somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় শেখ হাসিনা : দয়া করে দেশপ্রেম সংক্রান্ত একটা আইন পাস করুন (৩ জুলাই হরতাল বিষয়ক + প্রতুলের একটি গান)

২১ শে জুন, ২০১১ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় শেখ হাসিনা : দয়া করে দেশপ্রেম সংক্রান্ত একটা আইন পাস করুন (৩ জুলাই হরতাল বিষয়ক + প্রতুলের একটি গান)

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন : "আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক? আমার চেয়ে দেশের স্বার্থ নিয়ে কে বেশি চিন্তা করে?"
তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্দেশে।
কারণ?
কারণ তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করেছে। শেখ হাসিনা আরো বলেছেন, যারা এখন দেশপ্রেমের কথা বলছেন, দেশের কোনো সংকটেই তাদের পাওয়া যায় না।

যদিও জাতীয় কমিটির নেতারা কেউ শেখ হাসিনার দেশপ্রেম সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেননি। তবে উনার উপদেষ্টা তৌফির এলাহী মহোদয়ের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দহরম-মহরমের যেসব তথ্য উইকিলিকস বে-ফাঁস করেছে তার জবাব উনি বা উনার উপদেষ্টা কেউ কোথাও দেন নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশস্থ দূতাবাস থেকে গত ২৯-০৭-২০১০ তারিখে ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপনীয় বার্তা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ইউএসএ’র রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নির্ধারিত ব্লকগুলোর মধ্যে থেকে তার সরকার কনোকো ফিলিপসকে দুটি নির্বিরোধ ব্লক দেবে।

শেখ হাসিনার দেশপ্রেম এতই প্রবল যে ১৯৯৭ সালে তার সরকারের আমলেই সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ভারতের দিল্লিতে রপ্তানির বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে এবং দেশবাসীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে হাসিনা সরকার ওই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এরপর ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামাত জোট। তারাও প্রবল দেশপ্রেমিক। ফলে গ্যাস রপ্তানির সিদ্ধান্তে বিএনপি-জামাত জোট অটল থাকে। ওই সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের মধ্যে ছিলো ওই গ্যাস রপ্তানির ইস্যু। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মাথায় ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর ১১ দল হরতাল করেছিল। গ্যস রপ্তানির সিদ্ধান্ত তারা কার্যকর করতে পারেনি।

হাসিনার দেশপ্রমের দ্বিতীয় নমুনা হল চট্টগ্রাম বন্দরের উজানে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এসএসএ নামের একটি ভূয়া মার্কিন কোম্পানিকে ১৯৮ বছরের জন্য জমি লিজ প্রদান।
এসএসএ ওখানে বন্দর করার কথা বললেও আসলে ওদের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পথ তৈরি করা। বামপন্থীরাই, জাতীয় কমিটির ব্যানারে আন্দোলন করে ওই ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দিয়েছিল।

যাই হোক, এখানে পুরো ইতিহাস তুলে দেয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় কমিটির এবং বামপন্থীদের নেতৃত্বে দেশের গ্যাস-কয়লা-বন্দর রক্ষার আন্দোলনের একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র এবং বর্তমান চুক্তি সম্পর্কে পরের কোনো লেখায় তুলে ধরব।

তবে, শেখ হাসিনা যা বলেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে 'দেশ এবং জাতির বিবেকে'র পক্ষ থেকে উনার কাছে আমার জোর দাবি -- দয়া করে অবিলম্বে দেশপ্রেম সংক্রান্ত একটি আইন পাস করুন। এই আইনে যা যা থাকতে হবে :
(১) শেখ হাসিনার সার্টিফিকেট (ইংরেজি বললে আবার আমার দেশপ্রেম নিয়ে টানাটানি পড়বে নাতো?) বা সনদপত্র ছাড়া এদেশে কাউকে দেশপ্রেমিক হিসাবে গণ্য করা হবে না।
(২) অবিলম্বে একটি যথার্থ 'দেশপ্রেম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (হর্টিকালচার সেন্টার) স্থাপন। এবং অবশ্যই ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আ:লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের স্বনামখ্যাত নেতাদের (যেমন হাজারী-তাহের-শামীম ওসমান-আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, জাহাঙ্গীরনগরে শততম ধর্ষণের বিশেষ কৃতিত্ববান মানিকসহ এ কয় বছরে যারা বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছে তাদের) প্রশিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে।
(৩) প্রতিবছর (সম্ভব না হলে প্রতি দুইবছরে একবার) বাংলাদেশের মানুষকে 'বিশেষ দেশপ্রেম টেস্ট' দিতে হবে। যারা ওই টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষায় অনুর্ত্তীর্ণরা কোনো সরকারি চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডার, পারমিট, লাইসেন্স পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
সবশেষে শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ আবেদন -- আপনি অবিলম্বে 'কি করে আমার মতো দেশপ্রেমিক হওয়া যায়', 'সহি দেশপ্রেম শিক্ষা', 'দেশপ্রেম আয়ত্ত্ব করার ১০১টি গোপন উপায়', 'দেশপ্রেমিকের লক্ষণ বিচার : কি করে খাঁটি দেশপ্রেমিক চিনবেন?'

