somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের বিচার

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘ প্রায় একটি বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরে অবশেষে বিডিআর ডিজি মহোদয়ের নেতৃত্বে পিলখানায় বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানদের বিচার কাজ আজকে শুরু হয়েছে। এই বিচার কাজ কতদিনে শেষ হবে, সত্যিকার ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে কিনা ইত্যকার নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

তদন্ত রিপোর্ট বের হওয়ার আগেই তদন্তের সমন্বয়কারী বাণিজ্যমন্ত্রী যেভাবে ঢালাও মন্তব্য করেছেন তাতে আমাদের মনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ায় সন্দেহ সংশয় থাকাই স্বাভাবিক। তদন্তের ফলাফল কি হয়েছে, জনগণ পুরোপুরি জানে না, আবার প্রকৃত অপরাধী কারা তাও জন সমক্ষে আসেনি। অন্যদিকে নিরপরাধ জওয়ানরা দিনের পর দিন কারাগারে আটক থাকছেন। মোটামুটি তাদের সাজা শেষ হবার পথে।

বিগত প্রায় ১ বছর ধরে কারান্তরালে আটক রয়েছেন হাজার হাজার বিডিআর জওয়ান। কেউ কেউ মারাও গেছেন, ৭৩ জনের অস্বাভাবিক এই মৃত্যুনিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। বিডিআরের পক্ষ থেকে একটা সাদামাটা প্রেস নোট দিয়েই বিডিআর ডিজি তার দায়িত্ব শেষ করছেন। অথচ মৃত্যুবরণকারী জওয়ানদের পরিবার হতে নির্যাতনের বিস্তর অভিযোগ বার বার করা হয়েছে। কিন্তু তার কোন সদুত্তর এই ডিজি দেননি বা দেয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি। তারই অধীনে বিচার কতটুকু নিরপেক্ষ আর গ্রহণযোগ্য হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই ভারতে গিয়ে বিএসএফকে ধন্যবাদ দিয়ে আসেন। আবার মিডিয়ার সামনে উন্নাসিক ভাবে বলেন, বিডিআর নামটি নিতে ঘৃণা হয়, এদের পোষাকে রক্তের দাগ লেগে আছে। আবার অন্যদিকে বিগত ইদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঈদকার্ডে নিজেকে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-এর পরিচালক হিসেবে লিখেন। এটা নিয়ে সব সম্ভবের দেশে ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ একটু উচ্চ বাচ্য করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথাসময়ে পরিস্থিতি নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন, তার নিজস্ব কায়দায় নিশ্চুপ নিবরে। অর্থাৎ কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করেও, মিলিটারী রুল ভেঙ্গে অপরাধী হন না বিডিআর ডিজি। পার পেয়ে যান অদৃশ্য শক্তির ইশারায়। সৎ ও দক্ষ কয়েকজন অফিসার সেনাবাহিনীর চাকুরী হারান কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই। এহেন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির অধীনে ন্যায় বিচার যে পাওয়া যাবে তার গ্যারান্টি আমরা দিতে পারি না। যিনি একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে সেই বাহিনীর পোষাক পড়েন না, গোটা বাহিনীকে যিনি ভিলেন আখ্যায়িত করেন তিনি বিচারের নামে যে প্রহসন করবেন না তা কিভাবে বিশ্বাস করবো?

আমাদের মনে রাখতে হবে, অভিযুক্ত বেশীরভাগ বিডিআর জওয়ানই একটা পরিস্থিতির স্বীকার। তারা চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ করেন, যদিও তা গ্রহণ যোগ্য নয়। তারপরও সময় ক্ষেপন ও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা ইত্যাদি কারণে কিছু কিছু সদস্য বেপরোয়া হয়ে উঠে। যা সুশৃংখল একটি বাহিনীর জন্য তথা দেশের জন্য মারাত্নক এবং গুরুতর অপরাধ। তাদের বিচার অবশ্যই করা উচিত। নেপথ্যে যারা ছিল তাদের বিচার হয়তো এই সরকার করতে পারবে না।

আমরা বিশ্বাস করি কাদের প্ররোচনায় এবং সহযোগিতায় এটা করা হয়েছিল সরকার তা নির্দিষ্ট করেই জানে। তারপরও তারা সেটার উদঘাটন করছে না। বিচার করছে সাধারণ সিপাহীদের-দীর্ঘদিন পরিবার পরিজনহীন যারা কারান্তরালে অবস্থান করছে তাদের।

এই বিচার করার আগে আমাদের কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে। গণহারে জেল জরিমানা ও শাস্তি স্বরূপ চাকুরীচ্যুতি, পেনশন না দেয়া ইত্যাদি করা হলে সমাজে একটি অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। বিডিআর আইনে যাই থাকুক, বিচারকের প্রজ্ঞা আর মানবিকতা যদি না থাকে তবে পেনশন বিহীন চাকুরীচ্যুতি ঘটলে বিশাল সংখ্যক জওয়ান হতাশায় ডুবে সমাজ বিরোধী কাজে অংশ নিতে পারে। বিষয়টি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয় আশংকাজনক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সকলকে অপরাধ অনুযায়ী গণহারে খালি হাতে বিদায় না করে যাদের চাকুরী ১০ বছরের বেশী হয়েছে তাদের বিধি অনুযায়ী পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে বাহিনী হতে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। এবং এটা করলে বিরাট সংখ্যক পরিবার উপকৃত হবে। দেশও আশংকা মুক্ত হতে পারবে। আমরা দাবি করবো বর্তমান ডিজির নেতৃত্বে যে বিচার কার্য চলছে তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে করতে হবে। কোন ব্যক্তিকেই আক্রোশমুলক শাস্তি দেয়া হবে না এই গ্যারান্টি থাকতে হবে।

ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী ও বিডিআর উভয়েই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাজে নিয়োজিত। তারা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×