দীর্ঘ ৬ বছর পর দেশে যাওয়ার নাম নিলাম। মা প্রায়ই ফোন করে কান্না কাটি করতো। বলতো আমি নাকি মাকে ভুলে গেছি। বাবা বলতো "আমি বুড়ো হয়ে গেছি, জানি না কবে মরে যাই, তাই এবার আয় বাবা তোকে একটু দেখবো।"
অবশেষে আমার যাওয়ার তারিখ শুনে ওরা সবাই প্রহর গুনতে ছিল। যাওয়ার ১৫ দিন আগে বলেছিলাম আমি অমুক তারিখ বাড়িতে আসতে পারি। সবাই কিছুটা অবাক হয়ে গেছিল আমার যাওয়ার কথা শুনে।
যাই হোক অবশেষে জুনের ১৯/২০০৮ তারিখ সন্ধা ৯টায় ঢাকা পৌছুলাম। নেমেই কল করলাম ছোট ভাইয়ের মোবাইলে। ওরা তখনো রাস্তায়। ট্রাফিক জ্যামে পরছিল। ইমিগ্রেশান ও কাস্টমস সার্ভিসের কাজ শেষে বাইরে বেড়িয়েই দেখি ওরা গাড়ি নিয়ে বাইরে দাড়ানো।
দেশে নেই দেখি মানুষ গুলা ছোট ছোট মনে হয়।
যাই হোক গাড়িতে বসলাম, মাকে দেখে কেঁদে ফেললাম। পিচ্ছি গুলোরে চিনতে পারছিলাম না। জিজ্ঞাসা করলাম কোনটা কে?
ছোট ভাই, ভাতিজা, ভাতিজি তাদের কাওকেই চিনতে পারছিলাম না। অনেক বড় হয়ে গেছে। এয়ারপোর্ট থেকে বাইরে বেরোনের সময় ডানে বামে তাকিয়ে দেখছিলাম। ভিক্ষুকের অভাব নাই। হাত বাড়িয়ে টাকা চাইছিল, অনেক দিন পর এমন করুণ মুখ দেখলাম। ছোট ভাইকে বললাম ভাংতি টাকা থাকলে দিয়ে দে। ক'জনকে দিব, একজনের পর একজন আসতেছে...........
এয়ারপোর্টের বাইরে নিজ দেশের চারপাশ দেখছি। রাস্তা গুলো ছোট ছোট, ড্রাইভার গুলো ট্রাফিক আইন মেনে চলছে না। ড্রাইভারের ড্রাইভ দেখে ভয় পাচ্ছিলাম। খুব সামান্য ব্যাবধান রেখে Over tracking করে।
রাত তখন প্রায় ১০ টা। আমরা প্রায় শহরের বাইরে চলে এলাম। জানালা খুলে দিলাম, আহ কি নির্মল হাওয়া। বাতাস এত ঠান্ডা ছিল যে আমার মনে হয়েছিল শীত বুঝি এসে গেল। হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। নিঝুম রাত, ঠান্ডা হাওয়া আর ব্যাঙের ডাক শুনে মনে হয়েছিল কত দিন পরে এই পরিবেশটা দেখছি। এই হলো আমার প্রিয় দেশ, প্রিয় বাংলাদেশ।
রাস্তায় বাবা কয়েকবার ফোন করেছিল। নিজের শহরে পৌছে গেলাম। ছাত্র জীবনের বন্ধুদের কথা মনে পরে গেল। তাদের সবার সাথে দেখা হবে, কথা হবে ভাবতেই আনন্দে মনটা ভরে গেল।
অবশেষে বাড়িতে পৌছলাম। দেখি গেইটে বাবা দাড়িয়ে আছে। আমাকে বাবা জরিয়ে ধরে শিশুদের মত কেঁদে ফেললো। নিজেও চোখের পানি রাখতে পারলাম না।
চলবে..................
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



