আমার প্রিয় পোস্ট
- জাতীয় সম্পদ রক্ষার লং মার্চে (আমরা আছি, থাকবো) - পারভেজ আলম
- যে কবিতা পুরোনো হয়না-পর্ব সাকুল্য - কথক পলাশ
- ১৯৭১ নিয়ে তৈরী হওয়া ৮৩টি ডকুমেন্টারীর সমন্বয়ে একটা পোষ্ট - নষ্ট কবি
- আদিবাসী সুর, আদিবাসী গান - ভাঙ্গা পেন্সিল
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কয়েকটি গল্প আজ আবার পড়লাম প্রতিবারের মতো পেটে হাত দিয়ে হাসলাম। - কাক ফ্রাই
- এই ১৫ টি সুন্দরীর ............... - রাজামশাই
- শেয়ার করার মত চমৎকার কিছু ছবি -৩৬ [সুন্দর কিছু ফুড আর্ট-২ -- ১৮+ মনে করলেই ১৮+ ] - কুঁড়ের বাদশা
- আসেন একটা মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি
- কুঁড়ের বাদশা
- গাছ : সত্যি আশ্চর্যজনক - চাররঙা রঙিন-কষ্ট
- কিছু মজার ছবি -১ - সিরাজ
- ফুল বিচিত্রা - িনরুপমা.কম
- রুশদেশের সত্যিকথা ১৩ - তিমুর
- মজার কিছু সূত্র ঠিক যেমনটি ঘটে - অহেতুক অকারণ
- মুভি রিভিউ :: অশ্রুর বাঁধ ভেঙে দেয়া ১৩ টি সিনেমা - মেহরাব শাহরিয়ার
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩০ (খেলাঘর--নির্মলেন্দু গুণ)] - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- বাংলাদেশের প্রায় সকল পর্যটন স্হানের ছবি ব্লগের সংকলন (শত তম পোষ্ট ) - শ।মসীর
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৫ ( আসমানী প্রেম--নির্মলেন্দু গুণ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪১ ( যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না--আবিদ আজাদ )] - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- চিম্বুক, নীলগীরি, বগা লেক - নীল ভোমরা
- বৃষ্টি বিলাসঃ বৃষ্টি দিনের গানের অনলাইন সংগ্রহ। (প্রথম কিস্তিঃ৬০ টি গানের ডাউনলোড লিংক) - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ডাউনলোড করুন লেটেস্ট সব মুভি ১৫০-২৫০ মেগাবাইটে, রেজিউমে সাপোর্ট সহ!! - পাপী
- ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে অসামান্য ছয়টি ডকুমেন্টারি (ডাউনলোড লিংকসহ) - ফিউশন ফাইভ
- শেয়ার করার মত কিছু চমৎকার ছবি :: সব পর্ব একসাথে , পোষ্টটি নিয়মিত আপডেট হবে :: - কুঁড়ের বাদশা
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- জন হেনরীর হাতুড়ি: "আমি মেশিনের হবো প্রতিদ্বন্দ্বী" - নাস্তিকের ধর্মকথা
- স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস না ভ্যালেন্টাইনস ডে? - দিবস বাণিজ্যে বিবশ তারুণ্য ! - দিনমজুর
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (১) - পি মুন্সী
- বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়েছিল যে ছবি - জোবাইর
- ডাঃ জাকির নায়েককে খোলা চিঠি। - ফারুক৫৫
- পেশাগত নৈতিকতা কি? ঃ মুনতাজা আল-জাইদি কেন জুতা নিক্ষেপ করেছিলেন? - ভিন্ন চিন্তা
- জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ইরাকী বীর জায়েদীর ভাষনের ভাষান্তর। - সত্যান্বেষী
- অনলাইনে সিনেমা দেখার অসাধারণ তিনটি সাইট - ত্রিকাল
- কমেডী ভিডিওগুলো। হা হা চে থে প গে
- শূন্য আরণ্যক
- আমার প্রিয় তিন স্প্যানিশ গায়িকা - আনোয়ারুল আলম
- টিপাইমূখ বাধ সংকলিত লিংক সমূহ - কিরিটি রায়
- ইউটিউবে আপনারা কি মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দেখেন? - ফাহমিদুল হক
- ফ্রি মুভি ডাউনলোড - দুঃখবিলাস
- রিভার্স - লুতফুল বারি পান্না
- মৌলবাদীদের বিজ্ঞানপ্রীতি এবং বিজ্ঞানবিদ্বেষ প্রসংগে - ২য় পর্ব - দস্যু বনহুর
- সেক্সি মৌলিক সংখ্যা - ম্যাভেরিক
