প্রকৃত ঘটনা আসলে কী?
১৭ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৮
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার- এমন আরো অনেক বিষয়েই সরকারের সমালোচনা করা যায়। এবং তা সঙ্গত বলেই মনে করি।
একটি বাংলা ব্লগ ব্যান হওয়ার উড়ো খবরে দেখছি, অনেকে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আসলে প্রকৃত ঘটনা কী?
বিটিটিবি সূত্র ও অন্যান্য উৎস মিলিয়ে আমি জানতে পেরেছি, সরকার কোনো বাংলা ব্লগ তো নয়ই, এমনকি কোনো সাইটকেও নিষিদ্ধ করেনি। তারপরও ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে। যদি সত্যিই কোনো সাইটকে সরকার নিষিদ্ধ করতো, তাহলে সত্যিই তা হতো দুঃখজনক এবং স্বাধীন মতের ওপর আঘাতস্বরূপ। কিন্তু এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেই আমরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদেও কোনো বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখা যাচ্ছে না, বলতে গেলে একপেশে ধারণার ওপর সংবাদের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
তাৎক্ষণিক আবেগের ফসল হিসেবে প্রথম আলো ও বিডিনিউজে দুটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। লক্ষ্য করে দেখবেন, দুটি সংবাদই সাধারণ ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিডিনিউজের সংবাদটির প্রতি স্পষ্ট দ্বিমত প্রকাশ করে সচলায়তনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অরূপ কামাল বলছেন, "....যারা বাংলাদেশে আছেন তারা ভালো বলতে পারবেন কেননা আমরা কিছুই অফিসিয়ালী জানিনা।...... এই প্রসঙ্গে আমার প্রকৃত বক্তব্য ছিল, আমরা জানি না আদৌ ব্যান করা হয়েছে কিনা কিংবা কি কারনে করা হয়েছে। যদি সত্যিই ব্যান করা হয় তাহলে হয়তো এক সপ্তাহের লেখালেখি দেখলে বোঝা যেতে পারে। উদ্ধৃত বাক্যটি তাই ঠিক নয়, এবং তাতে অহেতুক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।"
আজকে অনেকে প্রথম আলোতে ছোট্ট একটি সংবাদ দেখে থাকবেন এ বিষয়ে। প্রিন্ট সংস্করণে (যা স্থিরচিত্র হিসেবে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে) এবং মূল ওয়েবসাইটের শিরোনামে বিশাল পার্থক্য (আপাতচোখে যা ক্ষুদ্র মনে হতে পারে) রয়েছে। রাতে প্রথম সংস্করণ বের করে দেওয়ার পরই ওয়েবসাইটে প্রথম আলো ব্যানের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেছে , যা বোঝা যায় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন আরোপ করে দেওয়ার পর।
এরপরও আমি কোনো সাইট নিষিদ্ধ করাকে বিন্দুমাত্র সমর্থন জানাতে পারি না। তবে এখনো পর্যন্ত যা ঘটেনি, তা নিয়ে সরকারের অহেতুক অন্যায্য সমালোচনা দেশপ্রেমিক নাগরিকের কাজ হতে পারে না। সকল ব্লগারের কাছে আমার অনুরোধ, আবেগ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্যটি জানতে চেষ্টা করুন। সিডরে ভেসে যাক, ভূমিকম্পে ধসে যাক- তারপরও তো এই বাংলাদেশ আমাদেরই বাসভূমি!
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
* আমিও খোজ নিছি আমার সোর্স মারফত । উনারা আনঅফিসিয়ালি স্বীকার গেছেন সচলায়তন ব্লকড বাংলাদেশে । এবং সেই সূত্র অনুসারে "আমরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত" সচলায়তনকে ব্লক করা হয়েছে।
* উদ্ধৃতি - "তারপরও ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে।"
দয়া করে ঝেড়ে কাশেন । ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি মানে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ?
কৌশিক বলেছেন:
যদি ব্যান না হয় তবে প্রচারণার এই পদ্ধতিটাকে আমরা ক্রাস ক্যাম্পেইন বলতে পারি। বিনা পয়সার প্রথম আলো পত্রিকার মারফত কয়েক লক্ষ লোকের কাছে সচলায়তন পরিচিতি পেয়ে গেলো।যদি ব্যান হয়েও থাকে - তাহলেও সাপেবর হয়েছে বলা যায়। যারা ইউজার তারা ঠিকই অলটারনেটিভ পদ্ধতি খুঁজে বের করে ফেলেছে সচলায়তনে ঢোকার। সরকারের ভোতা মাথায় কিভাবে ঢুকবে যে ব্যান করে সাইট আটকানো যায় না!
মাঝেমাঝে ব্যান হওয়া স্বাস্থ্যসম্মত, পূর্বে প্রমানিত সিদ্ধান্ত আবার আওড়ালাম।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
সরকারের ভোতা মাথায় কিভাবে ঢুকবে যে ব্যান করে সাইট আটকানো যায় না!....আমার মনে হয় 'সরকার নামের শত্রুকে' আন্ডার এস্টিমেট করার দিন শেষ...
