলাম।
নষ্ট কবি বলেছেন:
লালন কে তা না খুঁজে আমি কে তা খুঁজলা ভাল হয়
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