- প্রথম আলোর নসিহত 'বদলে যাও বদলে দাও': জনগণের নৈতিকতা নিয়ে বুর্জোয়া শ্রেণীর ভাববাদী নষ্টামী - দিনমজুর
- রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে - রিফাত হাসান
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
- গাছের বাঁকলে রৌদ্রের ছায়া - ক-খ-গ
- অর্থনীতির সহজ পাঠঃ বিষয়- বিদেশী বিনিয়োগ - অনুপম সৈকত শান্ত
- পুরান আর রূপকথা নিয়ে আরও কিছু কথা... - খারেজি
- নেপালে মাওবাদীদের নির্বাচনী বিজয়, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মিথ এবং কিছু জরুরী ভাবনা - দিনমজুর
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস - ১ম পর্ব (ব্রাউসার যুদ্ধ) - নাফিস ইফতেখার
- বাংলাদেশের নদীর নাম : হাজার বছরের কাব্যকীর্তি ! - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
- বঙ্গদেশের ফটু রঙ্গ - ১ - কাঙাল মামা
- বিবর্তন বাদঃ প্রজাতির জন্ম? - উৎস
- কিভাবে পেনড্রাইভ ভাইরাস প্রতিহত করবেন - আফরোজ_জাহান
- মসজিদ নির্মাণে একটি সরকারি নীতিমালা থাকা অত্যাবশ্যক - জাহিদুর রহমান মাসুদ
- ডিম্বের সন্ধানে - নাস্তিকের ধর্মকথা
- গ্রিসে কেন দার্শনিক আর আরবে কেন পয়গম্বর? - খারেজি
- ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি এবং বিশ্বরাজনীতি - অনুপম সৈকত শান্ত
- নাস্তিকের ধর্মকথার আস্তিকতা-নাস্তিকতার দার্শনিক বিচার ও কিছু প্রসঙ্গ - খারেজি
- ধর্মগ্রন্থের মতো রবীন্দ্রনাথের জঠর থেকে বিজ্ঞান বের না করলে চলে না? - অনিশ্চিত
- নিশুতি রাতের কাব্য - মে ঘ দূ ত
- কোরানের সংকলনের ইতিহাসের প্রারম্ভিকা - অপ বাক
- ক্যাচালের আল-কোরান বিষয়ে সাতটি প্রশ্ন - সুশীল সমাজ
- কোরান অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত হয় নি - সাহোশি৬
- ফরহাদ মজহারঃ নাস্তিক মোল্লা - মোস্তাফিজ রিপন
- ১৮+ কৌতুক প্লিজ ব্যান করবেন না, অথবা করার ইচ্ছা থাকলে ,একটা কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠাবেন।এক্সট্রিমলি ম্যাচিউরডদের জন্য। - বিলাল
- বিজ্ঞান-অবিজ্ঞান কিম্বা কুবিজ্ঞানের তর্ক - জামাল ভাস্কর
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- একটি বিদ্রোহ পরবর্তী বিশ্লেষন শ্রেণী সংঘাতই কি বিডিআর বিদ্রোহের মূল কারন? - জামাল ভাস্কর
- আরব-ভূমিতে গ্রীক দর্শনের পঠন-পাঠন, আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ইসলামের উদ্ভব ও কোরআনঃ ইতিহাসের পাঠ থেকে একটি বিশ্লেষণ - নাস্তিকের ধর্মকথা
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
- ভাসান - তনুজা
"আকাশে নক্ষত্র দেখে নক্ষত্রের মতন না হয়ে পারিনি আমি / নদী তীরে বসে তার ঢেউয়ের কাঁপন, / বেজেছে আমার বুকে বেদনার মত / ঘাসের হরিৎ রসে ছেয়েছে হৃদয়"। _আহমদ ছফা

অবিস্মরণীয় চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহ এবং মহানায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন (২)
২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৩
"কয়েকদিন মাত্র তবু এখনো সেই স্বাধীনতার স্বাদ
এখনো ভোলা গেল না।
সেই যে ফাঁকা আকাশ ধুধু ময়দানে নীল নিশান
জীবনপণ ভালবাসার দাবি
অস্ত্রগার লুণ্ঠনের অগ্নিযুগে দামাল
কয়েক স্কোয়ার মাইল মাত্র কয়েকদিন অসম্ভব স্বরাজ ঘোষণায়
টেলিগ্রাফের লাইন কেটে ট্রেজারি লুট থানা চড়াও
সেই আমার ভালবাসার স্বাধীনতার নীল নিশানা
সেই আমার স্বাধীনতার ভালবাসার নীল নিশানা
কয়েকদিন মাত্র তবু এখনো সেই স্বাধীনতার স্বাদ
এখনো ভোলা গেল না।
