নাটোরের বড়াইগ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ১৯৯৯ সালের একটি মামলা তুলে নিতে সংখ্যালঘু পরিবারের পিতা-পুত্রকে গাছের সঙ্গে বেধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। এ সময় পিতা-পুত্রকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তারা গৃহবধুকেও পিটিয়ে আহত করেছে। পরে মামলা তুলে নেয়ার স্বীকারোক্তি দিলেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাই আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বড়াইগ্রাম উপজেলার মামুদপুর গ্রামের নবকুমার প্রামাণিক (৪৫) ও তার ছেলে প্রদীপ কুমার (২৫) কে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা দু’টি মামলা তুলে না নেয়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারা এ পিতা-পুত্র দু’জনকে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির কাছে একটি গাছের সাথে দড়ি দিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে বেদম মারধর করে। এ সময় তাদের কে বাঁচাতে প্রদীপের মা সুধা রাণী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকেও পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন এ সময় বারবার থানায় খবর দিলেও থানা পুলিশ তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। পরে ছাত্রলীগ কর্মীদের অত্যাচারে প্রাণ বাঁচাতে পিতা-পুত্র মামলা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। নির্যাতনকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বড়াইগ্রাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুল হক বাচ্চুর সমর্থক।
গত ১৯৯৯ সালে বড়াইগ্রাম মহিলা কলেজের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী প্রদীপকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক আহত করে। এতে তার একটি হাত পঙ্গু হয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রদীপের বাবা কোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নাটোর জজকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য তাদেরকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। বর্তমান সরকার মতায় আসার পর তারা প্রদীপদের জমি থেকে প্রকাশ্যেই পাট কেটে নিয়ে যায়। এব্যাপরে প্রদীপের বাবা আরো একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তারা আরও প্তি হয়ে উঠে। ইতোপূর্বে তারা এ মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি প্রদীপের কাকা শৈলেন্দ্র নাথ প্রামানিককে একাধিকবার পিটিয়ে আহত করেছেন। ইদানিং তাদের অত্যাচারে সংখ্যালঘু এই পরিবারটি দারুণ ভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এব্যাপারে কথা বলার জন্য প্রদীপ ও তার বাবার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও জীবনের নিারপত্তার কথা ভেবে তারা আর কিছুই বলতে রাজি হননি। এব্যাপারে বড়াই থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে পুরোনো একটি মামলার নিস্পত্তি করা হয়েছে। সেখানে কেউ কাউকে মারধর করেছে তার কাছে এমন অভিযোাগ না করায় তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
খবরটি যুগান্তরসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এসেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