ফুটনোট :
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে ওই নির্বাচনে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছিল। কিন্তু গ্যাস বেচতে রাজি হইনি বলেই ক্ষমতায় আসতে পারিনি। ওই গ্যাস আমেরিকা কিনে ভারতের কাছে বেচতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানের বাসায় আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল। এ বৈঠকে আমি ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ও মরহুম আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া অংশ নেন। বৈঠকে বললাম, ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ রেখে রপ্তানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ কথা বলে চলে এলাম। বিরোধীদলীয় নেত্রী থেকে গেলেন। এরপর যা হওয়ার তা-ই হলো। তিনি ক্ষমতায় গেলেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কেবল গ্যাস নয়, দেশ বিক্রি করে হলেও তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় যেতে চায়।’

একটি অনলাইন জরিপে একজন প্রশ্নকারী লিখেছেন --
তবেকি ২০০৯ সালে দেশের স্বার্থ বিরোধী গ্যাস বিক্রির চূক্তি করতে রাজী হয়েছেন বলেই বিদেশী এজেন্টরা কারচুপির ভোটে আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে? জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতায় যাওয়াটাই এখন বেশী বড় বলে আপনি মনে করেন? এইটাই আমার প্রশ্ন।
... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
[গ্যস রপ্তানির বিধান রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে জাতীয় কমিটির ডাকে ৩ জুলাই ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল সফল করুন।]
... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
প্রতুল মুখোপাধ্যায় গানটি লিখেছেন ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে, কিন্তু আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতেও সমান প্রাসঙ্গিক

স্বদেশ এখন
প্রতুল মুখোপাধ্যায়

স্বদেশ এখন ছাল ছোলা এক ছাগল
স্কন্ধকাটা উলটে আছে ঝুলে |
টেংড়ি সিনা রাং চাপ গর্দান---
কী চাই সেটা বলতে হবে খুলে |

স্বদেশ বিক্রী হবে এমন ভাবে
বেশ খানিকটা "বিশেষ" হয়ে যাবে
বিশেষ নিয়ম বিশেষ অর্থনীতি
বিশেষ স্থান বিশেষ পরিচিতি |

"বিশেষ" মানে বিদেশ বলা যায়
দেশের বিধান স্তব্ধ সে জায়গায় |
বিশ্বায়নের বাজনা উঠছে বেজে,
আসছে স্বদেশ SEZ এর সাজে সেজে |

এখন শুধুই উন্নয়নের আর
ভোগের মন্ত্র, আর সব জান ভুলে
গরীব গুর্বো শেষ যদি হয় হোক
নতুন যুগের দুয়ার যাচ্ছে খুলে |

কী বলছেন ? স্বদেশ হল মা---
কোথায় আছেন ? হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ !
মিথ্যে আবেগ পোষেণ কিসের জন্য---
বুঝতে হবে স্বদেশ হলো পণ্য |

স্বদেশ এখন ছাল ছোলা এক ছাগল,
"গেলো, গেলো" কে জুড়ে দেয় কান্না,
স্বদেশ যাচ্ছে ধনপতির ডিসে,
কেমন সুবাস, কত রকম রান্না |

লিংক এখানে ...
http://www.youtube.com/watch?v=CjuHzgRAPUs
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×