ছিলাম ভালবাসার নীল পতাকা তলে স্বাধীন।"
................................................. তারাপদ রায়
পর্ব - ২
ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন টালমাটাল। একের পর এক আন্দোলনের আঘাতে ভীত ব্রিটিশ সরকার নানা কালাকানুন দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। ১৯১৬ সালে প্রণয়ন করা হয় 'ভারতরক্ষা আইন'। এর আওতায় স্বাধীনতা আন্দোলনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে আটক করা হয়। ১৯১৯ সালের ১৮ মার্চ ঘোষণা করা হয় 'রাউলাট আইন'। এই আইনের সাহায্যে শাসকরা বিনা-বিচারে আটক রাখার ক্ষমতা লাভ করে। এর পরপরই ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সংঘটিত হয় কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। এর প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত নেমে এলেন রাজপথে। ছুঁড়ে ফেলে দিলেন ব্রিটিশের নাইট খেতাব।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। সমাজের চোখে নিরীহ এক স্কুল মাস্টার কিন্তু তখন গোপনে গোপনে প্রস্তুত হচ্ছেন ভবিষ্যতের বিপ্লবী সংগ্রামের জন্য। স্কুলে পড়ার সময়ই সূর্যসেনের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে বিপ্লবীদের। বহরমপুর কলেজে পড়ার সময়ে তিনি যুক্ত হন যুগান্তর দলের সঙ্গে। চট্টগ্রামে ফিরে শিক্ষকতা বেছে নেন রাজনৈতিক জীবনের সুবিধার কথা চিন্তা করেই। ছাত্রদের সামনে তিনি তুলে ধরতেন স্বাধীনতার আহ্বান _ "তোমাদের বিদ্যার্জন, তোমাদের দৈনন্দিন জীবনধারণ, তোমাদের ভাবী জীবনের স্বপ্ন ও চিন্তার মধ্যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে একটি কথাকে কি প্রোজ্জ্বল করে রাখতে পারবে _ পরাধীনতার অভিশাপ থেকে, ইংরেজের পরাধীনতার পীড়ন থেকে এই দেশকে মুক্ত করাই তোমাদের ব্রত _ আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য? (সূর্যসেন স্মুতি : বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রাম স্মৃতিসংস্থা, কলকাতা)
ওই সময়ে চট্টগ্রামে 'চট্টগ্রাম বিপ্লবী দল' নামে একটি ক্ষুদ্র বিপ্লবী সংগঠন ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯১৪-১৯) এ সংগঠনের দু'একজন ছাড়া আর সকলকেই ব্রিটশ সরকার কারাবন্দি করেছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণ সূর্যসেনের কাঁধে বিপ্লবী আন্দোলন সংগঠিত করার দায়িত্ব এসে পড়ে। ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরেই মাস্টারদা স্থানীয় বিপ্লবীদের সঙ্গে মিলে নতুন বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সে সময় বিপ্লবীদের সাংগঠনিক শক্তি মতাদর্শিক পার্থক্যের কারণে 'অনুশীলন' ও 'যুগান্তর' _ এই দুইভাগে বিভক্ত ছিল। তিনি এই দুই অংশের ভুল বোঝাবুঝি এবং মতপার্থক্য দূর করতে উদ্যোগী হলেন। বিপ্লবী দল গঠনের প্রথম ধাপে ওই সময় ৫ জনকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এঁরা হলেন নগেন সেন (জুলুদা), অনুরূপ সেন, চারুবিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী এবং সূর্যসেন নিজে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই চারুবিকাশ দত্ত তাঁর অনুগামীদের নিয়ে নানা বিষয়ে বিতর্ক উত্থাপন করেন। সূর্যসেনের পরামর্শে এ নিয়ে দলের দ্বিতীয় সারির নেতা আফসার উদ্দিন, নির্মল সেন, প্রমোদ রঞ্জন চৌধুরী, নন্দ লাল সিংহ, অবনী ভট্টাচার্য এবং অনন্ত সিংহ-সহ ১১ জনের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়। কিন্তু তাতেও সংগঠনের বিভক্তি রোধ করা যায় নি। তবে চারুবিকাশ দত্তেরা সংগঠন ছেড়ে যাওয়ায় তাঁদের প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় নবীন হওয়া সত্ত্বেও ধীশক্তি ও উদ্যমের কারণে ক্রমে সূর্যসেন এই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে আসীন হন।
