somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্নীতির ডিজিটাল সংস্করণঃ কাজ না করেই বিল উত্তোলন

০৩ রা জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাটোরের ৬টি উপজেলার ২৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্যা পূনর্বাসন ও সংস্কার কাজ শেষ না করেই টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। কাজ শেষ না করে অগ্রিম বিল তুলে নেয়ায় ঠিকমত কাজ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক পত্রে ( স্মারক নং মাউশি/ পরি/ বন্যা-২০০৭/৩৫৪/২০০৮/৩৮৫,১১৫) উলেখ করা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) তহবিল থেকে উন্নয়ন বাজেটের মেরামত, সংস্কার ও পুনর্বাসন মঞ্জুরী নম্বর-১৭ (কোড নম্বর- ৮০৬০ )’ প্রকল্পে ২৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও মেরামত কাজ চলতি অর্থবছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। ৩০ জুনের মধ্যে বিল তুলে নিতে হবে। এ চিঠি পাওয়ার পর ৩ জুন কোটেশন দরপত্র আহবান করা হয় এবং ৮ তারিখে সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারদের কাজ দেয়া হয়। ৮ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে বরাদ্দকৃত ২২ লাখ টাকা ভাগ করে দেয়া হয়। মাত্র ৪ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়ে ৯ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দেয়া হয়।

জানা গেছে, প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউএনও নিজে এবং সদস্য সচিব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী । অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা উপ- সহকারী প্রকৌশলী (শিক্ষা) ফারুকুজ্জামান, সংশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য। ৯ জুন কার্যাদেশ পাওয়ার পর সব ঠিকাদার প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যসচিবের স্বার নিয়ে ১০ জুন ও ৩০ জুন দুই দফায় মোট বিল তুলে নেন। কেউ কেউ কাজ শুরু না করেই বিল তুলে নেন।

একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, প্রকল্প বরাদ্দের মোট টাকার ২০ ভাগ ইউ.এন. ও, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপ- সহকারী প্রকৌশলী কাজ শুরুর পূর্বেই নিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, অগ্রিম বিল তুলে নেয়ায় কাজ কতটুকু হবে তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ২/১ টি প্রতিষ্ঠানের মাঠে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালি ফেলে রেখেছেন ঠিকাদারেরা। দিয়াড়-গাড়ফা ডি কে হাইস্কুল, রয়না ভরট সরকার বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, মাড়িয়া ও বাজিতপুর মাদ্রাসা, সহ ৪/৫ টি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু হলেও রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসা, চক-দাইড়পাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর হাইস্কুল, রামেশ্বরপুর-প্রতাপপুর গার্লস হাইস্কুল, চন্ডিপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অদ্যাবধি কোন কাজ শুরুই হয়নি। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোন কাজই না হওয়ায় এবং অগ্রিম টাকা তুলে নেয়ায় প্রকল্পের বরাদ্দকৃত সমস্ত টাকাই হরিলুট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র দরজা-জানালা ও দেয়াল রঙ করেই সমস্ত টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক ঠিকাদার বলেন, আমরা প্রকৃত পে কোন টেন্ডার ড্রপ করিনি এবং আমরা কোন প্রতিষ্ঠানে কাজও করছি না। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে বিল-ভাউচার দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সহযোগিতায় নিজেরাই কাজ করছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানরা কাজ করার নামে নিজেরা টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে ।

প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর নিকট এ ব্যাপারে মোবাইলে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই রং নম্বর বলে লাইন কেটে দেন এবং মোবাইল বন্ধ করে দেন।

ইউএনও মোঃ সাইফুল আলমের সাথে কথা বললে তিনি ঠিকাদারদের কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষা অফিসার ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরাই সংস্কার কাজ করছে বলে স্বীকার করেন। তবে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, জুন মাসে একেবারে কম সময়ে প্রকল্প বরাদ্দ পাওয়ায় টাকা ফেরত না দিয়ে এলাকার স্বার্থে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দকৃত টাকার কাজ যেন সঠিকভাবে হয় তা তিনি জোরালো ভাবে দেখবেন বলে জানান।

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×