এই সরকার/জলপাই এখন দেশব্যাপী একটা সাইট ব্লক করার 'টেকনিক্যাল ক্ষমতা' অর্জন করেছে।
এইটা একটা ব্যাড নিউজ।
যে ই এর পিছনে আছে তাকে কেউ দয়া করে আর 'মোটা মাথা' ভাইবেন না।
কৌশিক বলেছেন:
সরকারের টেকনিক্যাল ক্ষমতা অর্জন বা অনার্জনের কিছু নাই। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকার যদি বিরূপ হয় তাহলে সব লেটেস্ট টেকনিক্যাল ক্ষমতাই তারা প্রয়োগ করাতে পারে সব যুগেই। বিষয় হচ্ছে সরকার ওয়েবসাইট বন্ধ করা পর্যায়ে তাদের দৃষ্টিভংগির উত্তরণ করবে কি? যেখানে অনেক নেতাদের ছেড়ে দিয়ে পিঠের চামড়া বাচাচ্ছে সেখানে ওয়েবসাইটের উপরে নজরদারী যথেষ্ট মাত্রায় অবিশ্বাস্য।
অপ বাক বলেছেন:
আনঅফিসিয়ালি হইলেও ব্লক করবার কারণটাই বুঝলাম না। গত ২ সপ্তাহে ঠিক কি ঘটলো লেখালেখির জগতে?
কৌশিক বলেছেন:
একজন কইলো, মইনকে নিয়ে কিছু ছড়া লেখা হয়েছিল। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা লাথি খাবার পরে যে ব্যানার করেছে সেখানে " এ দেশ আমার না, অন্য কারো" এমন বক্তব্য সম্বলিত কোন লেখা ছিল। আমাকে যে বলেছে সে এটুকু আপত্তিকর দেখেছে। (এইগুলান তো ডাইলভাইত)।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
"ডাইলভাত" বিষয়ের উপর ভিত্তি কৈরা এর আগে কি মিডিয়ার ওপর খড়গ নাইমা আসনের নজির নাই ? @ কৌশিক, অপবাক
অপ বাক বলেছেন:
হাঁটুতে যাদের বুদ্ধি তারা কোনটাকে বিদ্রোহ কোনটাকে দেশদ্রোহিতা ভাবে এইটা নিয়ে বিতর্ক চলে না।সচলায়তনে যারা লিখছে তাদের ভেতরে একমাত্র হাসান মোরশেদের লেখা নিয়েই আশংকা করা যায় জলপাই মামা ক্ষুব্ধ হবে। এ ছাড়া সবাইতো নিরেট সাহিত্যকার। যদি গত ২ সপ্তাহে সেটা বদলে না যায় তবে।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমার মনে হয় না যে তাদের বুদ্ধি আর 'হাঁটুতে' আছে... এট লিস্ট ফুটখানেক উপ্রে আসছে...
কৌশিক বলেছেন:
আর্মির বুদ্ধি কোনকালেই হাঁটুতে ছিল না। হাঁটুতে বুদ্ধিমানরাই এসব বলেছে এতকাল। তারা ঠিকসময় ঠিক ফোটাটা ঠিক গর্তে ফেলতে জানতো। নইলে পাকিস্থান গেছে কবে - রাজাকারগুলান এখনও আছে। মিডিয়াকে বন্ধ করলে সরকার সবসময় গেজেট নোটিফাই করে। কি প্রিন্ট, কি ইলেকট্রনিক কি মিডিয়া। এর আগে অনেকগুলা ওয়েব বন্ধ করেছে নোটিফাই করে।
কেউ যদি ডমেস্টেটিক কোন সুইচ বন্ধ করে থাকে সেটার দায়ভার সরকারের উপরে পড়ে না। বলা যায় না। সচলায়তনের মত একটা সাইট বন্ধ করার জন্য তাদের প্রপার কজ দেখানো দরকার হবে।
যদি সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা, প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয় তাহলে তারা এটা উল্লেখ করেই প্রজ্ঞাপন ছাড়তে পারে। জরুরী বিধিমালা তাদের সে অধিকার দিয়েছে। এভাবে লুকিয়ে সরকারের বন্ধ করার দরকার হয় না। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম ঘোষণা দিয়া বন্ধ করেছে। পত্রিকার সবাই ওপেন সিক্রেট জানে কোন জিনিস ছাপানো যাবে কোন জিনিস ছাপাতে গেলে ফোন খেতে হবে।
সুতরাং আবাল জনগোষ্ঠী চিন্তা কইরা দেখেন ঘিলু আপনাদের হাটুতে কিনা!
লেখক বলেছেন: বহুদিন পর কৌশিকের এই এক্টা বিশ্লেষণ চমৎকার লেগেছে। আলাদা পোস্টে দিলে ভালো হতো। মিথ্যা প্রপাগান্ডায় অন্তত ব্লগাররা সচেতন হওয়ার সুযোগ পেতেন।



