সূর্যসেন শারীরিকভাবে ততটা সবল প্রকৃতির ছিলেন না। বরং তাঁর শীর্ণ, রুগ্ন ও দুর্বল শরীর নিয়ে দলের সদস্যদের মধ্যে কৌতুক চলতো যে এ শরীর নিয়ে তিনি পুলিশী তৎপরতা মোকাবেলা করবেন কীভাবে? এ সম্পর্কে মাস্টারদার অন্যতম সহযোদ্ধা গণেশ ঘোষ লিখেছেন, "তিনি আদৌ সুশ্রী ছিলেন না বা সুপুরুষ ছিলেন না, কিন্তু অন্যন্য সাধারণ ব্যক্তিত্বের প্রভাবে সকলের নিকট হইতেই তিনি শ্রদ্ধা ভালবাসা অর্জন করিয়া লইতেন। তিনি দলের নেতা ছিলেন; কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দলের প্রত্যেকটি যুবক তাঁহাকে ব্যক্তিগতভাবে নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু বলিয়া মনে করিত। সাহসী, ধৈর্য্যশীল, সহিষ্ণু, প্রত্যুতপন্নমতি ও দূরদর্শিতা দিয়াই সূর্যসেন তাঁহার দৈহিক দুর্বলতার ক্ষতিপূরণ করিয়া লইতেন।" (বসুমতী, ১৫ আগস্ট ১৯৪৭; উদ্ধৃত : সংবাদপত্রে উপমহাদেশের স্বাধীনতা, আতোয়ার রহমান, বাংলা একাডেমী, পৃ:৩৯৮)
এরই মধ্যে ১৯১৯ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সূর্যসেনের দাদা-বৌদি মিলে তাঁর বিয়ের আয়োজন করেন। পাত্রী চট্টগ্রামের কানুনগো পাড়ার নগেন্দ্রনাথ দত্তের কন্যা পুষ্পকুন্তলা দেবী। বিয়ে না করার কথা দাদা-বৌদিকে জানিয়ে দেন সূর্যসেন। কিন্তু কোনো আবেদনই তারা শুনলেন না। জ্যাঠাতুতো দাদা চন্দ্রনাথ সেন এবং বৌদি বিরাজমোহিনী সেন সূর্যসেনের কাছে পিতা-মাতার সমতুল্য। তাই তাদের মনে আঘাত করতে না পেরে, অন্যের কাছে তাদের যাতে অপমানিত হতে না হয় সে-কথা ভেবে বিয়েতে রাজী হলেন। বিয়ের আসরে বসেই সূর্যসেন খবর পান, এক চিঠির জবাবে কলকাতা থেকে তাঁর সহযোগিরা চিঠি লিখে নতুন করে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সাথে সাথে তারা এটাও বলেছেন যে সূর্যসেনকেই এ সংগঠনের দায়িত্ব নিতে হবে। এ খবর শুনে বিয়ের আসরে উপস্থিত সংগঠনের কর্মীরা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, "এই বিয়ে করা কি আপনার পক্ষে ঠিক হবে?" সে সময় বিপ্লবীদের ব্রহ্মচর্য পালন করতে হত। নারী সংস্পর্শও তাদের জন্য হারাম ছিল। তাই সূর্যসেন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লেন। বিয়ে না করে চলে গেলে পাত্রী লগ্নভ্রষ্টাই শুধু হবে না, অপমানিত হবে, সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না। কোথাও মেয়েটির ঠাঁই হবে না। একটি মেয়েকে এভাবে সমাজের চোখে হেয় ও অপমানিত করার কথা তিনি কিছুতেই ভাবতে পারলেন না। বিয়ে হয়ে গেল। এ ঘটনা স্মরণ করে মাস্টারদা পরে বলেছিলেন, "যখন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাব, তার কিছুক্ষণ আগে আমাকে এই সংবাদটি দিল। আমার ক্ষুব্ধ জিজ্ঞাসা ছিল, বিয়ের একদিন পূর্বে কেন আমি এই সংবাদ পেলাম না।" (অনন্ত সিংহ : সূর্যসেনের স্বপ্ন ও সাধনা; পৃ:৪৬)
বিয়ের রাত্রেই পুষ্পকুন্তলা দেবীর কাছে নিজের জীবনের লক্ষ্য এবং ব্রহ্মচর্য পালনের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে ক্ষমা চাইলেন সূর্যসেন। সে রাতেই চলে গেলেন বাড়ি ছেড়ে, আত্মনিয়োগ করলেন বিপ্লবী আন্দোলনে। কিন্তু এ ঘটনা মাস্টারদার জীবনে গভীর রেখাপাত করেছিল।
.................................................. চলবে ..........................................
