সময় কেবলই এগিয়ে চলছে, আর আমরাও চলছি সময়ের সাথে।
একটিবারের জন্য ভেবে দেখুন তো--
এই যে আমরা সময়ের সাথে হাঁটছি, সেটা আসলে এগিয়ে যাচ্ছি নাকি পিঁছু হটছি।
আর এই ভাবনারটাই আজকের বিষয়।
মানুষের বিকৃত মনোভাব, কুরুচিপূর্ণ উক্তি আর নির্মমতা দেখে মনে হয় আমরা ক্রমান্বয়ে আরেকটি অন্ধকার যুগেই কেবল পদার্পণ করছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বলুন আর আলোকোজ্জ্বল সমাজ বির্নিমাণের কথাই বলুন--এই শ্লোগান আমাদের ভেতরে আর কতটুকুই বা আত্মবিশ্বাস জাগাতে পারে?
প্রশাসনের রন্দ্রে রন্দ্রে আজ দুর্নীতি। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, আশা আর বিশ্বাসেও আজ দুর্নীতি।
র্যাব আসামী ধরে, পুলিশ ছেড়ে দেয়। পুলিশ ধরে তো আদালত তাকে ছেড়ে দেয়।
অপরাধীরা নিরাপদেই সমাজের চারপাশে বিচরণ করে। অপরাধ সংঘটিত করে নির্দ্ধিধায়।
র্যাব ক্রসফায়ার করে। পুলিশও সেই পথ ধরে।
আর এসব যে অন্যায় সেই বিষয়টিই বা কে শুনে?
পুলিশ ঘুষ খায়। সেই ঘুষ খাওয়াটা বেশ পুরনো। এবার র্যাবও তার পথ ধরে।
এই সুখাদ্যটি আজকাল সবার মুখেই বেশ রুচিকর।
আমাদের আশা বিশ্বাসের শেষ আশ্রয়স্থলেও এই খাদ্যটি আজকাল বেশ রসালো ভাবেই হজম হচ্ছে।
কাদেরকে আমরা অন্যায়কারী আর কাদেরকে আমরা সাধু বলি বলুন।
সমাজে উঁচু থেকে নিচু সর্বত্রই একই অবস্থা।
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’
সেই মুক্তিটা আমাদের আর কত দূর বলুন?
একটা গল্পের কথা বলেই প্রসঙ্গের ইতি টানছি। গল্পটি ছিলো এরকম-
একলোক একবার ছদ্মবেশী বাদশার কাছে তার মনের বাসনা কথা বলেছি। সে বলেছিল, সে যদি একটি দিনের জন্য দেশের বাদশা হতো পারতো, তাহলে তার বিশ্বাসঘাতক বন্ধুদের সে ঘুড়ায় উল্টো বাসিয়ে ঘুরাতো।
আর বাদশা তার সেই মনোবাসনাও পূর্ণ করেছিলেন একদিন।
আমারও তো মাঝে মাঝে এরকম মনে হয়, একদিন যদি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর হতে পারতাম, তাহলে এইসব দুর্নীতিবাজদের ঘুড়ার লেজে বেঁধে সারা শহরময় ঘুরাতাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


