অবশেষে গ্রামগুলোও আর নিরাপদ রইলনা
২৬শের ভোরে শহর থেকে পালিয়ে আসা
গ্রামের সুহৃদ-স্বজনের শরণ নেয়া মানুষেরা
বিহ্বল হয়ে পড়ে--এবার কোথায় যাবো!
এইমাত্র খবর পাওয়া গেল----
গাঁয়ে হানাদার-বাহিনী ঢুকেছে
প্রাক্তন জমিদার কালীপদ চৌধুরীর বাংলো-ঘর পুড়ছে
ওরা আগেই ভারতে শরণার্থী হয়েছিল;
আগুন-টাগুন দেয়া শেষ করে--এখন ব্যস্ত আছে
একমাত্র উচ্চবিদ্যালয়-ভবনটিতে ক্যাম্পের আয়োজনে।
ইতিমধ্যে সবাই জেনেছে--
মেয়েরা তাদের কাছে গণিমতের মাল
সমর্থ পুরুষেরা শিকারের পশু--
অতএব পড়ে থাক আরাম আয়েশের ঘরসংসার
প্রাণ আগে--সম্ভ্রম আগে
পালাতেই হবে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে;
দু'এক প্রস্থ পোশাক-আশাক সম্বল করে
যে যেদিকে পারে-গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের দিকে যেতে থেকে
যেতে যেতে পিছু ফিরে-
ফেলে আসা নিজ গ্রামটিতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে
ভাবে--
কোন ঘরে আগুন দিলো? আমার ঘরেই কি?
সেই হিংস্র-লোলুপ পশুদের
হিংস্র খুনের স্পৃহা আর লালসা চরিতার্থে ব্যর্থতার প্রতিশোধ এভাবেই ছিল।
আগুন জ্বালানোর আগে-
এদেশীয় দোসরেরা জনশূন্য ঘরগুলো লুটপাট করে নিতো।
বিশ্ব-আদালতে এখন পর্যন্ত নাৎসীরাও ক্ষমা পায়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