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
তাহ্লীল আহেমদ চৌধুরী বলেছেন:
প্রিয়তে নিলাম।
জুবুথুবু বলেছেন:
নাঈম ভাই আপনাকে ব্লগে পেয়ে ভাল লাগছে। লেখাটা দারুন জমবে আশাকরি।
লেখক বলেছেন: কে জুবুথুবু? কেন জুবুথুবু? এখন তো শীতের দিন নয় যে শীতে জমে জুবুথুবু হয়েছেন!
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
আগেও পড়েছি...এখানে নারী সম্পর্কিত সূর্য সেনের ভাবনা বা অস্বস্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারন। আমি অবশ্য অনেক আগে পড়েছি। ঝালাই করে নেয়া গেল। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: নারী সম্পর্কিত ভাবনা সূর্যসেনের নিশ্চয়ই ছিল কিন্তু অস্বস্তি ছিল কিনা জানি না। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বে হিন্দুধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদের প্রভাব ছিল। বিপ্লবীরা বেদ হাতে করে কালী মূর্তির সামনে শপথ নিতেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিদের ব্রহ্মচর্য পালন করতে হত, কৌমার্য রক্ষা করতে হত। নারী সংস্পর্শ তাদের জন্য ছিল হারাম। বিপ্লবীদের বিয়ে করা বা সংসারী হওয়ার কোনো নিয়ম ছিল না।
মাস্টারদা পুরনো সেই প্রথা ভেঙেছেন। নারীদের বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি গোটা বিপ্লবী আন্দোলনের সশস্ত্র-ধারার একজন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। আর এ কাজে তাঁর অনুপ্রেরণা এসেছিল শরৎচন্দ্রের পথের দাবী থেকে।
ক-খ-গ বলেছেন:
নাঈম ভাই আরেকটু নিয়মিত হওয়া যায়না??
লেখক বলেছেন: ল্যাপটপে বসে কম্পোজ করতে হাত, কনুই, ঘাড় সব ব্যথা হয়ে যায়। আমার ডেস্কটপে নেটওয়ার্ক বন্ধ, হাবটা নষ্ট হয়ে গেছে। বুঝতেই পারছ।
তারপরও দ্রুত লেখাটা শেষ করার চেষ্টা করব।
তোমার খুঁজে বা জানা মতে কারো কাছে কি 'মহাভারত' বাংলা অনুবাদ আছে? আমি নতুন কিনতে গিয়ে দাম শুনে মাথায় পানি দিয়েছি। তাই আপাতত পুরনো বই খুঁজছি। দাম কম হলে কিনতেও পারি।
ভালো-মানুষ বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ। চলুক। +
শয়তান বলেছেন:
ভাবতে গর্ববোধ হয় এরা এই মাটিরই একজন । আবার পরক্ষনেই বর্তমান তথাকথিত দেশপ্রেমীদের কথা মনে পরলেই বিষাদে ঢেকে যায় মন ।
রাহা বলেছেন:
চলুক...+
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
@লেখক-নারীদের বিপ্লবী কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদেরই অনেক বেশি উদ্যম ছিল। আমি অস্বস্তি শব্দটা এ জন্যেই উল্লেখ করেছি কারণ সেই সময়ে নারী এবং বিপ্লব অস্বস্তি তৈরি করতো বটেই। সূর্য সেনের বিয়ে-বিপ্লবীদের বিয়ে করতে না চাওয়া। এমন অনেক বিষয় আছে। আমি শুধু আপনাকে প্রশ্নই করেছি। এমনই একটা প্রশ্ন হতে পারে পথের দাবি নিয়ে। তবে এই বিষয়ে পরে কখনো আলাপ করা যাবে।
লেখক বলেছেন: একটা তথ্য ভুল হয়ে গেছে, বিপ্লবীরা গীতা হাতে শপথ নিতেন, বেদ নয়। এ ভুলের জন্য দুঃখিত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














