গানের পাখি
- আহমদ ছফা -
(কাব্যগ্রন্থ : দুঃখের দিনের দোহা)
আমার গানের পাখি কোন্ ডালে বাঁধবে বাসর
গীতরিক্ত বাংলাদেশ চারদিক হাওয়া করে হু হু
সজলতা অপগত ফাল্.গুনী কোকিল কণ্ঠে ঝরে আহা উহু
যাহারা সঙ্গীতভোজী বেশিরভাগ স্বভাবে পামর।
পাখি তো শিখেছে শুধু বেপরোয়া স্বাধীন ঝঙ্কার
ক্ষেতে কিষাণের বুক আকাঙ্ক্ষায় দুলে যেত বলে
সরল আবেগে পাখি মধুকণ্ঠে সুধা দিত ঢেলে
এখন দেখছে পাখি শহরের পথে সেই কিষাণের করুণ পাঁজর।
আমার গানের পাখি কারখানার শ্রমিকেরে করেছিল মিতা
ভীষণ বাসত ভাল স্বেদ সিক্ত শরীরের দর্পিত দুলুনি
এখন শ্রমিক বস্তিতে থাকে সবন্দুক নামাজাদা খুনী
পাখির গানের রাজ্যে থানা গেড়ে বসে আছে রুঢ় নৃশংসতা।
আমার গানের পাখি কণ্ঠে তুলে নিয়েছিল যৌবনের তাজা অনুরাগ
কালের কুটিল চাকা ঘোরাবার স্পর্ধা দেখে তুলত কূজন
দেখল ঝাপসা চোখে সেইসব তরুণের ঝরে গেল খুন
বাকহীন স্তব্ধ পাখি প্রাণ জুড়ে নেমে এল কালো কালো দাগ।
আমার গানের পাখি শুনেছিল বিপ্লবের অশান্ত গর্জন
লাল মেঘে ঘষা লেগে নবযুগ ফেটে বুঝি পড়ে
সেই স্বর্ণ সম্ভাবনা হঠাৎ উধাও হল নির্মম ধূসরে
বিপ্লব না যদি বাঁচে পাখিরে নিশ্চিত জানিস তোর সাক্ষাৎ মরণ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

