somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাসিত বনাম বন্ধুরা এবং মাছ ধরা প্রসঙ্গে .।.।

১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসিত নামে আমাদের যে বন্ধুটি আছে তাকে আমরাসহ ক্যম্পাসের সবাই একজন সহজ সরল মানুষ হিসেবেই জানি।'সহজ সরল' কথাটার বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও বাসিতের ক্ষেত্রে সংগাটি এমন "ডাল দিয়া ভাত খাই, সোজা পথ দিয়া হাইটা যাই, কারো আগেও নাই, পিছেও নাই মাগার কারো বিপদে সবার সাথেই আছি"।এজন্য কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে কে থাকবে সেটা নিয়ে কোন সমস্যা হয় না। এরকম টাকা পয়সা ধার নেয়া কিংবা ধার নিয়ে দেরিতে দেয়াও কোন সমস্যা না।তবে সমস্যা একটা আছে, সবার ধারণা বাসিতের মাথা একটু দেরিতে কাজ করে।আমারও তাই ধারণা কারণ তার প্রমাণতো পেয়েছি অনেকবার। এই যেমন, একটা জোক বললাম, সবাই একসাথে হাসলাম কিন্তু বাসিত সেটা না বুঝেই হো হো করে হাসল।অনেক্ষন পর আবারো হেসে উঠবে, এবার প্রকৃত অর্থ বুঝতে পেরে।অসংখ্য হাস্যরসাত্তক ছোটকাহিনীর জনক সে।কক্সবাজার ট্যুরে গেছি, কয়েকজন মিলে দূর থেকে বাইনোকুলার দিয়ে সী-বিচে শুয়ে বসে থাকা রোমান্টিক জুটি দেখছি।বাসিত এসে বলল>

-দোস্ত, কী দেখছ্‌?
বললাম,
- হনূমান দেখি /
সে বলল,
-কই দেখি /
তারপর অনেক্ষন হনূমানের সন্ধান করে তার জবাব
- কই, এখানেতো কোন হনূমান দেখতাছি না !!!!!

মাঝে মাঝে যে নিজের নামটাই ভুলে যায় তার জন্য তো রাস্তাঘাট বা বাড়ীর ঠিকানা মনে রাখাই খুব কঠিন।বাসিত সে রকমই একটা ছেলে। তবে বাসিত কিন্তু অনেক সাহসী, অন্তত আমার চেয়ে বহুগুণে বেশী। কারণ প্রেম করা একটা সাহসের বেপার।আমার জন্য দুঃসাহসিক যে কাজ বাসিত তা নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে।

প্রেমের কথা যখন উঠলই তখন প্রসঙ্গটা একটু পাল্টাই।আমাদের মধ্যে এমন একজন আছে যার চেয়ে বড় মাপের প্রেমিক আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ! এমনকি যুগান্তকারী প্রেমিক যেমন মজনু, ফরহাদ, রোমিও কিংবা দেবদাসের চেয়েও সে অনেক উচু দরের।কথাটা কিন্তু এমনি এমনি বলছি না। কারণ এইসব যুগান্তকারী প্রেমিকরা উচ্চতায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চির বেশী ছিল বলে মনে হয় না।
উচ্চতায় সে যেমন তালগাছ, বুদ্ধি সুদ্ধিতেও সে পাকা। তাকে যদি বলা হয়
পৃথিবী কয় ভাগে বিভক্ত আর ভাগগুলো কী কী? সে বলবে 'পৃথিবী চার ভাগে বিভক্তএবং এর মধ্যে তিন ভাগ আমার প্রেমিকা আর বাকি একভাগে অন্য সব কিছু'। এই অন্য সবকিছুর মাঝে আবার টুং টাং কি যেন একটা বাজায় ওইটা, আর এক প্যাকেট নুডুলস ও দুইটা ডিমও আছে।
ইস্‌, সবই তো গেলো তাহলে আমাদের জায়গা কই!!!!!!

চার বছর ধইরা ছেচুড় পারতাছি তার পরেও একজনকে বুঝাইতে পারলাম না যে বয়সভিত্তিক বন্ধুত্ত বইলা কিছু নাই।বন্ধুত্ত এমন জিনিস যেইটা ভারত ছাইড়া কাশ্মীর যাইয়াও হইতে পারে।
এমন এক বন্ধুর কথা বলছি যার সাথে মিলে আছি ঠিকই কিন্তু এখনও মিশে যেতে পারিনি। কই একটু গুতাগুতি ঠাট্টা মসকরা করব, তা না, সবসময় ইয়েস বস্‌ নো বস্‌! আফসোস্‌.।.।

শিরোনামহেতু মাছ ধরা প্রসঙ্গে কিছু বলি, এখানেও কিন্তু ছায়া মাড়াবার জন্য কোন একজন আছে তা আগেই বলে রাখলাম >>>>>

শখ করে মাছ ধরতে গিয়েছিলুম জলার ধারে।মাছ ধরে বেশ মজাই পাচ্ছিলুম।টেংরা, পুটি, শিং, মাগুর, অসংখ্য দেশীয় ধারার মাছ।বেশ কিছুদিন পর অনুভব করলুম একা একা মাছ ধরে আর পোষাবে না।স্মরণ করলুম এক সহযোগীকে। বললুম চল যাই জলার ধারে, দুজন মিলে মাছ ধরব বহুত ফায়দা হবে।এমন করে একদিন নিয়ে গেলুম জলার ধারে, কত পানিতে কোন মাছ তা শিখুতে লাগলুম একটু একটু করে। শুরুতে ফসকে যেতে থাকলেও বড়শী কেমনে চালাতে হয় তা শিখতে তার বেশী দিন লাগলো না।আস্তে আস্তে পাকা শিকারী হয়ে উঠল সে। আমি ধরি চুনো পুটি আর সে ধরে বোয়াল।পাক্কা শিকারী বলে অন্যসব শিকারীদের সাথে সখ্যতা হতেও বেশী দেরি হল না।মাছ ধরতে ধরতে নিজেই একদিন গভীর জলের মাছ হয়ে গেল, যেন ধরাছোয়ার বাইরে।আমি আর কি, টেংরা পুটি ধরেই চলতেছিলুম।কিন্তু কী জানি কী হল, টেংরা পুটিতেও বাদ সাধলো।একদিন গিয়ে দেখলুম যেখানে বসে মাছ ধরতুম সেটা বেমালুম গায়েব।

যাহ্‌ শালা, জায়গাটাও বেদখল করে দিলি।কি আর করা।মাছ না ধরলে কী জীবন চলবে না !! তোদের দিন তোরা মাছ ধর, জায়গা জমি, জলাধার সব দিয়ে দিলুম।খোদা মালুম।

কমত নয়, বহুদিন মাছ ধরেছি।এখন নতুন নতুন মাছ শিকারীরা বলে, "ভাই, আহ না কেন জলার ধারে মাছ ধরতে? জলে এখন বহুত মাছ।"

আমি বলি, " যাহ্‌ বেটা, বড়শীর দড়ি কেটে দিলে কী আর মাছ ধরা যায়।তাই, মাছ ধরার সময় নাই।আপাতত বি সি এস নিয়া ব্যাস্ত আছি।"

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×