নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ১০ টি গ্রামজুড়ে মাঠের পর মাঠ জুড়ে শিম চাষ করা হয়েছে। এ এলাকার প্রায় দেড় সহস্রাধিক কৃষক শুধু শিমচাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের চাকাকে রীতিমত ঘুরিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবারের ন্যায় এ মৌসূমেও তারা শিমচাষের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার নারায়ণপুর, গোসাইপুর, গড়মাটি, পূর্ণ কলস, রাজাপুর, রাওতা, শিবপুর, তেলো, দাসগ্রাম ও কেল্লা গ্রামের ৪৫০ হেক্টর জমিতে ব্যাপকভাবে শিম চাষ করা হয়েছে। সাধারণত উঁচু জমিতে শিম চাষ করতে হয়। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি জমে এমন জমিতেও চারদিক থেকে মাটি তুলে উঁচু ঢিবি করে শিমচাষ করা যায়। ঢিবিগুলোর দুরত্ব ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট ও সারি থেকে সারির দুরত্ব ৪-৫ ফুট রাখতে হয়। জাংলা বা মাচান পদ্ধতিতে শিমচাষ করা হয়। এঁটেল মাটিতে শিম ভালো হয়। আষাঢ় থেকে জমি তৈরী এবং শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের দেড় থেকে দু’ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসে। গাছে ফুল ধরার পর থেকে ২০/২৫ পর দিন পর থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত শিম তোলা যায়।
বড়াইগ্রাম উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের শিমচাষী শহীদুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে শিমচাষে ১০/১২ হাজার টাকা খরচ হয়। শিম গড়ে ১০/১৫ টাকা কেজি হিসাবে বিক্রি হয়। এতে প্রায় ২৫/৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা যায়। খরচ বাদে বিঘা প্রতি প্রায় ১৫/২০ হাজার টাকা লাভ হয়। মৌসূমের শুরুতে শিমের দাম ৯০-১০০ টাকাও থাকে । এতে লাভ আরও বেশি হয় বলে তিনি জানান। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এলাকায় ব্যাপকহারে শিম চাষের প্রভাবে কৃষকেরা ছাড়াও দরিদ্র-অসহায় মহিলা ও বেকার যুবকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন। শিম চাষ থেকে শুরু করে শিম তোলা ও বাজাতজাতকরণ পর্যন্ত এসব মহিলা ও বেকার যুবকেরা কর্মব্যস্ত সময় কাটান। এতে শিম মৌসূমের প্রায় ১০ মাস এ এলাকার মানুষের কাজের কোন অভাব হয় না। এ ছাড়া এ এলাকার শিম বেচাকেনার জন্য পাশ্ববর্তী মুলাডুলি বাজারে গড়ে উঠেছে আড়ৎ ব্যবসা। সেখান থেকে প্রতিদিন এ এলাকায় উৎপাদিত প্রায় ১০/১৫ ট্রাক শিম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম কামরুজ্জামান শিম চাষের মাধ্যমে প্রত্য ও পরোভাবে এ এলাকার প্রায় ৪ সহস্রাধিক পরিবার অর্থনৈতিক মুক্তির দেখা পেয়েছে বলে জানান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



